‘দিল্লির চোখে ঢাকাকে দেখে না যুক্তরাষ্ট্র’

লাকমিনা জেসমিন সোমা

‘দিল্লির চোখে ঢাকাকে দেখে না যুক্তরাষ্ট্র’

দিল্লির চোখে ঢাকাকে দেখে না যুক্তরাষ্ট্র। চীনকে টেক্কা দেওয়া কিংবা দিল্লির সঙ্গে  ঢাকার সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্দেশ্যে নয়, ভৌগোলিক অবস্থান, উৎপাদন ক্ষমতা ও বিপুল সম্ভাবনার কারণেই বাংলাদেশকে ‘ইন্দো প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি’র অংশীদার করতে চায় দেশটি। মঙ্গলবার এক অনলাইন ব্রিফিং-এ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রদপ্তরের জেষ্ঠ কর্মকর্তারা এসব কথা বলেন। রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র সব সময় কাজ করে চলেছে বলেও জানান তারা।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে নিয়ে অর্থনৈতিক বলয় গড়ে তোলার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। যেখানে ভৌগলিক অবস্থান ও বিপুল সম্ভাবনার কারণে বাংলাদেশকে বারবারই কাছে টানার চেষ্টা করছে দেশটি।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশের এই কদর কি শুধুই ‘ইন্দো প্যাসিফিক স্ট্রাটেজি’র কারণে? নাকি চীনের আধিপত্য ঠেকাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র? বুধবার এক ভার্চুয়াল ব্রিফিং-এ এর ব্যাখ্যা দেন দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি লরা স্টোন।

আরও পড়ুন: 


ট্রাম্পের সমর্থকদের গুলি কিনে রাখার পরামর্শ মার্কিন কর্মকর্তার


তিনি বলেন, ‘অন্য কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কোন্নয়ন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কোনো ইস্যু নয়। ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির উদ্দেশ্য চীন বা চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)’ মোকাবিলা করা নয়। এটি উন্মুক্ত, স্বাধীন ও সবাইকে নিয়ে চলার একটি লক্ষ্য।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে,এই মার্কিন মন্ত্রী আরো জানান, বাংলাদেশকে দিল্লির চোখে না যুক্তরাষ্ট্র। লরা স্টোন বলেন,  ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক খুবই বিস্তৃত এবং গভীর। দিল্লির সঙ্গে ওয়াশিংটনের বহুমুখী সম্পৃক্ততা রয়েছে। দেশ দু’টির বোঝাপড়া অনেক দিনের। তাদের বিস্তৃত এনগেজমেন্ট রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত বা অন্য দেশের কী সম্পর্ক- তা ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের ক্ষেত্রে খুব একটা বিবেচ্য নয়।‘

আরও পড়ুন: 


চীনের সঙ্গে উত্তেজনা, সীমান্তে ভারতের গোলাবারুদ-রসদ সরবরাহ শুরু


ব্রিফিং এ রোহিঙ্গা সংকট আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য হুমকি উল্লেখ করে ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের উপমিশন প্রধান  জোয়ান ওয়াগনার  বলেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে যেতে সহায়তা করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ তার দেশ।

তিনি বলেন ‘রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে যেতে সহায়তা করতে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসইভাবে ফেরার পরিবেশ সৃষ্টি করতে আমরা মিয়ানমারকে অব্যাহতভাবে চাপ দিচ্ছি।’

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য