দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ ‌‌‌'জুমার’ দিনের গুরুত্ব

অনলাইন ডেস্ক

দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ ‌‌‌'জুমার’ দিনের গুরুত্ব

উম্মতে মুহাম্মদির কিছু বিশেষ প্রাপ্তি রয়েছে, যা অন্যান্য নবীর উম্মতেরা পাননি। তন্মধ্যে একটি হলো জুমার দিন। হাদিস শরিফে এই দিনের অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।  হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত নবীজি (সা.) বলেন, আমাদের পূর্ববর্তী উম্মতকে জুমার দিন সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা অজ্ঞ রেখেছেন। ইহুদিদের ফজিলতপূর্ণ দিবস ছিল শনিবার। খ্রিস্টানদের ছিল রোববার। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে দুনিয়ায় পাঠালেন এবং জুমার দিনের ফজিলত দান করলেন। সিরিয়ালে শনি ও রোববারকে শুক্রবারের পরে রাখলেন। দুনিয়ার এই সিরিয়ালের মতো কেয়ামতের দিনও ইহুদি-খ্রিস্টানরা উম্মতে মুহাম্মদির পড়ে থাকবে। আমরা উম্মত হিসেবে সবার শেষে এলেও কেয়ামতের দিন সকল সৃষ্টির আগে থাকব। (মুসলিম : ১৪৭৩)

জুমার দিন দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে গণ্য করা হয়। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত নবীজি (সা.) বলেছেন, পৃথিবীর যতদিন সূর্য উদিত হবে তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন হলো শুক্রবার। এ দিনে আদমকে (আ.) সৃষ্টি করা হয়েছে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে। এ দিনেই তাঁকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছিল। সর্বশেষ কেয়ামত সংঘটিত হবে শুক্রবার দিনে। (মুসলিম : ৮৫৪)। জুমার দিনকে সপ্তাহের সেরা দিন হিসেবেও ঘোষণা করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, জুমার দিন দিবসসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং তা আল্লাহর নিকট অধিক সম্মানিত। (ইবনে মাজা : ১০৮৪)

হাদিস ১: হযরত সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কোন ব্যক্তি যদি জুমুয়ার দিন গোসল করে যতদূর সম্ভব পবিত্রতা অর্জন করে, নিজের তেল থেকে তেল ও নিজের ঘরের সুগন্ধী থেকে সুগন্ধী মাখে, অতঃপর নামাযের জন্যে এমনভাবে বের হয় যে, কোন দুই ব্যক্তির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে না, অতঃপর যে নামায ফরজ করা হয়েছে, তা পড়ে, অতঃপর ইমাম যা বলেন, তা মনোযোগ দিয়ে শোনে, তার ঐ জুমুয়া ও পরবর্তী জুমুয়ার মধ্যবর্তী যাবতীয় গুনাহ মাফ করা হবে।’ বুখারী ও নাসায়ী শরিফ


দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ ‌জুমার দিনে ‘সূরা কাহাফ’ তেলাওয়াতের ফজিলত

দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ ‌`জুমার’ দিনে যা করবেন

প্রতিদিন সকালে যে দোয়া পড়তেন বিশ্বনবি


হাদিস ২: হযরত আওস ইবনে আওস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে শুক্রবার শ্রেষ্ঠ দিন। এই দিন আল্লাহ তায়ালা হযরত আদমকে সৃষ্টি করেন, তাকে মৃত্যু দেন, ইসরাফীল আলাইহিস সালাম এই দিন শিংগায় ফুঁ দেবেন এবং এই দিন (শিংগার ধ্বনিতে) সকল প্রাণী অচেতন হয়ে যাবে। অতএব, এই দিন তোমরা আমার ওপর বেশি করে দরূদ পড়, কেননা জুমুয়ার দিন আমার ওপর তোমাদের দরূদ আমার কাছে পৌঁছানো হয়। উপস্থিত লোকেরা বললো, মাটিতে আপনার হাড়গোড় মিশে যাওয়ার পর কীভাবে আপনার কাছে আমাদের দরূদ পাঠানো হবে। রাসূল সা. বললেন, আল্লাহ তায়ালা আমাদের দেহ খাওয়াকে মাটির ওপর হারাম করে দিয়েছেন। ’ [আবু দাউদ, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ, ইবনে হাব্বান]

হাদিস ৩: হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘শুক্রবার দিন ও রাতের চব্বিশ ঘন্টায় একটা ঘন্টা এমন রয়েছে, যখন ছয় লক্ষ ব্যক্তিকে আল্লাহ তায়ালা দোযখ থেকে মুক্তি দেন।’

হাদিস ৪: হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমুয়ার দিন সূরা কাহফ পড়বে তার দুই জুমুয়ার মধ্যবর্তী সমগ্র সময় জুড়ে তার ওপর আল্লাহর জ্যোতি বর্ষিত হতে থাকবে।’ [নাসায়ী, বাইহাকী]

হাদিস ৫: হযরত আবু উসামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘শুক্রবার গোসল গুনাহগুলোকে চুলের গোড়া থেকে সমূলে উপড়ে ফেলে।’ [তাবরানী]

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

দোজখের আগুন থেকে বাঁচতে ছোট্ট একটি আমল

অনলাইন ডেস্ক

দোজখের আগুন থেকে বাঁচতে ছোট্ট একটি আমল

আল্লাহ তাআলা মানুষকে তার ইবাদাতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। যারা সঠিক উপায়ে তার হুকুম-আহকাম তথা ফরজগুলো পালন করবে তাদের সব নফল ইবাদতের মাধ্যমে তাঁদের মর্যাদা বেড়ে যাবে। আল্লাহ তাআলা মুমিন বান্দাকে জাহান্নামের আজাব থেকে মুক্তির জন্য রহমত বর্ষণ করবেন।

হাদিসে পাকে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমনই একটি ছোট্ট আমল ও দোয়ার কথা বলেছেন। যে দোয়ার নিয়মিত আমলে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি মিলবে। হাদিসে এসেছে-

হজরত আল-হারিস ইবনু মুসলিম আত্‌-তামীমী রাদিয়াল্লাহু আনহু তার পিতার সূত্র বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে চুপে চুপে বলেন, ‘যখন তুমি মাগরিবের নামাজ থেকে অবসর হয়ে সাতবার বলবে-

اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আঝিরনি মিনান নার।
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা কর।’


যে দোয়া পড়লে বিশ্ব নবীর সঙ্গে জান্নাতে যাওয়া যাবে!

খুলনায় সওজ কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি, ক্ষোভ

৭ই মার্চের অনুষ্ঠান থেকে বেড়িয়ে গেলেন অথিতিরা

সালমান খানের তোয়ালে পরা ছবি ভাইরাল


তুমি তা বলার পর ওই রাতে মারা গেলে তোমার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তি লেখা হবে। আর যখন তুমি ফাজরের নামাজ শেষ করবে তখনও অনুরূপ বলবে। অতঃপর তুমি যদি ওই দিন মারা যাও তাহলে তোমার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তি লেখা হবে।’ (আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ, ইবনে হিব্বান)

মুহাম্মাদ ইবনু শুআইব রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আবূ সাঈদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি আমাকে আল-হারিস রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে জানিয়েছেন, তিনি বলেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে তা চুপে চুপে বলেছেন, যাতে আমি আমার ভাইদের কাছে তা বিশেষভাবে প্রচার করি।’

সুতরাং মুসলিম উম্মাহর উচিত, ফজর ও মাগরিবের নামাজের পর এ দোয়াটি ৭ বার পড়া। আল্লাহ তাআলা হাদিসের সহজ আমল ও ছোট্ট মাসনুন দোয়ার মাধ্যমে তাঁর হুকুম-আহকাম পালনের পাশাপাশি জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv / কামরুল 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

যে দোয়া পড়লে বিশ্ব নবীর সঙ্গে জান্নাতে যাওয়া যাবে!

অনলাইন ডেস্ক

যে দোয়া পড়লে বিশ্ব নবীর সঙ্গে জান্নাতে যাওয়া যাবে!

যারা বিশ্ব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একান্ত আশেক, তারা বিশ্ব নবীর সঙ্গেই জান্নাতে যেতে চান। হাদিসে পাকে এমনই একটি দোয়ার আমলের কথা বর্ণনা করেছেন তিনি। যে দোয়ার আমলে মুমিন মুসলমান তাঁর সঙ্গে জান্নাতে যেতে পারবেন। 

তাহলো-

হজরত মুনজির রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে এ দোয়াটি পড়বে-

رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالإِسْلاَمِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم نَبِيًّا

উচ্চারণ : রদিতু বিল্লাহি রাববাও ওয়া বিল-ইসলামি দিনাও ওয়া বি-মুহাম্মাদিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা নাবিয়্যা।’

অর্থ : আমি আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট আমার প্রতিপালক হিসেবে এবং ইসলামের প্রতি সন্তুষ্ট আমার দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সন্তুষ্ট আমার নবী হিসেবে।’

বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমি তার দায়িত্ব নিলাম। কেয়ামতের দিন আমি তাকে তার হাত ধরে জান্নাতে নিয়ে যাব।’ (মুজামে কাবির, মুজামুস সাহাবাহ)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী মুমিন বান্দার জন্য বিশ্বনবির সঙ্গে জান্নাতে যাওয়ার সৌভাগ্য লাভে সহজ এ আমলটি যথা সময়ে আদায় করা।

------------------------------------------------------------

সন্তান লাভের জন্য যে দোয়া পড়বেন!

চাকরির জন্য আল্লাহর কাছে যে দোয়া পড়বেন

যে দোয়া পড়লে মনের আসা কবুল হয়

যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে

যে দোয়া পড়লে কখনো বিফলে যায় না!

যে সময় দোয়া পড়লে দ্রুত কবুল হয়

কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে যে দোয়া পড়বেন!

যাদের দোয়া দ্রুত কবুল হয়

-----------------------------------------------------------------

news24bd.tv / কামরুল 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

ঋণ মুক্তির দোয়া

অনলাইন ডেস্ক

ঋণ মুক্তির দোয়া

ঋণ মানুষের জন্য মারাত্মক বোঝা। এ ঋণগ্রস্ততা মানুষের দুশ্চিন্তা, অশান্তি ও অনৈতিকতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এজন্য মুমিন মুসলমানের উচিত, আল্লাহ তাআলার কাছে ঋণ থেকে আশ্রয় চাওয়া। বেশি বেশি এ দোয়া করা যে, তিনি যেন ঋণ গ্রহণ ছাড়াই সব প্রয়োজন পূরণ করে দেন।

যেভাবে আশ্রয় চাইতেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।  হাদিসে এসেছে- একবার হযরত আলী রা. এর কাছে এক ব্যক্তি তার ঋণ পরিশোধের জন্য কিছু সাহায্য চায়। এ সময় আলী রা. তাকে বলেন, আমি কি তোমাকে কয়েকটি শব্দ শিক্ষা দেবো, যা আমাকে রাসূলুল্লাহ সা. শিক্ষা দিয়েছেন?


অনুমোদনের অপেক্ষায় সিএমপির ছয় থানা

৩৩৭ জনকে উপসচিব পদে পদোন্নতি

আটকে গেল ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার লড়াই

শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে জখম মাদ্রাসার শিক্ষক প্রেপ্তার


যদি তুমি এটা পাঠ করো, তাহলে আল্লাহই তোমার ঋণমুক্তির ব্যাপারে দায়িত্ব নেবেন, যদি তোমার ঋণ পর্বতসমানও হয়। এরপর আলি রা. ওই ব্যক্তিকে এই দোয়া পড়তে বলেছিলেন। (তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৬৩, আহমদ, হাদিস: ১৩২১)।

দোয়া-

আরবি:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ

বাংলা উচ্চারণ:

আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘উযু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি, ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিনাল-‘আজযি ওয়াল-কাসালি, ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিনাল-বুখলি ওয়াল-জুবনি, ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিন দ্বালা‘য়িদ্দাইনি ওয়া গালাবাতির রিজা-ল।

বাংলা অর্থ:
 ‘হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অপারগতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণের ভার ও মানুষদের দমন-পীড়ন থেকে। (বুখারি, ৭/১৫৮, ২৮৯৩)।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

নামাজের গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত সমূহ

অনলাইন ডেস্ক

নামাজের গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত সমূহ

নামাজকে দ্বীনের খুটি বলা হয়। খুঁটি ছাড়া যেমন ঘর হয় না, তদ্রুপ নামাজ ছাড়া দ্বীন পরিপূর্ণ হয় না। নামাজের ফরজ ও ওয়াজিবগুলো কি তা এরইমধ্যে আমাদের ‘ধর্ম ও জীবন’ অনুচ্ছেদে তুলে ধরা হয়েছে। নামাজের মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অনেক সুন্নাত কাজ। এখানে তা তুলে ধরা হলো-

০১. তাকবিরে তাহরিমার সময় উভয় হাত কানের লতি পর্যন্ত ওঠানো এবং উভয় হাতের আঙ্গুলগুলো স্বাভাবিকভাবে কিবলামুখী ও খুলে (খাড়া) রাখা।
০২. পুরুষের নাভী ও মহিলাদের বুকের উপর হাত বাধা। ডান হাতের তালু বাম হাতের পিঠের ওপর রাখা। ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল ও কনিষ্ঠাঙ্গুল দিয়ে বাম হাতের কব্জি ধরা। বাকি আঙ্গুলগুলো বাম হাতের ওপর বিছিয়ে রাখা। মহিলারা ডান হাতকে বাম হাতের উপর রাখবে। কব্জি ধরতে হবে না।
০৩. তাকবিরে তাহরিমার সময় মস্তক অবনত না করা।
০৪. তাকবিরে তাহরিমাসহ এক রুকন হতে অন্য রুকনে যাওয়ার সময় ইমামের উচ্চ স্বরে আল্লাহু আকবার বলা।
০৫. তাকবিরে তাহরিমার পর ছানা পড়া।
০৬. প্রথম রাকাআতে ছানার পর আউজুবিল্লাহু পড়া।
০৭. প্রত্যেক রাকাআতে সুরা ফাতিহার পর বিসমিল্লাহ পড়া।
০৮. সুরা ফাতিহা শেষ হওয়ার পর আমিন বলা।
০৯. ফরজ নামাজের তৃতীয় ও চতুর্থ রাকাআতে শুধুমাত্র সুরা ফাতিহা পড়া।
১০. কিরাআত তথা সুরা মিলানোয় মাসনুন তরিকা অবলম্বন করা।
১১. রুকু ও সিজদায় কমপক্ষে তিনবার করে তাসবিহ পড়া।
১২. রুকুতে মাথা, পিঠ এবং কোমর সোজা রেখে দু`হাতের আঙ্গুল দিয়ে হাঁটু ধরা।
১৩. কাওমা অর্থাৎ রুকু থেকে দাঁড়ানোর  সময় ইমাম সামিআল্লাহু লিমান হামিদা এবং মুক্তাদির রাব্বানা লাকাল হামদ বলা।
১৪. সিজদায় যেতে প্রথমে হাঁটু, তারপর হাত, তারপর নাম এবং কপাল রাখা।
১৫. জালসা তথা বসা অবস্থায় দু`হাত হাটুর উপর রাখা। বাম পা বিছিয়ে পায়ের উপর বসা আর ডান পা এমনভাবে খাড়া রাখা যেন আঙ্গুলগুলোর মাথা কিবলামুখী থাকে।
১৬. আত্তাহিয়াতু পড়ার সময় লাইলাহা বলতে হাতের শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করা।
১৭. আত্তাহিয়াতুর পর দরূদ পড়া।
১৮. দরূদের পর দোয়া মাসুরা পড়া।
১৯. প্রথমে ডানে এবং পরে বামে সালাম ফিরানো।

news24bd.tv আহমেদ

আরও পড়ুন:


সূরা মুহাম্মদের বিষয়বস্তু ও মূল বক্তব্য

আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ

একদিন পরই সুর পাল্টালেন এমপি একরাম

প্রথমবারের মতো ৭ ই মার্চ উদযাপিত হবে জাতীয় দিবস হিসাবে


 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

সূরা মুহাম্মদের বিষয়বস্তু ও মূল বক্তব্য

অনলাইন ডেস্ক

সূরা মুহাম্মদের বিষয়বস্তু ও মূল বক্তব্য

সূরা মুহাম্মদ পবিত্র কুরআনের ৪৭তম সূরা। এর আয়াত সংখ্যা ৩৮। সূরাটি হিজরতের পরে মদীনায় নাযিল হয়েছিল। সূরা মুহাম্মদের ২ নম্বর আয়াতের অংশ থেকে এই সূরার নামকরণ করা হয়েছে। অর্থাৎ এটি সেই সূরা যার মধ্যে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মহান নামটি উল্লেখিত হয়েছে। এ ছাড়া এ সূরার আরো একটি বিখ্যাত নাম “কিতাল”। এ নামটি ২০নং আয়াত থেকে গৃহীত হয়েছে।

বিষয়বস্তু ও মূল বক্তব্য

সূরাটি নাযিল করা হয়েছিল ঈমানদারদেরকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করার জন্য। এ বিষয়ে প্রাথমিক পথনির্দেশনা দেয়াই এর আলোচ্য ও বক্তব্য। এ দিকটি বিচার করে এর নাম “সূরা কিতাল”ও রাখা হয়েছে।

সূরার প্রথমেই বলা হয়েছে যে, এখন দুটি দলের মধ্যে মোকাবিলা হচ্ছে। এ দুটি দলের মধ্যে একটি দলের অবস্থান এই যে, তারা সত্যকে মেনে নিতে অস্বীকার করেছে এবং আল্লাহর পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু অপর দলটির অবস্থান হলো, আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থকে তাঁর বান্দা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর যে সত্য নাযিল হয়েছিল তা তারা মেনে নিয়েছে। এখন আল্লাহ তা’আলার সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত হলো, প্রথমোক্ত দলটির সমস্ত চেষ্টা-সাধনা ও কাজ-কর্ম তিনি নিষ্ফল করে দিয়েছেন এবং শেষোক্ত দলটির অবস্থা সংশোধন করে দিয়েছেন।

এরপর মুসলমানদের সামরিক বিষয়ে প্রাথমিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তাদেরকে আল্লাহর সাহায্য ও দিকনির্দেশনার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। আল্লাহর পথে কুরবানী পেশ করার জন্য তাদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদানের আশ্বাস দেয়া হয়েছে। তাদের এ বলে সান্ত্বনা দেয়া হয়েছে যে, ন্যায় ও সত্যের পথে তাদের প্রচেষ্টা বৃথা যাবে না। বরং দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জায়গাতেই তারা ক্রমান্বয়ে এর অধিক ভাল ফল লাভ করবে।

তারপর কাফেরদের সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তারা আল্লাহর সাহায্য ও দিকনির্দেশনা থেকে বঞ্চিত। ঈমানদারদের বিরুদ্ধে তাদের কোন প্রচেষ্টাই কার্যকর হবে না। তারা দুনিয়া ও আখেরাত উভয় ক্ষেত্রেই অত্যন্ত খারাপ পরিণামের সুম্মুখীন হবে। তারা আল্লাহর নবীকে মক্কা থেকে বের করে দিয়ে মনে করেছিলো, যে, তারা বড় রকমের সফলতা লাভ করেছে। অথচ এ কাজ করে তারা প্রকৃতপক্ষে নিজেরা নিজেদের জন্য বড় রকমের ধ্বংস ডেকে এনেছে।

এরপর মুনাফিকদের উদ্দেশ্য করে কথা বলা হয়েছে। যুদ্ধের নির্দেশ আসার পূর্বে এসব মুনাফিক নিজেদেরকে বড় মুসলমান বলে জাহির করতো। কিন্তু এ নির্দেশ আসার পরে তারা ঘাবড়ে গিয়ে নিজেদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ চিন্তায় কাফেরদের সাথে ষড়যন্ত্র করতে শুরু করেছিল যাতে তারা নিজেদেরকে যুদ্ধের বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে। তাদেরকে স্পষ্টভাবে সাবধান করে দেয়া হয়েছে যে, যারা আল্লাহ এবং তাঁর দীনের সাথে মুনাফিকীর আচরণ করে তাদেরকে কোন আমলই আল্লাহর কাছে গৃহীত হয় না। এখানে যে মৌলিক প্রশ্নে ঈমানের দাবীদার প্রতিটি ব্যক্তির পরীক্ষা হচ্ছে তা হলো, সে ন্যায় ও সত্যের সাথে আছে না বাতিলের সাথে আছে? তার সমবেদনা ও সহানুভূতি মুসলমান ও ইসলামের প্রতি না কাফের ও কুফরীর প্রতি। সে নিজের ব্যক্তি সত্তা ও স্বার্থকেই বেশী ভালবাসে না কি যে ন্যায় ও সত্যের প্রতি ঈমান আনার দাবী সে করে তাকেই বেশী ভালবাসে? এ পরীক্ষায় যে ব্যক্তি মেকী প্রমাণিত হবে আল্লাহর কাছে তার নামায, রোযা এবং যাকাত কোন প্রতিদান লাভের উপযুক্ত বিবেচিত হওয়া তো দূরের কথা সে আদৌ ঈমানদারই নয়।

আরও পড়ুন:


আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ

একদিন পরই সুর পাল্টালেন এমপি একরাম

প্রথমবারের মতো ৭ ই মার্চ উদযাপিত হবে জাতীয় দিবস হিসাবে

ভাসানচর পুরোপুরি নিরাপদ ও বাসযোগ্য এক দ্বীপ


অতপর মুসলমানদের উপদেশ দেয়া হয়েছে যে, তারা যেন নিজেদের সংখ্যাল্পতা ও সহায় সম্বলহীনতা এবং কাফেরদের সংখ্যাধিক্য ও সহায় সম্বলের প্রাচুর্য দেখে সাহস না হারায় এবং তাদের সাছে সন্ধির প্রস্তাব দিয়ে নিজেদের দুর্বলতা প্রকাশ না করে। এতে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদের দুঃসাহস আরো বেড়ে যাবে। বরং তারা যেন আল্লাহর ওপর নির্ভর করে বাতিলকে রুখে দাঁড়ায় এবং কুফরের এ অগ্রাসী শক্তির সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। আল্লাহ মুসলমানদের সাথে আছেন। তারাই বিজয়ী হবে এবং তাদের সাথে সংঘাতে কুফরী শক্তি চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে।

সর্বশেষে মুসলমানদেরকে আল্লাহর পথে অর্থ ব্যয় করার আহবান জানানো হয়েছে। যদিও সে সময় মুসলমানদের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক ছিল। কিন্তু সামনে প্রশ্ন ছিল এই যে, আরবে ইসলাম এবং মুসলমানরা টিকে থাকবে কি থাকবে না। এ প্রশ্নের গুরুত্ব ও নাজুকতার দাবী ছিল এই যে, মুসলমানরা নিজেদেরকে এবং নিজেদের দীনকে কুফরের আধিপত্যের হাত থেকে রক্ষা করার এবং আল্লাহর দীনের বিজয়ী করার জন্য তাদের জীবন কুরবানী করবে এবং যুদ্ধ প্রস্তুতিতে নিজেদের সমস্ত সহায় সম্পদ যথা সম্ভব অকৃপণভাবে কাজে লাগাবে। সুতরাং মুসলমানদের উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে যে, এ মুহুর্তে যে ব্যক্তি কৃপণতা দেখাবে সে প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কোন ক্ষতিই করতে পারবে না , বরং নিজেদের ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করবে। আল্লাহ মানুষের মুখাপেক্ষী নন। কোন একটি দল বা গোষ্ঠী যদি তার দীনের জন্য কুরবানী পেশ করতে টালবাহানা করে তাহলে আল্লাহ তাদের অপসারণ করে অপর কোন দল বা গোষ্ঠীকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন।

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর