সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা কিশোর নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক

সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা কিশোর নিহত

কক্সবাজারের উখিয়ায় মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তের নোম্যানস ল্যান্ডে পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে মোহাম্মদ জাবের (১৩) নামে এক রোহিঙ্গা কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।  

নিহত মোহাম্মদ জাবের উখিয়ার কুতুপালং লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা এমদাদ হোসেনের ছেলে। 

শনিবার সকালে উখিয়ার আমতলী সীমান্ত থেকে বিজিবির সহযোগিতায় মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। 

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম শূন্যরেখা রোহিঙ্গা শিবিরের চেয়ারম্যান দিল মোহাম্মদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


আরও পড়ুন: করোনায় আক্রান্ত পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট


তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা যাতে ফিরে যেতে না পারে, সেজন্য সীমান্তে বিজিপি স্থলমাইন পুঁতে রেখেছে। শনিবার সকালে এই স্থলমাইন বিস্ফোরণে ওই রোহিঙ্গা কিশোরের পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে সে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

সীমান্তে দায়িত্বে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজিবির এক শীর্ষ কর্মকতা বলেন, ‘বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে এক রোহিঙ্গার মৃত্যুর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।’

বিজিবি সূত্র জানায়, আমতলী এলাকা দিয়ে কয়েকজন লোক কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় কাধে করে একটি বস্তু নিয়ে আসছিল। এসময় বিজিবি টহলদল তাদের তল্লাশি করলে কাপড়ে মোড়ানো বস্তুটি খুলে ক্ষতবিক্ষত লাশ দেখতে পায়। নিহত ব্যক্তির সহযোগীরা জানায়, সীমান্ত অতিক্রম করার সময় মিয়ানমারের অভ্যন্তরে স্থাপিত ল্যান্ড মাইন বিস্ফোরিত হয়ে নিহত হয়েছে সে। এর আগে নিহত রোহিঙ্গা কিশোর আমতলী সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে মাছ শিকারে যায়। মাছ শিকার শেষে এপারে অনুপ্রবেশকালে এই ঘটনা ঘটে।  

মাইন বিস্ফোরণে এক রোহিঙ্গার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, জিরো লাইনে মিয়ানমারে অংশে মাইন বিস্ফোরণে নিহত এক রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলে জানায় পুলিশের এই কর্মকর্তা। 

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের পর তারা যাতে ফেরত যেতে না পারে; সে জন্য সীমান্ত ঘেঁষে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে স্থলমাইন পুঁতে রাখে মিয়ানমার।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য