সূরা ইয়াসিন আমল করলে দুনিয়া ও আখেরাতে যে লাভ পাবেন

অনলাইন ডেস্ক

সূরা ইয়াসিন আমল করলে দুনিয়া ও আখেরাতে যে লাভ পাবেন

মানুষের সর্বোত্তম হেদায়াত লাভে গ্রন্থ কুরআনুল কারিম। এতে রয়েছে ১১৪টি সূরা। ৩৬তম সূরাটিই হলো সূরা ইয়াসিন। এ সূরাকে কুরআনের হৃদয় বলা হয়েছে। সূরাটির নিয়মিত তেলাওয়াত ও আমলে রয়েছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত।

কুরআনুল কারিম ৩০ পারায় সাজানো। ২২তম পারার শেষে এ সূরাটি শুরু হয়েছে ২৩তম পারার প্রথম দিকে শেষ হয়েছে। সূরাটিতে আয়াত সংখ্যা ৮৩, পাঁচটি রুকু এবং ৭টি মুবিন রয়েছে। সূরাটি ফজিলত সম্পর্কে হাদিসের অনেক বর্ণনা রয়েছে।

হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘প্রত্যেক বস্তুরই একটা হৃদয় থাকে আর কুরআনের হৃদয় হল সূরা ইয়াসিন। যে ব্যক্তি সূরা ইয়াসিন একবার পড়বে, মহান আল্লাহ তাকে দশবার পুরো কুরআন পড়ার সওয়াব দান করবেন।’ (তিরমিজি)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন, ‘সূরা ইয়াসিন কুরআনের রূহ বা হৃৎপিণ্ড। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের কল্যাণ লাভের জন্য সূরা ইয়াসিন পাঠ করবে তার জন্য রয়েছে মাগফিরাত বা ক্ষমা।

সূরা ইয়াসিন বুঝে পড়ায় রয়েছে অনেক উপকারিতা। এ সূরায় মানুষকে পরকালের প্রস্তুতির দিকে আহ্বান করে। আর পরকালভীতিই মানুষকে সৎকর্মে উদ্বুদ্ধ করে এবং অবৈধ বাসনা ও হারাম কাজ থেকে বিরত রাখে।

সুতরাং দেহের সুস্থতা যেমন অন্তরের সুস্থতার ওপর নির্ভরশীল তেমনি ঈমানের সুস্থতা পরকালের চিন্তার ওপর নির্ভরশীল। এ সূরার নিয়মিত আমলকারীর প্রতি থাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনকারীর কোনো গোনাহ থাকে না। সে দিক থেকে পরকালীন কল্যাণের জন্য সূরা ইয়াসিন বুঝে পড়া খুবই জরুরি।

গোনাহ মাফের মাধ্যম সূরা ইয়াসিন

প্রতিদিনের কাজ-কর্মে মানুষ অনেক ভুল-ত্রুটি করে থাকে। আর এসব ভুল-ত্রুটি করা গোনাহের কাজ। গোনাহ মানুষকে জাহান্নামের দিকে ধাবিত করে। আর জাহান্নাম থেকে বেঁচে থাকার একমাত্র উপায় হলো আল্লাহর অনুগ্রহ ও নেক আমল করা। হাদিসে এসেছে-
হজরত ইবনে ইয়াসার রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সূরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করবে আল্লাহ তাআলা তার বিগত জীবনের সব গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন।’ (বায়হাকি,আবু দাউদ)

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে রাতে সূরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করবে, আল্লাহ তার ওই রাতের সব গোনাহ মাফ করে দেবেন।’ (দারেমি)

অভাবমুক্ত থাকার আমল সূরা ইয়াসিন

মানুষের নানামুখী অভাব-অনটন থাকে। শুধু পরিশ্রমে কোনো মানুষের অভাব শেষ হয় না। প্রয়োজন হয় আল্লাহর সাহায্য ও অনুগ্রহের। সূরা ইয়াসিনের আমল অভাবি ব্যক্তির জন্য আল্লাহর মহা অনুগ্রহ। এ সূরার আমলে দুনিয়ার প্রয়োজন পূর্ণ হয়ে যায়। হাদিসে এসেছে-
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি অভাব-অনটনের সময় সূরা ইয়াসিন পাঠ করে তাহলে তার অভাব দূর হয়, সংসারে শান্তি আসে এবং রিজিকে বরকত হয় ‘ (মাজহারি)

হজরত আতা বিন আবি রাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন আমি শুনেছি যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি দিনের বেলায় সূরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করবে, তার সব হাজত (প্রয়োজন) পূর্ণ করা হবে।’ (দারেমি)

হজরত ইয়াহইয়া ইবনে কাসির রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘যে ব্যক্তি সকালে সূরা ইয়াসিন পাঠ করবে সে সন্ধ্যা পর্যন্ত সুখে-স্বস্তিতে থাকবে। যে সন্ধ্যায় পাঠ করবে সে সকাল পর্যন্ত শান্তিতে থাকবে।’ (মাজহারি)

আরও পড়ুন


শপথ নিয়ে ফের কারাগারে কাউন্সিলর

কখন স্বাভাবিক হবে রাজধানীর গ্যাস সরবরাহ

স্ত্রী-সন্তানকে খুন করে নিজেই দিলেন লাশের সন্ধান

ভারতের সাথে আমাদের শুধু আত্মার নয়, রক্তেরও সম্পর্ক : হানিফ


মৃত্যুর যন্ত্রণা মুক্ত থাকার মাধ্যম সূরা ইয়াসিন

তাফসিরে জালালাইনের হাশিয়ায় এসেছে, ‘যদি কোনো মুসলমানের মৃত্যুর সময় হয়, আর সে সময় তার পাশে কেউ সূরা ইয়াসিন পাঠ করে, তবে বেহেশত থেকে রেদওয়ান ফেরেশতা জান্নাতের সুসংবাদ না দেয়া পর্যন্ত রূহ কবজকারী ফেরেশতা (মালাকুল মাউত) ওই ব্যক্তির রূহ কবজ করেন না। রূহ কবজের সঙ্গে সঙ্গে ওই ব্যক্তি অবস্থান হয় রাইয়্যান নামক জান্নাতে। হাদিসে পাকে এসেছে-
হজরত আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে শুনেছি, তিনি বলেছেন, ‘মৃত্যুশয্যা ব্যক্তির কাছে সূরা ইয়াসিন পাঠ করলে তার মৃত্যু যন্ত্রণা সহজ হয়ে যায়। (মাজহারি)

হযরত ইবনে ইয়াসার রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘এটা (সূরা ইয়াসিন) তোমাদের মুমূর্ষু (মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে) ব্যক্তিদের কাছে পাঠ কর।’ (আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমাদ)

মুমিন মুসলমানের ঘরে ঘরে সূরা ইয়াসিনের নিয়মিত অধ্যয়ন, তেলাওয়াত ও আমল খুবই জরুরি। সূরাটি ‘সূরা ইয়াসিন’ নামে প্রসিদ্ধ হলেও এর রয়েছে আরও কয়েকটি নাম। যথাক্রমে তা হলো, ‘সূরা আজিমা’, ‘সূরা মুদাফিয়া’, ‘সূরা কাজিয়া’। এ ছাড়া আসমানি গ্রন্থ তাওরাতে এ সূরাটিকে ‘মুয়িম্মাহ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত প্রতিদিন সকালে অন্তত একবার এ সূরাটি তেলাওয়াত করা। কেননা এ সূরার তেলাওয়াতকারীকে ইহকাল ও পরকালে ব্যাপক কল্যাণ ও শান্তি দান করা হবে।

অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, ‘এ সূরা কেয়ামতের দিন অধিক সংখ্যক মানুষের জন্য সুপারিশকারী হবে আর আল্লাহ তাআলা তা অবশ্যই কবুল করবেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআনের এ গুরুত্বপূর্ণ সূরাটির নিয়মিত তেলাওয়াত ও অধ্যয়ন করে সে আলোকে জীবন পরিচালনা করার তাওফিক দান করুন। কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

তারাবির নামাজ ৮ রাকাত না ২০ রাকাত?

অনলাইন ডেস্ক

তারাবির নামাজ ৮ রাকাত না ২০ রাকাত?

রমজানে তারাবির নামাজে রাকাত সংখ্যা নিয়ে অনেকের মধ্যে মত-পার্থক্য আছে। বিভিন্ন ওলামায়ে কেরামের ভিন্ন মতের কারণে তারাবি ৮ রাকাত না ২০ রাকাত তা নিয়ে দ্বিধায় পরতে হয়। বর্তমানে কিছু কিছু আলেম ও সাধারণ মুসল্লিদের মাঝে মত পার্থক্য দেখা যায়।

অনেকেই প্রশ্ন করেন তাহলে কোনো কোনো মসজিদে তারাবির নামাজ ২০ রাকাত পড়া হয় আবার কোনো কোনো মসজিদে ৮ রাকাত পড়া হয় কেন?

ইসলাম এমন একটি জীবন ব্যবস্থা যেখানে সব কিছুরই সমাধান আছে। তাই এসব নিয়ে ঝামেলায় না জড়িয়ে সহিহ দলিলের মাধ্যমে আমল করায় ভালো।

তবে বিভিন্ন হাদিস ও ওলামায়ে কেরামের ২০ রাকাত ও ৮ রাকাত দুটোর পক্ষেই যুক্তি আছে। কেউ চাইলে তারাবির নামাজ ২০ রাকাতও পড়তে পারেন। এটি ওলামায়েকেরামের বক্তব্য রয়েছে এবং এ বিষয়ে সাপোর্ট রয়েছে এবং এর পক্ষে দলিলও রয়েছে। তবে ৮ রাকাত যে পড়তে পারবেন না তা নয়। কেউ চাইলে ৮ রাকাতও পড়তে পারেন। ৮ রাকাতের বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের ইস্তিহাদ রয়েছে।

তবে সমগ্র বিশ্বে সংখ্যা গরিষ্ঠ ওলামায়ে কেরামের মতে ২০ রাকাত পড়ায় ভালো। সমগ্র দুনিয়ায় ব্যাপী মুসলীম উম্মাহ গত ১৪০০ বছর ধরে ২০ রাকাত তারাবির উপর আমল করে যাচ্ছেন, যা সাহাবীদের যুগ থেকেই তাবেঈ তাবে তাবেঈনদের আমলের মধ্য দিয়ে এখন পর্যন্ত চলমান।

আরও পড়ুন


তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম, সময় ও রাকাআত

হেফাজতের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিবকে আটকের অভিযোগ

হেফাজতের সহকারী মহাসচিব গ্রেফতার

খালেদা জিয়াকে জাপানের রাষ্ট্রদূত ও পাকিস্তান হাইকমিশনারের চিঠি


হজরত উমর (রা.)-এর যুগে সাহাবিদের আমল

১. ইয়াজিদ ইবনে খুসাইফা (রহ.) বলেন, সাহাবি সায়েব ইবনে ইয়াজিদ (রা.) বলেছেন, সাহাবায়ে কেরাম হজরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর যুগে রমজান মাসে বিশ রাকাত তারাবি পড়তেন। তিনি আরো বলেন যে, তারা নামাজে শতাধিক আয়াতবিশিষ্ট সূরাসমূহ পড়তেন এবং হজরত উসমান ইবনে আফফান (রা.)-এর যুগে দীর্ঘ নামাজের কারণে তাদের (কেউ কেউ) লাঠিসমূহে ভর দিয়ে দাঁড়াতেন। -আস সুনানুল কুবরা ও বাইহাকি, ২/৪৯৬/৪২৮৮

অপর সূত্রে সাহাবি সায়েব ইবনে ইয়াজিদ (রা.) বলেন, আমরা হজরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর যুগে বিশ রাকাত এবং বিতর পড়তাম। -আস সুনানুল কুবরা, বাইহাকি- ১/২৬৭-২৬৮

২. তাবেঈ ইবনে আবি যুবাব (রহ.) বলেন, হজরত উমর (রা.)-এর যুগে রমজানের কিয়াম তথা তারাবি ছিল ২৩ রাকাত। -মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, হাদিস: ৭৭৩৩

হাদিসটির সূত্র বিশুদ্ধ। এতে ২৩ রাকাত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, ২০ রাকাত তারাবি ও তিন রাকাত বিতর।

৩. তাবেঈ আবদুল আজিজ ইবনে রুফাই (রহ.) বলেন, উবাই ইবনে কাব (রা.) রমজানে মদিনায় লোকদের নিয়ে বিশ রাকাত তারাবি এবং তিন রাকাত বিতর পড়তেন। -মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ২/২৮৫/৭৭৬৬

৪. তাবেঈ ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আনসারি (রহ.) বলেন, উমর (রা.) এক ব্যক্তিকে আদেশ করেন, তিনি যেন লোকদের নিয়ে বিশ রাকাত পড়েন। -মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ২/২৮৫/৭৭৬৪

৫. তাবেঈ ইয়াজিদ ইবনে রুমান (রহ.) বলেন, হজরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর যুগে লোকেরা রমজানে তেইশ রাকাত পড়তেন। -মুয়াত্তা মালিক, হাদিস: ৩৮০

হজরত আলী (রা.)-এর যুগে সাহাবিদের আমল

বিখ্যাত তাবেঈ ইমাম আবু আবদুর রহমান সুলামি (রহ.) বলেন, আলী (রা.) রমজানে হাফেজদের ডাকেন এবং তাদের একজনকে লোকদেরকে নিয়ে বিশ রাকাত পড়ার নির্দেশ দিলেন। তিনি বলেন, আলী (রা.) তাদের নিয়ে বিতর পড়তেন। -সুনানুল বাইহাকি: ২/৪৯৬-৪৯৭/৪২৯১

তাবেঈ আবুল হাসনা (রহ.) বলেন, আলী (রা.) এক ব্যক্তিকে আদেশ করেন, তিনি যেন লোকদের নিয়ে বিশ রাকাত তারাবি পড়েন। -মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ২/২৮৫/৭৭৬৩

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম, সময় ও রাকাআত

অনলাইন ডেস্ক

তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম, সময় ও রাকাআত

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘ফরজ নামাজের পর সব নফল নামাজের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো তাহাজ্জুদ নামাজ তথা রাতের নামাজ।’ (মুসলিম, তিরমিজি, নাসাঈ)

আল্লাহ তাআলা প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লামকে বিশেষভাবে রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘হে চাদর আবৃত, রাতের সালাতে দাঁড়াও কিছু অংশ ছাড়া।’ (সূরা মুজাম্মিল: আয়াত ১-২)

প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ইসলামের প্রাথমিক যুগে ৫ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার আগে এ নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেন। প্রিয়নবীর প্রতি কিছু সময় নামাজ পড়ার নির্দেশ ছিল না বরং রাতের কিছু অংশ ছাড়া সারারাত জেগে তাহাজ্জুদ আদায়ের নির্দেশ ছিল।

যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যেতে পারবেন, তাদের মধ্যে একশ্রেণির মানুষ হলেন তারা, যারা যত্নের সঙ্গে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করেন। কুরআনের বিভিন্ন সুরায় এ নামাজের প্রতি তাগিদ দেয়া হয়েছে। তাই প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পর সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ি, তাবে-তাবেয়িসহ সব যুগের ওলি ও বিদ্বানরা তাহাজ্জুদ নামাজে রাত কাটিয়ে দিয়েছেন।

তাহাজ্জুদ নামাজের সময়, রাকাআত

ইশার নামাজ আদায়ের পর থেকে সুবহে সাদেকের আগ পর্যন্ত সালাতুল লাইল বা তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া যায়। তবে অর্ধ রাতের পর থেকে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া ভালো। শেষ রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা সর্বোত্তম।

তাহাজ্জুদ নামাজ ২ থেকে ১২ রাকাআত পর্যন্ত পড়ার বর্ণনা পাওযা যায়। সর্ব নিম্ন ২ রাকাআত আর সর্বোচ্চ ১২ রাকাআত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৮ রাকাআত তাহাজ্জুদ পড়তেন। তাই ৮ রাকাআত তাহাজ্জুদ পড়াই ভালো। তবে এটা পড়া আবশ্যক নয়।

সম্ভব হলে ১২ রাকাআত তাহাজ্জুদ আদায় করা। তবে ৮ রাকাআত আদায় করা উত্তম। সম্ভব না হলে ৪ রাকাআত আদায় করা। যদি তাও সম্ভব না হয় তবে ২ রাকাআত হলেও তাহাজ্জুদ আদায় করা ভালো। তবে তাহাজ্জুদ নামাজের কোনো কাজা নেই।

আরও পড়ুন


হেফাজতের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিবকে আটকের অভিযোগ

হেফাজতের সহকারী মহাসচিব গ্রেফতার

খালেদা জিয়াকে জাপানের রাষ্ট্রদূত ও পাকিস্তান হাইকমিশনারের চিঠি

কলকাতার পথে হাটলো হায়দরাবাদও!


তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ رَكَعَتِى التَّهَجُّدِ - اَللهُ اَكْبَر

অর্থ: দুই রাকাআত তাহাজ্জুদের নিয়ত করছি.. অতঃপর ‘আল্লাহু আকবার’ বলে নিয়ত বেঁধে নামাজ পড়া।

তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম

প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুই দুই রাকাআত করে এ নামাজ আদায় করতেন। যে কোনো সূরা দিয়েই এ নামাজ পড়া যায়। তবে তিনি লম্বা কেরাতে নামাজ আদায় করতেন। তাই লম্বা কেরাতে তাহাজ্জুদ আদায় করা উত্তম।

১. তাকবিরে তাহরিমা ‘আল্লাহু আকবার’ বলে নিয়ত বাঁধা।
২. অতঃপর ছানা পড়া।
৩. সূরা ফাতেহা পড়া।
৪ সূরা মিলানো তথা কেরাত পড়া। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনেক লম্বা কেরাত পড়তেন। অতঃপর অন্যান্য নামাজের ন্যায় রুকু, সেজদা আদায় করা। এভাবেই দ্বিতীয় রাকাআত আদায় করে তাশাহহুদ, দরূদ ও দোয়া মাছুরা পড়ে সালাম ফেরানোর মাধ্যমে নামাজ সম্পন্ন করা।

এভাবে দুই দুই রাকাআত করে ৮ রাকাআত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা উত্তম।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে যথাযথভাবে রাতের শেষ প্রহরে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

সেহরি খাওয়ার ফজিলত

অনলাইন ডেস্ক

সেহরি খাওয়ার ফজিলত

‘সেহরি’ আরবি শব্দটি সাহ্রুন মূল ধাতু থেকে নির্গত। সাহ্রুন-এর বাংলা অর্থ রাত্রি জাগরণ করা। বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম সমাজে সেহরি শব্দটি একটি ধর্মীয় পরিভাষা হিসেবে বহল প্রচলিত। শাব্দিক দিক দিয়ে রাত্রিকালীন খাবারকে সেহরি বলা হয়। আর ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় রোজাদার ব্যক্তি রোজা রাখার উদ্দেশ্যে রাতের শেষভাগে সুবহে সাদিকের আগে যে খাবার গ্রহণ করে, তাকে সেহরি বলা হয়।

আল্লাহ বলেন, ‘পানাহার কর যে পর্যন্ত প্রত্যুষে কালো রেখা হতে সাদা রেখা প্রকাশ হয়।’ (সুরা বাকারা- ১৮৭ আয়াত। অর্থাৎ সুবেহ সাদেক উদয় হওয়া পর্যন্ত সেহেরি খাওয়ার শেষ সময়। 

আরেক হাদিসে আছে, হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, মহানবী (সা.) বলেছেন, তিনটি জিনিসে বরকত রয়েছে। জামাআতে, সারিদ এবং সেহেরিতে। (তাবারানী)

বুখারী ও মুসলিম শরীফে হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন, তোমরা সেহরি খাও, কারণ সেহরিতে বরকত রয়েছে।

রাসূলুল্লাহ (সা.) এর কাছে একজন সাহাবী এলেন যখন তিনি সেহরি খাচ্ছিলেন। রাসূল (সা.) তাকে দেখে বললেন, এ খাবার বরকতের। আল্লাহ পাক বিশেষভাবে তোমাদের তা দান করেছেন। কাজেই তোমরা সেহরি খাওয়া ছেড়ে দিও না। (নাসাঈ)

মুসলিম শরীফে হযরত আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমাদের এ সিয়াম ও আহলে কিতাবদের (ইহুদী ও খৃষ্টান) রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সেহরি খাওয়া।


৮ দিনের লকডাউন শুরু, রাজধানীর সড়কে সুনসান নীরবতা

সূরা ফাতিহার বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ

করোনাবিধ্বস্ত জনপদে উৎসবহীন পহেলা বৈশাখ আজ

ফের বিয়ে করলেন কণ্ঠশিল্পী পুতুল


সেহরি খাওয়া সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহতায়ালা সেহরি খাওয়া বান্দার ওপর রহমত নাজিল করেন।

হযরত ইয়ালা বিন মুররাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, আল্লাহতায়ালার কাছে তিনটি বস্তু অধিক পছন্দনীয়। (এক) সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাড়াতাড়ি ইফতার করা। (দুই) সেহরি দেরিতে খাওয়া। (তিন) নামাজে হাত বেঁধে আল্লাহর ধ্যান-খেয়ালে আদবের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকা।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

ইফতারের গুরুত্ব

অনলাইন ডেস্ক

ইফতারের গুরুত্ব

রোজা পালনে ইফতারের গুরুত্বও অপরিসীম। আবার সময়মতো ইফতার করার মধ্যেও রয়েছে অশেষ সওয়াব ও কল্যাণ।

রাসূলে কারিম হযরত মুহাম্মাদ (সা.) এরশাদ করেন, তোমরা ইফতারের সময় হওয়ামাত্র ইফতার করে নাও। এতটুকু বিলম্ব করো না।

এ সম্পর্কে তিরমিজি শরীফে উল্লেখ আছে যে, আমি ওই ব্যক্তিকে সর্বাধিক ভালোবাসি যে ইফতারের সময় হওয়া মাত্র ইফতার করে নেয়।


৮ দিনের লকডাউন শুরু, রাজধানীর সড়কে সুনসান নীরবতা

সূরা ফাতিহার বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ

করোনাবিধ্বস্ত জনপদে উৎসবহীন পহেলা বৈশাখ আজ

ফের বিয়ে করলেন কণ্ঠশিল্পী পুতুল


আবু দাউদ শরীফে আছে, হযরত রাসূলে পাক (সা.) যখন ইফতার করতেন, তখন বলতেন, আমার তৃষ্ণা নিবৃত্ত, আমার শিরা উপশিরা সিক্ত হয়েছে এবং আল্লাহপাক পরওয়ারদেগারের পুরস্কার নির্ধারিত হয়ে গেছে।

হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, মানুষ ততদিন কল্যাণের মধ্যে থাকবে যতদিন তারা ইফতারের সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করে নেবে। (বুখারি ও মুসলিম)

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

সুরা ফাতিহা ও বাকারার বাংলা অনুবাদ

অনলাইন ডেস্ক

সুরা ফাতিহা ও বাকারার বাংলা অনুবাদ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের মাস মাহে রমজান। এ মাসেই নাজিল হয় বিস্ময় গ্রন্থ পবিত্র আল কোরআন। যা মানব জাতীর জন্য পথ প্রদর্শক। কুরআন পড়া মুসলমান ভাই-বোনদের জন্য অপরিহার্য, আমরা কুরআন শুধু তিলাওয়াতই করব না বরং তা বুঝব এবং সেইসাথে নিজেদের জীবনে প্রয়োগ করব।

রাসূল -সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-আমাদেরকে শ্রেষ্ঠ হবার একটি সহজ পদ্ধতি শিখিয়ে গেছেন-

তোমাদের মাঝে শ্রেষ্ঠ হলো যে নিজে কুরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়। (আল-বুখারী)

রমজান মাসে পাঠকদের জন্য কোরআনের বাংলা অনুবাদ জানার সুযোগ করে দিচ্ছে নিউজ টোয়েন্টিফোর অনলাইন। আজ আমরা তুলে ধরব সুরা ফাতিহা ও সুরা বাকারার বাংলা অনুবাদ।

সুরা ফাতিহার বাংলা অনুবাদ

সুরা বাকারার বাংলা অনুবাদ

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর