অজু ছাড়া দরুদ শরিফ পাঠ করা যাবে কি না?

অনলাইন ডেস্ক

অজু ছাড়া দরুদ শরিফ পাঠ করা যাবে কি না?

আল্লাহতায়ালার দরবারে যেকোনো ইবাদত ও দোয়া কবুল হতে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা অত্যন্ত জরুরি। পরম ভক্তি-শ্রদ্ধা ও ভালোবাসাপূর্ণ অন্তরে নিবিষ্টভাবে নবী করিম (সা.)–এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা নেক আমল। তাই প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের উচিত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর অধিক দরুদ পাঠ করা।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তার ফেরেশতাগণ নবীর ওপর দরুদ ও সালাম পেশ করে (অনুগ্রহ প্রার্থনা করে)। হে মুমিনগণ! তোমরাও নবীর ওপর দরুদ পড়ো (অনুগ্রহ প্রার্থনা করো) এবং তাকে যথাযথভাবে সালাম জানাও। ’ -সূরা আল আহজাব : ৫৬

হজরত কাব ইবনে ওজারা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ আছে যে তিনি বলেন, একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনার ওপর আমরা কীভাবে দরুদ পড়ব?’ তিনি বললেন, বলো, ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিও ওয়া আলা আ-লি মুহাম্মাদ; কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আ-লি ইবরাহিমা ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ; আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিও ওয়া আলা আ-লি মুহাম্মাদ- কামা বারাকতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আ-লি ইবরাহিম ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ। ’

অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মদ (সা.) এবং তার বংশধরদের ওপর এই রূপ রহমত নাজিল করো, যেমনটি করেছিলে ইবরাহিম ও তার বংশধরদের ওপর। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসনীয় ও সম্মানীয়। হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মদ (সা.) এবং তার বংশধরদের ওপর বরকত নাজিল করো, যেমন বরকত নাজিল করেছিলে ইবরাহিম ও তার বংশধরদের ওপর। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসনীয় ও সম্মানীয়। -বোখারি ও মুসলিম

উল্লেখিত দরুদটি দরুদে ইবরাহিম নামে সমধিক পরিচিত, যা ‍আমরা নামাজে পাঠ করে থাকি।

আরেক হাদিসে আছে, নবী (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন সেই ব্যক্তি আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে, যে ব্যক্তি আমার ওপর সবচেয়ে বেশি দরুদ পড়ে। ’ –তিরমিজি


আরও পড়ুন: গীবত কাকে বলে, এর শাস্তি কী?


দৈনন্দিন জীবনে দরুদ শরিফ পাঠের দ্বারা আল্লাহর দরবারে মানুষের দোয়া কবুল হয়। হাদিসে বর্ণিত আছে, ‘কোনো দোয়া আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না, যতক্ষণ সে দোয়ার আগে ও পরে নবী করিম (সা.)-এর ওপর দরুদ পড়া না হয়। ’

অজু ছাড়াও দরুদ শরিফ পড়া যায়

অনেকে মনে করেন, নবী করিম (সা.)-এর শানে দরুদ শরিফ পাঠ করতে হলে এর আগে অজু করে নেয়া জরুরি। অজুর অবস্থা ছাড়া দরুদ শরিফ পাঠ করলে গুনাহ হয়। এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল ও ভিত্তিহীন। অজু থাকা না-থাকার সঙ্গে দরুদ শরিফ পাঠের কোনো সম্পর্ক নেই। অজু না থাকার অজুহাতে দরুদ শরিফ পাঠ থেকে বিরত থাকা ঠিক নয়। বাসায়, অফিসে, পরিবহনে, অবসরে যেকোনো অবস্থায় বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করলে অনেক কল্যাণের অধিকারী হওয়া যায়। অজু ছাড়া দরুদ শরিফ পাঠ করা যায়, এমনকি কোরআন শরিফও তেলাওয়াত করা যায়। তবে অজু ছাড়া কোরআন শরিফ ছোঁয়া যায় না। গোসল ফরজ হলে কোরআন শরিফ ছোঁয়া, তেলাওয়াত করা এবং অন্যের কণ্ঠে শোনাও বৈধ নয়। বড় ধরনের জটিলতা না থাকলে ফরজ গোসলে দেরি করা অনুচিত। গোসল ফরজ হলে খুব দ্রুত পবিত্রতা অর্জন করতে হবে।

হাদিস শরিফে ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের দরুদ শরিফের উল্লেখ আছে। ছোট, সহজ এবং অনেক সওয়াবের একখানা দরুদ শরিফের বাংলা উচ্চারণ হলো- ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা- মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়া আলা- আ-লিহী ওয়া সাল্লিম তাসলিমা।’

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য