অশ্লীল ভিডিও চ্যাটিং ইসলামে ব্যভিচারের অন্তর্ভুক্ত
অশ্লীল ভিডিও চ্যাটিং ইসলামে ব্যভিচারের অন্তর্ভুক্ত

অশ্লীল ভিডিও চ্যাটিং ইসলামে ব্যভিচারের অন্তর্ভুক্ত

অনলাইন ডেস্ক

রাসুলে কারিম (সা.) বলেন—‘যখন কোনো মানুষ ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, তখন তার থেকে ঈমান বের হয়ে যায়। ঈমান তার মাথার ওপর ছায়ার মতো অবস্থান করে, যখন সে বিরত থাকে ঈমান আবার ফিরে আসে। ’ (সুনানে তিরমিজি,  হাদিস : ২৫৪৯)

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘আদমসন্তানের ওপর ব্যভিচারের কিছু অংশ লিপিবদ্ধ হয়েছে সে অবশ্যই তার মধ্যে লিপ্ত হবে। দুই চক্ষুর ব্যভিচার হলো দৃষ্টি এবং তার দুই কানের ব্যভিচার শ্রবণ, মুখের ব্যভিচার হলো কথা বলা, হাতের ব্যভিচার হলো স্পর্শ করা ও পায়ের ব্যভিচার হলো পদক্ষেপ আর অন্তরে ব্যভিচারের আশা ও ইচ্ছার সঞ্চার হয়, অবশেষে লজ্জাস্থান একে সত্যে অথবা মিথ্যায় পরিণত করে।

’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৪৮০২)

অশ্লীল ভিডিও চ্যাট কিংবা ভার্চুয়াল সেক্স ব্যভিচারের অন্তর্ভুক্ত। ইসলাম ধর্মে শুধু কল্পনা করে কোনো যৌন আচরণ করলেও গোনাহ হয়। কামভাব নিয়ে বেগানা নারী ইচ্ছাকৃতভাবে দেখলে চোখের জিনা হয়। স্পর্শ করলে হাতের জিনা হয়। ভাবলে মনের জিনা হয়। সে দিকে অগ্রসর হলে পায়ের জিনা হয়। এসব কথা বললে বা শুনলে মুখ ও কানের জিনা হয়। জিনা মানে জিনার মতো গোনাহ হয়।

ইসলামের এই নীতিমালার আলোকে অশ্লীল ভিডিও চ্যাট কিংবা ভার্চুয়াল সেক্স ব্যভিচারের অন্তর্ভুক্ত। তবে এ কারণে ঠিক জিনার সমান শাস্তি না হলেও গোনাহ সমান হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

যিনাহ/ব্যভিচার ৭ টি জিনিস দিয়ে হয়:
মন- এখান থেকেই ব্যভিচারের উৎপত্তি। যে ব্যক্তি মনের বিরুদ্ধে চলতে পারে সেই পূর্ণ ঈমানদার মুসলমান হয়।
চোখ- চোখের ব্যভিচার সবচেয়ে বড় ব্যভিচার্। কারোর প্রতি অসাবধানতাবশত প্রথমবার চোখ পড়লে পাপ হয়না কিন্তু ২য় বার তাকালে বা ১ম বার দৃষ্টির পর সাথে সাথে দৃষ্টি ফিরিয়ে না নিলে যিনা তথা ব্যভিচার হয়।
জিহ্বা- জিহ্বা দ্বারা ব্যভিচার হয় যখন একজন নর/নারী আরেকজন নর/নারীর সাথে কথা বলে রক্ত ও স্ত্রীর সম্পর্ক ছাড়া।
কান- এটা দিয়ে ব্যভিচার হয় যখন নর/নারীর কথা শুনা হয়। রক্তের সম্পর্ক থাকলে সমাস্যা নেই।
হাত- এটা দিয়ে ব্যভিচার হয় যখন কোন বিবাহিত/ অবিবাহিত নর/নারীর শরীরের যেকোন অংশ স্পর্শ বা ধরা হয়।
পা- এটা দিয়ে ব্যভিচার হয় যখন পায়ে হেটে কাঙ্খিত কোন নর বা নারীর কাছে যাওয়া হয়।
গুপ্ত অঙ্গ- এটা দিয়েই শুধু ব্যভিচার হয় মানুষ তা ভাবলেও এটার স্থান সবার পরে। কেননা উপরে ৬ টিকে দমন করতে পারলেই এই অঙ্গ হেফাযত করা যাবে।


অভাব দুর হবে, বাড়বে ধন-সম্পদ যে আমলে

সংবাদ উপস্থাপনায় ও নাটকে রূপান্তরিত দুই নারী

করোনার ভ্যাকসিন গ্রহণে বাধা নেই ইসলামে

কমেন্টের কারণ নিয়ে যা বললেন কবীর চৌধুরী তন্ময়


কারণ, পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা জিনার ধারে কাছেও যেয়ো না। নিঃসন্দেহে এটা অশ্লীলতা ও খুবই মন্দ পথ। ’

অতএব, মৃত্যু থেকে বাঁচার জন্য যেমন মৃত্যুর কারণগুলো থেকে বাঁচতে হয়। তেমনই জিনা থেকে বাঁচতে হলে জিনার কারণসমূহ থেকে বাঁচতে হবে।

অনেক ইসলামি স্কলারের অভিমত হলো- ভিডিও চ্যাটিং ইত্যাদির মাধ্যমে নিজ স্ত্রীর সঙ্গে যৌন আচরণ করা শরিয়তে হারাম নয়। তবে, যৌনতার উদ্দেশ্য যেহেতু মানসিক প্রশান্তি ও সন্তানাদিকে পৃথিবীতে আনা- এসব দ্বারা তো উদ্দেশ্য পূরণের কোনো সম্ভাবনা নেই। তাই এমন আচরণকে ইসলামি শরিয়ত পূর্ণ সমর্থন দেয় না। তবে, এতে ভিন্ন নারী-পুরুষের মধ্যকার কঠিন গোনাহের মতো গোনাহ হবে না, কিন্তু বেঁচে থাকা ভালো। অগত্যা যদি নিজেদের উভয়ের মানসিক প্রশান্তির জন্য বিশেষ করে অন্য কোনো গোনাহ থেকে বাঁচার জন্য এসব করা হয়- তাহলে শরিয়ত কিছুটা শিথিলতা দেখাতে পারে। এ ব্যাপারে হাদিসেও ইশারা পাওয়া যায়।

তবে, স্বামী-স্ত্রী ছাড়া পর নারী-পুরুষের বেলায় এসব সম্পূর্ণ হারাম।

“তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না। নিশ্চয় এটি অশ্লীল কাজ ও অসৎ পন্থা। ” (সূরা বনী ইসরাঈল: ৩২)

হে আল্লাহ! আমরা তোমার নিকট দয়া, অনুগ্রহ ও দোষ-ত্র“টির গোপনীয়তা প্রার্থনা করছি এবং এমন সম্ভ্রম কামনা করছি যার বদৌলতে তুমি আমাদেরকে সকল অশ্লীলতা থেকে রক্ষা করবে। আমীন!

news24bd.tv/আলী

;

পাঠকপ্রিয়