যেভাবে আইসক্রিম বিক্রেতা তরুণী এখন পুলিশ কর্মকর্তা
যেভাবে আইসক্রিম বিক্রেতা তরুণী এখন পুলিশ কর্মকর্তা

যেভাবে আইসক্রিম বিক্রেতা তরুণী এখন পুলিশ কর্মকর্তা

অনলাইন ডেস্ক

কথায় আছে মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়। তাই জীবনযুদ্ধে লাগাতার লড়াই করে আইসক্রিম বিক্রেতা থেকে পুলিশ কর্মকর্তা হয়ে নিজের স্বপ্নের নাগাল পেলেন এই তরুণী।

কম বয়সেই ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করে ঘর ছাড়েন তিনি। পরিবারের সদস্যরা মুখ ফিরিয়ে নিলেও নতুন সংসারের স্বপ্নে বিভোর ওই তরুণী ঘর বাঁধেন ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে।

তাদের এক ছেলে সন্তানও হয়।  

স্বামী-সন্তান নিয়ে সুখেই কাটছিল ওই তরুণীর দিন। কিন্তু বিধি বাম। সন্তান জন্মের অল্প কিছুদিন পর স্বামী ছেড়ে চলে যান। পরিবারের অমতে বিয়ে করায় ফিরতে পারেননি নিজের বাড়িতেও।  

জীবন চালাতে বছর ১৮’র ওই তরুণী লেবুর শরবত, আইসক্রিম, হাতে তৈরি বিভিন্ন জিনিসপত্র বিক্রিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু এক যুগ পর কঠোর পরিশ্রমে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে নিজের প্রতিষ্ঠিত করেছেন ভারতের কেরালার পুলিশের উপ-পরিদর্শক অ্যানি শিবা।

অ্যানির এই কঠোর পরিশ্রমে মুগ্ধ হয়ে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে টুইট করেছে কেরালা পুলিশ। ওই টুইটে লেখা হয়েছে, ‘ইচ্ছাশক্তি আর আত্মবিশ্বাসের একজন মডেল অ্যানি। ’

অ্যানি শিবার বয়স এখন ৩১ বছর। তিনি শিক্ষানবীশ পুলিশ কর্মী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন।

গণমাধ্যমকে নিজের সাফল্যের গল্প শুনিয়েছেন অ্যানি। তিনি জানিয়েছেন, পদোন্নতি পেয়ে আমি কেরালার ভালকারা থানায় দায়িত্ব পেয়েছি। এখানেই আমার সংগ্রামের শুরু। এটা সেই জায়গা যেখানে আমি ছয়মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে দিনের পর দিন কাঁদেছি। কেউ ছিল না আমাকে সহায়তা করার মতো।

জীবিকার প্রয়োজনে ভালকারা শিবগিরি আশ্রমে আমি ছোট একটা দোকান দেই। সেখানে আমি লেবুর শরবত, আইসক্রিম থেকে শুরু করে বিভিন্ন হাতের তৈরি জিনিসসহ অনেক ছোটখাট ব্যবসা করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কোনোটাই সফলতার মুখ দেখেনি। তখন এক ব্যক্তি আমাকে পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার জন্য টাকা দেন। তিনিই আমাকে পুলিশের উপ-পরিদর্শক পদে পরীক্ষা দেওয়ার পরামর্শ দেন।

যখন ভালোবাসার মানুষের সাথে ঘর ছেড়েছিলেন তখন অ্যানি স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। স্বামী ছেড়ে যাওয়ার পর বাড়িতে ফেরার চেষ্টা করলেও পরিবার তাকে গ্রহণ করেনি। এরপর ছেলেকে নিয়ে দাদির বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন অ্যানি। কিন্তু পরবর্তীতে ভালো চাকরির খোঁজে সেখান থেকে চলে যান তিনি।

তিনি বলেন, আমি সবসময় চেয়েছিলাম ভারতীয় পুলিশের সার্ভিসের (আইপিএস) এক কর্মকর্তা হতে। কিন্তু ভাগ্য অন্যকিছু লিখে রেখেছিল আমার জন্য। আমি এখন একই সঙ্গে গর্বিত আর আপ্লুত বোধ করছি যে অনেকেই আমার ফেসবুকে পোস্ট শেয়ার করে আমাকে অনুপ্রাণিত করছেন।

অ্যানি জানান, মানুষেরই তো মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত। যদি কোনো নারী তার সাফল্যগাঁথায় অনুপ্রাণিত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন,তাহলে তিনি ভীষণ খুশি হবেন।
news24bd.tv / তৌহিদ

;