সূরা বাকারা: আয়াত ২৩-২৪, বিশ্ব নবীর মুজিযা

অনলাইন ডেস্ক

সূরা বাকারা: আয়াত ২৩-২৪, বিশ্ব নবীর মুজিযা

পবিত্র কুরআনের গুরুত্বপূর্ণ সূরা আল-বাকারা আলোচনার আজকের পর্বে সূরা আল-বাকারা’র ২৩ থেকে ২৪ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা তুলে ধরা হবে। এই সূরার ২৩ আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন -

وَإِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِمَّا نَزَّلْنَا عَلَى عَبْدِنَا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِنْ مِثْلِهِ وَادْعُوا شُهَدَاءَكُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ (23
"আমি আমার বান্দার (মোহাম্মাদের) প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি তাতে তোমাদের কোন সন্দেহ থাকলে তোমরা তার মত কোন সূরা আনো। আর যদি সত্যবাদী হও তাহলে এ কাজের জন্য আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সব সাক্ষীকে আহ্বান কর।" (২:২৩)

প্রত্যেক নবীকে তার নবুয়্যত প্রমাণ করার জন্য মুজিযা আনতে হয়। মুজিযা অর্থাৎ এমন অলৌকিক কাজ তাকে দেখাতে হয় যা অন্যদের পক্ষে দেখানো সম্ভব নয়। ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মুজিযা হলো পবিত্র কোরআন। মানব জাতি ভাষা কিংবা অর্থের দিক থেকে কোরআনের মত গ্রন্থ সৃষ্টিতে সম্পূর্ণ অক্ষম। আল্লাহপাক ইসলাম বিরোধীদের প্রতি বহুবার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেছেন-"তোমরা যদি কোরআনকে আল্লাহর কিতাব বলে মনে না করো এবং একে মানব রচিত গ্রন্থ বলে মনে করো তাহলে কোরআনের মতো একটি গ্রন্থ নিয়ে আসো।"

মজার ব্যাপার হলো- কোরআন দুশমনদেরকে বার বার তার চ্যালেঞ্জের শর্ত সহজ করে দিয়েছে। একবার বলেছে-কোরআনের মত কোন গ্রন্থ নিয়ে আসো। আরেক জায়গায় বলেছে- কোরআনের মত দশটি সূরা নিয়ে আসো। আর এ আয়াতে বলা হয়েছে-কোরআনের মত অন্তত একটি সূরা নিয়ে আসো। এ ছাড়া কোরআন এ চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে ইসলাম বিদ্বেষীদের উদ্দেশ্যে বলেছে, এ রকম একটি সূরা লেখার জন্য বিশ্বে তোমাদের যত সাহায্যকারী ও সমমনা ব্যক্তি আছে প্রয়োজনে তাদের সবার সাহায্য নাও। কিন্তু জেনে রাখো যে এ কাজ করার সাধ্য তোমাদের নেই।

আল্লাহর সব নবীরই মুজিযা ছিল। কিন্তু মহানবী (সা.)এর মুজিযা অর্থাৎ কোরআনের কতগুলো বিশেষ বৈশিষ্ট রয়েছে। যেমন, কোরআন নিজেই অবিশ্বাসীদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয় এবং তাদেরকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে। কিন্তু অন্যান্য নবীদের মুজিজা স্বয়ং নবীদেরকে প্রদর্শন করতে হতো এবং জনগণকে বলতে হতো যে এটা আমার মুজেজা। কোরআনের দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হলো এটি চিরন্তন। অন্যান্য নবীদের মুজিযা একটি বিশেষ সময়ে সংঘটিত হয়েছে এবং শুধু ওই যুগের মানুষই তা দেখেছে ও শুনেছে। কিন্তু কোরআন শুধু রাসূলে (সা.) এর যুগের জন্য মুজিযা নয় বরং সর্ব যুগের জন্য এটি মুজিযা। কালের পরিক্রমায় এ ঐশী গ্রন্থ কখনো পুরনো হবে না বরং দিন দিন এর বিষয়বস্তু আরো স্পষ্ট ও বিকশিত হবে। পবিত্র কোরআনের তৃতীয় বৈশিষ্ট্য হলো এর বিশ্বজনীনতা। কোরআন কোন কালের গণ্ডীতে সীমাবদ্ধ নয়, কোন বিশেষ ভূখণ্ড বা স্থানের জন্যও নির্ধারিত নয়। কোরআন যাদেরকে উদ্দেশ্য করে কথা বলেছে, তারা শুধু আরবভাষী হিজাজের অধিবাসী নয় বরং পৃথিবীর সকল জাতি, বর্ণ, গোত্র সবাইকে উদ্দেশ্য করে কোরআন কথা বলেছে। তাই এ আসমানী কিতাবের একটি জায়গাতেও "হে আরব জাতি" কথাটি আসেনি। বরং পৃথিবীর সব মানুষকে উদ্দেশ্য করে কোরআন বলেছে "হে মানব জাতি"। মুজিযা হিসাবে কোরআন মজিদের ৪র্থ বৈশিষ্ট্য হলো এর আধ্যাত্মিকতা। অন্যান্য নবীদের মুজিযা ছিল দৈহিক ও বস্তুগত। সেসব অলৌকিক ঘটনা দেখে মানুষ অভিভুত হয়ে যেত। কিন্তু কোরআন সাধারণ বর্ণমালা দিয়ে রচিত হলেও মানুষের অন্তরের মধ্যে এত গভীর প্রভাব ফেলে যে খুব সহজেই তা মানুষের জ্ঞানকে বিষ্ময়ে অভিভূত করে এবং তার মন ও আত্মাকে বিমোহিত করে ফেলে।

এই আয়াতে কয়েকটি লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, পয়গম্বরগণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো তারা আল্লাহর পূর্ণ অনুগত এবং একমাত্র তাঁরই দাসত্ব করেন। তাই কোরআনের বহু জায়গায় নবীদেরকে "আমার বান্দা বলে অভিহিত করা হয়েছে। যেমনটি এ আয়াতে বলা হয়েছে "কোরআনকে আমি আমার বান্দার ওপর নাযিল করেছি।"

কোরআন হলো যুক্তির গ্রন্থ। এ গ্রন্থ কোন সন্দেহ বা সংশয়ের অবকাশ রাখে না। তাই বলা হয়েছে "যদি তোমরা সন্দেহ কর তাহলে" কোরআনের অনুরূপ একটি সূরা নিয়ে আসো। এছাড়া কোরআন হলো আল্লাহর চিরন্তন ও সার্বজনীন মুজিযা। এটি প্রত্যেক যুগেই মানুষের প্রতি তার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে।

এরপর এই সূরার ২৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে,

فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا وَلَنْ تَفْعَلُوا فَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِي وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ أُعِدَّتْ لِلْكَافِرِينَ (24

"আর যদি তা না পার-অবশ্য তা তোমরা কখনও পারবে না, তাহলে সেই আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা কর, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর। যা প্রস্তুত করা হয়েছে কাফেরদের জন্য।" (২-২৪)

এর আগের আয়াতে কোরআন অবিশ্বাসী-কাফেরদেরকে কোরআনের সূরার অনুরূপ একটি সূরা লেখার আহ্বান জানিয়েছে। আর এ আয়াতে বলছে- এ কাজ কখনোই তাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। যারা রাসূলের কথা ও বাচনভঙ্গীর সাথে পরিচিত এবং তার যুগে বসবাস করেছে তারা যেমন কোরআনের মত একটি সূরা তৈরী করতে পারবে না, তেমনি ভবিষ্যতেও এ কাজ কারো দ্বারা সম্ভব হবে না। এরপর কোরআন অবিশ্বাসীদেরকে জাহান্নামের আগুনের ব্যাপারে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছে, জাহান্নামের আগুনের জ্বালানি হিসাবে পাপাচারী ও খোদাদ্রোহীদের দেহ পাথরের পাশাপাশি জ্বলবে। এ আয়াতে 'পাথর' বলতে পীট কয়লা বোঝানো হচ্ছে যা দোজখের আগুন সৃষ্টি করে, কিংবা পাথরের মূর্তি বোঝানো হচ্ছে, যেসব মূর্তিকে রাসূলে খোদার দুশমনরা উপাসনা করতো, আল্লাহ তাদের অপরাধের প্রমাণ হিসাবে পাথরের ওই মূর্তিগুলোকে কেয়ামতের সময় হাজির করবেন। যাতে মূর্তি পূজকেরা তাদের কৃতকর্মের কথা অস্বীকার করতে না পারে।

আরও পড়ুন


সক্রিয় পাচারকারী চক্র, চাকরির প্রলোভনে টার্গেট দরিদ্র নারীরা

চাল আমদানিতে শুল্ক কমলো

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে গাছ রোপণ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি

আবাসিক ফ্ল্যাটে মাদকের রমরমা কারবার (ভিডিও)


এই আয়াতে আমাদের জন্য লক্ষণীয় কয়েকটি বিষয় হচ্ছে,-

প্রথমত: নিজেদের ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে বিরুদ্ধবাদীদের সঙ্গে দৃঢ়তার সাথে কথা বলতে হবে এবং ইসলামের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রাখতে হবে। এ আয়াতে বিরুদ্ধবাদীদের প্রতি উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে-'তোমরা কোরআনের মত কোন সূরা আনতে পারোনি এবং কখনও তা পারবেও না।

দ্বিতীয়ত: মানুষ অবিশ্বাসের ফলে পাথর ও জড় পদার্থের কাতারে গিয়ে ঠাঁই করে নেয়। এ আয়াতে বলা হয়েছে-'দোযখের আগুনের জ্বালানি হলো মানুষ ও পাথর।'

তৃতীয়ত: যে অন্তর পাথরের মত শক্ত হয়ে গেছে এবং কোরআনের বাণী গ্রহণ করে না, কেয়ামতের দিন সেই অন্তরের পুনরুত্থান হবে পাথরের সাথে।

চতুর্থত: কোরআন কেবল রাসূলের যুগের জন্যেই মুজিযা নয় এবং এ আসমানী গ্রন্থ সব যুগের জন্য মুজিযা। তাই বলা হয়েছে-"ভবিষ্যতেও কেউ কোরআনের মত কিছু রচনা করতে সক্ষম হবে না।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

চোখ বন্ধ করে নামাজ পড়া যাবে কি?

অনলাইন ডেস্ক

চোখ বন্ধ করে নামাজ পড়া যাবে কি?

নামাজে দাঁড়ানো অবস্থায় দৃষ্টি সিজদার স্থানে রাখবে। বিনা প্রয়োজনে নামাজে চোখ বন্ধ করে রাখা মাকরূহ।

প্রখ্যাত ফিকাহবিদ ও মুসলিম মনীষী ইবরাহিম নাখায়ি (রহ.)- ব্যাপারে বর্ণিত আছে যে, তিনি দৃষ্টি সিজদার স্থান অতিক্রম করে না যাওয়া-পছন্দ করতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, বর্ণনা : ৬৫৬৩)

আরেকজন ফিকাহবিদ ও মুসলিম গবেষক মুজাহিদ (রহ.)-এর ব্যাপারে বর্ণিত আছে যে, তিনি নামাজে চোখ বন্ধ করে রাখা অপছন্দ করতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, বর্ণনা : ৬৫৬৫)

আরও পড়ুন:


২০৪১ সালের মধ্যে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন লক্ষ্য ৬০ হাজার মেগাওয়াট

খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ল

দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিং মামলায় ডিআইজি পার্থ গোপাল কারাগারে

নতুন লুকে পর্দায় ফিরছেন শুভ!


অবশ্য সামনে যদি এমন কিছু আসে-যা নামাজে মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক; সেক্ষেত্রে মনোযোগ রক্ষার জন্য তখন চোখ বন্ধ করে রাখার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু নিয়মিত চোখ বন্ধ রেখে নামাজ পড়া মাকরূহ।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

সোমবার যে আমলটি করলে মনের আশা পূরণ হবে!

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার যে আমলটি করলে মনের আশা পূরণ হবে!

আজ সোমবারের দিনে বা রাতে এই আমলটি করলে মনের আশা পূরণ হবে। সকল দুয়া কবুল হবে ইনশাআল্লাহ।সাপ্তাহিক আমল পেশ করা হয় সোমবার ও বৃহস্পতিবারে। হাদিসে এসেছে, এই দুই দিন রাসুল (সা.) রোজা রাখতেন। 

আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা মতে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহে সোমবার ও বৃহস্পতিবার (আল্লাহ তায়ালার কাছে) আমল পেশ করা হয়। তখন আল্লাহ তায়ালা তার মুমিন বান্দাদের ক্ষমা করে দেন।

ফরজ ও ওয়াজিব রোজা ছাড়া অন্যান্য রোজাকে নফল রোজা বলা হয়। নফল মানে অতিরিক্ত, ফরজ বা ওয়াজিব নয়। মূলত এই নফল রোজা দুই প্রকার। প্রথম প্রকার হলো নির্ধারিত বা রাসূলুল্লাহ (সা.) কর্তৃক পালনকৃত, এই প্রকার রোজা সুন্নত। দ্বিতীয় প্রকার হলো অনির্ধারিত, এগুলো মুস্তাহাব। এই উভয় প্রকার রোজাকে সাধারণভাবে নফল রোজা বলা হয়ে থাকে।

নফল রোজার ফজিলত :

রোজার ফজিলত সম্পর্কে হাদিস শরিফে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক বস্তুর জাকাত আছে, শরীরের জাকাত রোজা।’ (ইবনে মাজাহ, মিশকাত)। রাসূলুল্লাহ (সা.) আরো বলেন, ‘রোজা ঢালস্বরূপ এবং জাহান্নাম থেকে বাঁচার সুদৃঢ় দুর্গ।’ (নাসায়ি)।

হজরত ইবনে খুজাইমা ও হাকিম আবু ইমাম বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! আপনি আমাদের কিছু আমল করার উপদেশ দান করুন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘রোজা অবলম্বন করো, এর সমকক্ষ কোনো আমল নেই।’ তারা পুনরায় বললেন, আমাদের কোনো আমল বলে দিন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘রোজা অবলম্বন করো, এর সমতুল্য কোনো আমল নেই।’ তারা পুনরায় একই প্রার্থনা করলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) পুনরায় একই আদেশ করলেন। (সুনানু নাসায়ি)।

হজরত মুআজ ইবনে আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন ‘যে ব্যক্তি রমজান মাস ছাড়া অন্য সময় আল্লাহ তায়ালার জন্য একটি রোজা রাখবে; দ্রুতগামী ঘোড়া ১০০ বছরে যত দূর রাস্তা অতিক্রম করতে পারে, দোজখ তার কাছ থেকে তত দূরে অবস্থান করবে।’ (তিরমিজি ও নাসায়ি)।

হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার জন্য একটি রোজা রাখবে, আল্লাহ তায়ালা তার মুখমণ্ডল দোজখের আগুন থেকে ৭০০ বছরের রাস্তা দূরে রাখবেন।’ (বুখারি ও মুসলিম)।

হজরত আবু দারদা (রা.) ও হজরত আবু উমামা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালার জন্য পালনকৃত একটি রোজার ফলে জাহান্নাম (ওই রোজাদার ব্যক্তি থেকে) আসমান-জমিনের দূরত্বে অবস্থান করবে।’ (তিরমিজি ও তাবরানি)।

সোমবারের নফল রোজা :

হজরত আয়িশা (রা.) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সা.) সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন। (তিরমিজি ও নাসায়ি)। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ, আপনি সোমবার রোজা রাখেন কেন? তিনি বললেন, এই দিনে আমার জন্ম হয়েছে; তাই এই দিন রোজা রাখি। এখনো মদিনা শরিফে ব্যাপকভাবে এই আমল প্রচলিত আছে; প্রতি সোমবার মসজিদে নববীতে ইফতারের বিশেষ আয়োজন করা হয়, যা স্থানীয় জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আয়োজন করে থাকেন।

রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন আমার সঙ্গী হওয়ার সবচেয়ে অধিক উপযুক্ত ওই ব্যক্তি যে আমার প্রতি সবচেয়ে বেশি দরুদ পাঠ করে। (তিরমিজী শরিফ) ওই সাহাবি হতে বর্ণিত, হজরত রসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহপাকের মনোনীত কিছুসংখ্যক ফেরেস্তা রয়েছে যারা জমিনের বুকে সফর করছেন। তাদের কাজ হলো উম্মতের দরুদ আমার নিকট পৌঁছে দেওয়া। (নাসায়ী শরিফ)। খতিব আরও বলেন, আপনারা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মানে বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করবেন। কেননা দরুদ শরিফ বান্দার জন্য বিরাট উপকারী এবাদত, অধিক ছওয়াব ও বরকতের কারণ এবং বান্দার সম্মান ও ইজ্জত বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অধিক সহায়ক। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহপাক তার প্রতি দশটি রহমত নাজিল করেন, তার দশটি গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হয় এবং তার জন্য দশটি মর্তবা বুলন্দ করা হয়। (নাসায়ী শরিফ)। হজরত ওমর বিন খাত্তাব (রা.) বলেন, নিশ্চয় বান্দার দোয়া-মোনাজাত আসমান ও জমিনের মাঝখানে ঝুলানো থাকে, তার কোনো কিছু আল্লাহপাকের নিকট পৌঁছে না যতক্ষণ না বান্দা তোমার নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করবে। (তিরমিজী শরিফ)। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত হজরত রসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দরুদ শরিফের আমল কাল কিয়ামতের পুলসিরাতের অন্ধকারে আলোর কাজ করবে।

সারাদিন রোজা রেখে আসরের নামাজের পর ১০০ বার দরুদ ইব্রাহিম পড়বেন,

আল্লাাহুম্মা সল্লি ‘আলাা মুহাম্মাদ, ওয়া ‘আলাা আালি মুহাম্মাদ, কামাা সল্লাইতা ‘আলাা ইবরাাহীমা ওয়া ‘আলাা আালি ইবরাাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লাাহুম্মা বাারিক ‘আলাা মুহাম্মাদ ওয়া ‘আলাা আালি মুহাম্মাদ, কামাা বাারকতা ‘আলাা ইবরাাহীমা ওয়া ‘আলাা আালি ইবরাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।,,,,,১০০ বার পড়লে অনেক ফজিলত এরপর
সাইয়েদুল ইস্তেগফার পড়বেন।

اَللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّىْ لآ إِلهَ إلاَّ أَنْتَ خَلَقْتَنِىْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوْذُبِكَ مِنْ شَرِّمَا صَنَعْتُ، أبُوْءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَىَّ وَأَبُوْءُ بِذَنْبِىْ فَاغْفِرْلِىْ، فَإِنَّهُ لاَيَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلاَّ أَنْتَ-

সাইয়েদুল ইস্তেগফার বাংলা উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা আনতা রাববী, লা ইলা-হা ইল্লা আনতা, খালাক্বতানী ওয়া আনা ‘আবদুকা, ওয়া আনা ‘আলা ‘আহদিকা, ওয়া ওয়া‘দিকা মাসতাত্বা‘তু, আ‘ঊযুবিকা মিন শার্রি মা ছানা‘তু। আবূউ লাকা বিনি‘মাতিকা ‘আলাইয়া ওয়া আবূউ বিযাম্বী, ফাগফিরলী ফাইন্নাহূ লা ইয়াগফিরুযুনূবা ইল্লা আনতা।

সাইয়েদুল ইস্তেগফার অর্থ: ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার পালনকর্তা। তুমি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমার দাস। আমি আমার সাধ্যমত তোমার নিকটে দেওয়া অঙ্গীকারে ও প্রতিশ্রুতিতে দৃঢ় আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট হ’তে তোমার নিকটে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি আমার উপরে তোমার দেওয়া অনুগ্রহকে স্বীকার করছি এবং আমি আমার গোনাহের স্বীকৃতি দিচ্ছি। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা কর। কেননা তুমি ব্যতীত পাপসমূহ ক্ষমা করার কেউ নেই’। (১০৫)(১০৫) . বুখারী, মিশকাত হা/২৩৩৫ ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, ‘ইস্তিগফার ও তওবা’ অনুচ্ছেদ-৪।

এই আমলগুলো করার পর রাব্বুল আলামিনের কাছে খুব বেশি কান্নাকাটি করবেন দুয়া করবেন ইনশাআল্লাহ রাব্বুল আলামিন আপনার সকল দুয়া কবুল করবেন সকল আশা পূরণ করবেন।

আরও পড়ুন:

------------------------------------------------------------

চাকরির জন্য আল্লাহর কাছে যে দোয়া পড়বেন

যে দোয়া পড়লে মনের আসা কবুল হয়

যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে

যে দোয়া পড়লে কখনো বিফলে যায় না!

যে সময় দোয়া পড়লে দ্রুত কবুল হয়

কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে যে দোয়া পড়বেন!

জ্বর ও ব্যথা হলে যে দোয়া পড়বেন!

-----------------------------------------------------------------

NEWS24.TV / কামরুল

পরবর্তী খবর

জ্বর জাহান্নামের আগুনের একটি অংশ

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ

জ্বর জাহান্নামের আগুনের একটি অংশ

জাহান্নামের আগুনের তীব্র তাপদাহ ও উষ্ণতা অত্যন্ত প্রখর হবে। সেখানে আছে আগুন থেকে প্রস্তুতকৃত পোশাক, বিছানা, ছায়া, ভারী বেড়ি এবং আগুনের জিঞ্জির, আগুনে উত্তপ্ত ও প্রজ্বলিত কোটি কোটি টন ভারী লোহা ও গুর্জ, আগুনে উত্তপ্ত করা আসন প্রভৃতি। আর যার সৃষ্টি লেলিহান অগ্নিশিখা হবে, তার অভ্যন্তরস্থ বায়ুর ধ্বংসলীলা কত ভয়ংকর হতে পারে—তা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর বাম দিকের দল কত হতভাগ্য, বাম দিকের দল! তারা থাকবে অত্যুষ্ণ বায়ু ও উত্তপ্ত পানিতে, কৃষ্ণবর্ণের ধূম্রের ছায়ায়, যা শীতলও নয়, আবার আরামদায়কও নয়।’ (সুরা ওয়াকিয়া, আয়াত : ৪১-৪৪)

জাহান্নামিরা জাহান্নামের আজাবে অতিষ্ঠ হয়ে এক ছায়াকর বৃক্ষের দিকে ছুটে আসবে। যখন সেখানে পৌঁছবে তখন বুঝতে পারবে যে এটা কোনো ছায়াদানকারী বৃক্ষ নয়; বরং এটা জাহান্নামের ঘনকালো ধোঁয়া। জাহান্নামের ছায়ার বর্ণনা দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা যাকে অস্বীকার করতে, চলো তার দিকে। চলো তিন শাখাবিশিষ্ট ছায়ার দিকে, যে ছায়া শীতল নয় এবং যে ছায়া অগ্নিশিখা থেকে রক্ষা করতে পারে না। তা উৎক্ষপণ করবে অট্টালিকাতুল্য বৃহৎ স্ফুলিঙ্গ, তা পীতবর্ণ উষ্ট্রশ্রেণিসদৃশ। সেই দিন দুর্ভোগ মিথ্যারোপকারীদের জন্য।’ (সুরা মুরসালাত, আয়াত : ২৯-৩৪)

জাহান্নামের অগ্নিবায়ুর উষ্ণতা এত প্রখর, যা সব জাহান্নামিকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেবে। যে আগুন মানুষকে জীবিত থাকতেও দেবে না, আবার মরতেও দেবে না। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তুমি কি জানো সাকার কী? তা (মানুষকে) অক্ষতও রাখবে না, আবার ছেড়েও দেবে না। মানুষকে দগ্ধ করবে।’ (সুরা মুদ্দাসসির, আয়াত : ২৭-২৯)

এ ব্যাপারে আল্লাহ বলেন, ‘কখনো না। সে অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে পিষ্টকারীর মধ্যে। আপনি কি জানেন পিষ্টকারী কী? এটা আল্লাহর প্রজ্বলিত আগুন, যা হৃদয়ে পৌঁছবে। এতে তাদের বেঁধে দেওয়া হবে লম্বা লম্বা খুঁটিতে।’ (সুরা হুমাজা, আয়াত : ৪-৯)

জাহান্নামের আগুন অনবরত প্রজ্বালন করা হবে। তাপ কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবার জ্বালানো হবে। তা কখনো নির্বাপিত হবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যার (নেকির) পাল্লা হালকা হবে তার স্থান হবে হাবিয়া। আপনি কি জানেন হাবিয়া কী? তা হলো জ্বলন্ত আগুন।’ (সুরা কারিয়া, আয়াত : ৮-১১)

আরও পড়ুন:


পাঁচ বিভাগে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কা

এই হচ্ছে বিএনপি, আর সব দোষ আওয়ামী লীগের?

রাজপথে নামার আহ্বান মোশাররফ-মান্নার

বাগেরহাটে ৩ ঘণ্টা পর প্লাইউড ফ্যাক্টরির আগুন নিয়ন্ত্রণে


গ্রীষ্মকালে গরমের তীব্রতা জাহান্নামের আগুনের উষ্ণ বাষ্পের কারণেই হয়ে থাকে এবং জ্বরও জাহান্নামের আগুনের একটি অংশ। হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যখন গরম বৃদ্ধি পায় তখন সালাত (বিলম্বে আদায়ের) মাধ্যমে তা ঠাণ্ডা করো। কারণ গরমের তীব্রতা জাহান্নামের নিঃশ্বাসের কারণে হয়। আর জাহান্নাম আল্লাহর কাছে অভিযোগ করল যে হে আমার রব! আমার এক অংশ অন্য অংশকে খেয়ে ফেলছে (অতএব আমাকে নিঃশ্বাস ত্যাগের অনুমতি দিন)। অতঃপর আল্লাহ তাকে বছরে দুবার নিঃশ্বাস ত্যাগের অনুমতি দেন। একটি শীতকালে আর অন্যটি গ্রীষ্মকালে। তোমরা গ্রীষ্মকালে যে কঠিন গরম অনুভব করো, তা এ নিঃশ্বাস ত্যাগের কারণে আর শীতকালে যে কঠিন শীত অনুভব করো, তাও ওই নিঃশ্বাস ত্যাগের কারণে হয়ে থাকে।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৩৬-৫৩৭)

news24bd.tv রিমু

পরবর্তী খবর

দুঃস্বপ্ন দেখলে যে দোয়া পড়বেন

অনলাইন ডেস্ক

দুঃস্বপ্ন দেখলে যে দোয়া পড়বেন

সুন্দর স্বপ্ন মানুষকে হয়তো আনন্দ দেয়। কিন্তু দুঃস্বপ্ন মানুষকে অস্থির করে রাখে।যদি কেউ ভীতি-জাগানিয়া স্বপ্ন দেখে, তাহলে তার কয়েকটি করণীয়। হাদিসে এসব কাজ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে-

এক. স্বপ্নের অনিষ্ট ও ক্ষতি থেকে মহান আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা। তিনবার ‘আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম’ পড়া। তাহলে এ স্বপ্ন তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। (মুসলিম, হাদিস : ২২৬২)।

দুই. শরীরের বাঁ দিক করে তিনবার (বাতাসে আদ্র ধরনের) থুথু  নিক্ষেপ করবে। (মুসলিম, হাদিস : ২২৬১)

তিন. যে কাত হয়ে ঘুমিয়ে খারাপ স্বপ্ন দেখেছে, সে কাত পরিবর্তন করে অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে শোবে। (মুসলিম, হাদিস : ২২৬২) অবস্থা বদলে দেওয়ার ইঙ্গিতস্বরূপ এটা করা হয়ে থাকে।

চার. খারাপ স্বপ্ন দেখলে কারও কাছে বলবে না। আর নিজেও এর ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করবে না। (বুখারি, হাদিস : ৬৫৮৩)

পাঁচ. নামাজ পড়বে। (মুসলিম, হাদিস : ২২৬৩)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

যে খাবার খেয়ে মসজিদে যাওয়া উচিত নয়

সাআদ তাশফিন

যে খাবার খেয়ে মসজিদে যাওয়া উচিত নয়

পবিত্র কোরআনে বিভিন্ন মসলাজাতীয় উদ্ভিদের নাম আছে। সেগুলোর মধ্যে একটি হলো পেঁয়াজ। এর বৈজ্ঞানিক নাম এলিয়াম সেপা। কোরআনের ভাষায় ‘বাসল’। পেঁয়াজ মানুষের খাবারের অংশ।

বনি ইসরাঈল জান্নাতের খাবার ‘মান্না-সালওয়া’র পরিবর্তে যেসব খাবার চেয়েছিল, তার একটি ছিল পেঁয়াজ। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন তোমরা বলেছিলে, হে মুসা! আমরা এ ধরনের খাদ্যে কখনো ধৈর্য ধারণ করব না। সুতরাং তুমি তোমার প্রতিপালকের কাছে আমাদের জন্য প্রার্থনা করো। তিনি যেন ভূমিজাত দ্রব্য শাক-সবজি, কাঁকুড়, গম, মসুর ও পেঁয়াজ আমাদের জন্য উৎপাদন করেন। মুসা বলল, তোমরা কি উত্কৃষ্টতর বস্তুকে নিকৃষ্টতর বস্তুর সঙ্গে বদল করতে চাও? তাহলে কোনো নগরে অবতরণ করো। তোমরা যা চাও, নিশ্চয়ই তা সেখানে আছে। তারা লাঞ্ছনা ও দারিদ্র্যগ্রস্ত হলো এবং তারা আল্লাহর ক্রোধের পাত্র হলো। এটি এ জন্য যে তারা আল্লাহর আয়াতকে অস্বীকার করত এবং নবীদের অন্যায়ভাবে হত্যা করত। অবাধ্যতা ও সীমা লঙ্ঘন করার জন্যই তাদের এই পরিণতি হয়েছিল।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৬১)

উক্ত আয়াতে অন্য খাবারের সঙ্গে পেঁয়াজকে নিকৃষ্টতর বলার কারণ হলো, জান্নাতের ‘মান্না-সালওয়া’র তুলনায় দুনিয়ার এসব খাবার তুচ্ছ। তবে এর মানে এই নয় যে এসব খাবার মুসলমানদের জন্য বর্জনীয়। তবে হ্যাঁ, মসজিদে কিংবা কোনো সমাবেশে যাওয়ার আগে কাঁচা পেঁয়াজ ও রসুন খাওয়ার ব্যাপারে নিষেধ করা হয়েছে। কেননা, এর মাধ্যমে মুখে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়, যা অন্য মানুষ ও মসজিদে থাকা ফেরেশতাদের জন্য কষ্টের কারণ হবে। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, নবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রসুন বা পেঁয়াজ খায় সে যেন আমাদের থেকে দূরে থাকে আর নিজ ঘরে বসে থাকে।’ (বুখারি, হাদিস : ৮৫৫)

তবে তরকারি ইত্যাদির সঙ্গে পাকানো পেঁয়াজ খেলে যেহেতু তেমন দুর্গন্ধ হয় না, তাই সে ক্ষেত্রে পেঁয়াজ খেয়ে মসজিদে আসার অনুমতি আছে।

মাদান ইবনে আবু তালহা (রহ.) থেকে বর্ণিত, ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) বলেছেন, ‘হে মানুষ! তোমরা দুই ধরনের সবজি খেয়ে থাকো। আমি এতদুভয়কে নিকৃষ্ট মনে করি। তা হলো (কাঁচা) পেঁয়াজ ও রসুন। আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে দেখেছি, যখন তিনি কারো থেকে এর গন্ধ পেতেন, তখন তাকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দিতেন। এরপর তাকে ‘বাকি’ (একটি জায়গার নাম)-এর দিকে বের করে দেওয়া হতো। অতএব যে ব্যক্তি তা খায়, সে যেন তা পাকিয়ে গন্ধমুক্ত করে ফেলে।’ (নাসায়ি, হাদিস : ৭০৮)

তাই প্রত্যেকের উচিত মসজিদে কিংবা কোনো সমাবেশে যাওয়ার সময় কাঁচা পেঁয়াজ, রসুন ও মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে এমন খাবার গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা।

news24bd.tv রিমু

পরবর্তী খবর