সেই তিন বোনের পালানোর রহস্য জানা গেল
Breaking News
সেই তিন বোনের পালানোর রহস্য জানা গেল

সেই তিন বোনের পালানোর রহস্য জানা গেল

অনলাইন ডেস্ক

টিকটকের সম্পৃক্ততার কারণে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া তিন বোন পালিয়ে গিয়েছিল বলে ধারণা ছিল তাদের খালার। কিন্তু অবশেষে পালানোর রহস্য জানা গেল। বাবার কাছেই পালিয়ে গিয়েছিল তারা।       

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর আদাবর থেকে হঠাৎ খালার বাসা থেকে কাউকে কিছু না বলে বেরিয়ে যায় তিন কিশোরী। এ সময় তারা এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র, রেজিস্ট্রেশন কার্ড সঙ্গে নিয়ে যায়। ১৮ নভেম্বর বৃহস্পতিবার আদাবর থানায় জিডি করলেও খালা সাজিয়া নওশীন তার পরিবারের অন্য কাউকে বিষয়টি জানাননি। গতকাল শুক্রবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা খালা সাজিয়া নওশীনের খিলগাঁওয়ের বোনের বাসায় গেলে পরিবারের সদস্যরা অবহিত হন বলে র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে।   

ওই তিন বোন হলেন, বড় বোন রুকাইয়া আরা চৌধুরী (২১), জয়নব আরা চৌধুরী (১৯) ও খাদিজা আরা চৌধুরী (১৭)।

তিন বোনের মধ্যে দু’জনের এসএসসি চলছে। অন্যজন একাদশ শ্রেনীতে পড়াশোনা করছে। বাবার অসুস্থতার খবর পেয়ে তারা ঢাকা থেকে কাউকে কিছু না বলেই যশোর চলে গিয়েছিল র‍্যাবের কাছে এমনটাই জানিয়েছে তারা। তবে টিকটকের সম্পৃক্ততার কারণে নয়।   

এ ব্যাপারে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, তিন বোনের ধারণা, যদি বাবাকে দেখতে যাওয়ার বিষয়টি খালাকে জানানো হতো তাহলে তাদের তিনি যেতে দিতেন না। এ কারণে কাউকে না বলেই বেরিয়ে যায় তারা।  

র‍্যাব বলছে, তিন কিশোরীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যেহেতু দু’জনের পরীক্ষা রয়েছে তাই আগামী রোববার তারা ঢাকায় চলে আসতো। তবে তার আগেই আদাবর থানায় তাদের খালা সাজিয়া নওশীনের করা নিখোঁজের জিডির বিষয়টি গণমাধ্যমে আলোচিত হয়। যে কারণে তদন্তে নামে র‍্যাব। যশোরে তাদের বাবার বাড়িতে অবস্থানও শনাক্ত করে।  

জানা গেছে, উদ্ধারকৃত ভিকটিমরা তাদের বাবা মায়ের সঙ্গে উত্তরা লেকসিটি কনকর্ডে ভাড়া বাসায় থাকত। ২০১২ সালের দিকে তাদের বাবা-মায়ের মধ্যে ঝগড়া হলে তাদের বাবা যশোর চলে আসেন এবং ভিকটিমরা মায়ের সঙ্গে ঢাকায় থেকে যায়। ২০১৩ সালের ২৮ আগস্ট ভিকটিমদের মা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে ভিকটিম রুকাইয়া আরা চৌধুরীকে লালন-পালনের দায়িত্ব নেন তার খালা সাজিয়া নওরিন চৌধুরী এবং ভিকটিম জয়নব আরা চৌধুরী ও খাদিজা আরা চৌধুরীর লালন-পালনের দায়িত্ব নেন আরেক খালা সামিয়ারা চৌধুরী।

আরও পড়ুন:


বহিষ্কৃত মেয়র জাহাঙ্গীরের রাজনৈতিক উত্থান যেভাবে শুরু


এ বিষয়ে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, তিন বোনকে যশোর কোতোয়ালি থানায় পুলিশি হেফাজত থেকে রাজধানীর আদাবর থানা পুলিশের একটি টিম ঢাকায় নিয়ে এসেছে। প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, অসুস্থ বাবাকে দেখতে তারা বাসা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলো। মোবাইলও ছিল না তাদের সঙ্গে। তাদের খালা সাজিয়ার ধারণা ছিল টিকটকের সম্পৃক্ততার কারণে তারা বাসা থেকে বের হয়ে গেছে। তবে এ ধরনের কোনও তথ্য-প্রমাণ পাইনি।  

news24bd.tv রিমু