শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | আপডেট ০৭ ঘন্টা ১৭ মিনিট আগে

মঙ্গলের ভূকম্পন মাপতে নতুন মিশনে নাসা

নিউজ টোয়েন্টিফোর ডেস্ক

মঙ্গলের ভূকম্পন মাপতে নতুন মিশনে নাসা

মঙ্গল গ্রহের ভূমিকম্পের তথ্য থেকে এর অভ্যন্তরের কাঠামো সম্পর্কে ধারণা পেতে নতুন মিশন শুরু করলো মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।

ইনসাইট নামের এই মিশনের অংশ হিসেবে একটি অনুসন্ধান যন্ত্র লাল গ্রহটিতে পাঠানো হয়েছে।ক্যালিফোর্নিয়ার ভেন্ডেনবার্গ বিমান ঘাঁটি থেকে অ্যাটলাস রকেটের সাহায্যে ইনসাইডের এ ‘ল্যান্ডারটি’ মঙ্গলের উদ্দেশ্যে উড়াল দিয়েছে বলে জানিয়েছে নাসা। শনিবার স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫ মিনিটে অ্যাটলাসের যাত্রা শুরুর কথা থাকলেও কুয়াশার কারণে তা খানিকটা দেরিতে যাত্রা শুরু করে। 

স্ট্যাটিক ল্যান্ডার যন্ত্রটি মঙ্গলে নামার পর সেখানকার মাটিতে সিসমোমিটার স্থাপন করবে বলে জানানো হয়েছে।

সিসমোমিটারে যুক্তরাজ্যের তৈরি একটি সেন্সরও রয়েছে। এই ভূমিকম্প মাপার যন্ত্রই মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মঙ্গলের ভূমিকম্প‘মার্সকোয়াক’ সম্বন্ধে তথ্য দেবে।পৃথিবীর সঙ্গে তুলনার পর মিলবে মঙ্গলের অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে থাকা পাথরের স্তর সংক্রান্ত তথ্যও।

ইনসাইট মিশনের প্রধান গবেষক ড. ব্রুস বেনার্ডট বলেন, ‘যখন সিসমিক তরঙ্গ মঙ্গলের চারপাশে প্রবাহিত হবে, তখন (যন্ত্রটি) বিভিন্ন স্তরের পাথরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তরঙ্গগুলোর তথ্য জোগাড় করতে পারবে। সিসমোগ্রাফে এ সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার পরই বিজ্ঞানীরা সেখানকার পাথরের গঠন জানতে পারবেন। বিভিন্ন মার্সকোয়াক থেকে যখন আমরা নানান তথ্য পাবো, সব মিলিয়ে আমরা মঙ্গলের অভ্যন্তরের ত্রিমাত্রিক চিত্রটি নির্মাণ করবে পারবো।’

গত শতকের ৭০ এর দশকেও নাসা বেশ কয়েকটি ভাইকিং ল্যান্ডারে মঙ্গলে সিসমোমিটার পাঠিয়েছিল। যদিও গঠনের কারণে সেগুলো তেমন সফলতা এনে দিতে পারেনি।

ইনসাইটের এবারের ল্যান্ডারটি তিন মাত্রার নিচের ভূমিকম্পও শনাক্ত করতে পারে। সে বিষয়ে তথ্যও পাঠাতে পারবে। এই যন্ত্র বছরে ঠিক কতগুলো কম্পন শনাক্ত করতে পারবে, তা জানাতে না পারলেও নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন, তাদের আশা ল্যান্ডারটি থেকে অন্তত কয়েক ডজন ভূমিকম্পের তথ্য পাওয়া যাবে।

মৃদু ভূমিকম্পগুলোর তথ্য থেকেও যে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যাবে তা দিয়ে মঙ্গলের গঠন এবং এর গভীরতা নির্ণয় করা যাবে বলেও ধারণা তাদের।


সূত্র: স্পেস ডট কম

অরিন/নিউজ টোয়েন্টিফোর

মন্তব্য