মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৯ |

গুহায় কী খেয়ে বেঁচে ছিল কিশোররা?

নিউজ টোয়েন্টিফোর ডেস্ক

গুহায় কী খেয়ে বেঁচে ছিল কিশোররা?

থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের থ্যাম লুয়াং গুহায় দু'সপ্তাহ ধরে আটকে থাকা ১২ কিশোর ও তাদের কোচকে উদ্ধার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার তৃতীয় দিনের মতো অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়।

গত ২৩ জুন থেকে গুহাটিতে ১২ কিশোর এবং তাদের কোচ আটকা পড়ে। আটকা পড়ার ১০ দিন পর তাদের খোঁজ পাওয়া যায়।

গত রোববার প্রথম অভিযান শুরু হয়। দু’দিনের অভিযানে মোট আট কিশোরকে উদ্ধার করা হয়। গত সোমবার গুহার ভেতর থেকে চার কিশোরকে বের করে আনার পর দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়। পরে মঙ্গলবার তৃতীয় দিনের মতো অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়।

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে গত ২৩ জুন থেকে ওই ১২ কিশোর ও তাদের কোচ একাপল চ্যান্তাওং কী খেয়েছিলেন। এ প্রশ্নের উত্তর জানিয়েছে, উদ্ধারকারী ডুবুরিরা।

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে গত ২৩ জুন থেকে ওই ১২ কিশোর ও তাদের কোচ একাপল চ্যান্তাওং কী খেয়েছিলেন। বলা হচ্ছে, পাহাড়ের ভেতরে চুইয়ে পড়া ফোটা ফোটা পানি, ওয়াইল্ড বোয়ার নামক ফুটবল দলের একজন সদস্যের জন্মদিন উপলক্ষে তারা যে স্ন্যাকস বা খাবার সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন সেসব খেয়ে এবং মেডিটেশন বা ধ্যান করেই তারা এতোদিন নিজেদের জীবন রক্ষা করেছেন।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়েছে, তাদেরই একজনের জন্মদিন উপলক্ষে সারপ্রাইজ পার্টি করার জন্য তারা গুহার ভেতরে ঢুকেছিলেন। কিন্তু পরে প্রবল বৃষ্টির কারণে গুহার ভেতরে পানি ঢুকতে শুরু করলে তারা পালাতে পালাতে গুহার এতোটা গভীরে চলে গেছেন। জন্মদিনের ওই ছেলেটির নাম পীরাপাত সম্পিয়াংজাই। ২৩ জুন তার বয়স হয়েছিল ১৭ বছর। ওই দিনই তারা গুহার ভেতরে ঢুকেছিল। ২৩ জুন থেকেই ওই বাচ্চাদের আর কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

আরও পড়ুন: যেভাবে গুহা থেকে মুক্ত হয় ওই কিশোররা

তার জন্মদিন উপলক্ষে দলের অন্যান্য ছেলেরা খাবার কিনে নিয়ে গিয়েছিল এবং ধারণা করা হচ্ছে গুহার ভেতরে আটকা পড়ার পর এসব স্ন্যাক্স খেয়েই বাচ্চারা বেঁচে ছিল। বলা হচ্ছে, এই কিশোর ফুটবলারদের কোচ এক্কাপল চানতাওং বাচ্চাদের জন্যে প্রয়োজনীয় খাবার কমে যাওয়ার আশঙ্কায় গুহার ভেতরে এসব খাবার খেতে রাজি হননি। ফলে ২ জুলাই ডুবুরিরা যখন এই ফুটবল দলটিকে গুহার ভেতরে খুঁজে পেলেন তখন শারীরিকভাবে সবচেয়ে দুর্বল ছিলেন ওই কোচ।

সন্ধান পাওয়ার পর তাদের বাইরে থেকে খাবার দেওয়া শুরু হয়। এসব খাবারের মধ্যে ছিল সহজে হজম হয় এরকম খাবার, শক্তিদায়ক খাদ্য যেগুলোতে মিনারেলও ভিটামিন মেশানো হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শেই তাদেরকে এসব খাবার দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারী দল থাই নেভি সিলের প্রধান এডমিরাল আরপাকর্ন ইওকোংকাওয়ে। কিন্তু তার আগ পর্যন্ত জন্মদিনের খাবার খেয়েই বেঁচে ছিল তারা।

আরও পড়ুন: গুহার সেই কিশোরদের ভিডিও প্রকাশ

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য