ফ্রান্স কী মুসলিমদের থ্রেট মনে করে?

নওশাদ জামিল

ফ্রান্স কী মুসলিমদের থ্রেট মনে করে?

ইসলাম ও মুসলিমদের থ্রেট মনে করে কি ফ্রান্স? মনে হয়, ভয়ংকর থ্রেট মনে করে তারা। কারণ ফ্রান্সে হুহু করে বাড়ছে মুসলমানদের সংখ্যা। ফ্রান্সের মোট জনসংখ্যা যেখানে প্রায় ৭ কোটি, সেখানে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ মুসলমানের বাস। মুসলমানদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বিপাকে রয়েছে স্থানীয় ফরাসিরা। ফ্রান্স সরকার বৃহত্তম জনগোষ্ঠীকে খুশি করার জন্য, ভোটার বাড়ানোর জন্য, অভিবাসীদের কোনঠাসায় রাখার জন্য মুসলিম বিদ্বেষমূলক অবস্থান নিয়েছে।

এ অবস্থান রাজনৈতিক ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক। এ অবস্থান সাংস্কৃতিকও। শুধু ফ্রান্স নয়, ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা সব উন্নত দেশেই আগে ছিল সাদা-কালো ভেদাভেদ, পাশাপাশি এখন ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টি করা হচ্ছে জোরালোভাবে। এ এক অশনিসংকেত।

ফ্রান্সের কথায় আসা যাক। সেখানে ধর্মীয় ও জনসংখ্যার ভিত্তিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম জাতিগোষ্ঠী হচ্ছে মুসলিমরা। অনেকে উদ্বিগ্ন যে মুসলমানদের সংখ্যা আগামী ৫০ বছরে কয়েকগুণ বাড়বে। কেননা স্থানীয়দের চেয়ে মুসলমানদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কয়েকগুণ বেশি। এ ছাড়াও অভিবাসী মুসলমান যেমন বাড়ছে, তেমনই বাড়ছে কয়েক শতাব্দী ধরে বাস করা মুসলমানদের সংখ্যা।

লক্ষণীয় ব্যাপার ফ্রান্সে মুসলমানদের অধিকাংশই আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, মরক্কোসহ আফ্রিকান বিভিন্ন দেশের অভিবাসী। দেশগুলো একসময় ছিল ফ্রান্সেরই কলোনি। কয়েক শতাব্দী ধরেই কলোনি দেশ ও আফ্রিকা থেকে মুসলমানরা পাড়ি জমাচ্ছে ফরাসি দেশে। ফরাসি ভাষাই গ্রহণ করছে তারা। কিন্তু বাপ-দাদার ধর্ম ছাড়তে পারছে না অভিবাসী মুসলমানরা। ফরাসি সংস্কৃতিও পুরোপুরি গ্রহণ করতে পারছে না তারা। অভিবাসী মুসলমানদের নিজস্ব সংস্কৃতির সঙ্গে ফরাসিদের নিজস্ব সংস্কৃতির দ্বন্দ্ব যখন শুরু হয়, মুসলমানদের সংখ্যা যখন বৃদ্ধি শুরু হয়, তখন থেকেই শুরু হয় ফ্রান্সে মুসলিম বিদ্বেষ।
 
এ বিদ্বেষ শুধু ধর্মীয় নয়, ক্ষমতা, রাজনীতি ও সংস্কৃতিরও দ্বন্দ্ব। গবেষকেরা বলছেন, ২০৫০ সাল নাগাদ ইউরোপ, আমেরিকা ও কানাডায় অন্যতম বৃহত্তম শক্তি হয়ে উঠতে পারে মুসলমানরা। মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাল্টে দিতে পারে হিসাব-নিকাশ। এ কারণে শুধু ফ্রান্স নয়, উন্নত সব দেশেই মুসলিম বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে পরিকল্পিতভাবেই। কড়াকড়ি করা হচ্ছে নাগরিকত্ব আইন, বিভিন্ন হয়রানিমূলক বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে অভিবাসীদের।

আরও পড়ুন: এএসআই'র কাণ্ড, ছাত্রীকে ডেকে ‌'সাঙ্গপাঙ্গ' নিয়ে ধর্ষণ

বিভিন্ন কড়াকড়ি ও বিদ্বেষের ফলেও ইউরোপ, আমেরিকা ও কানাডায় মুসলমানদের সংখ্যা বাড়ছেই। সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাব-প্রতিপত্তি বাড়ছেই তাদের। অতীতে যারা এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক মুসলিম দেশ শাসন ও শোষণ করেছে, ভবিষ্যৎতে তারাই যদি ইউরোপ-আমেরিকায় প্রভাব বিস্তার করে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই!

নওশাদ জামিল, সাংবাদিক, কবি।

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য