সূরা তাওবায় কেন ‘বিসমিল্লাহ’ নেই, কি বিষয়ে সূরাটি নাযিল

অনলাইন ডেস্ক

সূরা তাওবায় কেন ‘বিসমিল্লাহ’ নেই, কি বিষয়ে সূরাটি নাযিল

সম্পর্কচ্ছেদ করা হলো আল্লাহ ও তাঁর পক্ষ থেকে সেই মুশরিকদের সঙ্গে, যাদের সঙ্গে তোমরা পারস্পরিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছিলে। (সূরা : তাওবা, আয়াত : ১)

এই আয়াতের মাধ্যমে সূরা তাওবা শুরু। এই সূরাটি মদিনায় অবতীর্ণ। এতে ১২৯টি আয়াত ও ১৬টি রুকু রয়েছে। তাফসিরে কাশশাফে এ সূরার ১২টি নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে দুটি নাম সর্বাধিক প্রসিদ্ধ। তাওবা ও বারাআত।

এই সূরাকে ‘তাওবা’ বলার কারণ, এতে মুসলমানদের তাওবা কবুল হওয়ার বর্ণনা আছে। আর ‘বারাআত’ বলা হয় এ জন্য যে এখানে কাফিরদের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ ও দায়িত্ব মুক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আলোচ্য আয়াতে সেই মুশরিকদের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যারা চুক্তি ভঙ্গ করে মুসলমানদের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নিয়েছে। এই সূরার প্রথম অংশ মহানবী (সা.) তাবুক যুদ্ধ থেকে ফিরে আসার পর অবতীর্ণ হয়েছে।

সূরা তাওবার বৈশিষ্ট্য: সূরা তাওবার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এই সূরার আগে ‘বিসমিল্লাহ’ লেখা হয় না। অথচ অন্য সব সূরার আগে ‘বিসমিল্লাহ’ লেখা হয়। এখানে ‘বিসমিল্লাহ’ না লেখার কয়েকটি কারণ পাওয়া যায় তাফসিরের কিতাবগুলোতে। 

১. মহানবী (সা.)-এর জীবনে ২৩ বছরের দীর্ঘ পরিসরে অল্প অল্প করে কোরআন অবতীর্ণ হয়। এমনকি একই সূরার বিভিন্ন আয়াত বিভিন্ন সময়ে অবতীর্ণ হয়। ওহি আসার পর কোন সূরা কোথায় স্থান পাবে তা রাসুলুল্লাহ (সা.) বলে দিতেন, ওহি লেখকরা তা সেভাবেই লিখে নিতেন। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.) এই সূরার আগে ‘বিসমিল্লাহ’ লেখার নির্দেশ দেননি। এ অবস্থায় তাঁর ইন্তেকাল হয়। ফলে হজরত উসমান (রা.)-এর আমলে নতুনভাবে কোরআন সংকলন করার সময়ও এই সূরার শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ লেখা হয়নি। এর মাধ্যমে এটাও প্রমাণিত হয় যে কোরআন সব সংশয়, সন্দেহ, পরিবর্তন-পরিবর্ধনের ঊর্ধ্বে। অবতীর্ণ হওয়ার পর থেকে অদ্যাবধি অবিকল ধারায় কোরআন বিদ্যমান।

২. হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে ‘বিসমিল্লাহ’র মধ্যে শান্তি ও নিরাপত্তার বার্তা আছে। কিন্তু সূরা তাওবায় চুক্তিভঙ্গকারী কাফিরদের জন্য শাস্তি ও নিরাপত্তা চুক্তিগুলো নাকচ করা হয়েছে। তাই এই সূরার শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ লেখা হয়নি (তাফসিরে কাবির)।

আরও পড়ুন:


সৌদিতে কারখানায় আগুন, ৬ বাংলাদেশি নিহত

৬ জাতি সমঝোতা বাস্তবায়ন না করলে ইরান প্রতিশ্রুতিতে ফিরবে না: রুহানি

কলাপাড়া পৌরসভা নির্বাচন: নৌকা’র শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থীর জগ প্রতীক

শেষ হয়ে যাচ্ছে বরাদ্দ টিকা


৩. জাহেলি যুগে আরবদের নিয়ম ছিল, চুক্তিভঙ্গের ঘোষণাপত্রে তারা ‘বিসমিল্লাহ’ লিখত না। তাই এখানেও তাদের সঙ্গে একই নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে।

এই সূরার আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো, যেসব সূরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনের শেষ দিকে অবতীর্ণ হয়েছে, এটি সেগুলোর অন্যতম। তা ছাড়া এই সূরার বিধানগুলো অপরিবর্তনীয়, অলঙ্ঘনীয়। বিষয়বস্তুতে মিল থাকার কারণে সূরা আনআম ও সূরা তাওবাকে একসঙ্গে মিলিয়ে কোরআনের দীর্ঘতম সাতটি সূরার মধ্যে স্থান দেওয়া হয়েছে।

সূরা তাওবায় বিসমিল্লাহ পড়ার বিধান: ইসলামী ফিকাহবিদগণ বলেন, যে ব্যক্তি সূরা আনফালের তেলাওয়াত সমাপ্ত করে সূরা তাওবা শুরু করে, সে ‘বিসমিল্লাহ’ পাঠ করবে না। কিন্তু যে ব্যক্তি প্রথমেই সূরা তাওবা থেকে তিলাওয়াত শুরু করে কিংবা এর মাঝখান থেকে শুরু করে, তাকে ‘বিসমিল্লাহ’ পাঠ করতে হবে। অনেকে মনে করেন, সূরা তাওবা পাঠ করার সময় কোনো অবস্থাতেই ‘বিসমিল্লাহ’ পাঠ করা যায় না, এ ধারণা সঠিক নয়।

সূরা তাওবার বিষয়বস্তু: এই সূরায় মূলত ইসলামের দৃষ্টিতে যুদ্ধবিগ্রহ, জিহাদের আহকাম, স্বরূপ ও প্রেক্ষাপট বর্ণিত হয়েছে। বিশেষত কাফিরদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল, মক্কা বিজয়, তাবুক ও হুনাইনের যুদ্ধের বর্ণনা রয়েছে এখানে। মুনাফিকদের চরিত্র ও পাপাচারের আলোচনা রয়েছে। মুহাজির ও আনসারদের প্রশংসা করা হয়েছে। ইসলাম গ্রহণ ও মহানবী (সা.)-এর হাতে 'বাইআত' গ্রহণের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এই সূরায়।

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

ইফতারের গুরুত্ব

অনলাইন ডেস্ক

ইফতারের গুরুত্ব

রোজা পালনে ইফতারের গুরুত্বও অপরিসীম। আবার সময়মতো ইফতার করার মধ্যেও রয়েছে অশেষ সওয়াব ও কল্যাণ।

রাসূলে কারিম হযরত মুহাম্মাদ (সা.) এরশাদ করেন, তোমরা ইফতারের সময় হওয়ামাত্র ইফতার করে নাও। এতটুকু বিলম্ব করো না।

এ সম্পর্কে তিরমিজি শরীফে উল্লেখ আছে যে, আমি ওই ব্যক্তিকে সর্বাধিক ভালোবাসি যে ইফতারের সময় হওয়া মাত্র ইফতার করে নেয়।


৮ দিনের লকডাউন শুরু, রাজধানীর সড়কে সুনসান নীরবতা

সূরা ফাতিহার বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ

করোনাবিধ্বস্ত জনপদে উৎসবহীন পহেলা বৈশাখ আজ

ফের বিয়ে করলেন কণ্ঠশিল্পী পুতুল


আবু দাউদ শরীফে আছে, হযরত রাসূলে পাক (সা.) যখন ইফতার করতেন, তখন বলতেন, আমার তৃষ্ণা নিবৃত্ত, আমার শিরা উপশিরা সিক্ত হয়েছে এবং আল্লাহপাক পরওয়ারদেগারের পুরস্কার নির্ধারিত হয়ে গেছে।

হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, মানুষ ততদিন কল্যাণের মধ্যে থাকবে যতদিন তারা ইফতারের সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করে নেবে। (বুখারি ও মুসলিম)

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

সুরা ফাতিহা ও বাকারার বাংলা অনুবাদ

অনলাইন ডেস্ক

সুরা ফাতিহা ও বাকারার বাংলা অনুবাদ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের মাস মাহে রমজান। এ মাসেই নাজিল হয় বিস্ময় গ্রন্থ পবিত্র আল কোরআন। যা মানব জাতীর জন্য পথ প্রদর্শক। কুরআন পড়া মুসলমান ভাই-বোনদের জন্য অপরিহার্য, আমরা কুরআন শুধু তিলাওয়াতই করব না বরং তা বুঝব এবং সেইসাথে নিজেদের জীবনে প্রয়োগ করব।

রাসূল -সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-আমাদেরকে শ্রেষ্ঠ হবার একটি সহজ পদ্ধতি শিখিয়ে গেছেন-

তোমাদের মাঝে শ্রেষ্ঠ হলো যে নিজে কুরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়। (আল-বুখারী)

রমজান মাসে পাঠকদের জন্য কোরআনের বাংলা অনুবাদ জানার সুযোগ করে দিচ্ছে নিউজ টোয়েন্টিফোর অনলাইন। আজ আমরা তুলে ধরব সুরা ফাতিহা ও সুরা বাকারার বাংলা অনুবাদ।

সুরা ফাতিহার বাংলা অনুবাদ

সুরা বাকারার বাংলা অনুবাদ

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

সূরা ফাতিহার বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ

অনলাইন ডেস্ক

সূরা ফাতিহার বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ

সূরা আল ফাতেহা পবিত্র আল কোরআনের প্রথম সূরা। আয়াত সাতটি। মক্কায় অবতীর্ণ। ‘ফাতিহা’ শব্দের অর্থ শুরু, আরম্ভ, উদ্বোধন, উদঘাটন প্রভৃতি। কুরআনুল কারিমের ১১৪টি সূরার মধ্যে প্রথম সূরাটি হলো সূরাতুল ফাতিহা। আর এ জন্য সূরা ফাতিহাকে ‘ফাতিহাতুল কুরআন’ বা কুরআনের শুরু বলে অভিহিত করা হয়।

আল্লামা ইবনে জরীর (রাঃ) হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন, হযরত রাসূলে কারীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, সূরা ফাতিহা অর্থাৎ আলহামদু শরীফ হচ্ছে, উম্মুল কোরান, ফাতিহাতুল কিতাব, সাবউমাছানি। 

এ সূরার আরেকটি নাম হচ্ছে “সূরায়ে কাঞ্জ” (ভান্ডার)। হযরত আলী (রাঃ) হতে ইসহাক ইবনে রাওয়াহা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, এ সূরাটি আরশের নিম্নস্থিত ভান্ডার থেকে অবতীর্ণ হয়েছে।


এই দেশে আমি ও আমার মতো অনেকেই মূল্যহীণ ও অপ্রয়োজনীয়

লকডাউনের সংজ্ঞাই পরিবর্তন করে দিল বাংলাদেশ

এভাবেও ম্যাচ হারে কলকাতা!

আহমদ শফীর মৃত্যু : পিবিআই’র রিপোর্ট পুনরায় তদন্তের দাবি বাবুনগরীর


আসুন জেনে নিই এই সূরার 

বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ-


بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

উচ্চারণ : বিসমিল্লাহির রহমা-নির রহি-ম।

অনুবাদ : শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

উচ্চারণ : আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আ -লামি-ন।

অনুবাদ : যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা।

الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

উচ্চারণ : আররহমা-নির রাহি-ম।

অনুবাদ : যিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু।

مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ

উচ্চারণ : মা-লিকি ইয়াওমিদ্দি-ন।

অনুবাদ : বিচার দিনের একমাত্র অধিপতি।

إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ

উচ্চারণ : ইয়্যা-কা না’বুদু ওয়া ইয়্যা-কা নাসতাই’-ন

অনুবাদ : আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।

اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ

উচ্চারণ : ইহদিনাস সিরাতা’ল মুসতাকি’-ম

অনুবাদ : আমাদের সরল পথ দেখাও।

صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ

উচ্চারণ : সিরাতা’ল্লা যি-না আনআ’মতা আ’লাইহিম গা’ইরিল মাগ’দু’বি আ’লাইহিম ওয়ালা দ্দ-ল্লি-ন।

অনুবাদ : সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

রমজানে রোজার নিয়ত কখন করবেন

অনলাইন ডেস্ক

রমজানে রোজার নিয়ত কখন করবেন

রমজান মাসের রোজা মুসলমানদের জন্য ফরজ। আমরা যেন আল্লাহ ভীতি অর্জন করতে পারি সে জন্য রমজানের রোজা ফরজ করা হয়েছে। আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপরও রোজা ফরজ ছিল।

ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মূল ভিত্তির তৃতীয়টি হলো রোজা। সুবহে সাদেক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার এবং সেই সঙ্গে যাবতীয় ভোগ-বিলাস থেকেও বিরত থাকার নাম রোজা। ইসলামী বিধান অনুসারে, প্রতিটি সবল মুসলমানের জন্য রমজান মাসের প্রতিদিন রোজা রাখা ফরজ বা অবশ্য পালনীয়।

রোজা পালন উপলেক্ষ আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম বা রোজা ফরজ করা হয়েছে; যেভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল; যাতে তোমরা তাকওয়া (আত্মশুদ্ধি) অর্জনে করতে পার। (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৩)

হজরত আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমাদের রোজা এবং আহলে কিতাব তথা ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানদের রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সাহরি খাওয়া। (অর্থাৎ মুসলিমরা সাহরি খায় আর ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানরা সাহরি খায় না)।’ (মুসলিম, নাসাঈ)

রোজা পালনে সাহরি ও ইফতারের যেমন গুরুত্ব রয়েছে তেমনি রোজার নিয়ত ও ইফতারের দোয়ার রয়েছে যথেষ্ট গুরুত্ব। সাহরি খাওয়ার পর রোজা নিয়ত করা জরুরি।

রোজার নিয়ত কখন করবেন
যদি কেউ রাতে নিয়ত না করে তাহলে মধ্য আকাশ থেকে সূর্য পশ্চিমে ঢলার দেড় ঘণ্টা পূর্ব পর্যন্ত নিয়ত করা যাবে। তবে শর্ত হলো, সুবহে সাদিকের পর থেকে নিয়তের পূর্ব পর্যন্ত রোযার পরিপন্থী কোনো কাজ না করতে হবে। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৯৫, রদ্দুল মুহতার : ৩/৩৪১।

রোযা রাখার উদ্দেশ্যে সাহরী খেলে নিয়ত হয়ে যাবে
রোযার উদ্দেশ্যে সাহরী খেলে সেটাই নিয়তের জন্য যথেষ্ট হবে। উল্লেখ্য, রাতে রোযার নিয়ত করার পর সুবহে সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত পানাহার, স্ত্রী সহবাস ইত্যাদি করা জায়েয আছে। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৯৫, রদ্দুল মুহতার : ৩/৩৪১।

পুরো রমযানের জন্য একত্রে নিয়ত করা যথেষ্ট নয়
পুরো রমযানের জন্য একত্রে নিয়ত করা যথেষ্ট নয়। বরং প্রত্যেক রোযার জন্য পৃৃথকভাবে নিয়ত করতে হবে। কেননা প্রতিটি রোযা ভিন্ন ভিন্ন আমল।
–বাদায়িউস সানায়ে : ২/২২৮, রদ্দুল মুহতার : ৩/৩৪৪।

রোজার নিয়ত
نَوَيْتُ اَنْ اُصُوْمَ غَدًا مِّنْ شَهْرِ رَمْضَانَ الْمُبَارَكِ فَرْضَا لَكَ يَا اللهُ فَتَقَبَّل مِنِّى اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْم

আরবি নিয়ত : নাওয়াইতু আন আছুম্মা গাদাম মিন শাহরি রমাজানাল মুবারাকি ফারদাল্লাকা, ইয়া আল্লাহু ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নিকা আনতাস সামিউল আলিম।

বাংলায় নিয়ত : হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের তোমার পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ (নিয়্যত) করলাম। অতএব তুমি আমার পক্ষ থেকে (আমার রোযা তথা পানাহার থেকে বিরত থাকাকে) কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।

আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে পরকালের সফলতা ও জান্নাত লাভে রমজানের রোজার যথাযথ হক আদায় করে তা পালন করার তাওফিক দান করুন। আল্লাহুম্মা আমিন।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

মুনাফিকের চিহ্ন কয়টি ও কী কী

অনলাইন ডেস্ক

মুনাফিকের চিহ্ন কয়টি ও কী কী

‘মুনাফিক’ শব্দটি ‘নিফাক’ শব্দমূল থেকে এসেছে। এর অর্থ কোনো কিছুকে গোপন রেখে এর বিপরীত কথা বা কাজ প্রকাশ করা। ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় মুনাফিক বলা হয় ওই ব্যক্তিকে, যে অন্তরে কুফরি ও ইসলামবিরোধিতা লুকিয়ে বাহ্যিকভাবে মুসলমান হওয়ার দাবি করে।

মুনাফিকরা কেন কপটতার আশ্রয় নেয়, এর জবাবে কোরআনের এক আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তারা আল্লাহ ও মুমিনদের ধোঁকা দিতে চায়, আসলে তারা নিজেদের সঙ্গেই প্রতারণা করছে, কিন্তু তারা তা উপলব্ধি করতে পারছে না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ৯) 

অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘(কপটতা প্রকাশ করে) মুনাফিকরা কাফিরদের কাছ থেকে মানমর্যাদা পেতে চায়।’ (ভাবার্থ) (সুরা নিসা, আয়াত : ১৩৯)

‘‘আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, মুনাফিকের চিহ্ন তিনটি-
১. যখন কথা বলে, মিথ্যা বলে
২. যখন অঙ্গীকার করে, তা ভঙ্গ করে এবং
৩. আমানতের খেয়ানত করে। ’’  (বুখারী-২৬৮২, মুসলিম ১/২৫)


গাজীপুরে কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষ, প্রাণ গেল স্কুলছাত্রের

রোজা শুরু কবে, জানা যাবে সন্ধ্যায়

আব্দুস সবুর খান বীর বিক্রম আর নেই

সাগরে ১০ লাখ টন দূষিত পানি ফেলার সিদ্ধান্ত জাপানের


আরেক বর্ণনায় এসেছে, ‘‘আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত। নবী করিম (সা.) বলেছেন, চারটি স্বভাব যার মধ্যে বিদ্যমান সে হচ্ছে খাঁটি মুনাফিক। যার মধ্যে এর কোনো একটি স্বভাব থাকবে তা ত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকের একটি স্বভাব থেকে যায়।

এগুলো হচ্ছে-
১. আমানতের খেয়ানত করে
২. কথা বললে মিথ্যা বলে
৩. অঙ্গীকার করলে ভঙ্গ করে
এবং ৪. বিবাদে লিপ্ত হলে অশ্লীলভাবে গালাগালি করে। ’’ (বুখারী-২২৫৯, মুসলিম ১/২৫)

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর