উবানের ভাষায় তোফায়েল আহমেদ জন্মগতভাবেই অকৃত্রিম

সোহেল সানি

উবানের ভাষায় তোফায়েল আহমেদ জন্মগতভাবেই অকৃত্রিম

"তোফায়েল আহমেদ। তাঁর কারিশমা হচ্ছে, জন্মগতভাবে তিনি অকৃত্রিম এবং রাজনৈতিক কাজে কঠিন পরিশ্রমী। কাজ করেছেন শেখ মুজিবের অনুচর হয়ে। তাঁর পত্নী এবং অন্যান্য ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজন তখন বাংলাদেশে। আমি তাঁদেরকে নিয়ে আসার একটি পরিকল্পনা দিলাম। জবাবে তিনি বললেন, 'আল্লাহর ওপর তাদের নিরাপত্তার ভার ছেড়ে দেই না কেন আমরা? লাখো লাখো বাঙালি একই রকমের বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। সবাই তো আসতে পারে না।’

মুজিব বাহিনীর নেপথ্য পরিকল্পক ভারতীয় জেনারেল এস এস উবান তাঁর 'ফ্যানটমস অব চিটাগংঃ দ্য ফিপথ আর্মি ইন বাংলাদেশ' গ্রন্থে উনসত্তুরের গণ-অভ্যুত্থানের মহানায়ক তোফায়েল আহমেদ সম্পর্কে উপর্যুক্ত অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন।

দেশবরেণ্য রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদের ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর বরিশালের ভোলায় জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের তুখোড় পার্লামেন্টারিয়ান। তাঁর জীবন বড় বৈচিত্র্যময়। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনারও মন্ত্রীত্ব করেন দশ বছর। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য দীর্ঘসময়। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকায় '৯১ ও '৯৬-এ জয়ী হন দুটি আসনে।  ক্ষমতা-যশ-খ্যাতি সবই পেয়েছেন। জীবনের তাঁর বড় প্রাপ্তি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সচিব ছিলেন মন্ত্রীসম-মর্যাদায়। সর্বকালের সর্বশেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমানের সাহচর্যটা ইতিহাসের অংশ। কেননা তিনি শেখ মুজিবকে গৌরবান্বিত করেছেন 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি ভূষণে। তোফায়েল আহমেদ বঙ্গবন্ধুর অনুসারীদের কাছে শুধু নন, জাতীয় রাজনীতিতেই জীবন্ত কিংবদন্তি। লৌহমানব খ্যাত ফ্লিডমার্শাল আইয়ুব খানের পতন ঘটিয়ে সেনাছাউনিতে কাঁপন ধরিয়ে দেন। পাল্টে দেন রাজনীতির গতিপ্রকৃতি। সেই পথেই ১৯৭০ এর নির্বাচনে বাঙালির বিজয়-একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ।

ছয়দফা-আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় শুরু হয় শেখ মুজিবের বিচার। ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'ডাকসু' ভবনে তোফায়েল আহমেদের সভাপতিত্বে বৈঠক হয়। ছাত্রলীগের আব্দুর রউফ-খালেদ মোহাম্মদ আলী, ছাত্রইউনিয়নের সাইফুদ্দিন মানিক-সামসুদ্দোহা ও ছাত্রইউনিয়নের মোস্তফা জামাল হায়দার- দীপা দত্ত ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন। তোফায়েল আহমেদ ১৭ জানুয়ারি ১১দফা ঘোষণা করলে সরকারি সংগঠন   'এন.এস এফ' মাহবুবুল হক দোলন ও ডাকসু জিএস নাজিম কামরান চৌধুরীর ছাত্রসংগ্রাম পরিষদে যোগ দেন।

৮১ দিনের অপ্রতিরোধ্য আন্দোলন গণঅভ্যুত্থান ঘটায়। ২৫ মার্চ পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইউব খান পদচ্যুত হন। ২০ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের মূল ফটকের সামনে মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে নিহত হন ছাত্রইউনিয়নের আসাদুজ্জামান আসাদ। ২৪ জানুয়ারি মিছিলে গুলিয়ে হত্যা করা হয় ঢাকার  নবকুমার ইনস্টিটিউটের ছাত্র মতিউর রহমানকে। ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সেনানিবাসে সার্জেন্ট জহুরুল হককে হত্যার তিনদিনের ব্যবধানে ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ডঃ শামসুজ্জোহাকে হত্যা করা হয়। এ ছাড়াও নিহত হন আনোয়ার রুস্তুম, মিলন ও আলমগীর। সেনানিবাসে সার্জেন্ট ফজলুল হক গুলিবিদ্ধ হলেও অলৌকিকভাবে তিনি বেঁচে যান। এসব হত্যায় ফুঁসে ওঠে পূর্বপাকিস্তান।

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিশেষ ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যান এস এ রহমান, কেন্দ্রীয় তথ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন, প্রাদেশি মন্ত্রী সুলতান আহমদ ও মং সু প্রু এবং ক্ষমতাসীন  কনভেনশন মুসলিম লীগের প্রাদেশিক সভাপতি নওয়াব হাসান আসকারীর বাসভবন জ্বালিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা।

শ্লোগানমুখর হয়ে ওঠে সারাদেশ।  'জহুরের রক্ -স্বাধীনতার মন্ত্র', পিন্ডি না ঢাকা - ঢাকা, ঢাকা', তোমার আমার ঠিকানা-পদ্মা মেঘনা যমুনা' কুর্মিটোলা ভাঙ্গবো - শেখ মুজিবকে আনবো' ইত্যাদি শ্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে ঢাকা। গণঅভ্যুত্থানের মুখে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিব কারামুক্ত হন। ২৩ ফেব্রুয়ারি রমনা রেসকোর্স ময়দানে অভ্যুত্থানের মহানায়ক তোফায়েল আহমেদ বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করেন এক আবেগঘন ভাষণে সিক্ত করে। ছাত্র নেতারা আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিব সঙ্গে দেখা করেন তাঁর ধানমন্ডির বাসভবনে। তারা নেতাকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আহুত  গোলটেবিল বৈঠকে যোগদানে অমত দেন।

শেখ মুজিব তখন বলেন, আমার নেতা সোহরাওয়ার্দী সাহেব শিখিয়েছেন- জনগণের নেতা হতে চাইলে জনগণ কী চায় সেটা বোঝার চেষ্টা করবে, জনগণ যা চায় তাই করবে, জনগণ যা শুনতে চায় তাই বলবে, এবং আমি আমার নেতার কথা মতোই চলবো। শেখ মুজিবের সহজ সরল আবেগঘন  কথাগুলোর ভেতরে ছাত্রনেতারা তাদের করণীয় দিকনির্দেশনা লাভ করেন।

আরও পড়ুন


গেল ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী মেডিকেলের করোনা ওয়ার্ডে ১২ জনের মৃত্যু

ইরানের যাত্রীবাহী বিমান ভূপাতিত করে ক্ষমা চায়নি যুক্তরাষ্ট্র: জারিফ

মেসি জাদুতে ইকুয়েডরকে উড়িয়ে সেমিতে আর্জেন্টিনা

ভারত মহাসাগরে ইসরাইলি কার্গো জাহাজে হামলা


১৯৭০ সালের কেন্দ্রীয় সম্মেলনে তোফায়েল আহমেদ  সভাপতি ও আসম আব্দুর রব সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। সিরাজুল আলম খান মাঠে তোফায়েল আহমেদকে বক্তা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তালিম দিতেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলের (জহুরুল হক হল) মাঠে।

তোফায়েল আহমেদ একেক জন নেতার ফাঁকে ফাঁকে বক্তৃতা করে নিজের কথাগুলো বলে ফেলতেন। ধীরে ধীরে তাঁর বক্তৃতা শ্রুতিমধুর হয়ে ওঠে। মানুষও আকৃষ্ট হতে থাকে। এক সময় পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, তোফায়েল আহমেদের বক্তৃতা শোনার জন্যই সভার শেষ পর্যন্ত আগ্রহভরে বসে থাকতো ছাত্রজনতা। সত্তুরের নির্বাচনে সূচিত হয় আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক বিজয়। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীত্বের শপথ নেবেন, তখনই শুরু হয় ছয়দফা নিয়ে  প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া- ভুট্টোর নয়া ষড়যন্ত্র। একাত্তরের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সেনাবাহিনী বাঙালির ওপর চালায় বর্বরোচিত গণহত্যা। বঙ্গবন্ধুকে করা হয় গ্রেফতার। শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। মুজিব নগর সরকারের অধীনে জেনারেল ওসমানীর নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনী যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। জেনারেল উবানের ভাষায় এসময়ই অশুভ তৎপরতা নির্মূলে নিশ্ছিদ্র প্রস্তাবে একদল উৎসর্গীকৃত প্রাণ তরুণ নেতৃত্বে গঠিত হয় মুজিব বাহিনী।

শেখ ফজলুল হক মনি, সিরাজুল আলম খান, আব্দুর রাজ্জাক ও তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে। উবান বলেন, এঁদের ছিলো মুজিবের প্রতি প্রগাঢ় আনুগত্য। এঁরা যুদ্ধের লক্ষ্য সম্পর্কে প্রেরণাদীপ্ত অকুতোভয় চতুষ্টয়।

লেখকঃ সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

‘ফেইল্ড ক্যাম্পেইন’টা সেপ্টেম্বরে ‘উইন ক্যাম্পেইন’ হয়ে গেলো

শওগাত আলী সাগর

‘ফেইল্ড ক্যাম্পেইন’টা সেপ্টেম্বরে ‘উইন ক্যাম্পেইন’ হয়ে গেলো

নির্বাচনের ঘোষনা দিয়ে মাঠে নেমেই জাস্টিন ট্রুডো টের পেয়ে গিয়েছিলেন- বড্ড ঝুঁকিপূর্ণ জুয়ায় নেমে গেছেন তিনি। সপ্তাহখানেকের মাথায়  দল আর ক্যাম্পেইন মিলে পর্যালোচনায় বসলো- কতোটা ঝুঁকির মধ্যে তারা, সেখান থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব কী না- তা খতিয়ে দেখতে। তাদের সব ধরনের পর্যালোচনাই লিবারেল পার্টিকে ১৪০টির বেশি আসনের নিশ্চয়তা দিলো না। 

কিন্তু জাস্টিন ট্রুডো সেটি কাউকে বুঝতে দিতে চাইলেন না। সতর্ক হলেন- তার কথায়, চেহারায়, বডি ল্যাঙ্গুয়েজে- কোনোভাবেই যেনো পার্টির এই দুরাবস্থার প্রকাশ না পায়, তিনি উদ্বিগ্ন- সেটি যেনো কেউ ক্ষুণাক্ষরেও টের না পায়। ‘মেজরিটি’ শব্দটি ভুল করেও উচ্চারণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন নীতিনির্ধারকরা। পুরো প্রচারণায় জাস্টিন ট্রুডো একবারের জন্যও ‘মেজরিটি’ শব্দটি উচ্চারণ করলেন না- অথচ মেজরিটির জন্যই তিনি হঠাৎ নির্বাচনের ঘোষনা দিয়েছিলেন। লিবারেল পার্টি নিরবে নিজেদের মূল্যায়নের খাতায় টুকে রাখলো ‘ আগষ্ট- ফেইল্ড ক্যাম্পেইন’।

’ফেইল্ড ক্যাম্পেইন’টা  সেপ্টেম্বরে এসে ‘উইন ক্যাম্পেইন’ হয়ে গেলো। সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই টের পাওয়া যাচ্ছিলো নতুন কৌশলটা কাজ করছে। শেষ দুই সপ্তাহে এসে তারা বুঝে গেলেন- এই যাত্রা রক্ষা পাওয়া গেছে। দলের মূল্যয়ন খাতায় এবার লেখা হলো- ‘ সেপ্টেম্বর- উইন ক্যাম্পেইন’। 

আরও পড়ুন:

অবশেষে ব্রিটেনের লাল তালিকা থেকে বাদ পড়ছে বাংলাদেশ

বেড়াতে গিয়ে অতিরিক্ত মদ পানে দুই ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু

আর কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে না, জানালেন কৃষিমন্ত্রী

ইভ্যালির সঙ্গে আর সম্পর্ক নেই তাহসানের


 

ভোট হয়ে যাবার পর বিজয়ী লিবারেল পার্টি এখন সেইসব কথা নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। নতুন করে পর্যালোচনা করছে। তবে ‘একটি ‘ফেইল্ড ক্যাম্পেইন’কে ‘উইন ক্যাম্পেইনে’ রুপান্তরিত করে ক্ষমতায় ফিরে আসার ম্যাজিক কৌশলটা নিঃসন্দেহে উদ্দীপনামূলক এবং কৌতূহলোদ্দীপক। পার্টি কখনো সেই কৌশলটা খোলামেলা প্রকাশ করলে কিংবা কোনো অনুসন্ধানী সাংবাদিক খুঁজে বের করে রিপোর্ট করলে রাজনীতি বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী এবং রাজনীতিতে আগ্রহীদের সেটি নতুন ভাবনার খোরাক যোগাবে নিঃসন্দেহে।

লেখক- শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ, কানাডা।

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

বলছি না, প্রবাসীরা আওয়ামী লীগ বা বিএনপির রাজনীতি করবেন না

আনোয়ার সাদী

বলছি না, প্রবাসীরা আওয়ামী লীগ বা বিএনপির রাজনীতি করবেন না

বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত প্রবাসীরা যদি স্থানীয় রাজনীতি মনযোগ দিয়ে করতেন তাহলে আখেরে তা দেশের মানুষেরই কাজে দিতো। 

যুক্তরাজ্যে কিছু মানুষ আছেন যারা সেদেশের রাজনীতিতে ভালো করছেন, তাদের পূর্ব পুরুষ বাংলাদেশের। তাদেরকে আপনারা সবাই চেনেন, আমি আর নাম লিখলাম না। তারা দেশের যতোটা উপকার করতে পারবেন, সেদেশের আওয়ামী লীগ বা বিএনপি শাখার সভাপতি কী এতোটা কাজে আসবেন?  

আমেরিকা, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়াসহ যেসব দেশ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সেসব দেশে প্রবাসীরা এখন স্থানীয় রাজনীতিতে যোগ দিতে পারেন। ক্ষমতার রাজনীতির সঙ্গে যার যোগাযোগ যতোটা নিবিড়, সে ততবেশি মানুষের উপকার করতে পারে, এ বিষয়ে নিশ্চয়ই কারো দ্বি-মত নেই? ফলে, বাংলাদেশের পক্ষে পলিসি সুবিধা নিশ্চিত করতে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশের ক্ষমতার বলয়ে যোগাযোগ রাখা দরকার। সে কাজ শুধু আমাদের কূটনীতিবিদরাই করবেন কেন, দেশের মানুষরাও, বাংলাদেশি বংশোদ্ভুতরাও কূটনীতিবিদের কাজটি করে দিলে, ক্ষতি কী? 

আমি বলছি না প্রবাসীরা আওয়ামী লীগ বা বিএনপির রাজনীতি করবে না। বলছি না, জেলা সমিতি বা উপজেলা সমিতি করবে না। এসবেরও দরকার আছে। তবে এসব কাজে সব সময় বিলিয়ে দিলে, আরো বড় পরিসরে নিজেকে নিয়ে যাওয়ার কাজটি ব্যহত হয়ে বলেই অনেকের ধারণা। 

অনেক সময়, রাজনীতিবিদরা এক দেশে বসে আরেক দেশের রাজনীতি পরিচালনা করেন। কেউ কেউ নিজ দেশ থেকে নির্বাসিত থাকেন, প্রবাসে থেকে দল গুছিয়ে, ক্ষমতা দখল করে ফিরে আসার স্বপ্ন দেখেন। ইতিহাসে আমরা প্রবাসী সরকার গঠন করতেও দেখি। তারা বিদেশে থাকলেও তাদের জগত স্বদেশ নিয়ে থাকে। পরিষ্কার বলে রাখি, এই আলোচনা তাদেরকে নিয়ে নয় বা তাদের জন্য নয়। এই আলোচনা তাদেরকে নিয়ে করছি, যারা স্থায়ীভাবে অন্য একটি দেশে বসবাস করতে স্বদেশ ছেড়েছেন।  

আরও পড়ুন:

অবশেষে ব্রিটেনের লাল তালিকা থেকে বাদ পড়ছে বাংলাদেশ

বেড়াতে গিয়ে অতিরিক্ত মদ পানে দুই ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু

আর কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে না, জানালেন কৃষিমন্ত্রী

ইভ্যালির সঙ্গে আর সম্পর্ক নেই তাহসানের


 

একটি কথা প্রচলিত আছে, প্রবাসীদের প্রথম জেনারেশন শারীরিকভাবে বিদেশে থাকে, কিন্তু তারা মানসিকভাবে বাস করে বাংলাদেশে। দ্বিতীয় জেনারেশন দেশের জন্য কিছুটা টান অনুভব করে। তৃতীয় জেনারেশন নাকি পুরোপুরি বিদেশি হয়ে যায়। এটাই আমাদের ভাবনায় রাখতে হবে। শেকড়ের প্রতি টান যেনো প্রবাসীদের মাঝে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বজায় থাকে, সে পরিবেশ তৈরি করে রাখতে হবে।  

যারা রেমিট্যান্স পাঠায় তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রাখছি। এটা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তবে বাংলাদেশের পক্ষে অপর একটি দেশের নীতি সহায়তা নিশ্চত করা কোনোভাবেই ছোট কাজ নয়।

লেখাটি নিউজ টোয়েন্টিফোর টিভির সিনিয়র নিউজ এডিটর, আনোয়ার সাদী-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া। 

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

'এই লোকটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লাশ ফেলতে চেয়েছিল না?'

মোহাম্মদ আলি আরাফাত

'এই লোকটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লাশ ফেলতে চেয়েছিল না?'

এই লোকটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লাশ ফেলতে চেয়েছিল না? লাশ ফেলার ষড়যন্ত্র করতে গিয়ে ধরা খেয়ে জেলও খেটেছে। এ আবার বড় বড় নীতি বাক্য শোনায় জাতিকে। লজ্জাও নাই এদের!

আমরা কোন একটা কথা বলা বা লেখার আগে দশ বার চিন্তা করি, কোন ভুল কিছু না বলে ফেলি বা লিখে ফেলি। অথচ এরা নিয়ত করে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যাচার করে। 
এরা মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলে, অথচ মত প্রকাশের স্বাধীনতা তো পরের কথা, এরা মিথ্যাচার করার স্বাধীনতাও ভোগ করছে। এই লোককে যদি শুধু মিথ্যা অপপ্রচারের জন্য আইন অনুযায়ী জবাবদিহিতার আওতায় আনা হতো তাহলে সে বার বার সাজা পেত। 

রও পড়ুন:

জন্মদিনে সৃজিতের কাছে কী চাইলেন মিথিলা?

বায়ু দূষণের তালিকায় বাংলাদেশ প্রথম, ঢাকা তৃতীয়

৪৫ মিনিট পর হাসপাতালে অলৌকিকভাবে বেঁচে উঠলেন নারী!

গাড়ি সাইড দেয়ায় ব্যবসায়ীকে মারধর করলেন এমপি রিমন!


আওয়ামী লীগের এবং সরকারের সহিষ্ণুতা ও উদারতার সুযোগ নিয়ে এরা যা ইচ্ছা তাই মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। তাও না কি এদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নাই!

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

ইভানা কি আত্মহত্যা করলো না অনার কিলিং-এর শিকার হলো?

অনলাইন ডেস্ক

ইভানা কি আত্মহত্যা করলো না অনার কিলিং-এর শিকার হলো?

এই ইভানাকে আমি খুব ভালো চিনি। খুব ভালো মানে খুব ভালো। আপাত সামাজিক প্রতিষ্ঠা পাওয়া অথচ অসহায় নারীদের আমার চেয়ে ভালো আর কেউ চেনে না। এই অনার কিলিংগুলো আমার চেনা।

ইভানা মরে গিয়ে জাস্ট একটা কেস হয়েছে, কেস স্টাডিই দেখেন। শিক্ষিত এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে। শিক্ষকরা বলছে, খুব মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল সে, বিতর্ক করতো। কিন্তু পড়াশোনা শেষ না করে ব্যারিস্টার ঢাকায় বাড়ি গাড়ি থাকা ছেলে দেখে বাবা বিয়ে দিলে সেই বিয়েতে "না" বলার সাহস ইভানার ছিল না। তার নিজের ব্যারিস্টার হবার ইচ্ছা শিকেয় তুলে সে ঘরকন্নায় মন দিয়েছিল।  

বিয়ের পর ইভানা সবাইকে জানিয়েছে সে সুখী। মিথ্যা সুখের অভিনয় করে গেছে অবিরাম। দু'টো বাচ্চা হয়েছিল একটা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন। স্বামীর সঙ্গে তার না বনা প্রথম থেকেই কিন্তু সে ডিভোর্সকে ভয় পেতো। নিজের কমফোর্ট জোন হারানোর ভয়? এই কথাটা সবসময় মাথায় ঘোরে আমার। মেয়েরা কি আসলে স্বামীর দেয়া স্বাচ্ছন্দ্য হারানোর ভয় করে না কি সমাজের? ইভানা দু'টো ভয়ই পেয়েছিল।

তার বাবা-মা জানিয়ে দিয়েছিল-  "যা কিছুই ঘটুক, স্বামীর সাথে থাকতে হবে।" ইভানা "বয়স" হয়ে যাওয়া বাবা মাকে ডিভোর্সের "লজ্জ্বা"য় ফেলতে চায় নি।

উপরন্তু দু'টো বাচ্চাকে নিয়ে এই শহরে চলার মতো কোনও আয় তার ছিল না। এরইমধ্যে স্বামীর অন্য নারীর সাথে সম্পর্ক জেনে এবং জীবনের এইসব পরিস্থিতি থেকে এক্সিট করার পথ হিসেবে একমাত্র আত্মহত্যাকেই দেখতে পেল ইভানা।

এখন বলেন, সে কী আত্মহত্যা করলো না অনারকিলিং বা হত্যার শিকার হলো? আমাদের সমাজ নারীর জন্য "ভালো পাত্র" হিসাবে যাকে রায় দেয় সে মানুষ হিসেবে কেমন তা কি কেউ দেখে? আর পরিবার। বাংলাদেশের অধিকাংশ পরিবারই একেকটা  আন্দামানের কালাপানি। বিনা অপরাধে শাস্তি পাওয়া নারীদের সেইখানে কারাবাস হয়। বিয়ে মানে সেইখানে শেষ কথা। যে পরিবার একজন মানুষের সবচেয়ে বড় ভরসার স্থল হবার কথা সেই পরিবার যখন কারাবাসের মতো হয় এই হিংস্র সমাজে তাহলে একটা নারী কোথায় যাবে কেউ বলতে পারেন? 

ইভানা আত্মহত্যা করেছে। "আত্মহত্যা কোনও সমাধান নয়" বলে অতিক্লিশে মোটিভেশনাল কথা আমি বলতেই পারি কিন্তু বলবো না কারণ ইভানার জুতা পায়ে আমি হাঁটিনি। যা করেছে সে ঠিকই করেছে। শুধু ভাবি, জীবনের কি বিপুল অবচয়!

রও পড়ুন:

প্রবাসীর জ্যাকেটের হাতায় ২ কোটি টাকার সোনা!

অবশেষে বাদুড়ের মধ্যে মিলল করোনাসদৃশ

লক্ষ্মীপুরে ৪ মাদকসেবীর বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

বিয়ে করছেন সিদ্ধার্থ-কিয়ারা!


ইভানার "আত্মহত্যা" নিয়েে ফেসবুক বিশেষ সড়গড় দেখলাম না, সম্ভবত তার এইভাবে মরে যাওয়াটা নারীবাদের কোনও শাখার মধ্যে পড়ে না। "প্রতিবাদ" না করে মরে যাওয়ার মতো এইসব "দুর্বলতা" সম্ভবত নিন্দা যোগ্য। এতো সব সবল, প্রতিষ্ঠিত নারীদের ভিড়ে ইভানার মরে যাওয়া একটা লজ্জ্বাজনক অধ্যায় সম্ভবত। কিন্তু মেয়েটা কি করলে ঠিক হতো কেউ বলতে পারেন? ইভানার বেঁচে থাকার মতো একটা ন্যূনতম সমাজ আর রাষ্ট্র কী সৃজন করা গেছে?

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর

সকল নাগরিকের জন্য 'অবসরভাতা' চালু করা হোক

আরিফ জেবতিক

সকল নাগরিকের জন্য 'অবসরভাতা' চালু করা হোক

আমরা বেশিরভাগই পরিশ্রমী 'বেসরকারি' মানুষ। সারাজীবন এলেবেলে ধরনের চাকুরি করি। না আছে যোগ্য সম্মান, না আছে যোগ্য পারিশ্রমিক। বিক্রয় প্রতিনিধি, বীমা এজেন্ট, বেসরকারি শিক্ষক, সাংবাদিক, গার্মেন্টেসর এক্সিকিউটিভ, একাউন্ট অফিসার, স্টোর ইনচার্জ- এরকম এক দীর্ঘ তালিকাতেই আমাদের অধিকাংশ মানুষের বাস।

সারাজীবন হাড়ভাঙা খাটুনি করে প্রতি মাস শেষে যে বেতন পাই সেটি বাড়িভাড়াতেই চলে যায়। সঞ্চয়ের কোনো সুযোগ নেই।
তারপরও যদি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া গ্রামের বাড়ির দুই শতক জায়গা বিক্রি করে কিংবা আধপেটা খেয়ে লাখ দুয়েক টাকা জমাতে পারি, সেই টাকা বিনিয়োগের কোনো সুযোগ নেই।

জমি কিনতে যাবেন তো কিস্তির পর কিস্তি দিয়ে যাবেন, তারপর একদিন শুনবেন সেই কোম্পানি হাওয়া হয়ে গেছে। নানা ধরনের হায় হায় কোম্পানির ফাঁদে হারাবেন সর্বস্ব।

আমাদের টাকা তাই খেয়ে যায় শেয়ার মার্কেটের ফড়িয়ারা, এহসান গ্রুপ-যুবক-ডেস্টিনি-ইভ্যালির ধান্দাবাজরা।

যখন বুড়ো হয়ে যাব, তখন আমরা কীভাবে চলব? আমাদের চাকুরিরই নিশ্চয়তা নেই, পেনশনের তো বালাই-ই নেই। আর সরকারি ছোট চাকুরিও যারা করেন, তাঁরাও এককালীন যে টাকাটা পান সেই টাকাটা কোথায় খাটাবেন?

একটা মোটামুটি ব্যবস্থা ছিল সঞ্চয়পত্র। সারাজীবনে কয়েক লাখ টাকা যোগাড় করতে পারলে সেই টাকায় কেনা সঞ্চয়পত্রে কয়েক হাজার টাকা পেলে কষ্টেক্লিস্টে অন্তত একটা মানবিক সম্মান রেখে জীবনপাত করতে পারতেন আমাদের বুড়ো মানুষগুলো।

কিন্তু সঞ্চয়পত্রের সুদের হারও কমিয়ে আনা হলো। দেশে টাকা রাখার জায়গা নেই, তাই সাধারন এলেবেলে মানুষের টাকা এখন আর লাগছে না কারো। তাছাড়া এই হারে ইন্টারেস্ট দিয়ে টাকা রাখাটাও এখন অর্থনৈতিক দিক থেকে যৌক্তিক না।

আমি তাই জোর দাবি জানাই যে সকল নাগরিকের জন্য 'অবসরভাতা' চালু করা হোক। কর্মক্ষম প্রতিটি মানুষ প্রতি মাসে তাঁর ইচ্ছানুযায়ী একটি অংশ টাকা এই সরকারি স্কিমে জমা রাখবেন। বিনিময়ে বয়স ৬০ বছর পার হলে, তিনি বাকি জীবন সরকার থেকে একটি মাসিক পেনশন পাবেন। পেনশনের পরিমান এমন হবে যাতে তিনি বাকি জীবন একটি সম্মানজনক অবস্থায় জীবনযাপন করতে পারেন।
রও পড়ুন:

জন্মদিনে সৃজিতের কাছে কী চাইলেন মিথিলা?

বায়ু দূষণের তালিকায় বাংলাদেশ প্রথম, ঢাকা তৃতীয়

৪৫ মিনিট পর হাসপাতালে অলৌকিকভাবে বেঁচে উঠলেন নারী!

গাড়ি সাইড দেয়ায় ব্যবসায়ীকে মারধর করলেন এমপি রিমন!


এটি কোনো আহামরি বা আচানক ব্যবস্থা নয়। বিদেশে এরকম সুযোগ আছে সবার জন্য। এজন্যই ওসব দেশে রিটায়ারমেন্টের পরে বুড়োবুড়িরা একটি স্বচ্ছল জীবন যাপন করতে পারেন। ঘুরতে পারেন, বেড়াতে পারেন, রোগে ভুগলেও সাহস হারান না। মাথার উপর একটি ছাদও থাকে।

আমাদের দেশে এই ব্যবস্থা সরকারের তরফ থেকে চালু করতে হবে। সারাজীবন টেনশনের জীবন যাপন করে এদেশের অধিকাংশ মানুষ। অন্তত মরার আগে কয়েটা দিন দুশ্চিন্তাহীন কাটানোর প্রত্যাশা করা খুব বেশি কিছু না।

(মত-ভিন্নমত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর