‘নগদ’-এ কোরবানির পশু কেনার পেমেন্ট হবে স্বচ্ছন্দে

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘নগদ’-এ কোরবানির পশু কেনার পেমেন্ট হবে স্বচ্ছন্দে

করোনা মহামারির কঠিন সময়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে গরুর হাটে ছোটাছুটির বদলে হাতের মুঠোয় কোরবানির সকল আয়োজন নিয়ে এসেছে ডাক বিভাগের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’। দেশ সেরা অনলাইন পশুর হাটগুলো থেকে পছন্দের পশু কিনে সহজেই ‘নগদ’-এর মাধ্যমে পেমেন্ট করতে পারবেন গ্রাহকরা। আর এতে করে করোনার জরুরি সময়েও ঈদ-উল আজহা রাঙিয়ে দিতে পারে ‘নগদ’।

পশু কেনার পাশাপাশি হোম ডেলিভারি, মিট প্রসেসিং এবং প্রসেসিং পরবর্তী ডেলিভারির পেমেন্টও করা যাচ্ছে ‘নগদ’-এর মাধ্যমে। ফলে সম্পূর্ণ শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখেই কোরবানি করতে পারবেন যে কেউ।

এবারের কোরবানিতে ‘নগদ’ যে অনলাইন হাটের পেমেন্ট পার্টনার হিসেবে কাজ করছে তাদের মধ্যে সাদিক অ্যাগ্রো, বেঙ্গল মিট, বাংলা কাট, প্রিয়শপ, মেঘডুবি এগ্রো, চেক লিস্ট, বেলওয়েথার এগ্রো এবং হাংরিনাকিসহ আরো কয়েকটি নাম উল্লেখযোগ্য।

সাদিক অ্যাগ্রোতে ‘নগদ’-এর মাধ্যমে মিট প্রসেসিং ফি পেমেন্ট করলে পেমেন্টের এই অংশের ওপর ১০ শতাংশ হারে আনলিমিটেড ডিসকাউন্ট পাবেন গ্রাহক। অন্যসব অনলাইন কোবারবানির হাটগুলোতে নানান ধরনের পশু কেনার সুযোগ থাকলেও হাংরিনাকিতে শুধু ছাগল কিনে ‘নগদ’ পেমেন্ট করতে পারছেন গ্রাহক।

অনলাইন হাটগুলোর সংশ্লিষ্ট লিংক বা ওয়েবসাইটে গিয়ে পশু পছন্দ করার পর গ্রাহকেরা বিক্রেতার নম্বরে কথা বলা বা কিছু ক্ষেত্রে ভিডিওতে পশু দেখার সুযোগও পাচ্ছেন। যাচাই বাছাইয়ের পর পশু নির্বাচন করে প্রতিষ্ঠানটির ‘নগদ’ মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টে পেমেন্ট করা যাবে।

আরও পড়ুন


আজ প্রকাশ করা হবে ৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগের ফল

পরীক্ষা না হলে যেভাবে পাস করানো হবে এসএসসি ও এইচএসসি

খুলনার চার হাসপাতালে আরও ১৯ জনের মৃত্যু

ইরানের পরমাণু সমঝোতা না ফিরতে বাইডেনের প্রতি পম্পেও’র আহ্বান


‘নগদ’-এর এই আয়োজন সম্পর্কে ‘নগদ’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর এ মিশুক বলেন, “আমরা সব সময়ই গ্রাহকদের জীবনকে আরো একটু সহজ করতে কাজ করছি। তার অংশ হিসেবেই নগদ-এর গ্রাহকদের ঈদের আয়োজনকে আরো একটু গুছিয়ে দিতে আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা রয়েছে। তার অংশ হিসেবেই আমরা কোরবানির আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। আশা করছি, জরুরি এই সময়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই সহজে ও নিরাপদে পছন্দের পশু কেনার সুযোগ নেবেন গ্রাহক। সে কারণেই গতবছরের মতো এবারও সেবাটি গ্রাহকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেবে বলে আশা করি।”

বর্তমানে ‘নগদ’-এর পাঁচ কোটি ২০ লাখ গ্রাহক রয়েছে যারা প্রতিদিন গড়ে ৬৫০ কোটি টাকা লেনদেন করছে। সম্প্রতি- ‘দেশি নগদে বেশি লাভ’ স্লোগান নিয়ে কাজ করতে গিয়ে বাজারে চমৎকার সাড়া পেয়েছে, যেখানে মূলত ‘নগদ’ ব্যবহারে গ্রাহকের সার্বিক লাভের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

ইতিহাসে বিখ্যাত লোকদের ঘুম নিয়ে বিচিত্র স্বভাব

নিবিড় আমীন

শরীরের ক্লান্তি দূর করাই ঘুমের অন্যতম কাজ, এমনটা সকলেরই জানা। সাধারণত দৈনিক একজন প্রাপ্তবয়স্কের প্রয়োজন হয় আট ঘণ্টা ঘুম। তবে সভ্যতার ইতিহাসে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য লোকেরই ছিল ঘুম নিয়ে অবাক করার মতো স্বভাব। 

ইতালীয় রেনেসাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি লিওনার্দো দা ভিঞ্চির ঘুমের অভ্যাস ছিল বড়ই অদ্ভুত। একটানা কখনোই বেশিক্ষণ না ঘুমিয়ে সর্বোচ্চ দু ঘণ্টা ঘুমাতেন তিনি। তবে এমন ঘুম তার দেয়া হতো একদিনেই বেশ কয়েকবার। বলা হয়, বিচিত্র এই ঘুমের স্বভাবের কারণেই অনেক কাজ অসম্পূর্ণ থেকে গিয়েছিলো ভিঞ্চির।

বিখ্যাত ইংরেজ কবি-নাট্যকার উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের ২৭ সংখক চতুর্দশপদীতে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিলো, অনিদ্রায় ভুগতেন তিনি। আর তাই এই সমস্যার কথা দেখা যেত তার অনেক নাটকের সংলাপেও।

ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টের ঘুমও ছিল বিচিত্র। পুরো রাত কখনোই ঘুমাতেননা তিনি। দিনের কিছু সময়, এমনকি যুদ্ধযাত্রায় ঘোড়ার পিঠে বসে ঝিমিয়ে নেয়ার অভ্যাস ছিল তার। তবে কোনো কোনো অভিযান শেষ করার পর টানা ১৮ ঘণ্টাও ঘুমিয়েছেন নেপোলিয়ন।

১৯ শতকের ইংরেজি সাহিত্যিক চার্লস ডিকেন্সের ঘুম নিয়েও রয়েছে অবাক করা তথ্য। এক সময় তার ধারণা ছিল, উত্তর দিকে মুখ করে শুলেই ঘুম আসে মানুষের। তবে কোনো পদ্ধতিতেই কাজ না হওয়ায় অনিদ্রা বেড়ে যায় তার। রাতে ঘুরে বেড়াতেন লন্ডনের পথে পথে। শুধুমাত্র সূর্যোদয়ের পরেই ঘুমাতে পারতেন তিনি।

আরও পড়ুন:


করোনায় জাবি অধ্যাপকের মৃত্যু

মর্মান্তিক মৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্তে ছবি তোলেন তিনি

সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ স্থগিত


বিবর্তনবাদের জনক চালর্স ডারউইনের ঘুমের অভ্যাসও সুবিধের ছিলো না। বিভিন্ন অসুখে ভুগার কারণে সারাটাজীবনই অনিদ্রায় ভুগতে হয়েছে তাকে। তবে সাধারণ মানুষের চেয়ে কিছুটা বেশিই ঘুমাতেন আলবার্ট আইনস্টাইন। অসামান্য মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দিতে নিয়ম করেই প্রতি রাতে ১০ ঘণ্টা ঘুমাতেন কিংবদন্তি এই বিজ্ঞানী।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

সুস্থ গরু চেনার উপায়

অনলাইন ডেস্ক

সুস্থ গরু চেনার উপায়

দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। এই ঈদকে আমরা অনেকেই কোরবানীর ঈদও বলে থাকি। কোরবানীকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বসে পশুর হাট।

আমরা অনেকেই সুস্থ, সবল গরু কেনা নিয়ে বেশ চিন্তায় থাকি। কেননা কৃত্রিমভাবে নানা ওষুধ খাইয়ে মোটাতাজা গরুর ভিড়ে সত্যিকার স্বাস্থ্যবান ও সুস্থ গরু চেনা একটু কঠিনই বটে। তবে কিছু বিষয় খেয়াল করলে ভালো গরু চিনে নেয়া সম্ভব। তাহলে জেনে নিন সুস্থ গরু চেনার উপায় সম্পর্কে।

১. অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় কিছু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মোটাতাজাকরণ ওষুধ খাইয়ে স্বাভাবিকের চাইতে অতিরিক্ত মোটাতাজা করে হাটে নিয়ে আসেন। এসব গরু অন্যসব গরুর চাইতে অপ্রত্যাশিত ফোলা থাকে।  লক্ষ্য করুণ আপনার পছন্দের গরু চটপটে কি না? কারণ, স্টেরয়েড খাওয়ালে গরু নড়াচড়ার বদলে ঝিম মেরে থাকবে। এছাড়া স্টেরয়েড ট্যাবলেট খাওয়ানো গরুর ঊরুতে প্রচুর মাংস থাকে। 

২. শিং ভাঙা, লেজ কাটা, জিহ্বা, ক্ষুর, মুখ, গোড়ালি খত আছে কি না তা ভালো করে দেখে নিতে হবে। 

৩. সুস্থ গরু চিনতে হলে পাঁজরের হাড়েও খেয়াল করতে হবে। সুস্থ গরুর পাঁজরের হাড়ে উঁচু নিচু থাকে এবং চোখে নড়াচড়া করবে।

আরও পড়ুন:


বাবরের রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরির পরও হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় পাকিস্তান

ইসরাইলের নয়া প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এরদোগানের ফোনালাপ

ঈদযাত্রা: আজ পাওয়া যাবে যে তারিখের টিকিট

যে কারণে এফডিসিতে এবার ছয়টি গরু কোরবানী দেবেন পরিমনি


৪. গরুর নাকের ওপরটা ভেজা ভেজা থাকে তাহলে বুঝতে হবে গরু সুস্থ। এছাড়া গরুর মুখের সামনে খাবার ধরলে যদি সঙ্গে সঙ্গে জিহ্বা দিয়ে টেনে নেয় তাহলেও বোঝা যায় গরুটি সুস্থ কারণ অসুস্থ পশু খাবার খেতে চায় না।

৫. গরুর কুঁজ মোটা ও টানটান থাকলে বুঝতে হবে গরুটি সুস্থ। 

৬. গরুর পাঁজরের হাড়ে যে তিন কোনা গর্ত থাকে, যাকে ফ্লায়েন্ট জয়েন্ট বলে। তাতে কোনা রয়েছে কিনা সেটি খেয়াল রাখতে হবে। যেসব গরুকে স্টেরয়েড জাতীয় খাবার খাওয়ানো হয় সেগুলোর পাঁজরের স্থান ফোলা থাকে এবং সেখানেও মাংস থাকে।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সাংবাদিকের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সাংবাদিকের মৃত্যু

ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে আবুল কালাম আজাদ (বিপ্লব) নামে এক সাংবাদিকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিন। তার বয়স হয়েছিল ৪৯ বছর।

আবুল কালাম আজাদ (বিপ্লব) প্রথম আলোর সম্পাদনা সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, বিপ্লবকে সোমবার সকালে রাজধানীর বিআরবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর দুপুরে তিনি মারা যান। বুধবার সকালে তার মরদেহ রাজধানীর জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হবে।

আরও পড়ুন:


বাবরের রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরির পরও হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় পাকিস্তান

ইসরাইলের নয়া প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এরদোগানের ফোনালাপ

ঈদযাত্রা: আজ পাওয়া যাবে যে তারিখের টিকিট

যে কারণে এফডিসিতে এবার ছয়টি গরু কোরবানী দেবেন পরিমনি


জুরাইনের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ বাবা, স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে গেছেন। তাঁর এক ছেলে দশম শ্রেণি ও আরেক ছেলে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

কবি আবু বকর সিদ্দিক গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি

অনলাইন ডেস্ক

কবি আবু বকর সিদ্দিক গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক কবি আবু বকর সিদ্দিক বার্ধক্যজনিত রোগে গুরুতর অসুস্থ হয়ে খুলনার একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কবির মেয়ে বিদিশা এরশাদ জানান, গত এক সপ্তাহ যাবত তার অবস্থা অবনতির দিকে। এ অবস্থায় মেয়ে বিদিশা এরশাদ কবি আবু বকর সিদ্দিকের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

কবি আবু বকর সিদ্দিক ১৯৩৪ সালের ১৯ আগস্ট বাগেরহাটের গোটাপাড়া মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন আবু বকর সিদ্দিক।


আরও পড়ুনঃ

ওজন বাড়াতে হলে দুপুরে ঘুমাতে হবে

দেশে ফিরতেই মেসির উপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন রোকুজ্জো! (ভিডিও)

তালেবান গোয়েন্দা প্রধানকে হত্যা করার কথা ঘোষণা আফগানিস্তানের

মাস্টারশেফ গ্রান্ড ফিনালে কিশোয়ারের পান্তা-আলুভর্তা


শিক্ষাজীবন শেষ করে চাখার ফজলুল হক কলেজ, দৌলতপুর বিএল কলেজ, বাগেরহাট পিসি কলেজ, ফকিরহাট কলেজ, কুষ্টিয়া কলেজ, কুষ্টিয়া গার্লস কলেজ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, কুইন্স ইউনিভার্সিটি ও নটরডেম কলেজে অধ্যাপনা করেছেন।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

ঢাকা থেকে কলকাতা মাত্র সাড়ে ৩ ঘণ্টায়!

হাসান ইবনে হামিদ

ঢাকা থেকে কলকাতা মাত্র সাড়ে ৩ ঘণ্টায়!

সুকুমার রায়ের ‘হযবরল’ গল্পে কাকটি যে হিসাব দিয়েছিল তাতে মাত্র দেড় ঘণ্টায় কলকাতা থেকে তিব্বত পৌঁছে যাওয়া যায়। ‘কলকাতা, রানাঘাট, ডায়মন্ড হারবার, তিব্বত। ব্যাস!’ সে তো গল্পের হিসেব। কতকটা তেমনটাই ঘটতে চলেছে। এবার ঢাকা থেকে আসা যাবে কলকাতা, সময় লাগবে মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টা। শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও এটাই হতে চলেছে। এর জন্য অপেক্ষা করতে হবে আর মাত্র বছর তিনেক। 

পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্প চালুর পর ঢাকা-কলকাতার যোগাযোগে অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটবে। এখন যেখানে ১০ ঘণ্টা সময় লাগে তিন বছর পর সেখানে মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টায় ঢাকা থেকে কলকাতায় পৌঁছানো যাবে। ‘সিটি অফ জয়’ খ্যাত কলকাতা শহরটি বাংলাদেশিদের কাছে ব্যাপক পরিচিত এবং শুধুমাত্র ঈদ শপিং করতে প্রতিবছর দেড় থেকে দুই লাখ বাংলাদেশির আগমন ঘটে কলকাতা শহরে। এছাড়াও রয়েছে চিকিৎসা ও ভ্রমণের উদ্দেশ্যে এই শহরে যাওয়া। সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের ক্ষেত্রে এই কলকাতা উপমহাদেশের সংস্কৃতি মনা মানুষদের এক তীর্থস্থান। বিশেষ করে বাঙালি সংস্কৃতির এক আধার এই সিটি অফ জয়। তাই দশ ঘণ্টার ভ্রমণের পরিবর্তে মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টায় কলকাতা যাবার সংবাদটি এই অঞ্চলের মানুষের জন্য এক আলাদা আনন্দবার্তা নিয়ে এসেছে। 

বর্তমানে মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনে ঢাকা থেকে সরাসরি কলকাতায় যাওয়া যায়। কলকাতা স্টেশন থেকে নদীয়া হয়ে গেদে এবং গেদে হয়ে বাংলাদেশের সীমান্ত স্টেশন দর্শনা পার হয়ে ঢাকায় অবস্থিত ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে পৌঁছায় মৈত্রী এক্সপ্রেস। এ রুটে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার রেলপথ পাড়ি দিতে হয় যাতে সময় লাগে প্রায় দশ ঘণ্টা। ২০২৪ সালের মধ্যে পদ্মা সেতুর রেলের নির্মাণকাজ শেষ হতে যাচ্ছে আর তখন কলকাতা স্টেশন থেকে বনগাঁ জংশন হয়ে হরিদাসপুর সীমান্ত দিয়ে বেনাপোল হয়ে যশোর, নড়াইল, ফরিদপুরের ভাঙ্গা হয়ে ঢাকা পৌঁছাতে পারবে ট্রেনটি। এ রুটের দূরত্ব দাঁড়াবে প্রায় ২৫১ কিলোমিটার। যা পার করতে মৈত্রী এক্সপ্রেসের গতিতে সাড়ে তিন ঘণ্টার বেশি সময় লাগার কথা নয়। 

অপরদিকে সড়ক পথে ঢাকা-কলকাতা যেতে প্রায় সারাদিন লেগে যায়। দূরত্ব তো আছেই, সঙ্গে পদ্মাতীরে ফেরির জন্য দীর্ঘ লাইনের অপেক্ষা। সেই দৃশ্যপট পাল্টে যাচ্ছে। পদ্মা নদীর ওপর তৈরি হচ্ছে বহুকাঙ্ক্ষি সেতু। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী জুনে চালু হচ্ছে এ সেতু। তবে সেতুর ওপর দিয়ে পুরোপুরি রেলসংযোগ পেতে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।  রেলসেতু ও রেলপথ নির্মাণের পর ঢাকা-কলকাতা যোগাযোগে অভাবনীয় উন্নয়ন ঘটবে। সড়কপথে যেমন দূরত্ব কমে আসবে এবং সময় বাঁচবে তেমনি দশ ঘণ্টার পথ রেলে যাওয়া যাবে মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টায় অর্থাৎ এটি চালু হলে ঢাকা থেকে কলকাতা যাওয়ার সময় দুই-তৃতীয়াংশ কমে আসবে। এছাড়া রেলপথে কলকাতা থেকে আগরতলা যেতে সময় লাগে ৩০ ঘণ্টা। সেই সময়ও কমে আসতে পারে ছয় ঘণ্টায়। পদ্মা সেতু নির্মাণ হলে এ রুটেও রেল পরিষেবা চালু হবে। 

ঢাকা এবং কলকাতার মধ্যে চলাচলকারী মৈত্রী এক্সপ্রেসের যাত্রীদের সীমান্তে ইমিগ্রেশন আর কাস্টমস চেকিং এর ক্ষেত্রে আগেই অনেক সুবিধা তৈরি করা হয়েছে। ২০১৭ সালের পূর্বে ভারতে গেদে স্টেশন এবং বাংলাদেশে দর্শনা স্টেশনে যাত্রীদের ট্রেন থেকে নেমে পাসপোর্ট-ভিসা পরীক্ষা করাতে হতো। সেখানে কাস্টমস চেকিংও হত। এর ফলে যাত্রীদের যেমন ভুগান্তি পোহাতে হতো ঠিক তেমনি প্রায় তিন ঘণ্টা সময় বেশি লাগতো। ২০১৭ সাল থেকে  সেই নিয়ম তুলে দেওয়া হয়েছে। এখন ট্রেনে ওঠার আগেই ওইসব পরীক্ষা হয়ে যায়। সীমান্তে যাত্রীদের আর নামতে হয়না, সময়টাও বেঁচে যায়। 

যাত্রা শুরুর আগেই কলকাতা এবং ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে ট্রেনে ওঠার সময়েই পাসপোর্ট-ভিসা পরীক্ষার কাজ সেরে ফেলা হবে। বর্তমানে ঢাকা-কলকাতা ট্রেনে যাতায়াত করতে প্রায় এগারো ঘণ্টা সময় লাগে। নতুন নিয়ম চালু হলে সময় লাগবে প্রায় আট ঘণ্টা।

সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটেছে। দুই দেশ খুব গুরুত্বের সাথে কানেক্টিভিটির জায়গাকে সমৃদ্ধ করছে। শুধু পদ্মাসেতুর এ রেল প্রকল্প নয় কিছুদিন আগে আমরা দেখেছি ফেনী নদীর উপরেও মৈত্রী সেতু স্থাপনের মাধ্যমে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে ভারত-বাংলাদেশ। এই মৈত্রী সেতুকে দক্ষিণ এশিয়ার নতুন বাণিজ্য করিডোর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই সেতু একইসাথে আন্তঃ বাণিজ্যের যেমন সম্প্রসারণ ঘটাচ্ছে তেমনি দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিতে এক বিশাল প্রভাব ফেলছে। ভারত যেমন এই সেতু ব্যবহার করে ত্রিপুরা অঞ্চলকে বাংলাদেশ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের মধ্যে বাণিজ্য বিস্তার ঘটাবে তেমনি বাংলাদেশও নেপাল, ভুটান, ভারত ও মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য করিডোর হিসেবে ভারতের মাটি ব্যবহার করবে। তাছাড়া ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলে বাংলাদেশের সেতুপথে প্রবেশাধিকার পাওয়া মানে হচ্ছে, আমরা একটা ‘বার্গেনিং পাওয়ার’ তৈরি করতে পারবো। যেমনটা আমরা নেপালের সাথে একটা তৈরি করছি। 

এছাড়া ভারতে উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলোতে বাংলাদেশের পণ্যের একটা বিশাল মার্কেট আছে। ফলে বাংলাদেশ থেকে পণ্য সেই রাজ্যগুলোতে অবাধে যেতে পারবে। অন্যদিকে ত্রিপুরার সাথে বাংলাদেশ যুক্ত হলেও পাশাপাশি মেঘালয়-মণিপুরসহ যে রাজ্যগুলো রয়েছে, সেগুলোর যেহেতু মিয়ানমারের সাথেও সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, সেক্ষেত্রে সড়কপথে বাংলাদেশেরও মিয়ানমারের সংযোগ স্থাপন হবে যা ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে মাইলফলক ভূমিকা রাখতে পারে। আবার চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করার অনুমতি যেহেতু আগেই দেয়া আছে সেক্ষেত্রে বন্দরের বিভিন্ন সেবা নেয়ার জন্য শুল্ক আদায় করে বাংলাদেশ লাভবান হবে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ শুল্ক নিতে পারবে। তাছাড়া সম্প্রতি ভারত সরকার বাংলাদেশকে সার রপ্তানিতে ভারতের ভূমি ব্যবহার করে নেপালে পাঠানোর ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছে। মিয়ানমার, ভারত, থাইল্যান্ড সংযোগ সড়কে বাংলাদেশ চতুর্থ দেশ হিসেবে নিজেদের নাম লেখাতে চাইছে। বিদ্যুৎ খাতে সক্ষমতা বাড়ার কারণে বিদ্যুৎ রপ্তানীতেও মনযোগি বাংলাদেশ। একারণেই নেপালে বিদ্যুৎ রপ্তানীর জন্য আলাদা ট্রানজিট সুবিধা চাইছে যা হয়তো অতি শীঘ্রই পাবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ অনেক আগেই ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা দিয়েছে। এই ট্রানজিটের ফলে লাভবান হচ্ছে দু দেশই। তাই ফেনী সংযোগ এক নতুন পথের সন্ধান দিচ্ছে দুই দেশকে যা বাণিজ্য সম্প্রসারণ থেকে শুরু করে মানুষের চলাচলের সুবিধা করে দিচ্ছে, সার্বিক অর্থনীতিতে অবদান রাখছে।

আরও পড়ুন:


লকডাউন শিথিল থাকবে ৮ দিন

করোনার মধ্যে ডেঙ্গু যেন মাথাব্যথার কারণ না হয়: এলজিআরডি মন্ত্রী

বিধিনিষেধ অমান্য করায় রাজধানীতে গ্রেপ্তার ৬০৪


সাম্প্রতিক সময়ে ট্রানজিটের উপর বাংলাদেশ সরকারও জোর দিয়েছে। কেননা ভৌগোলিক অবস্থানের পাশাপাশি প্রবৃদ্ধির গতিপথ বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ায় অত্যন্ত আকর্ষণীয় প্রতিবেশী করে তুলেছে। বৈশ্বিক টেক্সটাইল শিল্পের অন্যতম নেতা হিসেবে বাংলাদেশ একটি স্বতন্ত্র পথ তৈরি করেছি। বাংলাদেশ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে কানেক্টিভিটির কেন্দ্র হিসেবে এর অবস্থানগত সুবিধা সর্বাধিক করতে প্রস্তুত বাংলাদেশ। আর সেকারণেই যোগাযোগের ক্ষেত্রে বেশ কিছু আলাদা পদক্ষেপ নিচ্ছে দুই দেশ। ঢাকা-কলকাতা মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টায় যাবার এই পথ কানেক্টিভিটির আরেক উজ্জ্বল উদাহরণ। তবে দক্ষিণ এশিয়ায় ট্রানজিটের সুবিধের প্রশ্নে শুরুতেই চলে আসে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের ঘটনা। এ কারণেই এ অঞ্চলে ট্রানজিট নিয়ে অজানা একটা বিরুপ ধারণা জনগণের মাঝে রয়েছে। এসব ধারণাকে বদলে নতুন আঙ্গিকে এগিয়ে যাচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ। কেননা দুই দেশই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে, সীমান্ত সন্ত্রাসকে বন্ধের উদ্যোগে নানামুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে। বিগত বছরে ভারত-বাংলাদেশ যে কূটনৈতিক দক্ষতায় অমীমাংসিত বিষয়গুলোকে মীমাংসা করেছে, সামনের দিনেও এর ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন থাকবে বলে সকলের বিশ্বাস। 

মূলত চিকিৎসার কারণে বাংলাদেশ থেকে অনেক মানুষ কলকাতা যান। এছাড়াও ঈদ শপিং, ভ্রমণসহ আরও নানা কারণেই যেতে হয় বাংলাদেশিরা যান কলকাতাতে। ঢাকা থেকে কলকাতা বাস থাকলেও, বেশিরভাগ মানুষের পছন্দ রেলপথ। কারণ, সড়কপথে যেতে প্রায় সারাদিন লেগে যায়। সঙ্গে থাকে পদ্মাতীরে ফেরির জন্য দীর্ঘ লাইনের অপেক্ষা। এবার সেই অপেক্ষা দূর করে দিচ্ছে পদ্মা সেতু। রেল যোগাযোগের এই সময় কমিয়ে আনাটা দু’দেশের জন্য একটি নতুন বাণিজ্য লাইফলাইন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে কানেক্টিভিটি শুধু বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধুত্বই জোরদার করছে না, ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য বড় সুযোগ সৃষ্টি করছে। পুরো অঞ্চলকে বৃহৎ বাণিজ্য করিডর হিসেবে রূপ দিচ্ছে। 

লেখক: রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক। 

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর