বাংলার ঘরে ঘরেও আজ ক্যাটরিনা-কারিনা থাকতো
বাংলার ঘরে ঘরেও আজ ক্যাটরিনা-কারিনা থাকতো

রাখি নাহিদ।

বাংলার ঘরে ঘরেও আজ ক্যাটরিনা-কারিনা থাকতো

Other

অনেকেই আমার ফিটনেস রুটিন জানতে চায়। জিজ্ঞেস করে আমি কীভাবে নিজেকে মেন্টেইন করি। এক কথায় যদি এর উত্তর দিতে হয় তাহলে বলব I maintain my body by taking care of my mind.

মনের ফিটনেসই বড় ফিটনেস। মন ঠিক নাই তো কিছুই ঠিক নাই।


মন কীভাবে ফিট রাখি আগে এই বিষয়টা এক্সপ্লেইন করি।

আমি ভীষণ পজিটিভ মানুষ। মনে প্রাণে বিশ্বাস করি আল্লাহ যা করেন মঙ্গলের জন্যই করেন। তাই আপাত দৃষ্টিতে নিজের জীবনের কোনো জিনিস খারাপ বা প্রতিকুলতাময় মনে হলেও আমি ধরেই নিই এর থেকে ভালো কিছুই হবে।

প্রতিটা খারাপকে আমি এক একটা লাইফ লেসন মনে করি, অভিজ্ঞতার ঝুলি আরও ভারী হলো বলে ভাবি। নেগিটিভিটিকে কীভাবে পজিটিভিটি বানানো যায় সেই চেষ্টা করি।

আমার কারো প্রতি কোনো শত্রুটা বোধ হিংসা, বিদ্বেষ নাই। কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নাই। কারো বিরুদ্ধে মনে রাগ পুষে রাখি না। আশেপাশের মানুষদের কোনো আচরণে কষ্ট পেলেও নিঃশর্ত ক্ষমা করে দেই।

বিষয়টা যে মহৎ হবার জন্য করি তা না। করি নিজে ভালো থাকার জন্য। কারণ আমি মনে করি কারো প্রতি পুষে রাখা ক্ষোভে তার কিছুই হয় না। কিন্তু নিজের শরীর মন এর উপর ভয়ঙ্কর বাজে প্রভাব পড়ে।

আমার এক্সপেকটেশন খুব কম। আল্লাহ যা দিয়েছেন তা নিয়ে আমার শুক্রিয়ার শেষ নাই যা দেন নাই তার প্রতি আমার কোনো লোভও নাই। এটা শুধু পার্থিব চাহিদার ক্ষেত্রে না, বন্ধুত্ব, প্রেম-ভালোবাসা সব ক্ষেত্রেই। এমনকি আমার স্বামী সন্তান বা আমার পিতা-মাতা ভাই-বোন এর কাছেও কোনো এক্সপেকটেশন নাই। যা আছে তাই নিয়ে আলহামদুলিল্লাহ।

অনেকেই ধারণা করে আমি জনপ্রিয়তা পাবার জন্য লিখি। প্রচণ্ড ভুল ধারণা। দশ বছরের ফেসবুক জীবনে একটা শব্দও আমি অন্যের মন রাখার জন্য লিখিনি। যা মনে হয় যা আমি বিশ্বাস করি তাই বলি। মানুষের এই ভালোবাসা হয়তো আমার সেই অনেস্ট ফিলিং এরই পুরস্কার।

আমি সবসময় আনন্দে থাকি। আমাকে আনন্দে বা দুঃখে রাখার চাবি আমি অন্য কারো হাতে দিই না। নিজের সুখ এর জন্য কারো উপর নির্ভর করি না আর দুঃখের জন্য কাউকে রেস্পন্সিবল ও করি না। আমি জানি Happiness is a choice, Never a condition.
নিজের বয়স ঊনিশের পরে আর বেড়েছে বলে বিশ্বাস করি না, আমৃত্যু করবও না।

এইসব ভাবের কথা পড়ে যারা অতিশয় বিরক্ত হয়েছেন এইবার তাদের জন্য বাহ্যিক ফিটনেস এর তথ্য দিই 
আমি সপ্তাহে বড়জোর তিনদিন জিম করি। কার্ডিও স্ট্রেংথ ট্রেনিং করি সব মিলিয়ে দেড় ঘণ্টা। যেহেতু মাত্র তিন দিন করি তাই খুব মনোযোগ দিয়েই করি। হাংকি পাংকি করি না।

বাঙ্গি ছাড়া পৃথিবীর সব খাবার খাই। চেষ্টা করি পরিমিত খাবার তবে অপরিমিত খেয়ে ফেললে ঘর মোছা, কাপড় ধোয়া জাতীয় কায়িক পরিশ্রম করে বা জিম এ গিয়ে বাড়তি ক্যালোরি টুকু ফেলে আসার চেষ্টা করি।

আটটা দশটা মিষ্টি, তিন চার কেজি আম যেমন একসাথে খেয়ে ফেলি তেমনি আবার তিনমাস না খেয়েও থাকতে পারি।
আমার সবচেয়ে বড় গুণ আমি পৃথিবীর কোনো কিছুতেই আসক্ত হই না। না মানুষ না অন্য কোনো কিছু। থাকলে ভালো না থাকলে আরও ভালো।

ভাত খুব পছন্দ, অবশ্যই দুইবেলা ভাত খাই। কিন্তু পরিমাণ খুব কম। তার বদলে, প্রোটিন, সালাদ, সব্জি দিয়ে পেট ভরাই।
ডিসিপ্লিনড, প্রডাক্টিভ, একটিভ থাকি।

আগে নিয়মিত মেডিটেশন করতাম, এখন সময় পেলে করি না পেলে করি না।
দুইটা ব্যাড হ্যাবিট আছে, একটা বলা যাবে না, 
আরেকটা হলো আমি প্রচণ্ড চা খাই। চা খেতে খেতে দাঁত এর কালার হয়েছে কড়া হলুদ।

এই তো। এগুলাই আমার ফিট থাকার সিক্রেট।

আমি মনে করি, আমাদের শরীরটা হলো আমাদের আত্মার বাসস্থান। তাই নিজের শারীরিক সুস্ততার জন্য যেমন আমরা আমাদের ঘর পরিস্কার রাখি, তেমন আত্মার সুস্থতার জন্য শরীরকেও সুন্দর রাখা অপরিহার্য।
পরওয়ারদিগারের দেওয়া জীবন তার তৈরি শরীরকে সুস্থ সুন্দর রাখাও একটা ইবাদত.........।

আর নিজের প্রতি সত্যিকারের ভালোবাসা থাকলে ফিট থাকাটা একদমই কঠিন না। to be very honest, 
যে এনার্জি দিয়ে মানুষ অন্যের পেছনে লাগে সেই এনার্জি আত্মউন্নয়ন আর জিমের পেছনে দিলে, 
বাংলার প্রতিটা ঘরে ঘরে আজকে দুই একটা ক্যাটরিনা কারিনা থাকতো।

লেখাটি রাখি নাহিদ​-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া। (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়। )

আরও পড়ুন: 

‌‌‘শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া’ ইস্যুতে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

news24bd.tv তৌহিদ