বুয়েন্স আয়ার্সের সরু গলি থেকে ফুটবল ঈশ্বর

অনলাইন ডেস্ক

প্রিন্ট করুন printer

দিয়াগো আরমান্ডো ম্যারাডোনা। রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সের সেই সরু গলি থেকে হয়েছেন ফুটবল ঈশ্বর, হয়েছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। মাত্র ৮ বছর বয়সে নিজের ক্যারিয়ার শুরু করা দিয়াগো, জীবদ্দশায় নিজেকে নিয়ে যান এমন উচ্চতায় যা আর কেউ ছুঁতে পারেনি। 

মাত্রই ৬০ বছর বয়সে পা রাখা আমোদপ্রিয় এই অলটাইম গ্রেইট হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ছেড়ে গেলেন মর্ত্যের মায়া।

দিয়াগো আরমান্ডো ম্যারাডোনা। মাঠের ফুটবলার হিসেবে নন্দিত আবার মাঠের বাইরের কর্মকাণ্ডে কখনো কখনো তিনি হয়েছেন নিন্দিত। ফুটবল বিশ্বে বিস্ময় বালক থেকে পরিণত ফুটবলার হয়ে ওঠার গল্পের পুরো সময়টায় নানান ঘটনা এখন ইতিহাসের অংশ। 

আমোদপ্রিয়া এই কিংবদন্তি কোয়ারেন্টিনে কাটানো নিজের ৬০ তম জন্মদিনের আমেজ কাটিয়ে উঠার আগেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন। 

দিয়াগো আরমান্ডো ম্যারাডোনা। ফুটবল ঈশ্বর, আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ফুটবলার। যার শুরুটা বুয়েন্স আয়ার্সের শহর লানুসে জন্মগ্রহণ সেই গলির পথ ধরে। ছেলেবেলার ফুটবলের প্রতি ভালাবাসাতেই কিনা মাত্র ৮ বছর বয়সে নাম লেখান ক্লাব ফুটবলে।

১৯৭৫ আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্স ক্লাবে। টানা ৬ বছর এই ক্লাবে থাকার সাথে সাথে আর্জেন্টিনার বয়সভিত্তিক দলের নিয়মিত মুখ হয়ে ১৯৭৭ সালে পা রাখেন জাতীয় দলে।  জাতীয় দলের হয়ে চারবার নেমেছেন ফিফা বিশ্বকাপ মঞ্চে। ৮৬ সালে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ পায় আর্জেন্টিনা। আর সেটা এই কিংবন্তির হাত ধরেই। 

আক্ষরিক অর্থেই তার হাত ধরে কারণ, কোয়ার্টার-ফাইনালে ২-১ গোলে জয় পাওয়া ম্যাচেই ইতিহাস বিক্ষাত হ্যান্ড অফ গডের জন্ম দিয়েছিলেন, বার্থডে বয় সেই আসরে হয়েছিলেন সেরা ফুটবলারও। 


আরও পড়ুন: ম্যারাডোনার চিরবিদায়, শোকে স্তব্ধ গোটাবিশ্ব


৬১ বছরে পা রাখা দিয়াগো ১৯৮১ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত  বোকা জুনিয়র্স, বার্সালোনা, নাপোলি, সেভিয়া এবং নিওয়েলস ওল্ড বয়েজের হয়ে খেলেছেন তিনি। দুইবার গড়েছিলেন তৎকালিন সময়ে ট্রান্সফার ফির বিশ্ব রেকর্ডএতো কৃর্তী রেকর্ডের পরও কেনও জানি এই ম্যারাডোনাকে ক্রীড়া জগতের সবচেয়ে বিতর্কিত এবং উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিবর্গের অন্যতম হিসেবে মনে করা হয়। 

১৯৯১-এ ড্রাগ টেস্টে পজেটিভ হওয়ার ১৫ মাসের নির্বাসন এরপর ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ইফিড্রিন টেস্টে আবারও পজেটিভ হওয়ায় আসর থেকেই ছিটকে যান তিনি। তবে ঘটনা যাই ঘটুক শত বিতর্ক, শত আলোচনা সত্ত্বেও ফিফা বিংশ শতাব্দীর সেরা খেলোয়াড়ের তালিকায় রয়েছেন ম্যারাডোনা।

এক সময়ে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব পাওয়া আমোদ প্রিয় দিয়াগো ৬১ বছরে পা রেখেছেন ১টা মাসও কাটেনি। আবারো মাঠে নিজের বিচরন স্বাভাবিক করতে ছিলেন অপেক্ষায়, তবে সেই অপেক্ষাটা এবার হলো আরো দীর্ঘায়িত, অনির্দিষ্ট আর স্পষ্ট করে বলতে ফেরার পথটা করে গেলেন অসাধ্য আর অসম্ভব। তবে ১০ নম্বর জার্সির এই বিস্ময়কর জাদুকর বেঁচে থাকবেন ফুটবলের ইতিহাসে আর সারা বিশ্বের কোটি কোটি ভক্তের স্মৃতিতে।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য