এই জাতি স্বেচ্ছাসেবাকে মানসিকভাবে এখনো ধারণ করতে পারেনি
এই জাতি স্বেচ্ছাসেবাকে মানসিকভাবে এখনো ধারণ করতে পারেনি

এই জাতি স্বেচ্ছাসেবাকে মানসিকভাবে এখনো ধারণ করতে পারেনি

অনলাইন ডেস্ক

দোতলার ভ্যাক্সিন প্রার্থীদের চাপে লিফট অচল হয়ে পড়েছে৷ আজ সারা সকাল লিফট কাজ করেনি। আটতলার রোগীরা কি অবর্ণনীয় কষ্ট ভোগ করেছে তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবেনা।

প্রতিটি ওয়ার্ডের পাশে সুন্দর প্রশস্ত বারান্দা আছে। দামী টাইলস দেওয়া বারান্দা।

এস এসের রেলিং, গ্লাসের শিট দেওয়া। রাউন্ডের সময় মাঝে মাঝেই আমি বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াই। এবং মাঝে মাঝেই বিব্রত হই। বারান্দার কোনায় মল। শুকানো মনুষ্য বিষ্ঠা। এগুলো রোগীর সংগীদের কাজ।

দোতলার ভ্যাক্সিন ফ্লোরে আজকাল খুব হৈচৈ হয়। দুই একজনের চিৎকার প্রতিবাদও শুনি। লোকে চিৎকার করে বলে "কি হচ্ছে এসব! কোন সিস্টেম নাই"। এই কিছুদিন আগেও ভ্যাক্সিন প্রদান নিয়ে সবার সেকি উচ্ছসিত প্রশংসা! এত অর্গানাইজড! এত স্মুদ সব কিছু! এক টেবিলের পর আরেক টেবিল। তারপর ভ্যাক্সিন। তারপর সেল্ফি। কি সুন্দর! এখন তাহলে এত হট্টগোল কেন? আসলে ক্যাপাসিটির চেয়ে গ্রাহক বেড়ে গেছে। প্রতিদিন আগের তুলনায় পাঁচ গুন বেশি মানুষকে ভ্যাক্সিন দিতে হচ্ছে। ভাল সার্ভিস, খারাপ সার্ভিসের এটাই আসল সূত্র।

রেড ক্রিসেন্টের ভলান্টিয়াররা মূলত ভলান্টিয়ার। কিন্তু তাদের কাজকারবার দেখলে মনে হবে অফিসার। যেহেতু তারা দায়িত্ব পেয়েছে সেহেতু তারা অফিসার। এই জাতি স্বেচ্ছাসেবা বা ভলান্টিয়ার এক্টিভিটিকে মানসিকভাবে এখনো ধারণ করতে পারেনি। এককালে প্রতিষ্ঠান গুলির অভ্যার্থনাতে যারা কাজ করতো তাদের রিসিপনিস্ট বা অভ্য্র্থনাকারি বলা হতো। এখন এই নামটা বদলে ফেলা হয়েছে। এখন বলে ফ্রন্ট ডেস্ক অফিসার৷ সবাই অফিসার হতে চায়৷ খারাপ সার্ভিসের এটাও একটা সূত্র।

আরও পড়ুনঃ

এমবাপ্পে চলে গেলে রোনালদোকে আনবে পিএসজি!

আজ থেকে অনলাইনে এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু

আমানতের সর্বনিম্ন সুদহার পরিবর্তনের অনুরোধ নাকচ

হুমায়ুন আজাদ হত্যার ১৮ বছর, রায় হয়নি দুটি মামলার


আমার রুমটা ছোট। এখানে একসাথে দুজন রোগী ঢুকলেই সমস্যা। দুজনের সাথে আরো দুজন করে চারজন। এত লোক ঢুকলে ঠাসাঠাসি হয়। রোগীদের বুঝিয়ে বলতে হয়। ক্যান্সার হয়েছে - কথাটা এত সোজা না৷ পরীক্ষা গুলো একেকটা একেক বিল্ডিং এ হয়৷ দেখিয়ে দেওয়ার কেউ নেই। রোগীরাও বুঝেনা৷ রোগী তো রোগী, আমার জানতে অনেকদিন লেগেছে ঠিক কোন বিল্ডিং এ কোনটা হয়। রুমের সামনে সিরিয়াল মেইনটেইন করার মত কোন স্টাফ নেই। কিছুক্ষণ পর পর চিৎকার করে বলি - একসাথে এত লোক ঢুকছেন কেন? না বলে পারিওনা আসলে। এই যে চিৎকার করি বা করতে হয়- এভাবে কি এমপ্যাথি হয়? খারাপ সারভিসের এটাও একটা সূত্র।