লুটপাটের টার্গেট ছিল ৩৩২ কোটি টাকা

অনলাইন ডেস্ক

লুটপাটের টার্গেট ছিল ৩৩২ কোটি টাকা

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘ঢাকা শহর সন্নিকটবর্তী এলাকায় ১০টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পে’র ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় মূল উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) ৪০০ কোটি টাকা ছিল। সংশোধিত মূল উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (আরডিপিপি) প্রস্তুতকালে ব্যয় বৃদ্ধি করে দেখানো হয় ৭৩২ কোটি ৪১ লাখ ১৮ হাজার ৩৪৭ টাকা। অর্থাৎ প্রকল্পের ব্যয় বেশি দেখানো হয় ৩৩২ কোটি টাকা। আর এ লুটপাটের পরিকল্পনা করেছিলেন প্রকল্পের সাবেক পরিচালক (পিডি) ড. আমিরুল ইসলাম ও সদস্যসচিব দিল আফরোজ বিনতে আছিরসহ একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এর মাস্টারমাইন্ড ছিলেন প্রকল্প পরিচালক ও সদস্যসচিব। বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তেও প্রমাণিত হয়েছে। এর পরই প্রকল্পের পিডি ড. আমিরুল ইসলামকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু প্রকল্পের সদস্যসচিব মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের পরিকল্পনা উইংয়ের সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) দিল আফরোজ বিনতে আছির রয়েছেন বহাল তবিয়তে। ২৪ বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের এ কর্মকর্তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সিন্ডিকেটের যোগসাজশে দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরে কর্মরত।

গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে শিক্ষামন্ত্রী অনুমোদন দিলেও আজ পর্যন্ত দৃষ্টান্তমূলক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং ওই সিন্ডিকেটের চাপে মন্ত্রণালয় থেকে দুর্বল ও দায়সারা বিভাগীয় অভিযোগনামা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। তাদের মতে, অভিযোগনামায় পুরো বর্ণনা দুর্নীতির হলেও দুর্নীতির ধারা শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩-এর (ই) বাদ দিয়ে শুধু অসদাচরণের ধারা ৩-এর (খ) দিয়ে অভিযোগ আনা হয়েছে। এমনকি একজন অতিরিক্ত সচিবের তদন্তের পর বিভাগীয় তদন্ত করতে একজন উপসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ৪ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে বলা হয়- ‘মাউশি’র সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) দিল আফরোজ বিনতে আছিরের বিরুদ্ধে প্রকল্পের মূল ডিপিপি থেকে আরডিপিপি প্রস্তুতকালে সম্পূর্ণ দুরভিসন্ধিমূলকভাবে ও দুর্নীতির অভিপ্রায়ে ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় বাবদ খরচ ৪০০ কোটি থেকে ৭৩২ কোটি ৪১ লাখ ১৮ হাজার ৩৪৭ টাকায় বৃদ্ধি করার অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যে ঢাকা শহরের নিকটবর্তী ছয়টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন এলাকায় বাস্তবে বড় কোনো গাছপালা ও অবকাঠামো না থাকা সত্ত্বেও গাছপালা অবকাঠামো (যদি থাকে) উল্লেখ করে ১০১ কোটি টাকার ওপরে ব্যয় দেখানো হয়।

এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জে একটি প্রকল্পে নাল জমিকে ভিটি শ্রেণি দেখিয়ে ২৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা অতিরিক্ত বৃদ্ধি করার অভিযোগ রয়েছে। তিনি প্রকল্পের সদস্যসচিব ও মাউশির সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) হিসেবে ভূমি অধিগ্রহণের মূল্য তালিকা যাচাই-বাছাই করে সম্পূর্ণ দুরভিসন্ধিমূলকভাবে ও দুর্নীতির অভিপ্রায়ে মিথ্যা তথ্য সন্নিবেশনের আরডিপিপি প্রস্তুত করে প্রতি পৃষ্ঠায় সই করে অনুমোদনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছেন। ওই অভিযোগসমূহ মন্ত্রণালয় কর্তৃক তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগে অভিযুক্ত করে তাকে কারণ দর্শানোর চিঠি দেওয়া হয়। তিনি নোটিসের জবাব দেওয়ার পর ব্যক্তিগত শুনানি প্রার্থনা করেন। ব্যক্তিগত শুনানিকালে সন্তোষজনক জবাব উপস্থাপন করতে না পারায় ওই রুজ্জুকৃত বিভাগীয় মামলাটি তদন্ত করার জন্য সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৭-এর (২)(ঘ) অনুযায়ী একজন উপসচিবকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয় চিঠিতে।

একই ধারায় অভিযুক্ত করে সাবেক পিডি ড. আমিরুল ইসলামকেও ২৯ আগস্ট চিঠি দেয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনে কোনো ব্যক্তিগত শুনানি চান কি না তার জবাব দিতে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তিনি ব্যক্তিগত শুনানি চাইলে এবং শুনানিকালে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করবে মন্ত্রণালয়। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন গতকাল নিজ দফতরে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেককে আলাদাভাবে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও দেওয়া হচ্ছে। কেউ সন্তোষজনক জবাব উপস্থাপন করতে না পারলে বিভাগীয় মামলা করে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হচ্ছে। তদন্তে তাদের দায়ের পরিমাণ নির্ধারণ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ পর্যন্ত তিনজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিভাগীয় তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে সদস্যসচিবের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন:


দেশে প্রথমবারের মতো শিশুদের পরীক্ষামূলক টিকাদান শুরু আজ

গোপনে বিয়ে সারলেন স্বস্তিকা!

নিজের গায়ে আগুন দেওয়া সেই শিক্ষার্থী মারা গেছেন

রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ থাকবে আজ


এর আগে এ অভিযোগ তদন্তে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত (মাধ্যমিক) সচিব মো. মোমিনুর রশিদ আমিনকে সভাপতি করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ওই তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়- ‘সার্বিক দিক বিবেচনায় ঢাকা সন্নিকটবর্তী ১০টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ছয়টি প্রকল্পের মধ্যে শুধু গাছপালা ও অবকাঠামো “যদি থাকে” উল্লেখ করে কম করে হলেও প্রায় ১০১ কোটি টাকার ওপরে অতিরিক্ত প্রাক্কলন করা হয়েছে এবং নারায়ণগঞ্জের একটি প্রকল্পে নালা শ্রেণিকে ভিটি শ্রেণি দেখিয়ে প্রায় ২৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা বেশি ধরা হয়েছে। যা নৈতিকতাবিবর্জিত। এর জন্য পিডি দায় এড়াতে পারেন না।’ একই প্রতিবেদনে দিল আফরোজ বিনতে আছিরকে দায়ী করে বলা হয়- ‘তিনি প্রকল্পের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন ও সম্ভাব্য মূল্য তালিকার প্রতি পৃষ্ঠায় স্বাক্ষর করেছেন। সদস্যসচিব ও সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) হিসেবে তারও প্রকল্পের সাইট পরিদর্শন করার কথা। প্রস্তুতকৃত মূল্য তালিকা তিনি না দেখে করেছেন তা ভাবার কোনো অবকাশ নেই। ভূমি অধিগ্রহণের মূল্য তালিকা মাত্র ছয় পৃষ্ঠার এবং প্রকল্পের সিংহভাগ অর্থ এ খাতেই ব্যয় হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে তিনিও দায় এড়াতে পারেন না।’ 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রকল্পের সাবেক পিডি ড. আমিরুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে দিল আফরোজ বিনতে আছির নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে বলেন, ‘আরডিপিপি আমি প্রস্তুত করিনি, এটা আমার দায়িত্ব নয়। আমি প্রকল্পের সদস্যসচিবও নই। জমি অধিগ্রহণ করেছেন ডিসি অফিসের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা।’

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন 

পরবর্তী খবর

কুমিল্লার ঘটনায় পেছনের কারিগরদের খোঁজা হচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক

কুমিল্লার ঘটনায় পেছনের কারিগরদের খোঁজা হচ্ছে

কুমিল্লায় পূজা মণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার ঘটনার পেছনের কারিগরদের খুঁজতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কর্মকর্তারা। জানা গেছে, টানা জিজ্ঞাসাবাদেও মুখ খুলছেন না রিমান্ডে থাকা ইকবাল হোসেনসহ চার আসামি।

এদিকে এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে সিআইডি। গত রবিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (অপরাধ-পূর্ব) মো. জালাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর সই করা এক চিঠিতে মামলাটি কুমিল্লা কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছ থেকে সিআইডিতে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়। 

গতকাল সোমবার সকালে কুমিল্লার সিআইডি কর্মকর্তাদের কাছে মামলার কাগজপত্র বুঝিয়ে দেন তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মফিজুল ইসলাম। এ সময় রিমান্ডে থাকা এই মামলার প্রধান আসামি ইকবাল হোসেনসহ চারজনকেও হেফাজতে নেয় সিআইডি। ইকবাল ছাড়া রিমান্ডে থাকা অন্য তিনজন হলেন মো. হুমায়ুন কবির, মো. ফয়সাল আহমেদ ও মো. ইকরাম হোসেন।

গতকাল সকাল থেকেই তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন সিআইডি কর্মকর্তারা। ইকবালকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও ঘটনার পেছনে কারা রয়েছে তা স্বীকার করেননি তিনি। ইকবাল নিজে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলেও অন্য তিনজন এখনো নিজেদের নির্দোষ দাবি করে যাচ্ছেন। 

গত রবিবার রাত ১১টার দিকে ওই পূজামণ্ডপের হনুমানের মূর্তির হাত থেকে ইকবাল হোসেনের নিয়ে যাওয়া সেই গদাটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। জেলা পুলিশ ও সিআইডির একটি দল নগরীর দারোগাবাড়ি মাজারের পাশের চৌধুরী ভিলার প্রাচীরের ঝোপের ভেতর থেকে গদাটি উদ্ধার করে। এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, জিজ্ঞাসাবাদে ইকবাল বলেছেন, তিনি গদাটি পুকুরে ফেলেছেন। উদ্ধারের সময় ইকবাল সেখানে ছিলেন।

কুমিল্লা সিআইডির একটি সূত্র জানায়, মামলার দায়িত্ব নেওয়ার পর ইকবালকে প্রাধান্য দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে ইকরামকেও। কারণ তাঁরা দুজনই ঘটনা বাস্তবায়নে সরাসরি জড়িত ছিলেন। এ ছাড়া ঘটনার দিন সকালে মানুষকে উসকে দিয়ে সহিংসতাও ছড়িয়েছেন তাঁরা। তবে ইকবাল ছাড়া বাকিরা এখনো কেউ-ই মুখ খুলছে না।

গতকাল সন্ধ্যায় কুমিল্লা সিআইডির পুলিশ সুপার খান মোহাম্মদ রেজওয়ান জানান, ঘটনার গভীরে কারা ছিল, তাদের টার্গেট করেই তদন্ত চলছে। ইকবালকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলেও গতকাল পর্যন্ত পেছনে জড়িতদের নাম স্বীকার করেননি তিনি। ইকরাম এবং দুই খাদেমকেও ভালোভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আমরা তাঁদের যোগসূত্র খোঁজার চেষ্টা করছি।

আরও পড়ুন:


মিরপুর থেকে ৪২৪ কিশোরী নিখোঁজ, শিগগির সামাজিক বৈঠক পুলিশের

উল্লেখ্য, গত ১৩ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দীঘির পাড়ের ওই পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনার পর ঢাকা ও কুমিল্লা পুলিশের কয়েকটি দল তদন্তে নামে। তারা ঘটনাস্থলের আশপাশের বিভিন্ন স্থান থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করে। দীর্ঘ তদন্ত ও অনুসন্ধানের পর মণ্ডপে কোরআন রাখা ব্যক্তি যে ইকবাল হোসেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত হয় তারা। 

news24bd.tv রিমু   

পরবর্তী খবর

মিরপুর থেকে ৪২৪ কিশোরী নিখোঁজ, শিগগির সামাজিক বৈঠক পুলিশের

অনলাইন ডেস্ক

মিরপুর থেকে ৪২৪ কিশোরী নিখোঁজ, শিগগির সামাজিক বৈঠক পুলিশের

গত তিন মাসে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে ৪২৪ মেয়ে শিশু-কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। শিশু-কিশোরীরা যাতে ঘর ছেড়ে না যায় মিরপুরের সাতটি থানা এলাকায় অভিভাবকদের নিয়ে শিগগির সামাজিক বৈঠক করবে পুলিশ। সামাজিক বৈঠক করে সবার মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ। 

গতকাল সোমবার সংশ্লিষ্ট থানাগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি মাসের ২৫ তারিখ পর্যন্ত মিরপুর এলাকা থেকে আরো ৭৫ শিশু-কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এই নিয়ে নিখোঁজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১৭। এদের মধ্যে মিরপুর এলাকা থেকে ৩৯৫ জন এখন পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে বা নিজেরাই পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। অন্যদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। 

নিখোঁজ শিশু-কিশোরীদের একটি অংশ ছেলেবন্ধুদের সঙ্গে ঘর ছাড়লেও ছেলেদের পরিবারের পক্ষ থেকে জিডি করার ঘটনা নেই বললেই চলে। প্রায় সব জিডিই করেছেন মেয়ে শিশু-কিশোরীদের অভিভাবকরা।

গতকাল ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের সাতটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) জানান, সাত দিনের মধ্যে প্রতিটি এলাকার অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের সঙ্গে সামাজিক বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। তাঁরা মনে করেন, করোনাকালে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা অনেকটা ঘরবন্দি হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় তারা নানা ভুল করতে থাকে। তারা মানসিকভাবে অনেকটা হতাশার মধ্যে সময় কাটায়। পরিস্থিতি সহনীয় করতে ডাকা সামাজিক বৈঠকে অভিভাবকদের পাশাপাশি থানা পুলিশ সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া সভা-সেমিনার করা হবে এলাকায়। সেই সঙ্গে স্কুলের ক্লাসরুমে শিক্ষকদের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলবেন পুলিশ কর্মকর্তারা। এতে এলাকার জনপ্রতিনিধিদেরও সম্পৃক্ত করা হবে। 

কিভাবে বৈঠক আয়োজন করা হবে, জানতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে এ কাজ করা হবে। তাঁদের তথ্য মতে, বিট পুলিশের মূল ধারণা হচ্ছে, পুলিশ কর্মকর্তারাই সেবা নিয়ে যাবেন মানুষের কাছে। তবে মামলাসহ কিছু আইনগত বিষয়ে থানায় আসতে হবে ভুক্তভোগীদের। যদিও বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে চরম বিপদে না পড়লে মানুষের থানামুখী হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাই প্রতিটি মহল্লাকে বিটে বিভক্ত করে একজন উপ-পুলিশ পরিদর্শককে (এসআই) এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:


তিন মাসে মিরপুর থেকে ৪২৪ কিশোরী নিখোঁজ!


এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর জোনের সহকারী কমিশনার এম এম মঈনুল ইসলাম এবং মিরপুর বিভাগের দারুসসালাম জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) মিজানুর রহমান বলেন, নিখোঁজের সংখ্যা যাতে আর বাড়তে না পারে, সে জন্য কিছু বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিট পুলিশের মাধ্যমে প্রতিটি এলাকায় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে সামাজিক বৈঠক করা হবে।

আরো বলেন, বৈঠকের আগের দিন বিট পুলিশ বাড়ির মালিক, অভিভাবক অর্থাৎ ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে কথা বলে। এরপর পরের দিনের সুবিধামতো একটি সময়ে তাঁদের নিয়ে বৈঠক করা হবে। এর বাইরে স্কুলে গিয়েও এ বিষয়ে কথা বলা হবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। 

news24bd.tv রিমু   

পরবর্তী খবর

পাগলীর জন্ম নেওয়া সন্তানের পিতা এমপি বদি

অনলাইন ডেস্ক

পাগলীর জন্ম নেওয়া সন্তানের পিতা এমপি বদি

কক্সবাজার টেকনাফে পাগলীর গর্ভে জন্ম নেওয়া নবাগত শিশুটির পিতা হয়েছেন সাবেক কক্সবাজার-৪ (উখিয়া- টেকনাফ) আসনের এমপি আব্দুর রহমান বদি। তিনি এ শিশুকন্যার সব দায়িত্ব নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. টিটু চন্দ্র শীল এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

নবজাতক এ কন্যা শিশুটির নাম রাখা হয়েছে মরিয়ম জারা।

সোমবার বিকেলে টেকনাফ পৌরসভা হতে তাদের নামে  (বদি/শাহীনা) শিশুটির জন্ম নিবন্ধন হয়। এ প্রক্রিয়া শেষে তা প্রকাশ করলে মুহূর্তের মধ্যে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। 

স্থানীয়রা বলছেন, যে যা বলুক আজ থেকে শিশু মরিয়ম জারার পিতা সাবেক এমপি আব্দুর রহমান বদি ও মা শাহীনা আক্তার। এ মহৎ কাজের জন্য হাজারো মানুষ তাকে স্বাগত জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সাংসদ বদির বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. টিটু চন্দ্র শীল জানান, মা ও মেয়ে সুস্থ আছে, তবে মঙ্গলবার তাদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, আমিও শুনেছি পাগলীর জন্ম দেওয়া শিশুটির পিতা হয়ে দায়িত্ব নিয়েছেন সাবেক এমপি আব্দুর রহমান( বদি)।

উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক এবং কর্তব্যরত নার্সের সহযোগিতায় শিশু মরিয়ম জারা পৃথিবীতে আগমন করে।

news24bd.tv/তৌহিদ

পরবর্তী খবর

পূজামণ্ডপের ঘটনাটি দুঃখজনক: বদিউল আলম মজুমদার

অনলাইন ডেস্ক

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, গত ১৩ অক্টোবর কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে যে ঘটনা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।

এ সময় তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, দোষীদের খুঁজে বের করে সঠিক বিচার করতে হবে। সেই সাথে সাধারণ কোন নাগরিক যেন হয়রানির শিকার না হতে হয় সেদিকেও প্রশাসনের নজর দিতে হবে। 

আরও পড়ুন: খালেদা জিয়ার পরবর্তী চিকিৎসা কী জানা যাবে ২১ দিন পর 

দুপুরে কুমিল্লা টাউনহলের মুক্তিযোদ্ধা কর্নারে সুজনের আয়োজনে “রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠায়, শুদ্ধাচার চর্চার বিকল্প নেই” জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়নে করণীয় শীর্ষক এক  নাগরিক সংলাপে বদিউল আলম এ সব কথা বলেন।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ১৯০ জন হাসপাতালে

অনলাইন ডেস্ক


ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ১৯০ জন হাসপাতালে

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গেলো ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৯০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে কারও মৃত্যু হয়নি। আক্রান্তদের অধিকাংশই রাজধানীর বাসিন্দা।

আজ বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়,  নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ১৫৪ জন রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে এবং ৩৬ জন ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এ নিয়ে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট ভর্তি থাকা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৬১ জনে। ঢাকার ৪৬টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৭০৩ জন এবং অন্যান্য বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১৫৮ জন।

আরও পড়ুন: লিটন ও লাহিরুকে যে শাস্তি দিলো আইসিসি

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ (২৫ অক্টোবর) পর্যন্ত হাসপাতালে সর্বমোট রোগী ভর্তি হয়েছেন ২২ হাজার ৬৮৮ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ২১ হাজার ৭৪০ জন রোগী। ডেঙ্গুতে এ সময়ে ৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর