পরিশুদ্ধ সমাজের জন্য বিয়ের গুরুত্ব

অনলাইন ডেস্ক

পরিশুদ্ধ সমাজের জন্য বিয়ের গুরুত্ব

পৃথিবীর আদি মানুষ আদম। তখনো আদি মানবীর সৃষ্টি হয়নি। আদম আল্লাহর নির্দেশে জান্নাতের এখানে ওখানে ঘুরে বেড়ান। ফুলের সৌরভ, পাখির কলরব, নদীর কলকল সুর আদমের মনে এক ধরনের হিল্লোল বইয়ে দেয়। কিন্তু সে হিল্লোল বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো আদমের মনে আনন্দ আছড়ে পড়েই আবার মিলিয়ে যায়। আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। ধীরে ধীরে আদম বিষণ্ণ হয়ে পড়লেন। সব থেকেও যেন তাঁর কিছুই নেই এমন। আল্লাহ বুঝতে পারলেন আদমের সঙ্গীর অভাব। তিনি সৃষ্টির করলেন এক রূপবতী রমণীকে। যিনি পৃথিবীর প্রথম নারী। রাজ্যের রূপ ঝরে পড়ে তাঁর দেহে। নাম তাঁর হাওয়া।

আদম হাওয়াকে দেখেই বিস্ময়ে হতবাক। সঙ্গ চাইলেন এই রূপবতীর। আল্লাহতায়ালা আখেরি নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর দরুদ পড়াকে মোহরানা নির্ধারণ করে আদমের সঙ্গে হাওয়ার বিয়ে সম্পন্ন করে দিলেন। শুরু প্রথম মানব-মানবীর পবিত্র বন্ধন তথা বৈবাহিক জীবনের। তাঁরা সন্তান জন্ম দিয়ে হলেন পৃথিবীর আদি পিতা ও মাতা। কিছুদিন পর এ আদমই হলেন পৃথিবীর প্রথম নবী। এখন তিনি আর শুধু আদম নন, হয়ে গেলেন হজরত আদম। আদম সফিউল্লাহ। এভাবেই বিয়ের মাধ্যমে মানবসভ্যতার যাত্রা।

মোমিনদের বিয়ের নির্দেশ দিয়ে আল কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘ওয়ানকিহুল আয়ামা মিনকুম। ওয়াসসালিহিনি মিন ইবাদিকুম’। অর্থাৎ ‘হে বিশ্বাসীসমাজের বাসিন্দারা! তোমাদের মধ্যে যেসব যুবক-যুবতী সিঙ্গেল রয়েছে, তাদের বিয়ে দিয়ে দাও। এবং তোমাদের যোগ্য দাস-দাসীদেরও বিয়ের ব্যবস্থা কর।’ সুরা নুর, আয়াত ৩২।

আরও পড়ুন:

রাস্তায় ফেলে চলে যাওয়া চামড়াগুলোতে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে

করোনায় প্রাণ গেলো একজন ভাষা সৈনিকের

একটি পরিশুদ্ধ সমাজের জন্য বিয়ে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা এ আয়াত থেকেও বোঝা যায়। যারা বিয়ে করে না তাদের ব্যাপারে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন রসুল (সা.)। বুখারির বর্ণনা থেকে জানা যায়, একজন সাহাবি বিয়ে না করে জীবনভর ইবাদতের সাগরে ডুবে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। রসুল (সা.) তাঁর এ কথা শুনে ফেলেন। তিনি প্রচন্ড রাগ হয়ে বললেন, আরে! তোমাদের সবার চেয়ে বেশি মুত্তাকি আমি। আমি ইবাদতও করি, নারীসঙ্গও করি। এরপর পুরো উম্মতকে উদ্দেশ করে রসুল (সা.) বললেন, ‘আননিকাহু সুন্নাতি। অর্থাৎ বিয়ে হলো আমার সুন্নত। যারা আমার সুন্নত পালন করবে তারা আমার সঙ্গে জান্নাতে থাকবে। আর যারা আমার সুন্নত ছেড়ে দেবে তারা আমার উম্মতই নয়।’ বুখারি : কিতাবুন নিকাহ।


মাওলানা আবদুর রহিম তাঁর বিখ্যাত ‘পারিবারিক জীবন’ গ্রন্থে লিখেছেন, ইসলামে বিয়ের ব্যাপারে এত গুরুত্ব দেওয়ার পরও অনেক সময় যুবক-যুবতীরা কেবল দারিদ্র্যের অজুহাতে বিয়ে করতে রাজি হয় না। তারা মনে করে বিয়ে করলে আর্থিক দারিদ্র্য বেড়ে যাবে। আর এ দায়িত্ব পালন করতে না পারলে বা আরও বেশি অর্থ উপার্জনের সুযোগ না হলে জীবনমান নিচে নেমে যাবে কিংবা জীবনে বিপর্যয় নেমে আসবে। যুবক-যুবতীদের এ ধরনের চিন্তা-চেতনা শরিয়তের আলোকে মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। বাস্তবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এসব চিন্তা সঠিক বলে মেনে নেওয়া যায় না। কেননা মানুষের আয়-রোজগার স্থায়ী বা অপরিবর্তনীয় কোনো বিষয় নয়। যে আল্লাহ আজ একজনকে ৫০ টাকা দিচ্ছেন, কাল সে আল্লাহই তাকে ১০০ টাকা দিতে পারেন।

লেখক : চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মুফাসসির সোসাইটি।

news24bd.tv রিমু

পরবর্তী খবর

সূরা ইখলাছের অর্থ ও উচ্চারণ

অনলাইন ডেস্ক


সূরা ইখলাছের অর্থ ও উচ্চারণ

সূরার ইখলাস পবিত্র কোরআন শরীফের ১১২ নম্বর সূরা। এর আয়াত সংখ্যা ৪টি এবং এর রূকুর সংখ্যা ১টি। আল ইখলাস সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। ইখলাস অর্থ হলো- একনিষ্ঠতা, নিরেট খাঁটি বিশ্বাস, ভক্তিপূর্ণ উপাসনা। দুনিয়ার সব বিশ্বাস থেকে মুক্ত হয়ে শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলার একত্ববাদের ওপর খাঁটি ও নিরেট বিশ্বাসী হওয়াকে ইখলাস বলে।

এই সূরাটিকে ইসলামের শেষ পয়গম্বর মুহাম্মদ (সা:) বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে ব্যাখ্যা করেছেন।  তাৎপর্যের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এই আয়াতে আল্লাহ্‌র অস্তিত্ব ও সত্তার সবচেয়ে সুন্দর ব্যাখ্যা রয়েছে। এটি কুরআনের অন্যতম ছোট একটি সূরা হিসেবেও বিবেচিত হয়ে থাকে। এই সূরাটি কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান। 

হজরত আবু হোরাইরা (রা.) বর্ণনা করেন, একবার আল্লাহর রাসূল (স.) বললেন, তোমরা সবাই একত্রিত হয়ে যাও। আমি তোমাদেরকে কোরআনের তিনভাগের একভাগ শুনাব। অতঃপর যাদের পক্ষে সম্ভব ছিল তারা একত্রিত হয়ে গেলে তিনি আগমন করলেন এবং সূরা ইখলাস পাট করে শুনালেন। তিনি আরও বললেন, এ সূরাটি কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান (মুসলিম ও তিরমিজী)।

যে ব্যক্তি অধিক পরিমাণ পাঠ করবে আল্লাহ তায়ালা তার লাশ বহন করার জন্য হয়রত জিবরাঈল (আঃ) এর সাথে সত্তর হাজার ফেরেশতা প্রেরন করবেন। সেই ফেরেশতারা তাঁর লাশ বহন করবে এবং জানাজায় শরিক হবে।

রাসুল (সাঃ) এর সময় একবার এক এলাকার একজন ইমাম সাহেবের নামে বিচার এল। বিচারের দাবী ছিল যে সেই সাহাবী প্রতি ওয়াক্ত নামাজে শুধু সুরা ইখলাস পড়ত। এই প্রসঙ্গে সেই সাহাবীকে তিনি জিজ্ঞেস করলে সাহাবা উত্তরে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) সুরা ইখলাসে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব এমনভাবে বর্ণিত আছে যে এই সূরা আমার অনেক ভাল লাগে। তাই আমি সব নামাজে এই সূরা পড়ি। 

এই কথা শুনে আল্লাহ রাসুল (সাঃ) কিছু বলার আগেই আল্লাহ বলে পাঠালেন যে শুধু তার সূরা ইখলাসের প্রতি এই ভালবাসাই তার জন্য জান্নাত নিশ্চত করে দিয়েছে।

আরও পড়ুন:


ডিসেম্বরেই চালু হবে ৫জি নেটওয়ার্ক: মোস্তাফা জব্বার

দেশে বিনিয়োগ করুন: প্রধানমন্ত্রী

যানজট নিরসনের উদ্যোগ আটকে থাকে মহাপরিকল্পনার নথিতেই

মক্কা-মদিনার মসজিদে কাজ করবেন নারীরা


আসুন জেনে নিই সূরা আল ইখলাসের অনুবাদ ও অর্থ-

قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ - اللَّهُ الصَّمَدُ - لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ - وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ
উচ্চারণ : কুল হুয়াল্লাহু আহাদ। আল্লাহুচ্চামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ। ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুয়ান আহাদ।’ (মাখরাজসহ বিশুদ্ধ উচ্চারণ শিখে নেয়া জরুরি )

অর্থ : (হে রাসুল! আপনি) বলুন, তিনিই আল্লাহ, একক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি। আর তার সমতুল্য কেউ নেই।’ (সুরা ইখলাস)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

আহছানিয়া মিশনে চাকরির সুযোগ, বেতন ৩৭৭৯২ টাকা

অনলাইন ডেস্ক

আহছানিয়া মিশনে চাকরির সুযোগ, বেতন ৩৭৭৯২ টাকা

সম্প্রতি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ঢাকা আহছানিয়া মিশন। আগ্রহীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের শেষ তারিখ আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২১

প্রতিষ্ঠানের নাম- ঢাকা আহছানিয়া মিশন, হেলথ সেক্টর

পদের নাম- অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড অ্যাডমিন অফিসার

পদের সংখ্যা- ১টি

কাজের ধরন - পূর্ণকালীন

কর্মস্থল- ঢাকা

আবেদন যোগ্যতা

যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস।

একাডেমিক পর্যায়ে কোন তৃতীয় বিভাগ গ্রহনযোগ্য নয়।

সংশ্লিষ্ট কাজে কমপক্ষে ৩ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

যোগাযোগ দক্ষতা থাকতে হবে।

বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় সাবলীল হতে হবে।

কম্পিউটার চালনায় দক্ষতা থাকতে হবে।

আরও পড়ুন


যে কারণে ২৫ বছর পর চুল কাটলেন অপরাজিতা!

আমাদের ফোন পেগাসাসের মাধ্যমে ট্যাপ করা হয়েছে

যারা কিয়ামতের দিন অন্ধ হয়ে উঠবে

পরিবেশ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধতা পৃথিবীকে বাঁচাবে : তথ্যমন্ত্রী


আবেদন যেভাবে

আগ্রহীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন বিডি জবসের মাধ্যমে।

বেতন ও সুযোগ সুবিধা

 মাসিক বেতন ৩৭৭৯২ টাকা

অন্যান্য সুযোগ সুবিধা প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুসারে প্রদান করা হবে।

news24bd.tv রিমু 

পরবর্তী খবর

যারা কিয়ামতের দিন অন্ধ হয়ে উঠবে

মাইমুনা আক্তার

যারা কিয়ামতের দিন অন্ধ হয়ে উঠবে

দৃষ্টিশক্তি মহান আল্লাহর অমূল্য নিয়ামত। কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে এটাকে হিদায়াত, ঈমান গ্রহণ, উপদেশ ও শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। যেমন—সুরা বালাদে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি কি তোমাদের চক্ষু দিইনি?’ (সুরা বালাদ, আয়াত : ৮)

পবিত্র কোরআনের এই সুরায় মহান আল্লাহ মানুষকে হিদায়াত গ্রহণের জন্য সহায়ক যেসব নিয়ামত দিয়েছেন, তাতে চোখের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। যারা এই নিয়ামতের শুকরিয়া করবে না, কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তাদের অন্ধ অবস্থায় উঠাবেন। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘আর যে আমার স্মরণ থেকে বিমুখ থাকবে, নিশ্চয়ই তার জীবনযাপন হবে সংকুচিত এবং আমি তাকে কিয়ামতের দিন জমায়েত করব অন্ধ অবস্থায়। সে বলবে, হে আমার রব, কেন আপনি আমাকে অন্ধ অবস্থায় উঠালেন? অথচ আমি তো ছিলাম দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন! তিনি বলবেন, এভাবেই আমার নিদর্শনাবলি তোমার কাছে এসেছিল; কিন্তু তুমি তা ছেড়ে দিয়েছিলে এবং সেভাবে আজ তোমাকেও (জাহান্নামে) ছেড়ে দেওয়া হবে।’ (সুরা : ত্বহা, আয়াত : ১২৪-১২৬)

অন্য আয়াতে এসেছে, ‘আর আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন সে-ই হিদায়াতপ্রাপ্ত এবং যাকে তিনি পথহারা করেন তুমি কখনো তার জন্য তাঁকে ছাড়া অভিভাবক পাবে না। আর আমি (আল্লাহ) কিয়ামতের দিন তাদের একত্র করব উপুড় করে, অন্ধ, মূক ও বধির অবস্থায়। তাদের আশ্রয়স্থল জাহান্নাম। যখনই তা নিস্তেজ হবে তখনই আমি তাদের জন্য আগুন বাড়িয়ে দেব।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৯৭)

অর্থাৎ দুনিয়ায় তারা যে অবস্থায় ছিল—সত্যকে দেখতে পেত না, সত্য কথা শুনতে পেত না এবং সত্য কথা বলত না; ঠিক তেমনি কিয়ামতের দিন তাদের উঠানো হবে। অনেক তাফসিরবিদের মতে, এখানে বাহ্যিক দৃষ্টিহীনতার কথা বলা হয়নি; বরং অন্ধ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, অন্তরের দৃষ্টিশক্তিহীনতা। কারণ পবিত্র কোরআনের এক আয়াতে উল্লিখিত হয়েছে, ‘তারা কি দেশ ভ্রমণ করেনি? তাহলে তারা জ্ঞানবুদ্ধিসম্পন্ন হৃদয় ও শ্রুতিশক্তিসম্পন্ন শ্রবণের অধিকারী হতে পারত। বস্তুত চোখ তো অন্ধ নয়, বরং অন্ধ হচ্ছে বুকের মধ্যে অবস্থিত হৃদয়।’ (সুরা হজ, আয়াত : ৪৬)

তাদের অন্ধত্ব হৃদয়ের চোখের হোক আর চর্মচোখের, কিয়ামতের দিন তাদের শাস্তি যে ভয়াবহ হবে, এ কথা নিশ্চিত। পবিত্র কোরআনের একটি আয়াতে বলা হয়েছে যে সেদিন তাদের চেহারার ওপর ভর করে আল্লাহর সামনে হাজির করা হবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘যাদের মুখের ওপর ভর দিয়ে চলা অবস্থায় জাহান্নামের দিকে একত্র করা হবে, তারা স্থানের দিক থেকে অতি নিকৃষ্ট এবং বেশি পথভ্রষ্ট।’ (সুরা ফুরকান, আয়াত : ৩৪)

আরও পড়ুন


যে কারণে ২৫ বছর পর চুল কাটলেন অপরাজিতা!

আমাদের ফোন পেগাসাসের মাধ্যমে ট্যাপ করা হয়েছে

‘শাহীন আনাম ও মাহফুজ আনাম হিন্দুদের ঐক্যে চিড় ধরানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত’

পরিবেশ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধতা পৃথিবীকে বাঁচাবে : তথ্যমন্ত্রী


পবিত্র কোরআনের এই আয়াত দেখে সবার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে চেহারার ওপর ভর করে চলাচল কি সম্ভব? এমন প্রশ্ন সাহাবায়ে কেরামের মনেও এসেছিল। আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর নবী, কিয়ামতের দিন কাফিরদের মুখে ভর করে চলা অবস্থায় একত্র করা হবে? তিনি বলেন, যিনি এ দুনিয়ায় তাকে দুই পায়ের ওপর চালাতে পারছেন, তিনি কি কিয়ামতের দিন মুখে ভর করে তাকে চালাতে পারবেন না? কাতাদা (রহ.) বলেন, নিশ্চয়ই, আমার রবের ইজ্জতের কসম!’ (বুখারি, হাদিস : ৪৭৬০)

মহান আল্লাহ সবাইকে হিদায়াত নসিব করুন। কিয়ামতের বিভীষিকাময় পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করুন। আমিন।

 

পরবর্তী খবর

সূরা বাকারা: আয়াত ৮৯-৯৩, মহানবী (সা.) কে ইহুদীদের অস্বীকার

অনলাইন ডেস্ক

সূরা বাকারা: আয়াত ৮৯-৯৩,  মহানবী (সা.) কে ইহুদীদের অস্বীকার

পবিত্র কুরআনের গুরুত্বপূর্ণ সূরা আল-বাকারা আলোচনার আজকের পর্বে সূরাটির ৮৯ থেকে ৯৩ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা তুলে ধরা হবে। বনী ইসরাইলীদেরকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহপাক সূরা বাকারাহ'র ৮৯ নম্বর আয়াতে বলেছেন -

وَلَمَّا جَاءَهُمْ كِتَابٌ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ مُصَدِّقٌ لِمَا مَعَهُمْ وَكَانُوا مِنْ قَبْلُ يَسْتَفْتِحُونَ عَلَى الَّذِينَ كَفَرُوا فَلَمَّا جَاءَهُمْ مَا عَرَفُوا كَفَرُوا بِهِ فَلَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الْكَافِرِينَ (89

‘‘আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের কাছে রাখা নিদর্শনের সমর্থক কিতাব আসার পরও তারা সেই কিতাব অগ্রাহ্য করল। অথচ এর আগে সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের বিরুদ্ধে তারা তাদের কাছে রাখা নিদর্শনের সাহায্যে বিজয় প্রার্থনা করত। কিন্তু যখন তাদের কাছে তা আসল, তখন তারা সেটি প্রত্যাখ্যান করল। সুতরাং অবিশ্বাসীদের প্রতি আল্লাহর অভিশাপ।’’ (২:৮৯)

এর আগের আলোচনায় হযরত মূসা (আ:) ও তওরাতের বিধানের প্রতি বনী ইসরাইল জাতির বিদ্বেষ ও গোঁড়ামীর কথা উল্লেখ করেছিলাম। আর এ আয়াতে ইসলামের প্রাথমিক যুগের ইহুদীদের কথা বলা হয়েছে, যারা তাদের ধর্মীয় গ্রন্থ তওরাতের বর্ণনা অনুযায়ী ইসলামের নবীর আগমনের অপেক্ষায় ছিল এবং নিজেদের ঘর-বাড়ি ও মাতৃভূমি ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছিল হিজাজে ৷

মদিনা ও মদিনার আশেপাশে বসতিস্থাপনকারী ইহুদীরা মুশরিকদেরকে বলত, খুব শিগগিরই আবির্ভূত হবেন মুহাম্মদ নামের একজন নবী যিনি শত্রুদের ওপর বিজয় লাভ করবেন৷ ইহুদীরা ওই নবীর প্রতি ঈমান আনারও কথা বলত। কিন্তু সত্যিই যখন হযরত মুহাম্মদ (সা.) আবির্ভূত হলেন এবং মদীনায় হিজরত করলেন, তখন দেখা গেল ইহুদীরা তাদের গোঁড়ামী ও বস্তুপূজার কারণে ঈমান আনতে অস্বীকার করল। অপরদিকে মদিনার মুশরিকরা দলে দলে ঈমান আনল এবং গ্রহণ করল ইসলাম।

এ আয়াত থেকে বোঝা যায় স্রেফ জ্ঞানই যথেষ্ট নয় বরং সত্যকে গ্রহণ ও তা মেনে চলার মনোভাবেরও প্রয়োজন ৷ ইহুদীরা এবং তাদের পুরোহিতরা মহানবী (সা.) সম্পর্কে জানা সত্ত্বেও সত্য গ্রহণ ও তা মেনে নিতে পারেনি।

এরপর ৯০তম আয়াতে বলা হয়েছে -

بِئْسَمَا اشْتَرَوْا بِهِ أَنْفُسَهُمْ أَنْ يَكْفُرُوا بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ بَغْيًا أَنْ يُنَزِّلَ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ عَلَى مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ فَبَاءُوا بِغَضَبٍ عَلَى غَضَبٍ وَلِلْكَافِرِينَ عَذَابٌ مُهِينٌ (90

‘‘তারা অত্যন্ত নিকৃষ্ট মূল্যে নিজেদেরকে বিক্রি করেছে। আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তারা তা হিংসা বশবর্তী হয়ে প্রত্যাখ্যান করে শুধু এ কারণে যে আল্লাহ তার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা অনুগ্রহ করেন। অতএব, তারা ক্রোধের ওপর ক্রোধ অর্জন করেছে। আর কাফেরদের জন্য রয়েছে অপমানজনক শাস্তি।’’ (২:৯০)

ইহুদীরা আশা করেছিল ইসলামের নবী আসবে তাদের বনী ইসরাইল গোত্র থেকে আর তাহলেই কেবল তারা ওই নবীর প্রতি ঈমান আনবে। কিন্তু তাদের স্বপ্নভঙ্গ হওয়ায় গোত্রীয় হিংসা ও বিদ্বেষের বশবর্তী হয়ে তারা ইসলাম গ্রহণ করেনি। এমনকি তারা আল্লাহর এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদও জানিয়ে বসে। ইহুদীরা তাদের এ আচরণের মাধ্যমে ক্ষতিকর লেনদেনের স্বীকার হয়েছে। কারণ তারা প্রতিশ্রুত নবীর প্রতি ঈমান আনার জন্যে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে মদিনায় এসে বসতি স্থাপন করেছিল। এ জন্যে তাদেরকে অনেক দুঃখ-কষ্ট সহ্য করতে হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারাই পরিণত হয় ইসলামের শত্রুতে। কেবল গোঁড়ামী আর হিংসার কারণেই তারা নবীর প্রতি অবিশ্বাস পোষণ করে এবং নিজেদেরকে বিক্রি করে হিংসার মূল্যে। এভাবে তারা তাদের লক্ষ্যে পৌঁছুতে ব্যর্থ হয়।

এরপর ৯১তম আয়াতে বলা হয়েছে -

وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ آَمِنُوا بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ قَالُوا نُؤْمِنُ بِمَا أُنْزِلَ عَلَيْنَا وَيَكْفُرُونَ بِمَا وَرَاءَهُ وَهُوَ الْحَقُّ مُصَدِّقًا لِمَا مَعَهُمْ قُلْ فَلِمَ تَقْتُلُونَ أَنْبِيَاءَ اللَّهِ مِنْ قَبْلُ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ (91

‘‘যখন তাদেরকে বলা হয় আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তাতে বিশ্বাস কর। তারা বলে আমাদের নবীর প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে আমরা তাতে বিশ্বাস করি। তা ছাড়া সব কিছুই তারা প্রত্যাখ্যান করে। যদিও এ কোরআন সত্য এবং তাদের কাছে যা আছে তা (কোরআনকে) সমর্থন করে। হে নবী! আপনি তাদের বলুন, যদি তোমরা অতীতে তোমাদের ওপর অবতীর্ণ হওয়া বিষয়ের প্রতি বিশ্বাসী হতে তবে কেন তোমরা অতীতে নবীদেরকে হত্যা করেছিলে?’’ (২:৯১)

এ আয়াতে ইহুদীদেরকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে, 'তোমরা হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ঈমান আনছো না এ জন্যে যে, তিনি তোমাদের গোত্রের নন। তোমরা যদি সত্যিই ঐশি গ্রন্থ মেনে চল তবে কেন তোমরা অতীতে নবীদেরকে হত্যা করেছিলে? এ থেকে বোঝা যায় তোমরা মূলত: সত্যের বিরোধী ৷ ওই সত্য তোমাদের নবীই বলুক অথবা ইসলামের নবীই বলুক তাতে তোমাদের কিছু এসে যায় না৷ কোরআনের বাণীকে তোমরা যেমন অগ্রাহ্য করেছ তেমনি তওরাতের কথাও তোমরা গ্রহণ করনি।'

মূলত: আসমানী গ্রন্থের সব বিষয় এসেছে এক আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং সেসব কোন বিশেষ জাতি বা গোত্রের জন্যে আসেনি বরং এসেছে তাবত মানুষের জন্যে। তাই এটা কারো বলার অধিকার নেই যে, আমি কেবল আমার জাতির নবীকে অনুসরণ করব, অন্য কাউকে নয়। সব ঐশী ধর্মের বিষয়বস্তুর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এক এবং একটির সঙ্গে অন্যটির কোন বিরোধ নেই ৷

এরপর ৯২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে -

وَلَقَدْ جَاءَكُمْ مُوسَى بِالْبَيِّنَاتِ ثُمَّ اتَّخَذْتُمُ الْعِجْلَ مِنْ بَعْدِهِ وَأَنْتُمْ ظَالِمُونَ (92)

‘‘নিশ্চয় মূসা তোমাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণসহ এসেছে। কিন্তু তোমরা তার অনুপস্থিতিতে বাছুর পূজা শুরু করেছিলে। সত্যিই তোমরা ছিলে বড় অত্যাচারী।’’ (২:৯২)

ইহুদীরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ না করার পেছনে যে যুক্তি এনেছিল তাহলো, মহানবী (সা.) আরব, আর অন্যদিকে হযরত মূসা ছিলেন বনী ইসরাইল। কিন্তু হযরত মূসা তাদের জন্য মোজেযাসহ আসার পর যখন তুর পাহাড়ে গেলেন, তখন বনী ইসরাইল জাতি বাছুর পূজার দিকে ঝুঁকে পড়ল। হযরত মূসার দীর্ঘ দিনের শ্রম এক নিমিষে পানি হয়ে গেল। এভাবে ইহুদীরা জুলুম করেছিল তাদের নবীর প্রতি।

আরও পড়ুন


জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দিলেন শেখ হাসিনা

‘শাহীন আনাম ও মাহফুজ আনাম হিন্দুদের ঐক্যে চিড় ধরানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত’

পরিবেশ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধতা পৃথিবীকে বাঁচাবে : তথ্যমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশে প্রথম মোবাইল ও ইন্টারনেট এনেছেন: দীপু মনি


এবারে সূরা বাকারা’র ৯৩ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাক ৷ এ আয়াতে বলা হয়েছে -

وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَاقَكُمْ وَرَفَعْنَا فَوْقَكُمُ الطُّورَ خُذُوا مَا آَتَيْنَاكُمْ بِقُوَّةٍ وَاسْمَعُوا قَالُوا سَمِعْنَا وَعَصَيْنَا وَأُشْرِبُوا فِي قُلُوبِهِمُ الْعِجْلَ بِكُفْرِهِمْ قُلْ بِئْسَمَا يَأْمُرُكُمْ بِهِ إِيمَانُكُمْ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ (93)

‘‘স্মরণ কর যখন তোমাদের অঙ্গীকার নিয়েছিলাম এবং তুরকে তোমাদের উর্ধ্বে স্থাপন করেছিলাম৷ বলেছিলাম তাওরাত ও এর যেসব বিধান তোমাদেরকে দিলাম সেসব দৃঢ়ভাবে গ্রহণ কর এবং শ্রবণ কর ৷ কিন্তু তারা বললো, আমরা শ্রবণ করলাম ও অমান্য করলাম।’’ (২:৯৩)

কুফরী ও অবিশ্বাসের কারণে তারা তাদের অন্তরে বাছুরকে স্থান দেয়৷ হে নবী আপনি তাদের বলুন যদি তোমরা বিশ্বাসী হও তাহলে তোমাদের বিশ্বাস যা নির্দেশ দেয় তা কত নিকৃষ্ট।

এর আগে বলেছি- ইহুদীরা মহানবী (সা.)-এর প্রতি ঈমান না আনার অজুহাত হিসাবে বলেছিল- রাসূলে খোদা বনী ইসরাইল জাতির লোক না। তারা বলেছিল আমরা কেবল এমন নবীর প্রতি ঈমান আনবো যে আমাদের গোত্রের হবে। আর আমরা কেবল মূসার আনা কিতাব তাওরাতই মেনে চলব৷ এর আগের কয়েকটি আয়াতে উদাহরণ দেয়া হয়েছে যা দেখে বুঝা যায়, ইহুদীরা তাদের নবী মূসা ও তার ধর্মগ্রন্থ মেনে চলা দূরের কথা বরং তার বিপরীতভাবে চলে। আর এ আয়াতে সেরকম আরেকটি ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয়া হয়েছে। তুর পাহাড়ে আল্লাহপাক বনী ইসরাইলের কাছ থেকে কিছু বিষয়ে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন। কিন্তু তারা সেগুলো জেনে শুনে বেমালুম ভুলে গেল৷ কারণ তাদের অন্তরের ভেতর শিরক্‌ ও দুনিয়া পূজা এমন গভীরভাবে গেড়ে বসল যে, সেখানে চিন্তা ও বিশ্বাসের কোন স্থান ছিল না। তাদের এ দুনিয়া পূজার বিষয়টি ফুটে উঠে স্বর্ণের বাছুর পূজার মাধ্যমে। আর অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে- আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করার সঙ্গে সঙ্গে তারা ঈমানেরও দাবি করত। পবিত্র কোরআন তাদের উদ্দেশ্যে একটি প্রশ্ন করে তাদেরকে জবাব দেয়। প্রশ্ন করা হয়, তোমাদের ঈমান কি তোমাদেরকে আল্লাহর অঙ্গীকার ভঙ্গের নির্দেশ দেয়? ওই বিশ্বাস কি বাছুর পূজা এবং আল্লাহর নবীদের হত্যা করতে বলে? যদি তোমাদের ঈমান এ ধরনের হয়, তবেতো সে খুব নিকৃষ্ট নির্দেশই তোমাদের দিচ্ছে।

সূরা বাকারা’র ৮৯ নম্বর থেকে ৯৩ নম্বর মূল শিক্ষা হচ্ছে -

১. আজ ইহুদী ও খ্রিস্টানদেরকে ইসলাম গ্রহণ না করতে দেখলেও ইসলামের সত্যতা সম্পর্কে সন্দেহ করা উচিত নয়। কারণ তাদের অনেকে সত্য বোঝার পরও প্রবৃত্তিগত কারণে ইসলাম মেনে নিতে রাজী হয় না। যেমনিভাবে মদীনার ইহুদীরা নবীজিকে চিনেও ইসলাম গ্রহণ করে নি ৷

২. হিংসা হলো কুফরী, অবিশ্বাস ও সত্য প্রত্যাখ্যানের উৎস। বনী ইসরাইল যখন দেখল রাসূলে খোদা তাদের গোত্রের নয় তখন তারা হিংসা বশবর্তী হয়ে অবিশ্বাস করতে লাগল।

৩. আল্লাহ ছাড়া অন্য যে কোন কিছুর প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণ বিপজ্জনক। কারণ এ জাতীয় আকর্ষণ মানুষকে সত্যের ব্যাপারে অন্ধ করে ফেলে৷

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

আল্লাহর প্রিয় নাম

অনলাইন ডেস্ক

আল্লাহর প্রিয় নাম

যে নামগুলো আল্লাহর কাছে সবচেয়ে পছন্দনীয় তা জেনে নিন। 

আল্লাহর প্রিয় নাম

কিছু নাম এমন আছে, যেগুলো আল্লাহর প্রিয়। বিশেষ করে যে নামগুলোতে মহান আল্লাহর দাসত্ব ফুটে ওঠে।

ইবনে উমর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মহামহিম আল্লাহর কাছে সবচেয়ে পছন্দনীয় নাম হলো আবদুল্লাহ এবং আবদুর রহমান।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৪৯)

news24bd.tv রিমু  

পরবর্তী খবর