আপা নেই, কে ধমক দেবে?

মুম রহমান

আপা নেই, কে ধমক দেবে?

মুম রহমান

ফরিদা আপার উপর আমি বিরক্ত ছিলাম, রাগও করেছিলাম। ফরিদা মজিদ এক অনন্য প্রতিভার নাম। কিন্তু প্রতিভার বড় সমস্যা হলো, সে এক ও অনন্য, অন্য কাউকে সে গ্রাহ্যই করতে চায় না। পোশাকে, চলনে, বলনে, কাজে যেখানেই ফরিদা আপা গেছেন সেখানেই তিনিই প্রধান। অন্য কাউকে কথা বলার সুযোগ দিতেও তিনি নারাজ। এমনিতেই তার পাণ্ডিত্যের ধারে আমরা কুচি কাটা হয়ে যেতাম। সেখানে আবার তিনি যদি আমাদের দিয়ে কিছু করিয়ে নিতে চান তাহলেই তো বিপদ। এই বিপদে পড়েছিলাম ফরিদা আপার বই করতে গিয়ে। তিনি শুধু যে টেক্সট বোঝেন তা তো না, তিনি প্রকাশনাও বোঝেন।

এদিকে ক্রিয়েটিভ ঢাকা প্রকাশনীটা আমরা চালাই স্বৈরাচারী ভঙ্গিতে। মানে এখানে আজাদকেও আমি মানি না, আজাদও আমাকে মানে না। দুজনই যার যার ক্ষেত্রে আপোষহীন। ক্রিয়েটিভ ঢাকার সকল বইয়ের সকল ডিজাইন, ফটোগ্রাফি আজাদের দায়িত্ব আর টেক্সটের সব দায়িত্ব আমার। পাণ্ডুলিপি যোগাড় করা, লেখক পরিচিতি লেখা, বইয়ের প্রারম্ভিক লেখা এইসবই আমার কাজ। তো আমার কাজে আজাদ বাধা না-দিলেও আমি প্রায়শই আজাদের কাজে বাগড়া দেই। এই প্রচ্ছদ চলবে না, বইয়ের এই সাইজ ফালতু, এইটা কোনো ইলাস্ট্রেশন হইছে-- এইসব নখড়া আমি নিয়মিত করি। আজাদ পুরোটা্ই ঠাণ্ডা মাথার বলে আমার অত্যাচার মেনে নেয় আর আমি পুরোটা গরম মাথার বলে কারো অত্যাচার তো দূরের কথা, আব্দারও মানি না।

কিন্তু ফরিদা আপা তো অত্যাচার করে না, আব্দাও তো দূরের কথা, নেহাত আদেশ দেয়। এই করো, সেই করো, এইভাবে করো, আমি ইংল্যান্ডে এই করেছি, আমেরিকায় একবার এই হয়েছিলো, তার সব আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ডের রেফারেন্সের ঠেলায় আমি পেরেশান আর আজাদ কুপোকাত।

আপা নিজে এসে কম্পিউটার অপারেটরের সাথে বসে থাকে। বইয়ের ডিজাইন কি হবে তা নিয়ে কথা চালিয়ে যেতেই থাকে। ডিজাইন পাল্টে যায় বারবার। আজাদ অসহায়। প্রচ্ছদে হিরোশিমার পারমানবিক বোমার ধোঁয়া লাগবে, সেই ব্যাঙের ছাতার মতো ধোঁয়া আবার গাদা ফুলও লাগবে। আমরা গাদা ফুল কিনে আনি। ফটো শুট করি। ইলাস্ট্রেটরে ড্রয়িং করি। কিন্তু আপা’র মন পাই না। আমার মেজাজ খারাপ হতে থাকে। বলে বসি, ধুরু, ছাতার বই করুম না। আজাদ আমাকে থামায়। আপা আমাকে ধমকায়।

যা হোক নানা ঘটনার শেষে বই আলোর মুখ দেখে। আমরা বই প্রকাশনা উৎসব করি। ফরিদা মজিদের বই ‘গাদা ফুলের প্রয়াণ ও যারা বেঁচে থাকবে’। সেই প্রকাশনা উৎসব নিয়েও আপার আদেশের শেষ নাই। অতিথিদের রাতের খাবারে কী দেব? তার বই কতো কপি ছাপছি? বইয়ের প্রচারের কী ব্যবস্থা? কারা কারা আসবে? কে তার বই নিয়ে আলোচনা করবে? এতো এতো প্রশ্নের ভিড় ঠেলে প্রকাশনা উৎসবও হয়ে গেলো। আমি খুশি। আপা খুশি। আজাদও খুশি।

কিন্তু প্রায় মাঝরাতে আজাদের ফোন। ও গিয়েছিলো আপাকে গাড়ি করে বাড়ি পৌঁছে দিতে। পথে আপার প্রশ্ন, আমার বই কতো কপি ছেপেছো? আজাদ বাধ্য হয়ে মিথ্যা বলেছে। বলেছে, আপা হাজের খানেক। অমনি আপা তেড়ে উঠলেন? হাজার খানেক! আমার বই মাত্র হাজার খানেক! পাঁচ হাজার কপি তো চোখের পলকে বিক্রি হয়ে যাবে। করেছো কী তোমরা? যাহোক, আজাদ কোনোভাবে ফরিদা আপাকে বোঝাতে পারলো, ছাপাখানা তো আমাদের নিজের, চাইলে যে কোনো সময় ছাপা যাবে। দুদিনেই পাঁচ হাজার কপি করা যাবে। আজাদের প্রশ্ন হলো, বই কি আরো ছাপবো। আমি বলি, চেপে যা।

কিন্তু চেপে যাওয়া গেলো না। এক অনুষ্ঠানে গেছি। কোনো এক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান। সেখানে আমিও বক্তা, ফরিদা আপা বক্তা, মানে দুজনেই আমন্ত্রিত অতিথি। সবার মধ্যে আপা আমাকে দেখেই ছুটে এসে বললেন, আমার বই এনেছো?
- বই কিসের বই?

- সে কি! এখানে এতো এতো লোক, আমার বই তো দুয়েকশ বিক্রি হয়ে যাবে এখানেই।

আমি বললাম, আপা আমি তো এখানে একটা অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করতে এসেছি। আপনার বই নিয়ে তো আসিনি।
- নাহ, তোমাদের দিয়ে কিসসু হবে না।

আমার উঠে গেলো রাগ। আমি ফোন দিলাম আজাদকে। বললাম, বই পাঠাও, এক্ষুণি। 
সেই বই আসতেও দেরি, আজাদেরও আসতে দেরি। 
যতো দেরি আপা ততো রেগে যায়। 

আমার উপর আপা রাগ করে আমি সেই রাগ আজাদের উপর ট্রান্সফার করে দেই। সেই ট্রান্সফার এক সময় এতো ভারী হয়ে গেলো যে আজাদের মতো বরফ ঠান্ডা লোকও গরম হয়ে উঠলো। সে রাগ করে অনুষ্ঠানেই আসলো না। আমার ফোনও ধরলো না। বই অবশ্য পাঠিয়ে দিলো। সে বই কয় কপি বিক্রি হয়েছে সেটা বলাবাহুল্য মনে করছি।

যা হোক, টুকটাক রাগারাগি আমার আর আজাদের মধ্যে হয়েই থাকে। কিন্তু এইবার রাগের মেয়াদ দীর্ঘ  হলো। প্রায় তিনমাস আমরা কথা বলিনি। এর মধ্যে ফরিদা আপার সঙ্গে আরেক অনুষ্ঠানে দেখা।
-এই আমার বই এনেছো?
- আপা, চুপ করেন তো, আপনার বইয়ের যন্ত্রণায় আমরা ব্যতিব্যস্ত। আজাদের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্কই নাই। আপনার কারণেই ঝগড়া হইছে।

- দিস ইজ আনফেয়ার মুম, আমার সাথে এভাবে কথা বলতে পারো না তুমি! ইউ নো...
আমি আস্তে করে আপার সামনে থেকে সরে গেলাম।

 

আরও পড়ুন: 


 চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট শ্রমিক

বাবা-মাকে ঘরে আটকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ফাঁস, সুইসাইড নোট উদ্ধার

আপা নেই, কে ধমক দেবে?

আজ গ্যাস নেই যেসব এলাকায়

 


তারপর সচেতনভাবেই যোগাযোগটা কম রেখেছি। সাকিরার কাছে ‍শুনলাম আপার ক্যান্সারের কথা। আপা এমনিতেই খুব শুকনা ছিলেন। ক্যান্সারে আরো ওজন হারালেন। গলার ক্যান্সার, কথাও তেমন বলা কষ্টকর। আমি সাহস পেলাম না তাকে দেখতে যাওয়ার। প্রাণবন্ত, তীক্ষ্ণ, তীব্র মানুষটাকে নিস্তেজ হয়ে বিছানায় শোয়া দেখে কি লাভ হবে!

তারপর জাগতিক সব লাভ ক্ষতির ঊর্ধ্বে আপা চলে গেলেন আমাদের ছেড়ে। আমাদের মান-অভিমানটাও ভাঙলো না। আপাকে জানানোও হলো না, আমি আর আজাদ পরিকল্পনা করছিলাম ফরিদা মজিদ রচনাবলী করবো। দুজনেই জানতাম সেটা করতে গেলে, প্রচুর বকা খেতে হবে, আপার ঘনঘন আদেশ বাধ্যতামূলক হজম করতে হবে। ভেবেছিলাম, করবো। ভালো কিছুর জন্য না হয় ধমক, ঝারি, প্যারা খেলামই।

কিন্তু এখন তো আপাই নেই। কে ধমক দেবে? কার রাগ দেখবো? কার উপরই বা অভিমান করবো?

লেখাটি মুম রহমান-এর ফেসবুক থেকে নেওয়া। (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

মৃত্যুর পরেও অভিনয় করে যান অভিনেতা রীড

অনলাইন ডেস্ক

মৃত্যুর পরেও অভিনয় করে যান অভিনেতা রীড

অলিভার রিড, একজন নন্দিত হলিউড অভিনেতা ছিলেন। গ্লাডিয়েটর সিনেমায় প্রক্সিমো চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। ৬১ বছর বয়সে মারা যান এই নন্দিত অভিনেতা গ্লাডিয়েটর সিনেমাটা করতে করতেই।

অলিভার রিড

তিনি প্রচুর মদ খেতেন। সিনেমার শ্যুটিং এর মাঝে কয়েকদিনের গ্যাপ ছিলো। শ্যুটিং চলছিলো মাল্টায়। তিনি এক স্থানীয় পাবে যান। সেইখানে এসেছিলো বৃটিশ নেভির কিছু তরুণ অফিসার। তাদের সাথে মদ খাওয়ার কম্পিটিশনে নামেন রীড। জিতেও যান সবাইকে হারিয়ে।

আরও পড়ুন

বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নিলো দেশের মেয়েরা

করোনার নতুন ধরনের নাম ওমিক্রন

বেগম জিয়ার জন্য আলাদা আইন করার সুযোগ নেই: হানিফ 

সবার মদের বিল দেন প্রায় ৬০০ ডলার। বিয়ান, কনিয়াক, হুইস্কি মিলে কয়েক বোতল খেয়েছিলেন তিনি। এরপরেই হঠাৎ করে মাথা ঘুরে পরে যান। হাসপাতালে নেবার পরেই মৃত্যু হয় হার্ট অ্যাটাকে। সিনেমার তার চরিত্রের সব শ্যুটিং শেষ হয়নি তখনো। 

কিছু জায়গায় তার ডামি ব্যবহার করা হয়, পরে কম্পিউটার গ্রাফিক্স করে রীডের মুখ বসিয়ে দেয়া হয়। মৃত্যুর পরেও অভিনয় করে যান অভিনেতা রীড।

 news24bd.tv/এমি-জান্নাত  

পরবর্তী খবর

এত খাবার তাহলে কে খায়?

গুলজার হোসাইন উজ্জ্বল

এত খাবার তাহলে কে খায়?

গুলজার হোসাইন উজ্জ্বল

ফুটপাতে রাস্তার দুইধারে যেদিকেই দেখি শুধু খাবারের দোকান। গলির মুখে খাবারের দোকান। রাস্তার মোড়ে বিস্কুট পাউরুটি কলা নিয়ে ছোট্ট ছোট্ট দোকান। রেল ক্রসিং, বাস টার্মিনাল শুধু খাবারের দোকান। ফুটপাত পেরুলে যে আলোক সজ্জায় শোভিত বনেদি রেস্তোরাঁ সেখানেও বাহারী খাবার। শপিং মলের এক একটা ফ্লোর জুড়ে খাবারেরই দোকান শুধু।

আজকাল মনে হয় খাবারের দোকান ছাড়া কিছু চলে না। ক্রিকেটার, গানের শিল্পী, সিনেমার নায়ক সবারই আছে সাইড বিজনেস-খাবারের দোকান।

মার্কেটে মানুষ মনে হয় খেতেই আসে। খেতে এসে টুকটাক কিছু কিনে নিয়ে যায়। হালে যে কয়টি বই পত্রের বড় দোকান হয়েছে তারাও সাথে খাবার দোকান করেছে।

লিটফেস্ট, ফোকফেস্ট, ক্লাসিক ফেস্ট যাই বলুন সবখানেই বিরাট অংশ জুড়ে থাকে খাবারেরই দোকান। আর সেখানেই সব ভিড় যেন।

অথচ চেম্বারে যত রোগী আসে বেশির ভাগেরই একই কম্পলেইন "খাইতে পারি না, রুচি নাই।" মায়েরা আসে বাচ্চাদের নিয়ে, কম্পলেইন - বাচ্চা কিছু খায় না। এত খাবার তাহলে কে খায়? এই জাতির ভাবগতিক তো কিছু বুঝতেছি না।

আরও পড়ুন


নির্বাচন নিয়ে হাতুড়ি পেটা ও আঙ্গুল কেটে ফেলার অভিযোগ

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

যতো বেশি পদ, ততো বেশি সম্মান

আনোয়ার সাদী

যতো বেশি পদ, ততো বেশি সম্মান

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি

আমরা এখন ভাইরাস অধ্যুষিত সময়ে বাস করছি। করোনা ভাইরাসের ভয়ে বাস করলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এর ভাইরাল বিষয়গুলো কেউ খুব একটা ভয় পাচ্ছে বলে মনে হয় না। 

নিজের গুণ প্রচার করা, অন্যকে হাস্যকর করে দেওয়ার নানা ভাইরাল কর্মকাণ্ড আমাদের চোখে পড়ছে। ফলে, নৈতিকতা, সামাজিক রীতি ইত্যাদি শব্দগুলোর সংজ্ঞার পরিধি দিন দিনই বদলে যাচ্ছে। তো, ভাইরালের জগতের সব শেষ আইটেম একটি খাবার টেবিল এবং মনে হচ্ছে একজন মন্ত্রীর খাবার গ্রহণের ছবি।

ছবিতে মনে হয় তথ্য মন্ত্রী হাসান মাহমুদকে খাবার গ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে, যদি আমি ভুল করে না থাকি। তার সামনে টেবিলে অনেক পদের খাবার রাখা আছে। মন্ত্রীর পাশে কেউ নেই, তিনি একাই খাবার গ্রহন করছেন। 

ছবিটি তার কাছের মানুষই তুলেছেন এটা মোটাদাগে ধরে নিতে পারি। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কে তা ছড়িয়ে দিয়েছেন, তা নিশ্চিত করে বলে দেওয়া যাচ্ছে না। 

এই ছবি ছড়িয়ে পড়লে খুব একটা সমস্যা হওয়ার কথা না। মুশকিল হলো, এই ছবির নানারকম ব্যাখ্যা হচ্ছে। ফেইসবুক যেহেতু সম্পাদনা-বিহীন জগত, ফলে সবাই নিজের মনের কথাগুলো লিখে ছবিটি শেয়ার করছেন। এতে করে রাজনৈতিক বিবেচনা, পছন্দ-অপছন্দ, স্বার্থ, হিংসা, দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে না জানা ইত্যাদি নানা বিষয় ছবির ক্যাপশন হিসেবে স্থান পাচ্ছে । কে কী লিখেছে তা উল্লেখ করছি না। 

আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, আগে গ্রামে কারো বাড়িতে গিয়ে এক গ্লাস পানি চাইলে সঙ্গে একটা মোয়া অথবা নাড়ু দেওয়া হতো। এই আচরণের কী অনুবাদ করা যায়? এদেশের মানুষ অপরকে খাওয়াতে ভালোবাসে। এটা এদেশের অতিথিপরায়নতা ও অপরকে সম্মান জানানোর একটা উপায়ও। 

আমাদের মায়েরা মেয়েদেরকে অনেক কিছু শিখিয়ে দেন। রান্নার টিপস, পরিবেশনের টিপস। তারা জানিয়ে দেন, কারো সামনে যতো বেশি পদের খাবার রাখা হয় তাকে ততো বেশি সম্মান দেওয়া হয়। তিনি সব খাবার খেতে পারুক না পারুক। ফলে, একজন মন্ত্রী বা একজন ইমাম বা একজন নেতা বা একজন শিক্ষক বা একজন অতিথির সামনে অনেক পদের খাবার রেখে তাকে সম্মান জানানো হবে, এটাই এই দেশের সংস্কৃতি। 

যাহোক, আপনারা নিশ্চয়ই পঞ্চব্যাঞ্জন, অষ্টব্যাঞ্জন শব্দগুলোর সঙ্গে পরিচিত আছেন। এগুলো এদেশের প্রতিদিনের খাবারের টেবিলে বর্ণনা দিতে ব্যবহার করা হয়। খাবার ছাড়া এই দেশে কোনো উৎসব আমরা উদযাপন করতে পারি? ঈদ, রোজা, পূজা, বড়দিন, বৈসাবি, হালখাতা, বিয়ে, মুসলমানি, কুলখানি, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, জন্মদিন, মৃত্যুবার্ষিকী কোথায় খাবারের আয়োজন নেই? এই সব আয়োজন কী এক পদ দিয়ে শেষ করা যায়?

যা হোক, ছবিটা দেখে আমার ভালো লেগেছে। আমি স্বপ্ন দেখি, একদিন বাংলাদেশের সব মানুষের এমন আয়োজন করার সামর্থ্য তৈরি হবে।

ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভাইরাল ছবি

[নোট: এই লেখা শেষ করার পর ফেইসবুকে আরো একটি ছবি দেখলাম। সেখানে দুটো ছবি পাশাপাশি দিয়ে বলা হয়েছে একটি নকল আরেকটি এডিট করা। সেই ছবিতে দাবি করা হয়েছে, এটা আসলে মন্ত্রীর ছবি না।]

(সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

আরও পড়ুন:

দিনকে রাত বানিয়ে এবার দেশের নামই 'বদলে' দিল বিসিবি


news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

অতীতের কর্মকাণ্ডের জন্যও আইনের মুখোমুখি হতে হয়

শওগাত আলী সাগর

অতীতের কর্মকাণ্ডের জন্যও আইনের মুখোমুখি হতে হয়

শওগাত আলী সাগর

কানাডার লিবারেল সরকার দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান এডমিরাল আর্থার ম্যাকডোনাল্ডকে বরখাস্ত করেছে। যৌন হয়রানির অভিযোগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে  মিলিটারি পুলিশ তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করলে  তিনি পক্ষপাতহীন তদন্তের স্বার্থে প্রতিরক্ষা বাহিনীর  প্রধানের পদ থেকে সরে দাড়ান। 

আগষ্ট মাসে মিলিটারি পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয় তাদের তদন্তের  কারনে প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ম্যাকডোনাল্ডস এর বিরুদ্ধে কোনো শৃংখলামূলক ব্যবস্থা নেয়া বা তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ গঠন করা হবে না। কিন্তু লিবারেল সরকার অভিযোগ পর্যালোচনার স্বার্থে তাকে ছুটিতে থাকতে নির্দেশ দেয়। 

এই সময় তিনি তার পদ ফিরে পেতে ‘পাবলিক ক্যাম্পেইন’ শুরু করেন এবং সেনা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি লিখে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।  এতে সরকার অত্যন্ত বিরক্ত হয়। 

নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী অনিতা আনন্দ  প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রধানের এই আচরণকে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে মন্তব্য করেন। তারপর পরই তাকে চাকুরী থেকে বরখাস্তের আদেশ ইস্যূ করা হয়।

কানাডীয়ান সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকজন শীর্ষপর্যায়ের জেনারেলকে যৌন হয়রানির অভিযোগের মুখে পড়ে চাকুরী হারিয়ে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়েছে। 

প্রায় সবকটি ঘটনাই ক্যাপ্টেন বা মেজর পদমর্যাদায় থাকার সময়কার। কিন্তু পেশাগত জীবনের শীর্ষ পর্যায়ে এসে তাদের অতীতের কর্মকান্ডের  জন্য আইনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। 

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী অনিতা আনন্দ অবশ্য জানিয়েছেন, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পর্যালোচনাসহ তাদের শৃঙখলা দেখভাল করতে ‘বেসরকারি তদারকি কাঠামো’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন:

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পাকিস্তানে আটক ৪


news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

বেগম জিয়া বিদেশে গেলে আওয়ামী লীগের লাভ: গুলজার হোসাইন উজ্জ্বল

অনলাইন ডেস্ক

বেগম জিয়া বিদেশে গেলে  আওয়ামী লীগের লাভ: গুলজার হোসাইন উজ্জ্বল

গুলজার হোসাইন উজ্জ্বল, চিকিৎসক

বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ও চিকিৎসা আলোচনা চলছে নানা মহলে। অনেকে আবার মতামত প্রকাশ করছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। চিকিৎসক গুলজার হোসাইন উজ্জ্বল ফেইসবুকে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠালে আওয়ামী লীগই রাজনৈতিকভাবে লাভবান হবে।

নিউজটোয়েন্টিফোরের পাঠকদের জন্য তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো। তিনি লিখেছেন,

‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসা করতে পাঠালে আওয়ামীলীগ রাজনৈতিক দিক থেকেও গেইনার হবে।

খালেদা জিয়া দীর্ঘ সময় জেলে ছিলেন। এই সময়ে সামান্য আন্দোলন বা চোখে পড়ার মত কোন প্রতিবাদ গড়ে ওঠেনি। মৃত্যুতে খুব বড় কিছু হবে তাও মনে করছিনা।
 
খালেদা জিয়া বিদেশে চিকিৎসা করতে গেলে আওয়ামীলীগের খুব ক্ষতি হবে সেরকমও না। এই মুহুর্তে বিএনপির রাজনীতি কার্যত নেই। খালেদা জিয়া গুলশানে থেকেও রাজনীতিতে তেমন ঢেউ জাগাতে পারেননি। বিদেশ গেলে পারবেন সেরকমও না।

আরও পড়ুন

হোটেলে ফ্রিজে পাশাপাশি কাঁচা মাংস ও পচা তরকারি!

গুরুত্বপূর্ণ ৭০ স্পটে ৪১১ সিসি ক্যামেরা

বিচারের দাবিতে নটর ডেম শিক্ষার্থীদের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম

 
নিয়ম বা আইনের কিছু বাধ্যবাধকতা হয়ত আছে। আবার সরকার চাইলে সবই হতে পারে। অতীতেও হয়েছে অনেক কিছু। রাষ্ট্রপতির প্রমার্জনায় ফাঁসির আসামীর দন্ড মওকুফ হয়েছে।
 
বরং বেগম খালেদা জিয়া দেশে মৃত্যু বরণ করলে কিছু বাড়তি চাপ আসবে। এই মুহুর্তে বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ যেতে দিলে আওয়ামীলীগ একটা অহেতুক চাপ থেকে গা বাঁচাতে পারে৷

২১ শে আগস্টের গ্রেনেড হামলা থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া শেখ হাসিনা তাঁরই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে যে অনুকম্পা দেখাতে পারছেন এটাই প্রতিষ্ঠিত হতে পারতো। শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ফেনোমেননশিপে বাড়তি পালক যোগ হতো।’

লেখাটি গুলজার হোসাইন উজ্জ্বল- এর ফেসবুক থেকে নেওয়া (সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

 news24bd.tv/এমি-জান্নাত    

পরবর্তী খবর