এটা কি আমেরিকার গণতন্ত্রের সংকট ?

শওগাত আলী সাগর

এটা কি আমেরিকার গণতন্ত্রের সংকট ?

১.’সংসদের ভেতরে বাইরে- আন্দোলন’- টাইপের প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্যাপিটল ভবনের ভেতরে ইলেক্টোরাল কলেজের কার্যক্রমকে ব্যহত এবং দীর্ঘায়িত করা আর বাইরে বিক্ষোভ। নিজের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকেপক্ষে টানতে না পারলেও ভেতরে ঝামেলা পাকানোর লোক পেতে তার সমস্যা হয়নি।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভেতরের আন্দোলনের চেয়ে বাইরের আন্দোলনটাই মুখ্য হয়ে ওঠে ট্রাম্প সমর্থকদের কাছে। বাইরের জনতা নিরাপত্তা বলয় ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে তান্ডবের জন্ম দেয়। বুধবারের সন্ধ্যায় আমেরিকায় যা ঘটেছে তার বিবরণ এখন সবার নখদর্পনে।বিভিন্ন মিডিয়া নানাভাবে এর বিবরন প্রচার করে যাচ্ছে।


যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনে তাণ্ডবের তীব্র প্রতিক্রয়া বিশ্বনেতাদের

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনে ট্রাম্প সমর্থকদের তাণ্ডব, গোলাগুলি


২.অনেকেই বুধবারের ঘটনাটাকে আমেরিকার গণতন্ত্রের সমস্যা হিসেবে দেখার চেষ্টা করছেন।’গনতন্ত্র আক্রান্ত’- এমন কথাও অনেকে বলছেন। কিন্তু আসলেই কি এটা আমেরিকার গণতন্ত্রের সমস্যা? আর কিছুই কি নেই? কানাডার টরন্টো স্টারের সাংবাদিক আলেক্স ম্যাককিনের পর্যালোচনার মধ্যে আমি নিজে এর একটা উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছি।

ক্যাপিটল বিল্ডিং এর বারান্দায় অস্ত্রের ঝনঝনানী, হল রুমে ফেডারেশনের পতাকা উড়িয়ে দেয়ার দৃশ্যের চেয়েও আলেক্সের দৃষ্টি কেড়েছে টুইটারে পোষ্ট করা একটি ভিডিও।ভিডিওটি পোষ্ট করেছেন ট্রাম্প সমর্থক একজন সাংবাদিক। সেই ভিডিওতে বিশেষ কিছু যে আছে তেমন নয়। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে পুলিশকে ঠেলে উদ্যতভঙ্গিতে সাংবাদিক সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন। সাংবাদিক যতোই এগিয়ে যাচ্ছেন অফিসারটি ততোই পিছিয়ে যাচ্ছে। সামনে এগুতে এগুতে উদ্যত ভঙ্গিতে সাংবাদিকটি বলে উঠেন- ’দিস ইজ আওয়ার আমেরিকা।’

৩. ‘দিস ইজ আওয়ার আমেরিকা’- এই ঘোষণাটির মধ্যেই আলেক্স বুধবারের সকল ঘটনাপ্রবাহের ব্যাখ্যা খুঁজতে চাচ্ছেন আলেক্স। আমি তার সাথে দ্বিমত করার কোনো যুক্তি খুঁজে পাচ্ছি না। আলেক্সের ব্যাখ্যা, বুধবারের সন্ধ্যায় আমেরিকায় যারা বিশৃংখল আচরণ করেছেন- তারা আসলে এই মতবাদেরই ধারক বাহক। ’আওয়ার আমেরিকা’র ‘আদর্শে বিশ্বাসীরা তাদের আমেরিকাকে রক্ষার জন্য এভাবে উশৃংখলতা দেখিয়েছে।

৪. বিকেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প যে বক্তৃতাটা দেন- সেখানেও কিন্তু এই আদর্শের কথাই আছে। ‘ট্রু প্যাট্রিয়ট’ ট্রু ‘আমেরিকানদের’ জেগে উঠার ডাক দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেই ডাকে ‘আ্ওয়ার আমেরিকার’ আদর্শধারীরা মারদাঙ্গা হয়ে নমে এসেছে।

৫.ট্রাম্পকে ঘিরে ‘দিস ইজ আওয়ার আমেরিকা’ বোধের যে বিস্তার ‘ট্রু আমেরিকানদের’ মনের ভেতর ঢুকেছে, সেটিকে কেবলমাত্র গণতন্ত্রের সংকট বা ট্রাম্পের ক্ষমতালোভ হিসেবে দেখলে সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হবে বলে আমার ধারনা।

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ, কানাডা।

news24bd.tv / কামরুল

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

মোসতাক ‘জামিন’ পেয়েছেন, ‘মুক্তি’ পেয়েছেন

আলী রিয়াজ

মোসতাক ‘জামিন’ পেয়েছেন, ‘মুক্তি’ পেয়েছেন

কী লিখবেন? কি লিখবো? মুসতাকের নাম লিখবেন? লিখবো মুসতাক আহমেদ নামে একজন লেখক ছিলেন? ‘রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র’-এর অভিযোগ মাথায় নিয়ে কার্যত বিনা বিচারে তাঁকে মরতে হয়েছে কারাগারের প্রকোষ্ঠে, আদালত তাঁকে জামিন দেয়নি কেননা জামিনের ‘যোগ্য’ বলে বিবেচিত হননি, সেই সময়ে অনেকেই জামিন পেয়েছেন। মোসতাকের জামিনের আবেদনের বিরোধিতা করেছে রাষ্ট্রের প্রতিনিধি – এটা তো আমরা জানি। রাষ্ট্র চায়নি, কিন্ত রাষ্ট্র তো একটা বায়বীয় বিষয় নয়। কে চায়নি সেটা তো বুঝতে পারি – সরকার চায়নি। গত মে মাস থেকে তাঁকে যে আইনের অধীনে কারাগারে থাকতে হয়েছে সেই আইনের উদ্দেশ্য বুঝতে যদি এতদিনেও কারো সংশয় থাকে তবে আরেকবার মনে করুন – এই আইন কাকে নিরাপত্তা দেয় আর কার জীবন ‘নিরাপত্তাহীন’ করে তোলে, কাকে ‘মৃত্যুর দিকে’ ঠেলে দেয়? 

মুসতাক কী ভাবে মারা গেছেন তাঁর চেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে তিনি রাষ্ট্রের হেফাজতে ছিলেন, তাঁর দায়িত্ব নিয়েছিলো সরকার – এই মৃত্যুর দায় – হত্যার দায় সরকারের। কিন্ত এটা দায়িত্বহীনতার বিষয় নয়, এর মধ্যে একটা বার্তা আছে। আপনি – আমি সেই বার্তা পাচ্ছি তো? আপনি-আমি সচেতনভাবে স্বীকার করি না করি আমাদের হাড়ে-মাংসে-মজ্জায়-শিরায় সেই বার্তা পৌছে যায়নি? আমাদের মগজে সেই বার্তা পৌঁছায় নাই? এই আইনে আপনি আটক হলেন কিনা, আপনি কারাগারে গেলেন কিনা, আপনি নির্যাতিত হলেন কিনা – সেগুলো এখন আর বিষয় নয়। কেননা আপনার/আমার মগজের ভেতরে ভয় তৈরি করে দেয়া হয়েছে – কী লিখবেন কী লিখবেন না সেটা রাষ্ট্র আর বলবেনা, সরকার আর বলবেনা; বলার দরকার হবে না। প্রতিটি অক্ষর লেখার সময় আপনি মনে করবেন মোসতাকের কথা। সেটাই রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য, সরকারের উদ্দেশ্য।

সহিংসতার উদ্দেশ্য কেবল একজন ব্যক্তিকে হত্যা নয়, অন্যদের জানিয়ে দেয়া যে এই পরিণতি তারও হতে পারে। এরপরেও যারা বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কল্প-কাহিনী শোনান তাঁদের নিয়ে আমার কোন মাথাব্যথা নেই, কিন্ত যারা এখনও ভাবছেন যে কেবল মানবিকতার আবেদনই যথেষ্ট তাঁরা বুঝতে অনীহ যে মানবিকতা দিয়ে ক্ষমতার উগ্র আকাঙ্ক্ষা দমন করা যায়না। মোসতাকের মৃত্যুর পর পোস্ট-মর্টেম হবে কিনা, তা স্বচ্ছ হবে কিনা জানিনা কিন্ত এটা বুঝতে পারি – পোস্ট-মর্টেম দরকার আমাদের, চিন্তার, কাজের। 

বাংলাদেশে অপঘাতে মৃত্যুর ঘটনা স্বাভাবিক, চিন্তার কারণে হত্যা করার ঘটনা বিরল নয়, বিচার বহির্ভূত হত্যার ঘটনা ঘটে অহরহ। কিন্ত আইনের মোড়কে ঢাকা হয়েছে মোসতাকের বিচার বহির্ভূত হত্যাকে, এটা বোঝা জরুরি। মোসতাক নেই, কিংবা বলতে পারেন শেষ পর্যন্ত মোসতাক ‘জামিন’ পেয়েছেন, ‘মুক্তি’ পেয়েছেন। আপনি কিন্ত জামিন পাননি, আমরা কেউ জামিন পাইনি।

লেখক : অধ্যাপক, ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটি

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ ব্যতিক্রমী এক ব্যতিক্রম

শওগাত আলী সাগর

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ ব্যতিক্রমী এক ব্যতিক্রম

আর্থিকখাতের অনাচার, দুরাচার নিয়ে কথা বলার মানুষ এমনিতেই কম। হাতে গোনা যে কয়েকজন আছেন, তাদের অনেকেই আবার স্পষ্টভাবে নিজের ভাবনাগুলো বলেন না, বা বলতে পারেন না। খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ এই জায়গাটায় ব্যতিক্রমী এক ব্যতিক্রম।

ঋনখেলাপীদের বিরুদ্ধে, ব্যাংকিং খাতের সুশাসনের পক্ষে, শেয়ারবাজারের কারসাজির বিরুদ্ধে তার মতো এমন অকুতোভয় যোদ্ধা আর কে আছে? অর্থপাচারের বিরুদ্ধে এমন অসম সাহসিকতায় আর কে কথা বলেছে?


 

সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ আর নেই

বুধবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ থাকবে

আমেরিকার ইরানবিরোধী নীতি ব্যর্থ হয়েছে: রাশিয়া

টিকা নিয়ে এ পর্যন্ত ৬৩০ জনের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া


সন্ধ্যা থেকেই (টরন্টো সময়) ফেসবুকের নিউজ ফিডে তাঁর ছবি ভেসে বেড়াচ্ছে। কতোজন তাকে নিয়ে কতো কিছু বলছেন। ফেসবুকের নিউজফিডে কান পাতলে স্পষ্ট শোনা যায়, মানুষগুলো স্বজন হারানোর বেদনায় কি কষ্টটাই না চেপে রেখেছে।

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ এমন সময় চলে গেলেন,যখন কীনা বাংলাদেশের আর্থিকখাতসহ সামগ্রিক সুশাসনের পক্ষে উচ্চস্বরে কথা বলার মানুষের সংখ্যাই কমে যাচ্ছে।

আপনাকে শ্রদ্ধা খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ।

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুন দেশ 

news24bd.tv আয়শা

 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

মকসুদ ভাই, আপনার সঙ্গে আর দেখা হবে না

আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু

মকসুদ ভাই, আপনার সঙ্গে আর দেখা হবে না

মকসুদ ভাই চলে গেলেন। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় (বাসস) আমি প্রায় ছয় বছর তাঁর জুনিয়র সহকর্মী ছিলাম। ১৯৮৩ সালে আমি তাঁকে জানতাম না। বাংলাদেশে আমি তাঁর নামের সঙ্গেও পরিচিত ছিলাম না। তাঁর নামের সঙ্গে পরিচয় ঘটে দেশ থেকে বহুদূরে ওই সময়ের প্রাচীর ঘেরা জার্মান সিটি পশ্চিম বার্লিনে। সাংবাদিকতার ওপর তিন মাসের এক কর্মসূচিতে বার্লিনের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর জার্নালিজমে’ যাই ১৯৮৩ সালের জুন মাসে।

বাংলাদেশ থেকে আমার সঙ্গে ওই কর্মসূচিতে অংশ নেন অধূনালুপ্ত বাংলাদেশ টাইমসের সাব-এডিটর আনোয়ারা বেগম। তিন মাসের জন্য আমাদের আবাস ছিল ইন্সটিটিউট থেকে একটু দূরে বার্লিনের ক্রুয়েজবার্গ এলাকায় ‘কলপিং হাউজে’। দূর বলে লাঞ্চের বিরতির সময় হোস্টেলে ফেরা হতো না। কিছু খেয়ে পাশেই কুরফুরস্ট্যানডাম এলাকার শপিং মলগুলোতে ঘুরতাম, কখনো ইন্সটিটিউটের লাউঞ্জে বসে টিভি দেখতাম বা আমাদের সতীর্থ আফ্রিকানদের সঙ্গে কথা বলতাম।

বইয়ে ঠাসা কয়েকটি বুক শেলফ ছিল। জার্মান ও ইংরেজি ভাষার বই। মাঝে মাঝে বই ঘাটি। মোটামোটা বইয়ের সারির ফাঁকে ছোট বই নজরে পড়ার কথা নয়। কিন্তু বইটির বাঁধাই দৃষ্টিনন্দন নয় বলেই হয়তো চোখে পড়েছে। টেনে নিলাম। নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। বইটি বাংলায়। লেখকের নাম হিসেবে লেখা আছে ‘সৈয়দ আবুল মকসুদ’। পড়তে শুরু করলাম। তিনি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় (বাসস) কাজ করেন। আমি বার্লিনের ওই ইন্সটিটিউটে যাওয়ার পাঁচ-ছয় বছর আগে তিনি এবং দৈনিক ইত্তেফাকের রাহাত খান এক সঙ্গে সেখানে গিয়েছিলেন। সৈয়দ সৈয়দ আবুল মকসুদ জার্মানিতে তাঁর অবস্থানের ওপর ভ্রমণ কাহিনি লিখেছেন। সেই প্রথম তাঁর নামের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ ঘটে। আমি আনন্দিত হওয়ার পাশাপাশি একটু দু:খ বোধ করি। কারণ, আমার ইচ্ছা ছিল, জার্মানি থেকে দেশে ফিরে একটি ভ্রমণ কাহিনি লেখার। কলেজে থাকাকালে প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁর ‘ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র’, ‘বেদুইনের দেশে’, এবং প্রফেসব আবদুল হাই এর ‘বিলেতে সাড়ে সাতশ’ দিন’ পড়ার পর মনে হতো কখনো বিদেশে গেলে এ ধরনের একটি বই লিখবো। কিন্তু মকসুদ ভাইয়ের কারণে আমার জীবনের প্রথম বিদেশ ভ্রমণের ওপর আমার কোনোকিছু লেখা হয়নি। 

দেশে ফিরেও মকসুদ ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হয়নি। বাসস এর সব রিপোর্টারের সঙ্গে পরিচয় ও ঘনিষ্টতা থাকলেও মকসুদ ভাইয়ের সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয় বার্লিন থেকে ফিরে আসার ১৯ বছর পর ২০০২ সালে আমি বাসস এ যোগ দেওয়ার পর। তিনি বাসস এর ইংরেজি বিভাগে তিনি সিনিয়র নিউজ এডিটর, আমি ইংরেজি বিভাগে যোগ দেই জুনিয়র নিউজ এডিটর হিসেবে। বাসস এর আগে আমি কখনো ইংরেজি সাংবাদিকতা করিনি। সেজন্য প্রথম কয়েকটি মাস একটু দ্বিধার মধ্যে ছিলাম। সেখানকার পুরোনো দু’একজন যারা জানতেন যে আমি বরাবর বাংলা সংবাদপত্রে কাজ করেছি, তারা আমার প্রতি একটু অবজ্ঞার ভাবও প্রকাশ করেন। কিন্তু সৈয়দ আবুল মকসুদ কখনো তা করেননি। আমরা যদি এক শিফটে থাকতাম, তাহলে তিনি সহায়তা করতেন এবং আমাকে সঙ্গে প্রথম কয়েকটি মাস সতর্কতার কাজ করে সকলের প্রিয়ভাজন হওয়ার জন্য পরামর্শ দিতেন। তাঁর পরামর্শ মেনে আমি উপকৃত হয়েছি এবং সম্ভবত বাসস এ কমবেশি সবার প্রিয়পাত্রই ছিলাম। 

সৈয়দ সৈয়দ আবুল মকসুদও সবার প্রিয়পাত্র ছিলেন। কেউ তাঁকে হাসিমুখে ছাড়া কথা বলতে দেখেনি। তিনি কখনো উচ্চকণ্ঠ ছিলেন না। সবসময় মৃদুভাষী ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন ২০০৩ সালে ইরাকে হামলা চালালে মকসুদ ভাই এ হামলার প্রতিবাদে পাশ্চাত্যের পোশাক বর্জন করে হজ্ব পালনকারীদের ইহরাম বাঁধার মতো দুই প্রস্থ শ্বেত বস্ত্র ধারণ করেন। তখন থেকে এ পোশাকই তাঁর প্রধান পরিচয় হয়ে ওঠেছিল। বাসস এ কাজ করার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্রে নিয়মিত কলাম লিখতেন। তাঁর লেখায় সরকারের বিভিন্ন গণবিরোধী কাজের যথেষ্ট সমালোচনা থাকতো। সাংবাদিক নেতা আমানুল্লাহ কবীর যতোদিন বাসস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক ছিলেন তিনি নিউজরুমের মাঝ দিয়ে তাঁর রুমে আসা-যাওয়ার সময়ে মকসুদ ভাইকে দেখলে, ‘মকসুদ ভাই, আমাদের সরকার কী এতো খারাপ!’ অথবা ‘একটু রয়ে সয়ে লিখুন, মকসুদ ভাই,’ এ ধরনের কথা বলতেন। এর বেশি কিছু নয়। আমানুল্লাহ কবীরের পর বিএনপি সরকার বাসস এর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিলেন গাজীউল হাসান খানকে। বিএনপি সরকারের বেনিফিশিয়ারি হিসেবে এর আগে তিনি ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রেস মিনিষ্টার ছিলেন। 

গাজীউল হাসান খান মারদাঙ্গা গোছের মানুষ। তিনি যোগ দিয়ে প্রায় একতরফাভাবে ও অনেক ক্ষেত্রে বিধি বহির্ভূতভাে নিজের সুযোগ সুবিধাগুলো নিশ্চিত করে কাকে কী করা যায়; অর্থ্যাৎ কাকে সুযোগ দেয়া যায় ও কাকে সাইজ করা যায়, সেদিকে মনোযোগ দেন। আমাকেও যে সুযোগ দিয়েছেন তা অস্বীকার করবো না। তিনি সব সিনিয়র নিউজ এডিটরদের ডিঙিয়ে আমাকে ‘ডেপুটি চিফ নিউজ এডিটর’ হিসেবে পদোন্নতি দেন এবং একই সাথে আমার ওপর চিফ রিপোর্টারের দায়িত্ব ন্যস্ত করেন। আমি অত্যন্ত বিব্রত বোধ করি। কারণ বাংলাদেশে দুটি ক্ষেত্রে সিনিয়রদের ডিঙিয়ে পদোন্নতি দেয়া হলে তা নিয়ে প্রচুর কানাঘুষা হয়, এবং তা হলো প্রধান বিচারপতির পদ ও সেনাবাহিনী প্রধানের পদ। যাদের ডিঙিয়ে যাওয়া হয় তাদের অনেকে ভগ্ন হৃদয়ে পদত্যাগ করেছেন এমন ঘটনাও আছে। 

গাজীউল হাসান খান তার রুমে ডাকেন সৈয়দ সৈয়দ আবুল মকসুদকে। বাইরের কারও সঙ্গে মিটিং না থাকলে আমরা তার অফিসে হরহামেশাই যাই। বিশেষ করে কফি পান করার ইচ্ছা হলে আরও বেশি যাই। কিন্তু কাউকে ডেকে পাঠালে তার অর্থ ভিন্ন হয়। মকসুদ ভাই ফিরে আসলে তার কাছে জানতে চাই। তিনি বলেন গাজীউল হাসান খান তাকে বলেছেন সরকারের সমালোচনা করে কলাম লেখা বন্ধ করতে অথবা পদত্যাগ করতে। তার ওপর নাকি ওপরের মহল থেকে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি তাকে ক’দিন পর সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলে এসেছেন। আমাদের বললেন যে নীতির সঙ্গে তিনি আপোষ করবেন না। যা তার দৃষ্টিতে সমালোচনাযোগ্য মনে হবে তিনি তা লিখবেন। সিদ্ধান্ত নিতে খুব বিলম্ব করেননি মকসুদ ভাই। তিনি পদত্যাগ করেন।   

পদত্যাগ করলেও তিনি প্রায়ই বাসস এর আসতেন। তিনি কলাম লেখায় নিয়মিত হয়ে যান। মানবতাবাদী আন্দোলনের প্রতীকে পরিণত হন। তাঁকে মানবাধিকার লংঘনের বিরুদ্ধে ও পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে শরীক হয়ে মিছিলে, মানবন্ধনে ও অনশনে যোগ দিতেন। 

মকসুদ ভাই মাওলানা ভাসানীর একনিষ্ঠ অনুসারী ছিলেন এবং বাংলাদেশে মাওলানার ওপর এককভাবে তার গবেষনা ও প্রকাশনা সম্ভবত সবচেয়ে বেশি। ২০১৪ অথবা ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রস্থ মাওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশন তাকে আমন্ত্রণ জানায় নিউইয়র্কে ভাসানীর ওপর আয়োজিত সেমিনারে অংশগ্রহণ করতে। দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন থাকার পর আমরা আলিঙ্গনবদ্ধ হই, স্মৃতিগুলো রোমন্থন এবং ওজোন পার্কে আরেকজন ভাসানী প্রেমিক সৈয়দ টিপু সুলতানের বাগানে মধ্যাহ্ন ভোজে অংশগ্রহণ করি। পরবর্তী যে ক’দিন তিনি নিউইয়র্কে ছিলেন, প্রতিদিন সময় করে তার সঙ্গে দেখা করেছি। 

আজ ২৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকালে ঘুম থেকে ওঠে ফেসবুকে প্রথমেই চোখে পড়ল বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজামের পোস্টে মকসুদ ভাইয়ের মৃত্যুর খবর। একসাথে অনেক স্মৃতি ভিড় করলো। তাঁর ওপর কিছু কথা লেখার তাগিদ অনুভব করলাম। বিদায় মকসুদ ভাই। এ পৃথিবীতে আপনার সঙ্গে আর দেখা হবে না। পরজগতে আল্লাহ আপনাকে সুখে রাখুক।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

কাজ করলে একসঙ্গে করতে হবে এটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য

শওগাত আলী সাগর

কাজ করলে একসঙ্গে করতে হবে এটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য

১. চীনে উইঘুর মুসলমানদের উপর চীন সরকারের নিপীড়নকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হাউজ অব কমন্সে প্রস্তাব তুলেছিলো কানাডার কনজারভেটিভ পার্টি। সংসদের প্রধান বিরোধী দলের তোলা প্রস্তাবটির ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান আগেই জানিয়ে দিয়েছিলো ক্ষমতাসীন  লিবারেল পার্টি। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে পুরো ক্যাবিনেট এই প্রস্তাবের ভোটাভুটিতে পক্ষে বা বিপক্ষে থাকবে না- সেটি ঘোষণা দেয়াই ছিলো।

শেষ পর্যন্ত হাউজ অব কমন্সে ভোটাভুটিতে সর্বসম্মতি ক্রমেই প্রস্তাবটি পাশ হয়। প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রী পরিষদের সদস্যরা ভোট দানে বিরত থাকলেও লিবারেল পার্টির প্রায় সব এমপিই ভোটে অংশ নেন এবং কনজারভেটিভ পার্টির প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। ভোটের হিসেবে ২৬৬ টি ভোট পরে প্রস্তাবের পক্ষে, বিপক্ষে একটি ভোটও পরেনি।

২.জাস্টিন ট্রুডো এবং তার মন্ত্রীরা কেন এই প্রস্তাবের পক্ষে সরাসরি অবস্থান নিলেন না? জাস্টিন ট্রুডো ব্যাখ্য দিয়েছেন, তিনি অন্যান্য দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে এ ব্যাপারে কাজ করতে চান। গ্রহণযোগ্য এবং যথাযথ আন্তর্জাতিক সংস্থার তদন্তের পরই তিনি এই ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়ার পক্ষে।

জাস্টিন ট্রুডোর কথায় যুক্তি আছে অবশ্যই। রাষ্ট্র যখন অন্য একটি দেশের ব্যাপারে কোনো অবস্থান নেয়- তখন সেটি আন্তর্জাতিক ফোরামের যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে হওয়াই সমীচীন। নিদেনপক্ষে নিজেদের উদ্যোগে তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগও হতে পারে। কনজারভেটিভ পার্টি প্রস্তাবটি এনেছে বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য এবং মানবাধিকার সংস্থার অভিযোগের প্রেক্ষিতে। 

৩. প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রী পরিষদের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে লিবারেল পার্টির এমপিরা এই ভোটে অংশ নিয়েছেন এবং বিরোধীদলের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এমনকি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পার্লামেন্টারি সেক্রেটারিও প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এটিই হচ্ছে কানাডীয়ান গণতন্ত্রের সংস্কৃতি। সংসদীয় কার্যক্রমে এমপিরা নিজেদের মতো করে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং তার প্রয়োগ ঘটাতে পারেন।

আরও পড়ুন:


আচরণগত অর্থনীতি: উভয়সঙ্কটের নৈতিক সমস্যা

ঢাকার সাত কলেজের পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আজ

ভারত থেকে এলো আরও ২০ লাখ ডোজ টিকা

৬ ঘণ্টা পর খুলনার সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক


৪. কানাডার কনজারভেটিভ পার্টি এবং কনজারভেটিভ পার্টির নেতা এরিন ও টুল উইঘুর মুসলমানদের প্রতি আন্তরিকতার কারণে বা মানবাধিকারের চেতনা থেকে এই প্রস্তাবটি এনেছেন- রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তা মনে করছেন না। কনজারভেটিভের নতুন এই  নেতা এরিন ও টুল শুরু থেকেই প্রবল চীন বিরোধী এবং ছোটোখাটো নানা ইস্যুতেই তিনি প্রবলভাবে চীনের বিরোধীতা করছেন।

কানাডার সাথে চীনের সম্পর্কে যে টানাপড়েন চলছে, সেটিকে আরো উসকে দেয়ার একটা চেষ্টা তার মধ্যে আছে। চীনের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পরলে ট্রুডোর লিবারেল চাপে পরবে- এমন একটি চিন্তা তার মনে কাজ করে থাকতে পারে বলেও অনেকে মনে করেন। কানাডার মিডিয়া অবশ্য অনেক আগেই তাকে ‘কানাডার ডোনাল্ড ট্রাম্প’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

আচরণগত অর্থনীতি: উভয়সঙ্কটের নৈতিক সমস্যা

ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

আচরণগত অর্থনীতি: উভয়সঙ্কটের নৈতিক সমস্যা

নীচের সমস্যাটি বাস্তব জীবনেও ঘটে, তবে একটু গোলমেলে। তা নাহলে এটুকুর সমাধান করেই কেনো John Nash অর্থনীতির নোবেল পেলেন,  এবং তাঁকে নিয়ে Beautiful Mind এর মতো ভালো একটি ফিল্ম হবে। তবে এ নিয়ে বেশি চিন্তা করলে John Nash এর মতো মানসিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে! কাজেই খুব কৌতূহল না হলে এর ভেতর না ঢোকাই ভালো। 

সমস্যাটি এরকম:

আমি আর আমার এক বন্ধু একটা বিশেষ পারিস্থিতিতে পড়েছি। আমাদের একে অপরকে না জানিয়ে দুটো সিদ্ধান্তের যে কোনো একটি নিতে হবে। দুজনের সিদ্ধান্ত মিলে যে ফলাফল তার উপর দুজনের লাভ-ক্ষতি নির্ভর করবে, অর্থাৎ আমার কী হবে তা শুধু আমার সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করবে না। একেক জনের দুটি বিকল্প সিদ্ধান্তের সঙ্গে অন্য জনের দুটি বিকল্প সিদ্ধান্ত মিলিয়ে মোট চারটি সম্ভাব্য বিকল্প সমাধান হতে পারে। ধরা যাক এই চারটি সমাধানের ফলাফল নিম্নরূপ:

(১) আমরা দুজনেই প্রথম সিদ্ধান্ত নিলে দুজনেরই সামান্য লাভ হবে। 
(২) দুজনেই দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত নিলে দুজনেরই আরও অনেক বেশী লাভ হবে। 
(৩) আমি দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত কিন্তু বন্ধু প্রথম সিদ্ধান্ত নিলে বন্ধুর সবচেয়ে বেশী লাভ হবে, কিন্তু আমার লাভের বদলে বরং ক্ষতি হবে। 
(৪) এর ঠিক বিপরীতে বন্ধু দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত কিন্তু আমি প্রথম সিদ্ধান্ত নিলে আমার সবচেয়ে বেশী লাভ হবে, কিন্তু বন্ধুর ক্ষতি হবে।

আমাদের আলাপ আলোচনা করে সিধান্ত নেবার সুযোগ নাই, যদিও দুজনের নেয়া সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে উপরের যে চারটি ফলাফল হতে পারে তা আমরা আগে থেকে জানি; তবে কে কী সিধান্ত নেব তা ফালাফল ভোগ করার আগ পর্যন্ত  জানতে পারব না l  বন্ধু হলেও আমরা একজন আরেকজনকে কিছুটা সন্দেহের চোখেই দেখি এবং নিজের স্বার্থেই সিদ্ধান্ত নেই। মনে রাখতে হবে এটা অর্থনীতির সমস্যা, ন্যায়শাস্ত্র (ethics) এর নয়। অবশ্য, এটা মনোবিজ্ঞানেরও বিষয়, কিছুটা নির্ভর করবে বন্ধুদের মধ্যে কোন জন উত্তর বঙ্গের সরল মনের আর কে আমার মতো নোয়াখালীর!

আরও পড়ুন:


ঢাকার সাত কলেজের পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আজ

ভারত থেকে এলো আরও ২০ লাখ ডোজ টিকা

৬ ঘণ্টা পর খুলনার সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

তায়াম্মুমের কিভাবে করবেন, এর বিধি-বিধান কি?


এটি হলো পরস্পরের উপর প্রভাব ফেলে, কিন্তু পরস্পরের অজান্তে নেয়া, বিকল্প আচরণবিধির সমস্যা; বাস্তব জীবনে এরকম অনেক সময়েই ঘটে। চারটি বিকল্প সমাধান চিন্তা করলে দেখা যাবে যে সমাধান (১) হল দুজনেই অন্যজনকে বিশ্বাস না করে নিজের ক্ষতি এড়ানোর কৌশল নিয়েছে। সমাধান (২) হলো দুজনেই অন্যজনের সহযোগিতার উপর পুরো বিশ্বাস রেখে দুজনের সবচাইতে ভালো হয় সেরকম সিদ্ধান্ত নিয়েছে; এটাই হলো এক্ষেত্রে দুজনের জন্য সবচেয়ে ভালো সম্ভাব্য সমাধান।  (৩) আর  (৪) হলো অন্যজনের সহযোগিতার সুযোগে তার ক্ষতি করে নিজে সব থেকে লাভ করা।

আমরা এখন প্রত্যেকে প্রথম ও দ্বিতীয় সিদ্ধান্তের মধ্যে কোন সিধান্তটি নেব ?
এরকম পারিস্থিতিতে আমরা যদি বার বার পড়ি তাহলে আগের অভিজ্ঞতাকে কি ভাবে কাজে লাগাব ?
অনেকবার এই পারিস্থিতিতে পড়ার পর শেষ পর্যন্ত আমরা কেমন ধরনের সিধান্ত নিতে শিখব ? 

এরকম পারিস্থিতিতে বার বার পড়লে:

ইসলাম ধর্ম মতে কেউ তোমার সাথে যেমন আচরণ করে তুমি প্রতিদানে তেমন আচরণ করবে l খ্রিস্টান ধর্মমতে তোমার এক গালে চড় দিলে অন্য গাল এগিয়ে দেবে। কোন কৌশলটি শেষ পর্যন্ত দুজনের জন্য ভালো হবে?

লেখক: বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর