শুভ জন্মদিন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

অনলাইন ডেস্ক

শুভ জন্মদিন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন আজ। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এ দিন থেকে শুরু হচ্ছে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠান।

গোপালগঞ্জের নিভৃত গ্রাম টুঙ্গীপাড়ায় জন্ম নেওয়া শেখ মুজিবুর রহমান দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে একদিন বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনে দেন। মানুষের মুক্তির জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান স্থপতি ও বিশ্বনেতায় পরিণত হন। গত বছর ছিল বাঙালির এই অবিসংবাদিত নেতার জন্মশতবার্ষিকী। বছরব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়। করোনা পরিস্থিতির কারণে মূল কর্মসূচি উদযাপন করা সম্ভব না হওয়ায় এ বছর ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর কর্মসূচি ও মুজিববর্ষের কর্মসূচি যৌথভাবে উদযাপিত হবে। এসব কর্মসূচিতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান অংশ নিচ্ছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে।

প্রায় দুইশ’ বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ থেকে স্বাধীনতার জন্য উত্তাল ভারতের অগ্নিগর্ভে জন্ম নেন শেখ মুজিব। পরাধীন ভারতে জন্ম নেয়া শেখ মুজিব শৈশব থেকেই জমিদার, তালুকদার ও মহাজনদের অত্যাচার, শোষণ ও নির্যাতন দেখেছেন। মানুষের দুঃখ, কষ্ট দেখে তাদের মুক্তির সংগ্রামে ছাত্র জীবন থেকেই তিনি নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন।

ব্রিটিশ শাসন-শোষণের হাত থেকে ১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ মুক্ত হলেও বাঙালির ওপর জেঁকে বসে পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ, নিপীড়ন-নির্যাতন। ভ্রান্ত দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্র শুরু থেকেই বাঙালির ওপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালাতে থাকে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তখন থেকেই প্রতিবাদী হয়ে ওঠে বাঙালি। দীর্ঘ আন্দোলন আর লড়াই-সংগ্রামের ধারাবাহিক পথ পেরিয়ে শেখ মুজিব বাঙালিকে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেন, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে। ’৭১ এর ৭ মার্চ তিনি ঐতিহাসিক ভাষণে বাঙালিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ার চূড়ান্ত নির্দেশ দেন।

‘এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, তোমাদের যার কাছে যা কিছু আছে তাই নিয়েই প্রস্তুত থাক, আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তোলো। ’

বঙ্গবন্ধুর এই চূড়ান্ত নির্দেশই জাতিকে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে শক্তি ও সাহস জোগায়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে গ্রেফতারের আগে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে তিনি ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন।

চার বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন পিতা শেখ লুৎফর রহমান ও মাতা সায়রা খাতুনের তৃতীয় সন্তন। ৭ বছর বয়সে তিনি পার্শ্ববর্তী গিমাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। পরবর্তীতে তিনি মাদারীপুর ইসলামিয়া হাইস্কুল, গোপালগঞ্জ সরকারি পাইলট স্কুল ও পরে গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে লেখাপড়া করেন।

১৯৪২ সালে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য কলকাতার বিখ্যাত ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন তিনি এবং এই কলেজের বেকার হোস্টেলে আবাসন গ্রহণ করেন। ১৯৪৬ সালে শেখ মুজিব বিএ পাশ করেন। তিনি ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। এই সময়ে তিনি হোসেন সোহরাওয়ার্দী, আবুল হাশিমের মতো নেতাদের সংস্পর্শে আসেন। ১৯৪৬ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় শান্তি স্থাপনে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অসম সাহসী ভূমিকা পালন করেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর তিনি পূর্ব বাংলায় চলে আসেন। এর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন শেখ মুজিব।

আরও পড়ুন


জান্নাতে মুমিনরা যেসব প্রতিদান চিরস্থায়ী পাবেন

আজানের জবাব ও সাওয়াব বিষয়ে কি বলা আছে হাদিসে?

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ মারা গেছেন

দুই সপ্তাহ পেরুলেও উৎঘাটন হয়নি মৌমিতার মৃত্যু রহস্য


ভ্রান্ত দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পূর্ব বাংলা সফরে এসে উর্দুকে রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে ঘোষণা দিলে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র সমাজ তথা বাঙালি জাতি প্রতিবাদ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে, আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর নেমে আসে জেল-জুলুম নির্যাতন।

রাজনৈতিক জীবনে এক যুগেরও অধিককাল তিনি কারাগারে কাটিয়েছেন। দুইবার তিনি ফাঁসির কাষ্ঠে মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন, ১৮ বার কারাবরণ করেছেন। পাকিস্তাানি শাসক চক্রের রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে সকল আন্দোলন-সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়ে জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য  তৈরি করেছেন। ’৫২, ’৫৪, ’৬২, ’৬৬ এর আন্দোলন আর ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ’৭০-এর নির্বাচনে বিজয় সবই জাতির সংগ্রামী ইতিহাসের একেকটি মাইলফলক। আর এই সংগ্রামের নেতৃত্ব ও বলিষ্ঠ ভূমিকায় ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। ’৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে কারাগার থেকে মুক্তির পর তিনি বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত হন।

স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয় লাভের পর পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তি লাভ করে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশ ভূমিতে ফিরে আসেন। দেশে এসেই যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনগর্ঠন ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তি অর্থাৎ দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দেন। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের এই মহান স্থপতিকে মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় মানবতার শত্রু, স্বাধীনতাবিরোধী, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ঘাতক চক্র ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

আ.লীগের ওপর যতবার আঘাত এসেছে, ততবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

আ.লীগের ওপর যতবার আঘাত এসেছে, ততবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগের ওপর বারবার আঘাত এসেছে। কিন্তু যতবার আঘাত এসেছে, ততবার আওয়ামী লীগ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আওয়ামী লীগ তো হীরার টুকরো, যতবার ভেঙেছে আরো জ্বলজ্বল করেছে নতুনভাবে জ্যোতি ছড়িয়েছে। 

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বুধবার বিকেলে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের প্রতিজ্ঞা ছিল বাংলাদেশ আমার বাবা স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। বাংলাদেশকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর যে স্বপ্ন ও চিন্তা, সেটা কখনো ব্যর্থ হতে পারে না। সেটাকে ব্যর্থ করার চেষ্টা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নাম মুছতে চেষ্টা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ যখন সৃষ্টি হয়, তখন থেকেই মুসলিম লীগ আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে। 

আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান, জিয়াউর রহমান, জেনারেল এরশাদ এবং খালেদা জিয়া প্রত্যেকে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে চেয়েছেন। কত মানুষকে তারা হত্যা করেছেন? লক্ষ্য একটাই আওয়ামী লীগকে শেষ করা। কেন? আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা এনে দিয়েছে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে গরিব দুঃখী মানুষের পেটের ভাত হয়, মাথাগোঁজার ঠাঁই পায়, চিকিৎসা পায়, লেখাপড়ার সুযোগ পায়। এটা বোধহয় কিছু শ্রেণির পছন্দ না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতিটা বুঝতে হবে। প্রতিটি মানুষ যেন ভ্যাকসিন পায় তার ব্যবস্থা আমরা পর্যায়ক্রমিকভাবে নিচ্ছি এবং সেটা আমরা করবো, সবাই টিকা পাবেন।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, করোনা ভাইরাস যখনই দেখা দিয়েছে ভ্যাকসিনের জন্য আমরা প্রতিটি জায়গায় যোগাযোগ করেছি। কোথায় ভ্যাকসিন পাওয়া যায়। বিশ্বের অনেক দেশ এখনও ভ্যাকসিন দিতে পারেনি। আমরা কিন্তু ভ্যাকসিন নিয়ে এসে দেওয়াও শুরু করেছি।

এ সময় আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রান্তে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ, ড. হাছান মাহমুদসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরের শীর্ষ নেতারা। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

আরও পড়ুন:


সারাদেশে লকডাউনের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত

বেতন-ভাতা বাড়ানোর আবেদন সরকারি কর্মচারীদের

চলন্ত ট্রাকে তরুণীকে ধর্ষণ, অতঃপর যেভাবে উদ্ধার

দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই অশান্তিতে ছিল আবু ত্ব-হা!


news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

ইরানের প্রেসিডেন্টকে শেখ হাসিনার অভিনন্দন

অনলাইন ডেস্ক

ইরানের প্রেসিডেন্টকে শেখ হাসিনার অভিনন্দন

ইরানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ ইব্রাহিম রায়িসিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে নতুন প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইরানের প্রেসিডেন্টকে পাঠানো অভিনন্দন বার্তায় বলেন, আপনি ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় আমাদের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। একই সঙ্গে ইরানের ভ্রাতৃপ্রতীম জনগণকেও আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, আপনার ইরানের প্রেসিডেন্ট হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে, আপনার নেতৃত্বের প্রতি ইরানের সাধারণ জনগণের বিশ্বাস ও গভীর আস্থা রয়েছে। দুই ভ্রাতৃপ্রতীম দেশের মধ্যে বিদ্যমান যে সম্পর্ক রয়েছে, আপনার নেতৃত্বে আগামীতে এই সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হবে।  

ইরানে গত ১৮ জুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ ইব্রাহিম রাইসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

ফেসবুকের বিরুদ্ধে কুটুমবাড়ি’র নোটিশ: ৮০০,০০০ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি

অনলাইন ডেস্ক

ফেসবুকের বিরুদ্ধে কুটুমবাড়ি’র নোটিশ: ৮০০,০০০ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি

বাংলাদেশের বৃহত্তম ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান কুটুমবাড়ি লিমিটেড বিশ্বের বৃহত্তম সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে।

এতে উল্লেখ করা হয় কুটুমবাড়ি নামে ফেসবুকে আরও বেশ কিছু ভুয়া পেজ খুলতে অনুমতি দেওয়ায় তাদের ব্যবসা ও সুনামের নানা ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদের ভুয়া কার্যক্রমের কারণে কুটুমবাড়ি তাদের ব্যবসা হারাতে বসেছে। এসব কারণ দেখিয়ে কুটুমবাড়ি লিমিটেড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত আমেরিকান বহুজাতিক প্রযুক্তি সংস্থার ফেসবুক থেকে ৮০০,০০০ মার্কিন ডলারও দাবি করেন।
  
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কাজী মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও সিইও মার্ক জুকারবার্গকে এ আইনী নোটিশটি প্রদান করেছেন। ২০২০ সালে ৭ ডিসেম্বর কুটুমবাড়ি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গাজী খালেদ ইবনে মোহাম্মদ এর পক্ষে, ফেসবুককে এ আইনী নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।
আইনী নোটিশে, ইউনিফর্ম রিসোর্স লোকেটর (Uniform Resource Locators) সহযোগিতায় কুটুমবাড়ি নাম অনুসারে ৬৩ টি নকল পেজের লিঙ্ক এবং দুটি গ্রুপ ফেসবুক-কে প্রেরণ করা হয়েছিল।

কুটুমবাড়ি লিমিটেডকে ২০১২ সালের ২২ নভেম্বর জয়েন স্টক কম্পানি (Joint Stock Companies) হিসেব নিবন্ধ করা হয়ে ট্রেড লাইসেন্স নং ০৫-৫-৫৩৩৩। কুটুমবাড়ি লিমিটেডের শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) ৫২৯১৮৫৫৩৫৭০৩।
কুটুমবাড়ি লিমিটেড ২০১৪ সালের ২৮ শে মার্চ একটি ফেসবুক পেজ খোলা হয়। কুটুমবাড়ির ফেসবুক পৃষ্ঠাটি ২০২০ সালের ২২ শে মার্চ প্রথম হ্যাক হয়েছিল। পরে এটি আবার হ্যাক হয়। বারবার অনুরোধের পরে, কুটুমবাড়ি ফেসবুক পেজটি গত বছরের ১১ এপ্রিল পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়।

কিন্তু কুটুমবাড়ি ফেসবুকের সঙ্গে সংযুক্ত কয়েক লক্ষ গ্রাহকে কাছে তথ্য পৌঁছাতে পারে নি। এই সময় ’Monkey Duo Duo’ একটি বেনামী এডমিন প্যানেল কুটুমবাড়ির পেজটি চালাতে সক্ষম হয়। এতে একদিকে যেমন কুটুমবাড়ির গোপন তথ্য যেমন চুরি হয় অন্যদিকে সুপরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেন।

আইনজীবি বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে, এ সব কারণে কওভিড -১৯ মহামারীতে কুটুমবাড়ি একটি বিশাল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। কুটুমবাড়ি তার লক্ষ লক্ষ গ্রাহকের হানায়, তাই কুটুমবাড়ি লিঃ ফেসবুক থেকে ৮ লক্ষ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়েছে।

অ্যাসোসিয়েটসের ব্যারিস্টার তাজকিয়া লবিবা করিম ফেসবুক পক্ষে কুটুমবাড়িড় আইনী বিজ্ঞপ্তির উত্তর দেন ২০২১ সালে ২৮ জানুয়ারীতে। সেখানে দাবি করেছেন যে তারা তাদের ক্লায়েন্টকে প্রতিনিধিত্ব করছেন। তারা জানান, ফেসবুক পরিষেবার শর্তাদি কপিরাইট এবং ট্রেডমার্ক সহ অন্য কারও ইন্টেলেকচুয়াল সম্পত্তির অধিকার লঙ্ঘন করে এমন পোস্ট করার অনুমতি দেয় না। তবে চিঠিটি পরিষ্কারভাবে সনাক্ত করতে পারে না যে কুটুমবাড়ি কোন ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অধিকারের ভিত্তিতে লঙ্ঘন করা হয়েছিল, বা কথিত লঙ্ঘনকে প্রমাণ করার জন্য কোনও প্রমাণ সরবরাহ করা হয়েছে, জবাব বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ কুটুমবাড়ি সুনামের সঙ্গে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। কুটুমবাড়ি হাতে কপিরাইট ও ট্রেডমার্ক সার্টিফিকেট থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের কুটুমবাড়ি নামে আরো বহু প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করে আসছে। তেমনি ফেসবুকেও কুটুমবাড়ি নামে আরো অনেক পেজ দেখা যাচ্ছে এখনো পর্যন্ত। ফেসবুকের মত একটি বড় প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি দেশের কপিরাইট ও ট্রেডমার্ক  আইন মেনে তাদের ব্যবসা পরিচালনা না করাটা সত্যিই দুঃখজনক।


আরও পড়ুন

চলন্ত ট্রাকে তরুণীকে ধর্ষণ, অতঃপর যেভাবে উদ্ধার

দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই অশান্তিতে ছিল আবু ত্ব-হা!

পরিবারের দাবি হত্যাকাণ্ড, দাফনের ১৫ দিন পর তরুণীর লাশ উত্তোল

পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ


news24bd.tv/এমিজান্নাত 

পরবর্তী খবর

সরকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে কাজ করে যাচ্ছে : কে এম খালিদ

অনলাইন ডেস্ক

সরকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে কাজ করে যাচ্ছে : কে এম খালিদ

সংস্কৃতি ধারণ, লালন ও চর্চার মাধ্যমেই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বহমান থাকে জানিয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেছেন, এ বিষয়টির প্রতি লক্ষ্য রেখেই বর্তমান সংস্কৃতিবান্ধব সরকার জাতীয় সংস্কৃতির পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, পরিচর্যা, বিকাশ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন বর্তমানে ৭টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মাধ্যমে আরো ৩টি নতুন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান (ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, নওগাঁ ও দিনাজপুর) নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে যেগুলোর জনবল কাঠামো সৃষ্টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আজ দুই দিনব্যাপী (২৩ ও ২৪ জুন, ২০২১) 'গারোদের ঐতিহ্যবাহী ওয়ানগালা উৎসব- ২০২১ এর উদ্বোধন' উপলক্ষে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি, বিরিশিরি, নেত্রকোনা আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথি বলেন, ওয়ানগালা গারো সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় ও কৃষি উৎসব। এটি মূলতঃ দেব-দেবীদের উদ্দেশ্যে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উৎসব। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, গারোরা প্রকৃতি পূজারী হলেও সাম্প্রতিককালে জনগোষ্ঠীর একটি বৃহৎ অংশ খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হয়েছে যে কারণে ওয়ানগালা উৎসব আগের মত জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে উদযাপিত হয় না। তিনি এ বিষয়ে একাডেমির পরিচালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং বছরব্যাপী বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেন।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন জনমুখী কর্মসূচি গ্রহণের ফলে গারোসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার হার বৃদ্ধিসহ জীবনমানের অনেক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী গারো সম্প্রদায়কে ওয়ানগালার শুভেচ্ছা জানান ও তাদের ভবিষ্যৎ জীবনের সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি, বিরিশিরি, নেত্রকোনা এর নির্বাহী পরিষদের সভাপতি ও নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক কাজী মোঃ আবদুর রহমান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. বদরুল আরেফীন ও নেত্রকোনা জেলার পুলিশ সুপার মোঃ আকবর আলী মুন্সী।

আরও পড়ুন:


চলন্ত ট্রাকে তরুণীকে ধর্ষণ, অতঃপর যেভাবে উদ্ধার

দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই অশান্তিতে ছিল আবু ত্ব-হা!

পরিবারের দাবি হত্যাকাণ্ড, দাফনের ১৫ দিন পর তরুণীর লাশ উত্তোল

অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ পাঠ করেন কবি মিঠুন রাকসাম। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলাম লেখক সঞ্জীব দ্রং। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি, বিরিশিরি, নেত্রকোণার পরিচালক সুজন হাজং। শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাজীব উল আহসান।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরের মধ্যে দুবাইকে পেছনে ফেললো ঢাকা!

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরের মধ্যে দুবাইকে পেছনে ফেললো ঢাকা!

এবার বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরের তালিকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও আবুধাবিকে পেছনে ফেলেছে ঢাকা। 

গতকাল মঙ্গলবার এ তালিকা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জরিপকারী প্রতিষ্ঠান ‘মার্সার’। ২০২১ সালের এই জরিপের জন্য ২০৯টি শহরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এই তালিকায় ঢাকার স্থান ৪০তম। যদিও গত বছর ঢাকা ২৬তম স্থানে ছিল। আমিরাতের দুবাইয়ের অবস্থান বর্তমানে ৪২তম এবং আবুধাবির ৫৬তম। ব্যয়বহুল শহরের তালিকায় ঢাকার নিচে রয়েছে বিশ্বের আরও বেশ কয়েকটি বড় শহর। এর মধ্যে টরন্টো, নয়াদিল্লি, ব্যাংকক, রোম, ওয়াশিংটন, মুম্বাই, ম্যানিলা, মিউনিখ, ব্রাসেলস, বার্লিন ও মস্কো অন্যতম।

‘কস্ট অব লিভিং সিটি র‌্যাঙ্কিং-২০২১’ শীর্ষক এই জরিপে হংকংকে টপকে শীর্ষে উঠে এসেছে তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী শহর আশখাবাত। ফলে দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে হংকং। তালিকায় তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে লেবাননের রাজধানী বৈরুত। গত বছর তাদের অবস্থান ছিল ৪৫তম। মারাত্মক ও দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক মন্দার ফলে মুদ্রাস্ফীতিসহ বহুমুখী সংকটের কারণেই তাদের এ অবনতি।

প্রতিষ্ঠানটির ফ্রান্স শাখার গ্লোবাল মোবিলিটি প্র্যাকটিস শাখার প্রধান জ্যাঁ ফিলিপ্পে সারা বলেন, অতিরিক্ত মুদ্রাস্ফীতির কারণে আশখাবাত প্রথম স্থানে উঠে এসেছে।

জরিপে অত্যধিক আবাসন ব্যয়ের শহরের তালিকায় জাপানের রাজধানী টোকিও এক ধাপ পিছিয়ে চতুর্থ স্থানে নেমে গেছে। পঞ্চম স্থানে সুইজারল্যান্ডের জুরিখ, অষ্টম স্থানে জেনেভা এবং দশম স্থানে রয়েছে দেশটির বার্ন শহর। এ ছাড়া ষষ্ঠ স্থানে চীনের সাংহাই এবং নবম স্থানে বেইজিং। তালিকায় সিঙ্গাপুর সিটির অবস্থান ৭ম স্থানে।


আরও পড়ুন

চলন্ত ট্রাকে তরুণীকে ধর্ষণ, অতঃপর যেভাবে উদ্ধার

দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই অশান্তিতে ছিল আবু ত্ব-হা!

পরিবারের দাবি হত্যাকাণ্ড, দাফনের ১৫ দিন পর তরুণীর লাশ উত্তোল

পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ


news24bd.tv/এমিজান্নাত 

পরবর্তী খবর