একজন ডাক্তারের ব্যবহার নিয়ে রঙ্গ-রসিকতা নয়

গোলাম মোর্তুজা

একজন ডাক্তারের ব্যবহার নিয়ে রঙ্গ-রসিকতা নয়

লকডাউনের নামে যা করছেন এবং তারও আগে কোয়ারেন্টিনের নামে যা করেছেন, তা দিয়ে সংক্রমণ কমেনি। বেড়েছে, সারা দেশে ছড়িয়েছে। শেষ পর্যন্ত ভরসা কিন্তু ডাক্তার, নার্সসহ চিকিৎসা কর্মীরাই।

একজন ডাক্তারের ব্যবহার নিয়ে রঙ্গ-রসিকতা না করে, বাস্তবতা কতটা ভয়ঙ্কর অনুধাবন করার চেষ্টা করেন। আইন না দেখিয়ে, রাস্তায় চিকিৎসা কর্মীদের অপমান-অসম্মান না করে, বিশেষ ব্যবস্থায় হাসপাতালে আনার ব্যবস্থা করেন। স্যালুট দিয়ে সম্মান জানান।


পুলিশের হাতে চিকিৎসক হয়রানি, প্রতিবাদ এফডিএসআরের

সুরা আরাফ ও সুরা আনফালের বাংলা অনুবাদ

নারী ফুটবল দলে করোনার হানা

নিখোঁজের ১১২ দিন পর সেপটিক ট্যাঙ্কে মিলল নারীর লাশ

‘মামুনুলকে গ্রেপ্তারে সরকারের লকডাউন’ যারা বলছেন, তাদের বলছি


ডাক্তারদের গালাগালি বহু করেছেন, ভবিষ্যতেও করতে পারবেন। কেউ আপনাদের ঠেকাতে পারবে না। ডাক্তাররা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, আপনার জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। তার প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা জানান। করনাকালের প্রকৃত হিরো ডাক্তাররাই।

আমি ডাক্তারদের কথা বলছি, ডাক্তারদের নেতা ও ডাক্তার প্রশাসকদের কথা বলছি না। এদের অপকর্ম ও দালালির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা জরুরি। তাদের জন্যে শ্রদ্ধা বা স্যালুট নয়।

গোলাম মোর্তোজা, সিনিয়র সাংবাদিক । 

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

৪৪ সন্তানের জন্ম দেয়ার পর বদমাশ ব্যাটা পালিয়ে যায়

রাখি নাহিদ

৪৪ সন্তানের জন্ম দেয়ার পর বদমাশ ব্যাটা পালিয়ে যায়

আফ্রিকার উগান্ডার অধিবাসী মারিয়াম নবট্যানজি বিয়ের পর টানা পাঁচ বার যমজ সন্তানের জন্ম দেবার পর বুঝতে পারেন তার কোন শারীরিক সমস্যা আছে। পরীক্ষা নিরিক্ষার পরে জানতে পারেন তাঁর ডিম্বাশয়ের আকার বেশ বড় এবং তিনি অত্যন্ত ফার্টাইল। কিন্তু কোনও রকম গর্ভনিয়ন্ত্রণের ওষুধ বা অপারেশন তাঁর ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী হতে পারে!

মারিয়ম তাঁর স্বামীর সঙ্গে আলোচনা করেন, তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু মারিয়মের কথায় কান দেননি তাঁর স্বামী। ফলে এর পর চার বার ত্রিপলেট ও পাঁচ বার কোয়াড্রুপলেট জন্ম দেন মারিয়ম।

সর্বমোট ৪৪ সন্তানের জন্ম দেয়ার পর ব্যাটা বদমাশ মরিয়ম এবং সন্তানদের ফেলে আরেকজনকে বিয়ে করে পালিয়ে যায়। ৪৪ জনের মধ্যে শেষ পর্যন্ত বেঁচে যাওয়া ৩৮ সন্তানের ভরণ পোষনের পুরো দায়িত্ব তারপর থেকে ৩৯ বছর বয়সী মরিয়মই পালন করছেন। শত অভাবের মাঝেও সন্তানদের খাইয়ে বাঁচিয়ে রেখেছেন মারিয়াম। এটা একটা রেয়ার ঘটনা। কোটিতে হয়ত এক জনের এরকম হয়। 

তবুও বললাম একটা বিশেষ কারণে। জংলী, অশিক্ষিতা, আদিবাসী হোক আর শিক্ষিতা সফস্টিকেটেড সিভিলাইজড হোক, মা এর পরিচয় মা ই। এক মায়ের দায়িত্ব নিতে ১০ সন্তানেরও মাঝে মাঝে কষ্ট হয় কিন্তু মা একাই ৩৮ সন্তানের দায়িত্বও হাসিমুখে নেন।

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের ৩১ বছর বয়সী প্রেমা সেলভাম সম্প্রতি তার তিন সন্তানকে এক বেলা খাওয়ানোর জন্যে ১৫০ রুপিতে নিজের মাথার চুল বিক্রি করে দেন। চুল বিক্রী করে ৬০ রুপি দিয়ে তিন প্যাকেট ভাত আর অন্যান্য খাবার কিনে সন্তানদেরকে খেতে দিয়ে সেই দৃশ্য চোখ ভরে দেখেন প্রেমা। আহারে মা। 

আমার পরিচিতা এক ভদ্রমহিলা মাত্র ৩২ /৩৩ বছর বয়সে ক্যান্সারে মারা যান। তিন সন্তানের জননী যখন প্রথম প্রথম শারীরীক অসুবিধা বোধ করতেন, তখনও কিছু নয়, মেয়েদের এত নরম হলে চলে না বলে নিজের অসুবিধাকে পাত্তাই দেন নি।

উপসর্গ যখন আরও বেড়েছে তখন সংসারের কাজ থেকে ফুরসত নিয়ে ডাক্তার দেখালেন, ডাক্তার গাদা গাদা টেস্ট ধরিয়ে দিলেন। তারপর বাচ্চাদের ক্লাস টেস্ট, মিড টার্ম নইলে ফাইনাল এই করে করে আর যাওয়াই হয়নি টেস্ট করাতে। বাচ্চাদের পরীক্ষায় সাফল্যের সাথে পাশ করিয়ে যখন উনি নিজের শরীর পরীক্ষা করালেন তখন তার ক্যান্সারের লাস্ট স্টেজ। মাত্র মাস ছয়েক যুদ্ধ করেই তিন সন্তানকে জীবনের পরীক্ষায় একা ফেলে চলে যান সেই মা। মায়েরা এতই নিঃস্বার্থ যে মাঝে মাঝে এটাও ভুলে যান যে সন্তানের জন্যই তার সুস্থ থাকা, বেঁচে থাকা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন


সেই স্পিডবোট মালিক চান মিয়া র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার

সূরা বালাদের ফজিলত, আলোচিত প্রধান দু’টি বিষয়

পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সাদিক খান আবারও লন্ডনের মেয়র

পবিত্র মসজিদ আল-আকসায় আবারও সংঘর্ষ, আহত অনেক


বছর দুয়েক আগে একটা ছবি ভাইরাল হয় যেখানে দেখা যায় ৪৪ বছর বয়সী সীমা রানী সরকার তার ১৮ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী পুত্র হৃদয়কে কোলে করে ঢাকা ইউনিভারসিটির ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করাতে নিয়ে যাচ্ছেন। হৃদয় সে বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হয়। মায়ের অনেক রূপ,অনেক ত্যাগের কথা যুগে যুগে শুনেছি কিন্তু সীমা রানী মাতৃত্বের নতুন দৃষ্টান্ত রেখেছেন।

২০১৮ সালে বিবিসির হানড্রেড মোস্ট ইন্সপিরেশনাল এন্ড ইনফ্লুয়েনশিয়াল নারীর লিস্টে সেবার সীমা রানীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং মজার ব্যাপার হল, সীমা রানীই সেই একমাত্র ফুল টাইম মা যে এই রিকগনিশন পেয়েছেন। সীমা রানী প্রমাণ করেছেন একটা শিক্ষিত সমাজের জন্য একটা মা প্রয়োজন। কিন্তু একজন মা এর কাউকে লাগে না।

সম্প্রতি ঢাকারই আরেক মায়ের ঘটনা পড়লাম যিনি তার প্রতিবন্ধী পুত্রের দেখভালের জন্য গত ১৫ বছর বাড়ির বাইরে পা রাখেন নি। ১৫ বছর কোথাও বেড়াতে যান নি। এই মাকে জিজ্ঞেস করেন লকডাউন কত প্রকার ও কি কি? পুত্রের কারণে পনের বছর ধরে হাসি মুখে লকডাউন হয়ে আছেন উনি ।

মায়েরা এমনই। তারা কোন মানুষের পর্যায়ে পড়েনা,কারণ কোন মানুষ এত নিঃস্বার্থ হতে পারে না। মাকে নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা মাটির বদলে অন্য কোন ইনগ্রেডিয়েন্ট দিয়ে বানিয়েছেন। মায়ের এই ত্যাগের সামনে একটা কার্ড, একটা ফুল কিছু শুভেচ্ছাবানী, সেলফি তুলে ফেসবুকে পোষ্ট করাটা হল মহাসাগরে এক ফোটা পানি ফেলার মত। তবুও পৃথিবীর সব মাকে "মাদারস ডে" র শুভেচ্ছা।

কারণ ৩৬৫ দিনই মা দিবস এই কথা বলে ৩৬৫ দিনই বঞ্চিত করার থেকে একদিনই না হয় ঢাক ঢোল পিটিয়ে বলি "ভালোবাসি"। উনারা এমনই অদ্ভুত, নিজেদের পাহাড় সমান ত্যাগের বিপরীতে শুধু এইটুকু শুনলেও তারা আনন্দে কেঁদে কেটে ছ্যারাব্যারা করে ফেলেন......।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

সূরা বালাদের ফজিলত, আলোচিত প্রধান দু’টি বিষয়

তুহিন মালিক

সূরা বালাদের ফজিলত, আলোচিত প্রধান দু’টি বিষয়

এক- শপথ করে আল্লাহ বলছেন যে, মানুষকে অবশ্যই শ্রমনির্ভর প্রাণী হিসাবে সৃষ্টি করা হয়েছে। অতএব তাকে কষ্ট করে জীবনের ঘাঁটিসমূহ অতিক্রম করতে হবে (১-১৬ আয়াত)।

দুই- কষ্টের ফলাফল হিসাবে হয় সে সৌভাগ্যবান হবে, নয় হতভাগ্য হবে (১৭-২০ আয়াত)।

(১) لَا أُقْسِمُ بِهَذَا الْبَلَدِ
লা য় উকসিমু বিহা-যাল্ বালাদি। 
আমি শপথ করছি এই নগরীর;

‘এই নগরী’ বলতে মক্কা নগরীকে বুঝানো হয়েছে। যেমন অন্যত্র আল্লাহ বলেছেন, ‘শপথ এই নিরাপদ নগরীর’ (তীন ৯৫/৩)। অন্যত্র এই শহরকে সরাসরি ‘মক্কা’ বলা হয়েছে। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই প্রথম গৃহ যা মানবজাতির জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, তা হলো ঐ গৃহ যা মক্কায় অবস্থিত। যা বরকতময় ও বিশ্ববাসীর জন্য পথপ্রদর্শক’ (আল ইমরান ৩/৯৬)।

(২) وَأَنْتَ حِلٌّ بِهَذَا الْبَلَدِ
অআন্তা হিল্লুম্ বিহা-যাল্ বালাদি।
এমতাবস্থায় যে আপনি এই নগরীতে অবস্থানকারী।

অর্থাৎ আমি এই মহান নগরীর শপথ করছি যার উচ্চমর্যাদা সম্পর্কে আপনি অবগত। সেই সাথে আপনি এখানকার বাসিন্দা হওয়ায় এর সম্মান আরও বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়েছে। পূর্ববর্তী আয়াতের শপথকে অত্র আয়াতের সাথে সংযুক্ত করার মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর উচ্চ মর্যাদাকে আরও উন্নত করা হয়েছে। যেন তাঁর জন্যই শপথ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইঙ্গিত রয়েছে যে, রাসূলই (সাঃ) এ নগরীতে বসবাসের সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি এবং তাঁর মাধ্যমেই এ নগরীর মর্যাদা পূর্ণতা পেয়েছে।

(৩) وَوَالِدٍ وَمَا وَلَدَ
অওয়া-লিদিঁও অমা-অলাদা।
শপথ জনকের ও যা সে জন্ম দেয়।

এখানে পিতা ও সন্তান বলতে আদম ও বনি আদমকে বুঝানো হতে পারে। যেমন প্রথমে সকল নগরীর উৎস বা উম্মুল ক্বোরা হিসাবে মক্কা নগরীর শপথ করা হয়েছে। তেমনি মানবজাতির উৎস বা আদি পিতা হিসাবে আদম (আঃ)-এর শপথ করা হয়েছে। অতঃপর বিগত ও অনাগত সকল আদম সন্তানের শপথ করা হয়েছে। অথবা সকল যুগের পিতা ও সন্তানদের শপথ করে বলা হচ্ছে।

(৪) لَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ فِي كَبَدٍ
লাক্বাদ্ খলাকনাল্ ইন্সা-না ফী কাবাদ্।
নিশ্চয় আমি মানুষকে শ্রমনির্ভররূপে সৃষ্টি করেছি।

মানুষ ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত নানারূপ বিপদাপদ ও কায়-ক্লেশের মধ্য দিয়ে তাকে জীবন অতিবাহিত করতে হয়। যদিও দৈহিক কষ্ট-দুঃখ অন্য প্রাণীর জীবনেও হয়ে থাকে। তথাপি মানুষকে উপলব্ধি, চেতনাবোধ, জ্ঞান, বিবেকশক্তি ও দূরদৃষ্টি দান করা হয়েছে। মানুষকে তার সারা জীবনের কর্মের হিসাব ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকটে দিতে হয়। যা অন্য প্রাণীকে দিতে হয় না। মানুষের জন্য তার পার্থিব জীবনটা হলো পরীক্ষাগার। মানুষ দুনিয়াবী মুছীবত সহ্য করে এবং আখেরাতের কষ্ট সমূহের সম্মুখীন হয়। আনন্দে শুকরিয়া আদায় করা ও বিপদে ধৈর্য ধারণ করা- এ দু’টি পরীক্ষার কোন একটি থেকে সে কখনো মুক্ত থাকে না।

(৫) أَيَحْسَبُ أَنْ لَنْ يَقْدِرَ عَلَيْهِ أَحَدٌ
আ ইয়াহ্সাবু আল্লাইঁ ইয়াকদিরা ‘আলাইহি আহাদ্। 
সে কি মনে করে যে, তার উপর কেউ কখনো ক্ষমতাবান হবে না?

শক্তিগর্বে স্ফীত অহংকারী মানুষকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহ ধমকের সুরে কথাগুলি বলেছেন। যেমন বিগত যুগে ‘আদ জাতি বলেছিল,  ‘কে আছে আমাদের চাইতে অধিক শক্তিশালী’? (হা-মীম সাজদাহ ৪১/১৫)। অর্থাৎ সে কি ভেবেছে তাকে দমন করার কেউ নেই? অথবা সেকি ভেবেছে ক্বিয়ামত হবে না এবং তার অত্যাচারের বদলা নেওয়া হবে না? এ আয়াতের বক্তব্য সকল যুগের সকল শক্তি মদমত্ত অহংকারী মানুষের জন্য প্রযোজ্য।

(৬) يَقُولُ أَهْلَكْتُ مَالًا لُبَدًا
ইয়াকু লু আহ্লাক্তু মা-লা ল্লুবাদা-। 
সে বলে, আমি প্রচুর ধন-সম্পদ ব্যয় করেছি।

ধনীদের মধ্যে যারা কৃপণ ও অহংকারী স্বভাবের, তারা যৎকিঞ্চিত খরচ করে বড়াই করে বলে যে, বহু ধন-সম্পদ ব্যয় করলাম। লোক দেখানো ও লোককে শুনানোর উদ্দেশ্যে ব্যয়কৃত এইসব দান আল্লাহর নিকটে গৃহীত হয় না। কেননা তারা আল্লাহর ওয়াস্তে দান করেনা। বরং দুনিয়াবী স্বার্থে দান করে।

(৭) أَيَحْسَبُ أَنْ لَمْ يَرَهُ أَحَدٌ
আইয়াহ্সাবু আল্লাম্ ইয়ারাহূ য় আহাদ্।
সে কি মনে করে যে, তাকে কেউ দেখেনি?

অর্থাৎ ধনশালী অহংকারী ব্যক্তিটি কত সম্পদ ব্যয় করেছে এবং কি উদ্দেশ্যে ব্যয় করেছে, সে কি ভেবেছে যে কেউ তা দেখেনি? অবশ্যই তা আল্লাহ দেখেছেন। তিনি তার ভিতর-বাহির সব খবরই জানেন এবং সবকিছুর হিসাব তিনি নেবেন। 

(৮) أَلَمْ نَجْعَلْ لَهُ عَيْنَيْنِ
আলাম্ নাজ‘আল্ লাহূ ‘আইনাইনি। 
আমি কি তাকে দেইনি চক্ষুদ্বয়,

(৯) وَلِسَانًا وَشَفَتَيْنِ
অলিসা নাওঁ অশাফাতাইনি। 
জিহবা ও ওষ্ঠদ্বয় ?

আল্লাহ এখানে মানুষকে দেওয়া তিনটি অত্যন্ত মূল্যবান নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন- 
এক- ‘দু’টি চোখ’, যা দিয়ে সে দেখে ও সৌন্দর্য উপভোগ করে। 
দুই- ‘জিহবা’, যার সাহায্যে সে কথা বলে, খাদ্যের স্বাদ আস্বাদন করে এবং দুই মাড়ির দাঁতের মাঝে খাদ্য ঠেলে দেয়। 
তিন- ‘দু’টি ঠোট’, যা মানুষের মুখগহবরের দু’টি কপাট হিসাবে ব্যবহৃত হয়। যদি ঠোট বা জিহবা ক্ষণিকের জন্য অসাড় হয়ে যায়, তাহলে সে বুঝতে পারে এ দু’টির মূল্য কত বেশী!
উক্ত নেয়ামতগুলি দেওয়ার উদ্দেশ্য এটা পরীক্ষা করা যে, বান্দা এগুলিকে কল্যাণের পথে ব্যয় করে, না অকল্যাণের পথে ব্যয় করে। সে এগুলিকে আল্লাহর পথে পরিচালিত করে, না শয়তানের পথে পরিচালিত করে।

(১০) وَهَدَيْنَاهُ النَّجْدَيْنِ
অহাদাইনা-হু ন্নাজদাইন্। 
বস্তুতঃ আমি তাকে দু’টি পথ প্রদর্শন করেছি।

এখানে দু’টি পথ বলতে ভাল ও মন্দের দু’টি পথ বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ ভাল ও মন্দের দু’টি পথই বান্দার সামনে উন্মুক্ত থাকে। কোনটাই গোপন নয়। সে যেটা ইচ্ছা অবলম্বন করতে পারে। তবে দু’টি পথের মধ্যে উত্তমটি বেছে নেবার মত জ্ঞান-ক্ষমতা আল্লাহ মানুষের মধ্যে দিয়েছেন।

(১১) فَلَا اقْتَحَمَ الْعَقَبَةَ
ফালাক্ব্ তাহামাল্ আ’ক্ববাহ্। 
কিন্তু সে তো গিরিসংকটে প্রবেশ করেনি।

‘গিরিসংকটে প্রবেশ করা’ কথাটি প্রবাদ হিসাবে এসেছে। যার দ্বারা ‘মহৎ কর্ম’ বুঝানো হয়েছে। সৎকর্ম সম্পাদন করাকে উঁচু পাহাড়ী পথ অতিক্রম করা বা গিরিসংকটে প্রবেশ করার সাথে তুলনা করে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, নেক আমল করা কষ্টসাধ্য। নেক আমলের ফলাফল সর্বদা ঊর্ধ্বমুখী হয়। নেক আমল করতে গেলে নফসরূপী শয়তানের সঙ্গে রীতিমত যুদ্ধ করতে হয়। উঁচু পাহাড়ী পথ অতিক্রম করতে গেলেও তেমনি কঠোর অভিযান করতে হয়। কিন্তু কাফের ও দুনিয়াপূজারী লোকেরা এটা করতে চায় না। সেকারণে আল্লাহ বলেন, ‘সে তো গিরিসংকটে প্রবেশ করেনি’।

(১২) وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْعَقَبَةُ
অমা য় আদ্র-কা মাল্ ‘আক্ববাহ্। 
আপনি জানেন, গিরিসংকট কি?

এর মাধ্যমে দ্বীনী আমলের উচ্চ মর্যাদা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‘গিরিসংকটে প্রবেশ করাটা কী?’ প্রশ্নের আকারে বলার উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর নিকট সৎকর্মের উচ্চ মর্যাদার বিষয়টি শ্রোতার হৃদয়ে প্রোথিত করে দেওয়া। অতঃপর উদাহরণ স্বরূপ এখানে পরপর তিনটি ঘাঁটি তথা মহৎ কর্মের কথা বলা হয়েছে, যা আল্লাহর নিকট খুবই মর্যাদাপূর্ণ। যেমন-

(১৩) فَكُّ رَقَبَةٍ
ফাক্কু রক্ববাতিন্। 
তা হচ্ছে দাসমুক্তি

আলোচ্য আয়াতে উদাহরণ স্বরূপ প্রথম ঘাঁটির কথা বলা হয়েছে, ‘দাসমুক্তি’। জাহেলী আরবে ও তৎকালীন বিশ্বে প্রায় সর্বত্র দাসপ্রথা চালু ছিল। ইসলাম এটাকে সেযুগে মানবতার বিরুদ্ধে এক নম্বরের অপরাধ বলে চিহ্নিত করেছে এবং দাস-দাসী মুক্ত করাকে সর্বাধিক পুণ্যের কাজ হিসাবে ঘোষণা করেছে। ফলে হযরত আবুবকর, হযরত ওছমান প্রমুখ সচ্ছল ছাহাবায়ে কেরাম কাফেরদের ঘরে নির্যাতিত বহু দাস-দাসীকে অর্থের বিনিময়ে খরিদ করে নিঃস্বার্থভাবে স্রেফ আল্লাহর ওয়াস্তে মুক্ত করে দেন। এটি যেহেতু অতীব গুরুত্বপূর্ণ ও আয়াসসাধ্য নেক আমল, তাই এটাকেই পাহাড়ের প্রথম উঁচু ঘাঁটি হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যার সোপান বেয়ে মুমিন নর-নারী জান্নাতে প্রবেশ করবে।

(১৪) أَوْ إِطْعَامٌ فِي يَوْمٍ ذِي مَسْغَبَةٍ
আও ইত‘আ-মুন্ ফী ইয়াওমিন্ যী মাস্গাবাতিঁই। 
অথবা ক্ষুধার দিনে অন্নদান করা।

জান্নাতে প্রবেশের জন্য দ্বিতীয় ঘাঁটি হলো ক্ষুধার্তকে অন্ন দান করা। বিশেষ করে যখন খাদ্য-শস্য দুষ্প্রাপ্য ও দুর্মূল্য হয় এবং দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।

(১৫) يَتِيمًا ذَا مَقْرَبَةٍ
ইয়াতীমান্ যা-মাকরবাতিন্। 
ইয়াতীম নিকটাত্মীয়কে।

ইয়াতীমকে অন্নদান করা ও তার প্রতিপালন করা অত্যন্ত ছওয়াবের কাজ। কিন্তু যখন সে ইয়াতীমটি অসহায় ও নিকটাত্মীয় হয় এবং সময়টি দুর্ভিক্ষের হয়, তখন তার ছওয়াব হয় বর্ণনাতীত।

(১৬) أَوْ مِسْكِينًا ذَا مَتْرَبَةٍ
আও মিস্কীনান্ যা-মাত্রবাহ্। 
অথবা ধুলি-ধুসরিত অভাবগ্রস্তকে।

অর্থাৎ সর্বস্বান্ত, ছিন্নমূল, মিসকিন, অভাবগ্রস্থ দিশেহারা ব্যক্তিকে অন্নদান করা হলো জান্নাতে প্রবেশের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি, যা উত্তরণ করা খাঁটি মুমিনের অবশ্য কর্তব্য।

আরও পড়ুন


পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সাদিক খান আবারও লন্ডনের মেয়র

পবিত্র মসজিদ আল-আকসায় আবারও সংঘর্ষ, আহত অনেক

বাগেরহাটে টিকটকে আপত্তিকর ছবি পোস্ট, স্ত্রীকে হত্যা করলো স্বামী

মা দিবসে যা বললেন সাকিব আল হাসান


(১৭) ثُمَّ كَانَ مِنَ الَّذِيْنَ آمَنُوْا وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ وَتَوَاصَوْا بِالْمَرْحَمَةِ 

ছুম্মা কা-না মিনাল্লাযীনা আ-মানূ অতাওয়া ছোয়াও বিছ্ছোয়াব্রি অতাওয়া ছোয়াওবিল্ র্মাহামাহ্। 
অতঃপর তাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া, যারা ঈমান আনে এবং পরস্পরকে উপদেশ দেয় সবরের ও উপদেশ দেয় দয়ার।

অর্থাৎ দাসমুক্তির মাধ্যমে এবং দুর্ভিক্ষের সময় নিরন্নকে অন্নদানের মাধ্যমে কেউ ঘাঁটিতে প্রবেশ করতে পারবে না, যতক্ষণ না সে যথার্থ বিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। কেননা যেকোন সৎকর্ম আল্লাহর নিকটে কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত হলো আল্লাহর উপরে বিশ্বাস স্থাপন করা। ঈমানহীন আমল বা আমলহীন ঈমান কোনটাই কাজে আসবে না। বরং ঈমান ও আমল একত্রিত হওয়া আবশ্যক। ঈমানের পরে এখানে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ আমলের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। প্রথমটি হলো পরস্পরকে সবর ও ধৈর্যের উপদেশ দেয়া।এবং দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ সৎকর্মটি হলো পরস্পরকে দয়া ও অনুগ্রহের উপদেশ দান করা।

(১৮)  أُوْلَئِكَ أَصْحَابُ الْمَيْمَنَةِ
উলা-য়িকা আছ্হবুল্ মাইমানাহ্ ।
এরাই হলো ডান সারির মানুষ (সৌভাগ্যবান)।

অর্থাৎ উপরে বর্ণিত গুণাবলীসম্পন্ন মানুষ ক্বিয়ামতের দিন সৌভাগ্যশালীদের জন্য নির্ধারিত ডান সারিতে স্থান পাবে। ক্বিয়ামতের দিন মানুষকে তিন সারিতে ভাগ করা হবে। একটি হবে অগ্রগামী দল, একটি হবে দক্ষিণ বা ডান সারির দল এবং একটি হবে বাম সারির দল। প্রথম দু’টি দল জান্নাতী হবে এবং বাম সারির লোকেরা জাহান্নামী হবে (ওয়াক্বি‘আহ ৫৬/৭-১২)। জান্নাতীদের ডান হাতে আমলনামা দেওয়া হবে এবং তাদের সহজ হিসাব নেওয়া হবে (বনি ইস্রাঈল ১৭/৭১; ইনশিক্বা্ক্ব ৮৪/৭-৮)।

(১৯) وَالَّذِيْنَ كَفَرُوْا بِآيَاتِنَا هُمْ أَصْحَابُ الْمَشْأَمَةِ 
অল্লাযীনা কাফারূ বিআ-ইয়া-তিনা-হুম্ আছ্হা-বুল্ মাশ্য়ামাহ্। 
আর যারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে তারাই হলো বাম সারির মানুষ (হতভাগা)।

পাপিষ্ঠ কাফের-ফাসেক-মুশরিক-মুনাফিকদের ক্বিয়ামতের দিন বাম সারিতে দাঁড় করানো হবে (ওয়াক্বি‘আহ ৫৬/৯,৪১)। এদের পিঠের পিছন দিয়ে বাম হাতে আমলনামা দেয়া হবে (ইনশিক্বাক্ব ৮৪/১০)।

(২০) عَلَيْهِمْ نَارٌ مُّؤْصَدَةٌ
‘আলাইহিম না-রুম্ মুছোয়াদাহ্।
তারা অগ্নিপরিবেষ্টিত অবস্থায় বন্দী থাকবে।

অর্থাৎ আগুন তাদেরকে চারদিক থেকে বেষ্টন করবে। কোনদিক দিয়ে তারা পালাবার পথ পাবে না। যেমন অন্যত্র আল্লাহ বলেন, ‘প্রজ্বলিত অগ্নি তাদেরকে বেষ্টন করে রাখবে, উঁচু উঁচু স্তম্ভসমূহে’ (হুমাযাহ ১০৪/৮-৯)।
আল্লাহ গাফুরুর রাহীম স্বীয় অনুগ্রহে ও দয়ায় আমাদেরকে অগ্নিপরিবেষ্টিত জাহান্নামের শাস্তি থেকে হেফাজত করুন।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

হাইকোর্টে মায়ের মামলার বিচার...

তারিক শামমি

হাইকোর্টে মায়ের মামলার বিচার...

তারিক শামমি

একটা মামলার ঘটনা বলি। চাঁদপুর জেলায় এক বৃদ্ধা মা তার ছেলেকে সব সম্পত্তি দান করে দেন। এরপর ছেলে আর ছেলের বউ মিলে বৃদ্ধা মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। বৃদ্ধা মা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে। ভিক্ষা করে খায়। যেখানে সেখানে ঘুমায়। 

এক আইনজীবী ঘটনাক্রমে সব শুনে স্বত্ব ঘোষণাসহ খাস দখল ও দলিল বাতিলের মোকাদ্দমা দায়ের করেন। মা স্বেচ্ছায় সম্পত্তি দান করেছেন। সাক্ষ্যতেও তাই বললেন। ট্রায়াল কোর্টে মা হেরে গেল। জেলা জজ কোর্টে আপিল করলো মা। আপিলেও মা হারলো। 

এবার হাইকোর্টে সিভিল রিভিশন দায়ের হলো। দুই কোর্ট হারা খুব খারাপ মামলা। মোশন শুনানি। মামলা ডাকা হলো। সিভিল রিভিশন। জাজমেন্ট অফ এফারর্মেন্স। ল পয়েন্ট নাই। বিচারপতি আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞা মামলা খারিজ করে দিতে উদ্যত হলেন। মা এর পক্ষের আইনজীবী অনেক অনুনয় বিনয়ের পর বিচারপতিকে ট্রায়াল কোর্টের রায়ের একটা অংশ পড়ে শোনানোর সুযোগ পেলেন-

"তাহার সকরুণ বদনখানি, রিক্ত শূন্য খোলা দৃষ্টি, শীর্ণ দেহখানি ও জীর্ণ মলিন পোশাক পরিচ্ছদ দেখিয়া যেকোন বোধশক্তিসম্পন্ন মানুষ তাহাকে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত বলিয়া পরিগণণা করিবে এবং তাহার পেট প্রায় পিঠের সহিত মিলিয়া যাওয়া যেন দীর্ঘদিন অভূক্ত থাকার কথাই বিবৃত করে। তথাপি সাক্ষ্য-প্রমাণ  হইতে ইহা স্পষ্ট যে,  বাদীনি সজ্ঞানে স্বেচ্ছায়........"

তারপর আইনজীবী বললেন, সব সম্পত্তি পেয়ে ছেলে বাড়ি থেকে বৃদ্ধা মাকে বের করে দেয়।


যাত্রীদের চাপ সামলাতে সব ফেরিঘাটে বিজিবি মোতায়েন

অবশেষে করোনামুক্ত হলেন খালেদা জিয়া

পৃথিবীতে আছড়ে পড়তে যাচ্ছে চীনা রকেট, দেখা যাচ্ছে লাইভে

কাবুলে স্কুলের পাশে বোমা বিস্ফোরণে নিহত ৫৫


বিচারপতি আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞা গালে হাত রেখে মাথা নিচু করে বসে রইলেন কিছুক্ষণ। তারপর রুল ইস্যু করলেন এবং সংশ্লিষ্ট থানাকে ১৫ দিনের মধ্যে মাকে বাড়ির দখল বুঝিয়ে দিয়ে কোর্টকে ইনফর্ম করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা দিলেন। পরে মৌখিক ভাবে মা'র পক্ষের আইনজীবীকে মামলা শুনানির জন্য অপরপক্ষ ফিক্স করতে এলে 'মায়ের মামলা' বলে মনে করিয়ে দিতে বললেন আর সত্তোরোর্ধ মা মৃত্যুবরণ করার পর ইনফর্ম করতে বললেন।

ছেলে তার পক্ষে বড় আইনজীবী মিঃ শুধাংসু শেখর হালদারকে নিয়োগ করে। মিঃ হালদার অনেক চেষ্টা করলেও বিচারপতি আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞা মামলা শুনানির জন্য ফিক্স করেননি। প্রায় তিন/চার বছর পর মায়ের মৃত্যুর পর বিচারপতি আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞা শুনানি অন্তে সিভিল রিভিশনের রুল ডিসচার্জ করে ছেলের পক্ষে রায় দেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে জিতে যান মমতাময়ী মা, মানবতা ও ন্যায়বিচার।

(পুনশ্চ: মামলার ঘটনাটি প্রিয় বড় ভাই অ্যাডভোকেট Ziaul Hoque থেকে অনেক আগে শোনা।)

তারিক শামমি
মা দিবস

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

বাড়িতে যেতে চাইলে হাসবেন-ভয় দেখাবেন, এই আপনাদের বিচার!

খালেদ মুহিউদ্দীন

বাড়িতে যেতে চাইলে হাসবেন-ভয় দেখাবেন, এই আপনাদের বিচার!

বুঝলাম না! বিদেশি মুদ্রার সাপ্লাই বজায় রাখতে গার্মেন্টসে কাজ করাবেন। ড্রাইভার আর ঘরের কাজের সহকারির সার্ভিস পাইতে বস্তিতে গাদাগাদি করে রাখবেন। মার্কেট খুলে মনের সুখে বাজার করবেন, বাহারি ইফতার খাবেন। আর ছুটি করতে বাড়িতে যেতে চাইলে হাসবেন আর ভয় দেখাইবেন। এই আপনাদের বিচার!

news24bd.tv আহমেদ

আরও পড়ুন


পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় সীমিত পরিসরে চলছে ফেরি, অপেক্ষায় শতশত যাত্রী

নিয়ন্ত্রণ হারানো চীনের রকেট পড়লো ভারত মহাসাগরে

যাত্রীদের চাপ সামলাতে সব ফেরিঘাটে বিজিবি মোতায়েন

মার্কিন নিয়ন্ত্রিত সামরিক ঘাঁটিতে রকেট হামলায় বিমানের হ্যাঙ্গার ধ্বংস


 

পরবর্তী খবর

নির্বাচিত হয়ে আমি গর্বিত: স্ট্যাটাসে ফয়ছল চৌধুরী

অনলাইন ডেস্ক

নির্বাচিত হয়ে আমি গর্বিত: স্ট্যাটাসে ফয়ছল চৌধুরী

ফয়ছল চৌধুরী

স্কটল্যান্ডের পার্লামেন্টে লেবার পার্টি থেকে লোদিয়ান রিজিওন্যাল লিস্ট প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এডিনবরার ফয়ছল চৌধুরী এমবিই।

নির্বাচিত হবার পর রোববার (৯ মে) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।

তার স্ট্যাটাসটি নিউজ টোয়েন্টিফোর বিডি ডট টিভি'র পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো:  'I am privileged and honoured to have been elected as a Member of Scottish Parliament for Lothian' -(লোথিয়ানের স্কটিশ পার্লামেন্টের সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হওয়ায় আমি গর্বিত।)

দেশটির পার্লামেন্টে এই প্রথম কোনো বাংলাদেশি নির্বাচিত হলো। ফয়ছল চৌধুরীর বাড়ি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থানার বদরদি গ্রামে। তার বাবার নাম গোলাম রব্বানী চৌধুরী।

এবারের নির্বাচনে ১২৯টি আসনের মধ্যে ৬৩ সিট পেয়ে সর্বোচ্চ আসন নিয়েছে এসএনপি। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন আরো এক আসন। সেক্ষেত্রে স্বতন্ত্র বা অন্য কোনো দলের সাথে কোয়ালিশন করতে হবে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির।

ইকুয়ালিটি অ্যান্ড হিউম্যান রাইট অ্যাকটিভিস্ট ফয়ছল চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে লেবার পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। লেবার পার্টি থেকে ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত ওয়েস্ট মিনস্টার পার্লামেন্ট নির্বাচনে এডিনবরা সাউথওয়েস্ট আসনে লড়াই করেন ফয়ছল চৌধুরী।

এছাড়া ২০১৪ সালে স্কটিশ রেফারেন্ডাম চলাকালীন ‘বাংলাদেশিজ ফর বেটার টুগেদার ক্যাম্পেইন’-এর সমন্বয়কারী ছিলেন তিনি। ঐতিহাসিক গণভোট এবং অন্যান্য মূলধারায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটিকে যুক্ত করতে রয়েছে তার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা।


যাত্রীদের চাপ সামলাতে সব ফেরিঘাটে বিজিবি মোতায়েন

অবশেষে করোনামুক্ত হলেন খালেদা জিয়া

পৃথিবীতে আছড়ে পড়তে যাচ্ছে চীনা রকেট, দেখা যাচ্ছে লাইভে

কাবুলে স্কুলের পাশে বোমা বিস্ফোরণে নিহত ৫৫


ফয়ছল হোসেন চৌধুরী মা-বাবার সঙ্গে তরুণ বয়সে পাড়ি জমান ইংল্যান্ডে। প্রথমে ম্যানচেস্টার এবং পরে এডিনবরায় বসবাস শুরু করেন। বাবা শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে বড় ছেলে হিসেবে সেই তরুণ বয়সেই পরিবারের হাল ধরেন ফয়ছল চৌধুরী। তখন থেকেই যুক্ত রয়েছেন পারিবারিক ক্যাটারিং ব্যবসায়। ব্যবসার পাশাপাশি পারিবারিক ঐতিহ্য অনুযায়ী তরুণ বয়সেই শুরু করেন স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম।

মামা ড. ওয়ালী তসর উদ্দিন এমবিইর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তার কাছেই কমিউনিটি ওয়ার্কের হাতেখড়ি হয় ফয়ছল চৌধুরীর। দীর্ঘদিন ধরে এডিনবরা অ্যান্ড লোদিয়ান রিজিওন্যাল ইকুয়ালিটি কাউন্সিলের (এলরেক) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বিভিন্ন সংখ্যালঘু কমিউনিটির মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখার জন্য ২০০৪ সালে ব্রিটেনের রানি কর্তৃক ‘এমবিই’ খেতাবে ভূষিত হন তিনি।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফয়ছল চৌধুরী স্কটিশ পার্লামেন্টে নির্বাচিত

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর