মনে হচ্ছে সংকটে আছে ফ্রান্স ও এমানুয়েল মাক্রোঁ

মিল্লাত হোসেন

মনে হচ্ছে সংকটে আছে ফ্রান্স ও এমানুয়েল মাক্রোঁ

ফ্রান্স আর এমানুয়েল মাক্রোঁ'ই ইসলামের চেয়ে ঢের সংকটে আছেন বলে মনে হচ্ছে। তুর্কিদের সাথে টক্কর লেগে আফ্রিকাতে চলা পরোক্ষ ফরাসি_ঔপনিবেশিক মাতব্বরি টলায়মান প্রায়। আবার, মধ্যপ্রাচ্যে গলানো ফরাসি নাকের ডগাটিতেও ভালোই চোট লেগেছে।

অন্যদিকে, নিজ দেশে'ও জঁ মারি ল পেন এর বাড়বাড়ন্ত হাওয়ায় পরের নির্বাচনে হেরে ভুত হওয়ার শংকায় আছেন মাক্রোঁ।

এমন ত্রাহি মধুসূদন অবস্থা থেকে ড্রিবলিং করে বেরিয়ে যাওয়ার মরিয়া চেষ্টা হিসেবেই দেখছি মাক্রোঁ'র অবস্থানকে।

আরও পড়ুন: ইরফানের মতো সবার ক্ষেত্রেই ঘটুক আইনের এমন প্রয়োগ

ফরাসি পণ্য বয়কটের ডাকটিকেও একেবারে মন্দ বলে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ, মানবজাতির প্রতি করা ফরাসি জাতির কোন কোন নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ, নির্বিকার লুণ্ঠন আর নির্দয় যুদ্ধাপরাধকে অস্বীকার করা যায়?

কয়েক শতাব্দী ধরে আফ্রিকা, এশিয়া, উত্তর আমেরিকায় পৈশাচিক কায়দায় চালানো অর্থনৈতিক--রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক-নৃতাত্ত্বিক "ফ্রেঞ্চ ম্যাসাকার" আর কয়েক কোটি অফরাসি'র হত্যাও কম মানবতাবিরোধী নয়! এসবের বদলা হিসেবেও বয়কট করা যেতে পারে ফরাসি পণ্য। তাতে কাজ হলে হলো, না হলেও ক্ষতি নেই।

আরও পড়ুন: ফরাসি পণ্য বর্জনের ডাক কীভাবে ও কেন এলো ?

মানছি যে, বিশ্বসভ্যতায় ফরাসি অবদানও বিপুল। ফরাসি শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, বুদ্ধিবৃত্তিক ঔৎকর্ষের তারিফ না করা বেঈমানির শামিল হবে। কিন্তু, হে রুশো-সার্ত্র, লাকাঁ-ফুকো'র দেশবাসী- এ জন্য তো কিছু কম করে পাওনি, তাই না? আর গনিমতের মাল উপচে পড়লে তার প্রাচুর্যের উপজাত হিসেবে কিছু শিল্প-সাহিত্য বা বুদ্ধিবৃত্তি চুইয়ে পড়বেই। মানবসভ্যতার রীতিই এটা, এর জন্য খুব বেশি আলগা কৃতিত্ব নেয়ার অবকাশ নেই।

মাক্রোঁ'র ক্যালকুলেটেড ইসলামোফোবিয়ার তীব্র নিন্দা জানাবার সাথে সাথে এই ভেবে স্বস্তি পাচ্ছি যে, এই ঘটনার ভেতর দিয়ে পশ্চিমাদের অনেকদিন ধরে ছদ্ম ইহজাগতিকতার হিজাব-নেকাবে ঢেকে রাখা পুরনো বর্ণবাদী মুখখানিতো দেখা গেলো!

আচ্ছা, মাইমুনা কুটনি'র কথা মনে আছে তো মুসলিম ভাইবেরাদরদের? ওই যে, মহানবীর চলার পথে নিয়মিত কাঁটা বিছিয়ে দিয়ে হযরতকে কষ্ট দিতেন? একদিন হঠাৎ পথে কাঁটা না দেখে হযরত বিচলিত হয়ে তার ঘরে গিয়ে দেখলেন যে, বিছানো কাঁটা পায়ে ফুটে মাইমুনাই ধরাশায়ী হয়েছেন। তখন হযরত নিজেই লেগে গেলেন তার শুশ্রূষায়।

আরও পড়ুন: ফ্রান্স কী মুসলিমদের থ্রেট মনে করে?

৬ষ্ঠ-৭ম শতকে হযরতের রীতিমত বৈপ্লবিক ও মানবতাবাদী শিক্ষা থেকে অনেকখানিই দূরে সরে আসা যাকে কথিত জিহাদিপনার আভরণে সজ্জিত "ফ্যাশনেবল ইসলাম"ও বলা চলে, তাতে দীক্ষিত ১৮ বছরের বসনীয় মুসলিম প্রায় "শিশু"টি যে, জীবদ্দশায় মহানবীর সহিষ্ণুতা, উদারতার কোনো শিক্ষাই না পেয়েই খুন করলেন আর নিজেই খুন হয়ে গেলেন- এটা কী সেই "ফ্যাশনেবল ইসলাম" এরও একটা গুরুতর সমস্যা না?

মিল্লাত হোসেন, বিচারক।

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য