নাটোরের লালপুরে খাস জায়গা দখল করে পুকুর খনন!

নাসিম উদ্দীন নাসিম, নাটোর

নাটোরের লালপুরে খাস জায়গা দখল করে পুকুর খনন!

নাটোরের লালপুরের বিলশলীয়া বিলে সরকারী খাস জমি দখল ও দুটি ব্রীজের প্রবেশ মুখ বন্ধ করে দুটি পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে এক সরকারী কর্মকর্তার স্বজনদের বিরুদ্ধে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ ওই সরকারী কর্মকর্তার পরিবার তার প্রভাবকে ব্যবহার করে স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এই অবৈধ পুকুরটি খনন করেছেন। যাতে করে ওই বিলের কয়েকশ একর জমিতে বৃষ্টি বা বর্ষা হলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। এতে করে দুই তিন ফসলী জমি এক ফসলী ও কোন কোন জমি অনাবাদী জমিতে পরিণত হবে।

তবে পুকুর খননকারীদের দাবি, এতে পানি প্রবাহের কোন বিঘ্ন ঘটবে না, পুকুরের মধ্যে সরকারী জায়গা থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন তারা।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বিলশলীয়া বিলের দুটি ব্রীজের মাঝখানে দুটি পুকুর খনন করা হয়েছে। যাতে বন্ধ হয়ে গেছে দুটি ব্রীজেরই প্রবেশ মুখ। এতে করে বৃষ্টি বা বর্ষা হলে পানি প্রবাহের কোন সুযোগ থাকবে না।

এছাড়া স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, খননকরা পুকুরটির মধ্যে খাস জমি রয়েছে। পুকুর মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় কারো কোন কথাই তারা কর্ণপাত করেননি।

তারা জানান, স্থানীয় শরীফ আহমেদ লিংকন একজন সরকারী কর্মকর্তা হওয়ায় তার প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সরকারী কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে তারা দ্রুত পুকুরটি খনন করে ফেলেছেন। এছাড়া লিংকনের স্বজনরা এলাকার কৃষকদের নানা ভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে পুকুর খননকালে প্রতিবাদ করারও সুযোগ দেননি। স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করে অভিযোগ দিলেও বন্ধ হয়নি পুকুর খনন। পরে বিষয়টির সমাধান করতে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগও দাখিল করেছেন।

বিষয়টি খোঁজ নিতে সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে মুর্হুতের মধ্যে জন সমাগমের সৃষ্টি হয়। এ সময় পুকুর খননেন ফলে নানা অসুবিধার কথা তুলে ধরেন তারা।

এ সময় বিলে জমিতে চাষরত স্থানীয় কৃষক আব্দুল হাকিম বলেন, ব্রীজ বন্ধ করে পুকুর খনন করায় তারা তাদের ফসল নিয়ে শংকিত। বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে তার ফসল ঘরে উঠবে কি না তাই নিয়ে সংশয়ে আছেন তিনি। এছাড়া বর্ষার পানি নামাতেও বিঘ্ন ঘটবে বলে জানান তিনি।

ইজাহার আলী নামে আরো এক ব্যক্তি জানান, এই বিলে হাজার হাজার বিঘা কৃষকের জমির পানি প্রবাহ হতো এই ব্রীজের নিচ দিয়ে। কিন্তু পুকুর করায় এই পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। এতে তাদের ফসল উৎপাদন ব্যাহত হবে এমনকি অনেক জমি অনাবাদী হওয়ার আশংকা করেন তিনি।

তিনি বলেন, সরকার যেখানে পানি প্রবাহ নির্বিঘ্ন করতে ব্যবস্থা নেবে সেখানে আরো আমাদের বিলের পানি প্রবাহে বাধার সৃষ্টি করা হলেও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

আব্দুল হক নামে আরো একজন কৃষকও বলেন, তাদের ফসল আবাদ করা এখন শংকার মধ্যে পড়লো। দুই পাড়েই পুকুর করায় তারা এখন কিভাবে পানি নিষ্কাষণ হবে তা নিয়ে চিন্তিত তারা।

এদিকে কৃষকদের এমন নানা অভিযোগ ও কষ্টের কথা যখন শুনছিলেন সংবাদকর্মীরা। তখনই একটি বাইক যোগে পুকুর মালিকের ছেলেসহ ৩ জন সন্ত্রাসী কায়দায় সেখানে উপস্থিত হয়ে সবাইকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এসময় কৃষকরা প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠলে সেখানে বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।

পরে গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যস্ততায় পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে এ সময় সংবাদকর্মীদের সাথে উত্তেজিত হওয়া গোয়ালীপাড়ার শিবলি নামের এক যুবক নিজেকে পুকুর মালিক পক্ষের দাবী করলেও আসলে পুকুর মালিকের সাথে তার অবস্থান পরিষ্কার করতে পারেননি তিনি। এ সময় তিনি একবার পুকুর মালিকরে ভাই ও আরেকবার লিজগ্রহীতার লোক বলে দাবী করে। পরে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। ফসলী জমিতে পুকুর খনন বৈধ কিনা বা পাস আছে কিনা জানতে চাইলে প্রথমে পাস ও বৈধতার দাবী করলেও পরে তার ব্যাপারে কোন প্রমাণ উপস্থাপনে ব্যর্থ হন সে।

এ সময় পুকুর মালিক শরীফ আহমেদ লিংকনের ছোট ভাই আবু সাঈদ দুলু বলেন, সরকারী নিয়ম মেনে তারা পুকুর খনন করেছেন। এতে পানি প্রবাহের কোন সমস্যা হবে না । কারণ পানি প্রবাহের জন্য তারা রিং স্থাপন করেছেন। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে সমস্যা হলে তারা পুকুরের পাড় কেটে হলেও পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করে দেবেন।

এছাড়া পাশে একটি খাল ছিল সেটা পুন:সংস্কার করলে পানি প্রবাহে বাধা থাকবে না বলে দাবী করেন তিনি। তবে পুকুরের মধ্যে সরকারী খাস জায়গা থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি। তার দাবী রাস্তা করার সময় তাদের জমি রাস্তার মধ্যে চলে যাওয়ায় পাশের খাস জমিতে তারা পুকুর খনন করেছেন।

পুকুর খনন ব্যাপারে তিনি বলেন, প্রশাসনের মৌখিক অনুমতি নিয়ে তারা পুকুর খনন করেছেন কারণ প্রায় ২০ বছর থেকে তারা জমিতে কোন ফসল পান না।

আরও পড়ুন


ইলিশ ধরতে জেলেদের অপেক্ষা, মধ্য রাতে শেষ হচ্ছে নিষেধাজ্ঞা (ভিডিও)

দুবাই থেকে আসা বিমানে মিললো ২ কোটি টাকার স্বর্ণ

তাসকিন-মিরাজ ঘূর্ণিতে বিপাকে লঙ্কানরা, টাইগার শিবিরে উচ্ছ্বাস

যে ৬ বিভাগে আজও ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে


এদিকে আড়বাব ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের (একাংশের) সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম দাবী করেন, এই দুটি ব্রীজ দিয়ে দুই ইউনিয়নের পানি প্রবাহ হয়। কিন্তু দুটি পুকুর খননের ফলে সেই পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধকতার সৃষ্টি হবে। এরা প্রভাবশালী ও সন্ত্রাসীদের সাথে নিয়ে মানুষকে জিম্মি করে এসব কাজ করে। আজ সন্ত্রাসী নিয়ে হাজির হওয়াই তার প্রমাণ করে।

তিনি বলেন স্থানীয় প্রশাসনকে বারবার অভিযোগ দিয়েও কাজ হয়নি তাই উর্দ্ধতন বিভাগেও অভিযোগ করা হয়েছে। অবিলম্বে এই পুকুর অপসারণ করা না গেলে আগামী বর্ষা মৌসুমে এ এলাকায় কৃষকদের কষ্টের শেষ থাকবে না।

সেখানে উপস্থিত আড়বাব ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, পুকুর খননের ব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কোন মতামত নেয়া হয়না। বরং জানতে চাইলে হুমকি ধামকি প্রদান করা হয়। এ সময় তিনি বলেন এই পুকুর খননের ফলে এলাকার যে ক্ষতি সাধন হবে তা পূরণ করা অসম্ভব। তাই এটা প্রতিরোধ করা না গেলে এলাকার মানুষ চরম ক্ষতিতে পড়বেন।

এদিকে অভিযুক্ত সরকারী কর্মকর্তা ও রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফ আহম্মেদ লিংকন এর সাথে তাঁর মুঠো ফোনে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে লালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ( দায়িত্ব প্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার ভ‚মি শাম্মী আক্তার খাস জমির বিষয়টির ব্যাপারে সত্যত স্বীকার করে বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়েছি, ব্রিজের মুখে যে ভাবে পকুর খনন করা হয়েছে। এতে কিছুটা হলেও পানি নিস্কাশনে বাধাগ্রস্থ হবে। আর খাস জমির বিষয়ে মৌখিক ভাবে অভিযোগ পেয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

শেরপুরে মৃগী নদীতে গোসল করতে নেমে কিশোরীর মৃত্যু

জুবাইদুল ইসলাম, শেরপুর

শেরপুরে মৃগী নদীতে গোসল করতে নেমে কিশোরীর মৃত্যু

শেরপুরে মৃগী নদীতে গোসল করতে নেমে তানজিলা আক্তার (১২) নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। ১৭ মে সোমবার দুপুরে সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নের ধোপাঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত তানজিলা স্থানীয় ইনসান মিয়ার মেয়ে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ইনসান মিয়া ঈদে ঢাকা থেকে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে চরশেরপুর ধোপাঘাট এলাকায় বাড়িতে বেড়াতে আসেন। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তার কিশোরী মেয়ে তানজিলা ও শিশু ছেলে জিহাদ বাড়ির পাশেই মৃগী নদীতে গোসল করতে নেমে হঠাৎ পানি ডুবে যায়। পরে স্থানীয়রা শিশু জিহাদকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও নিখোঁজ হয় কিশোরী তানজিলা। পরে প্রায় আড়াই ঘণ্টা চেষ্টা করে তানজিলাকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা। এরপর তাকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তানজিলাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, নিখোঁজের খবর পেয়ে সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ওই ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। 

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

ত্রিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের বাড়ি শেরপুরে চলছে শোকের মাতম

জুবাইদুল ইসলাম, শেরপুর

ত্রিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের বাড়ি শেরপুরে চলছে শোকের মাতম

ময়মনসিংহের ত্রিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত একই পরিবারের তিনজনের বাড়ি শেরপুর সদর সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নের বাঘেরচর এলাকায় চলছে শোকের মাতম। কান্না থামছে না পরিবারটির সদস্যদের। তাদের কান্নাকাটি ও আহাজারিতে পরিবেশ ক্রমেই ভারি হয়ে উঠছে।

স্থানীয় ও স্বজনরা জানায়, ঈদের কিছুদিন আগে বাবার মৃত্যুর খবর শুনে ঢাকা থেকে বাড়ি আসেন শেরপুর সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নের বাঘেরচর গ্রামের সেকান্দর আলীর ছেলে আমান উল্লাহ (৩০), মেয়ে নাজমা (৩৫) ও নাজমার কন্যা লালমনি (৮)। এদের মধ্যে আমানউল্লাহ ঢাকায় কাঁচামালের ব্যবসা, নাজমা বেগম তার স্বামী ইব্রাহিম ও সন্তান লালমনিকে নিয়ে ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। বাবা সেকান্দর আলীর দাফন শেষে আর ঢাকা যাননি তারা। পরে ঈদুল ফিতরের পর কর্মস্থলে ফিরতে সোমবার রাতে শেরপুর থেকে বেগুন ভর্তি একটি পিকআপ ভ্যানে করে বোন ও ভাগনিকে নিয়ে ঢাকায় রওনা দেয় আমান উল্লাহ। পথিমধ্যে ত্রিশালে পিকআপ ভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বালুভর্তি একটি ট্রাকের সাথে ধাক্কা লেগে ঘটনাস্থলেই ভাই আমান উল্লাহ, বোন নাজমা ও ভাগনি লালমনির মৃত্যুর হয়। এ মৃত্যুর খবর পৌঁছার পর থেকেই পরিবারটিতে শুরু হয়েছে শোকের মাতম। থামছেই না তাদের কান্না। পাশাপাশি এলাকাতেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তবে বিকেল ৪টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতদের লাশ পৌঁছেনি বাড়িতে।

নিহত আমানউল্লাহর চাচাতো ভাই ফারুক আহমেদ জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাদের পরিবারের ২ জন সদস্যকে ত্রিশালে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লাশ নিয়ে আসার পর আমান উল্লাহকে তার নিজ বাড়িতে বাবার কবরের পাশে এবং নাজমা ও লালমনিকে নাজমার শ্বশুরবাড়ি পার্শ্ববর্তী ইসলামপুর উপজেলার বেনুয়ারচর গ্রামে দাফন করা হবে।

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

পাওনা টাকা নিয়ে বাকবিতন্ডায় স্কুল শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা, আটক ১

আকবর হোসেন সোহাগ, নোয়াখালী

পাওনা টাকা নিয়ে বাকবিতন্ডায় স্কুল শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা, আটক ১

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়াতে পাওনা টাকা নিয়ে বাকবিন্ডার জের ধরে এক স্কুল শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক পুলিশ এক যুবককে আটক করেছে।

নিহত কাজল কৃষ্ণ দাস (৫৫) উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের চর আমানুল্লা গ্রামের লোচন বেপারী পুত্রের বাড়ির বসন্ত কুমার দাসের ছেলে এবং স্থানীয় ইন্দুরসরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছিলেন।

সোমবার (১৭ মে) ভোর রাতে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামলার শিকার ওই শিক্ষকের মৃত্যু হয়।

এর আগে, রোববার রাতে খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযুক্ত যুবক শান্ত মজুমদারকে (২০) তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে। সে উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের চর আমান উল্যাহ গ্রামের খোকন চন্দ্র মজুমদারের ছেলে।

আরও পড়ুন

  নিজাম প্যালেসে গিয়ে মমতার হুঁশিয়ারি ‘আমাকে গ্রেপ্তার করুন’

  মোবাইল চুরির অভিযোগে কিশোরকে হাত-পা বেঁধে নির্মম নির্যাতন

  করোনা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে সেখানেও দুর্নীতি করেছে সরকার: মির্জা ফখরুল

  নারদকাণ্ডে মমতার তৃণমূলের ৪ হেভিওয়েট নেতা গ্রেপ্তার

 

স্থানীয়রা জানায়, গতকাল রোববার বিকেলের দিকে পাওনা টাকা নিয়ে একই এলাকার শান্ত মজুমদারের (৪০) সাথে স্কুল শিক্ষক কাজলের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে শান্ত উত্তেজিত হয়ে স্কুল শিক্ষক কাজলকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেন। রাতে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর ৪টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, হাসপাতাল স্কুলশিক্ষকের মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলে এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানা যাবে। এর আগে অভিযুক্ত শান্তকে আটক করে পুলিশ। পরবর্তীতে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

মোবাইল চুরির অভিযোগে কিশোরকে হাত-পা বেঁধে নির্মম নির্যাতন

মাসুক হৃদয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

মোবাইল চুরির অভিযোগে কিশোরকে হাত-পা বেঁধে নির্মম নির্যাতন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় মোবাইল চুরির অভিযোগে এক কিশোরকে হাত-পা বেঁধে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। নির্যাতিত ইয়াকুব (১৩) ওই উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের মেরাসানী গ্রামের মৃত মজলু ভূইয়ার ছেলে।

গতকাল রোববার ওই কিশোরকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক মিলে ওই কিশোরকে হাত-পা বেঁধে মাটিতে ফেলে নির্যাতন করছে। এ সময় সে চিৎকার করলেও কেউ কর্ণপাত করেনি।

নির্যাতিত কিশোরের পরিবারের লোকজন জানায়, গত চারদিন আগে স্থানীয় মিরাসানী গ্রামের রুবেলের ভগ্নিপতির বাড়িতে মোবাইল চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত শনিবার সন্দেহজনকভাবে কিশোর ইয়াকুবকে কৌশলে ডেকে রুবেলের বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে মোবাইল চুরির অভিযোগে রুবেলসহ বাবু, মান্না ও আরো কয়েকজন মিলে তার হাত-পা বেঁধে বেধড়ক পেটাতে থাকে। পরে ইয়াকুবের কান্নার শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন তার পরিবারে খবর দিলে তাকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

আরও পড়ুন

  করোনা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে সেখানেও দুর্নীতি করেছে সরকার: মির্জা ফখরুল

  নারদকাণ্ডে মমতার তৃণমূলের ৪ হেভিওয়েট নেতা গ্রেপ্তার

  করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি কবি জয় গোস্বামী

  ফিলিস্তিনিদের বাঁচাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান বাংলাদেশের

 

নির্যাতনের শিকার কিশোর ইয়াকুব জানান, তাকে চেয়ারের সাথে বেঁধে মারধর করা করা হয়েছে এবং ইলেকট্রিক শক দেয়া হয়েছে। পরে তার পরিবারের লোকজন এসে উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষনিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

পদ্মায় স্পিডবোট দুর্ঘটনা: ২৬ জনের প্রাণহানির মামলায় প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

বেলাল রিজভী, মাদারীপুর

পদ্মায় স্পিডবোট দুর্ঘটনা: ২৬ জনের প্রাণহানির মামলায় প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

মাদারীপুরের শিবচরের বাংলাবাজার ঘাট সংলগ্ন কাঁঠালবাড়ি ঘাটে পদ্মা নদীতে স্পিডবোট দুর্ঘটনায় ২৬ জনের প্রাণহানির ঘটনায় চালক প্রধান আসামি শাহ আলম মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে নৌ পুলিশ।

নৌপুলিশের কাঁঠালবাড়ি ঘাটের পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাক জানান, গত ৩ মে সোমবার সকালে ঘাটে নোঙর করে রাখা বালুবোঝাই বাল্কহেডের সঙ্গে শিমুলিয়া থেকে আসা একটি দ্রুতগতির স্পিডবোটের সংঘর্ষ হয়। এতে স্পিডবোটটি ডুবে যায় এবং পরে ২৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নৌ-পুলিশের এসআই লোকমান হোসেন বাদী হয়ে শিবচর থানায় স্পিডবোটের চালক শাহ আলম, দুই মালিক চান্দু মিয়া ও রেজাউল এবং ঘাটের ইজারাদার শাহ আলম খানের নামসহ অজ্ঞাত একাধিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করে।

দুর্ঘটনার পর থেকে বোট চালক শাহ আলম গুরুতর অসুস্থ্য অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। রোববার বিকালে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিলে নৌপুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। রাত ৮টার দিকে গ্রেপ্তারকৃত শাহ আলমকে শিবচর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

  কেউ বেঁচে নেই ১০ বছরের ফিলিস্তিনি শিশুর, প্রশ্ন ‘আমি এখন কী করব?’ (ভিডিও)

  হামাসের কাছে যে ১৫ ধরনের রকেট মিশাইল রয়েছে

  আজকের দিনে বাংলার মাটিতে ফিরে এসেছিলেন শেখ হাসিনা

  যেভাবে সালাতুত তাসবিহ পড়তে বলেছেন বিশ্বনবী

 

এর আগে স্পিডবোটের মালিকদের একজন চান্দু মোল্লাকে ৯ মে ঢাকার কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এরপরেই চালক শাহ আলমকে গ্রেপ্তার দেখাল পুলিশ। মামলার পরে এ পর্যন্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পরে চালক মো. শাহ আলমকে গুরুতর অবস্থায় শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। প্রশাসনের নির্দেশনা ওই চালকের ডোপ টেস্টের নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হয়। পরে তাঁর ডোপ টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এই ঘটনায় জেলা প্রশাসন থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই তদন্ত প্রতিবেদনে চালক মাদকাসক্ত হওয়ায় পদ্মায় স্পিডবোট দুর্ঘটনায় ২৬ জনের প্রাণ গেছে বলে জানানো হয়েছে।

আজ সোমবার তাকে কোর্টের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর