ঝুমন দাসের মুক্তির দাবিতে নিউ ইয়র্কে উদীচী যুক্তরাষ্ট্রের সমাবেশ

লায়লা নুসরাত, কানাডা

ঝুমন দাসের মুক্তির দাবিতে নিউ ইয়র্কে উদীচী যুক্তরাষ্ট্রের সমাবেশ

সুনামগঞ্জের শাল্লায় সাম্প্রদায়িক নিপীড়নের শিকার ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতারকৃত ঝুমন দাস আপনের মুক্তির দাবিতে ৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে নিউ ইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশের আয়োজন করে উদীচী যুক্তরাষ্ট্র শাখা। সাধারণ সম্পাদক জীবন বিশ্বাসের পরিচালনা ও সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য, জাগরণের গান এবং কবিতার পরিবেশনা দিয়ে পুরো অনুষ্ঠানটিকে সাজানো হয়। বিভিন্ন বক্তার বক্তব্যের মাঝে প্রতিবাদী সঙ্গীত ও কবিতা আবৃত্তি অনুষ্ঠানটিকে আকর্ষণীয় করে তোলে এবং অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য অত্যন্ত সফলভাবে উপস্থিত শ্রোতা দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয়।

পুরো অনুষ্ঠানের তাদারকি করেন উদীচী যুক্তরাষ্ট্রের সম্মানিত সভাপতি ডঃ মোঃ আব্দুল্লাহ। অনুষ্ঠানের শুরুতেই জীবন বিশ্বাস ঝুমন দাসের অকারণ গ্রেফতারের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয় অনুষ্ঠানের সূচী তুলে ধরেন। শুরুতেই উদীচী যুক্তরাষ্ট্রের সম্মানিত উপদেষ্টা এবং প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদউল্লাহ তার মূল্যবান বক্তব্য রাখেন। তিনি বর্তমান সরকারকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের আহ্ববান জানিয়ে ঝুমন দাসের মুক্তি দাবি করেন। ঝুমন দাসকে মুক্তি না দিয়ে কেন তাকে আটক রাখা হয়েছে, তাও তিনি জানতে চান। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে তিনি দেশের সাম্প্রদায়িক চক্রকে রুখতে সকল প্রগতীশীল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এবং আবারো ঝুমন দাসের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

এর পরে বক্তব্য রাখেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কন্ঠ যোদ্ধা, একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়। তিনি মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে বাংলাদেশ নামে যে অসাম্প্রদায়িক দেশের জন্ম হয় সে দেশে কিভাবে সাম্প্রদায়িক নিপীড়ন হয় – সে প্রশ্ন রাখেন। ঝুমন দাসের গ্রেপ্তারের  নিন্দা জানিয়ে তিনি অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।

শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়ের বক্তব্যের পরে ‘জয় বাংলা বাংলার জয়” গানটি পরিবেশিত হয় উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সমবেত কণ্ঠে। এর পরপরই বিপ্লব চক্রবর্তী আবৃত্তি করেন নির্মলেন্দু গুণের বিখ্যাত কবিতা ‘স্বাধীনতা উলঙ্গ কিশোর’। এর পরে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা হাকিকুল ইসলাম খোকন। তিনিও দ্ব্যর্থকণ্ঠে ঝুমন দাসের মুক্তি দাবি করেন। এর পর আব্দুল লতিফ রচিত ও সুরারোপিত দেশের গান ‘সোনা সোনা সোনা লোকে বলে সোনা’ পরিবেশিত হয়। এর পর বক্তব্য রাখেন উদীচীর শুভানুধ্যায়ী বিষ্ণুপদ গোপ। তিনি মানবাধিকারে কথা বলে সরকারের কাছে ঝুমন দাসের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।

বিষ্ণুপদ গোপের বক্তব্যের পরে ‘আগুন নিভাইবো কে রে’ গানটি পরিবেশিত হয়। এই গানের পরে বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্কের বিশিষ্ট প্রতিবাদী মুখ মিনহাজ আহমেদ শাম্মু। তিনি বাংলাদেশের সংখ্যাগুরু জনগনের শাসন চলে কিনা তা নিয়ে দীর্ঘ বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন বঙ্গবন্ধুর চেতনা আমরা উঁচিয়ে রাখতে পারিনি। তিনিও ঝুমন দাসের মুক্তি দাবি করেন। মিনহাজ আহমেদের বক্তব্যের পরে ‘মুক্তির মন্দির সোপান তলে’ গানটি পরিবেশিত হয়। এর পরে বক্তব্য রাখেন তোফায়েল আহমেদ, যিনি সুনামগঞ্জের শাল্লারই বাসিন্দা কিন্তু বর্তমানে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বসবাস করছেন এবং তিনি শাল্লা থানার আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন দীর্ঘ ১৮ বছর। তিনি অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে ঝুমন দাসের জামিন না হওয়া নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং তার মুক্তি দাবী করেন।

আরও পড়ুন


৩১ হাজার টাকা বেতনে ১০৭৫ জনকে চাকরি দেবে পূবালী ব্যাংক

ময়মনসিংহ মেডিকেলে করোনা ইউনিটে আরও ৪ জনের মৃত্যু

নামকরণের সার্থকতা

নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডকে মেটাল শার্ক ও ডিফেন্ডার টহল বোট উপহার যুক্তরাষ্ট্রের


অনুষ্ঠানের সহযোগিতায় ছিলেন নিউইয়র্কের অন্যান্য অনেক সংগঠন কিন্তু অনুষ্ঠানটি সাপ্তাহিক কাজের দিনে হওয়ার কারণে অনেকে অংশগ্রহন করতে পারেন নি। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ফাহিম রেজা নূর এই অনুষ্ঠানে আসতে না পেরে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। সাপ্তাহিক ঠিকানার সম্পাদক ফজলুর রহমান এই প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশে শারিরীক অসুস্থতার কারণে না আসতে পেরে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং এর প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে ঝুমন দাসের মুক্তি দাবী করেন। এ ছাড়া ইচ্ছে থাকা সত্বেও উদীচী যুক্তরাষ্ট্রের উপদেষ্টা ডঃ নুরুন্নবী, হাসান ফেরদৌস, ডাঃ জিয়াউদ্দীন আহমেদ এবং বেলাল বেগ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি কিন্তু তারা এই প্রতিবাদ সভার সংগে সংহতি প্রকাশ করে এর সাফল্য কামনা করেছেন এবং ঝুমন দাসের মুক্তি দাবি করেছেন। উপস্থিত ছিলেন সাপ্তাহিক পরিচয়ের নাজমুল আহসান, সাংবাদিক সঞ্জীবন সরকার, কাণু দত্ত সহ আরো অনেকে।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেছেন উদীচী যুক্তরাষ্ট্রের একঝাঁক আদর্শবাদী কর্মীর দল; মহাদেব মল্লিক, মুক্তা ধর, ফজলুল করিম, সমীর মণ্ডল, সংগীতা চক্রবর্তী, তৃষা মণ্ডল, শুক্লা চক্রবর্তী, নাজনীন সুলতানা, বেবী মণ্ডল, পরেশ ধর, বিপ্লব চক্রবর্তী, সুকান্ত দাস, প্রমিত মহান আচার্য্য, সুনিল বিশ্বাস, মোহিত আচার্য্য, হেনা রায়, সুক্তি বিশ্বাস, অনামিকা মজুমদার, উদিতা তন্বী, অনিতা মল্লিক, সাবিনা হাই উর্বি, দিব্য রায়, বিশ্বজিৎ কর্মকার, দীপ্ত রায়, শীলা ধর, সীমা রায়, স্মরণিকা চক্রবর্তী, প্রিমা রায়, তুষার রায় সহ আরো অনেকে। অনুষ্ঠানটির সার্বিক গ্রন্থনা, উপস্থাপনা ও সংগীত পরিচালনায় ছিলেন উদীচী যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ সম্পাদক জীবন বিশ্বাস।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

কানাডার সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী বাংলাদেশি মিজানুর রহমান

লায়লা নুসরাত, কানাডা

কানাডার সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী বাংলাদেশি মিজানুর রহমান

আগামী ১৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কানাডার ক্যালগেরিতে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। এই নির্বাচনে বিভিন্ন ভাষাভাষীর ২৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরমধ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মিজানুর রহমান মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন।

ক্যালগেরির সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীরা করোনায় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কর্মসূচী, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ে নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্যালগেরি শহর চষে বেড়াচ্ছেন। লিফলেট, পোষ্টার আর সাইনবোর্ডে সয়লাব এখন পুরো ক্যালগেরি শহর।

অন্যদিকে কানাডার বাংলাদেশি কমিউনিটি থেকে এবার মিজানুর রহমান একাই সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন।

মিজানুর রহমান ছোট্ট বয়সে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য দিয়ে সাহায্য করতেন। বাংলাদেশে থাকার সময় ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতিতে সম্পর্কৃত ছিলেন। বিভিন্ন দেশে বসবাস করার সুবাদে তিনি রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজ সম্পর্কে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা লাভ করেন। এছাড়াও তিনি বাাংলা, ইংরেজি, ফরাসি, ইতালীয়, হিন্দি, উর্দু ইত্যাদি ভাষায় দক্ষ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর ১৯৮৮ সালে কানাডায় এসে বিভিন্ন পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন।

২০১৫ সালে মিজানুর রহমান ক্যালগারি পশ্চিমের এনডিপি রাজনৈতিক দলের প্রথম রানার-আপ প্রার্থী ছিলেন। তিনি ইউনাইটেড কনজারভেটিভ পার্টির নির্বাচনী এলাকার পরিচালনা পর্ষদের একজন কার্যকরী সদস্য।

মিজানুর রহমান তাঁর  রাজনৈতিক জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ক্যালগেরিবাসী তথা প্রবাসীদের সেবায় এগিয়ে আসতে চান। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ক্যালগেরি শহরের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে আমি অবগত। শুধু বাংলাদেশী কমিউনিটি নয় অন্যান্য সংখ্যালঘিষ্ট নৃজাতি কমিউনিটিগুলির একই অবস্থা। কানাডার প্রধান স্বেতাঙ্গ জাতি যে পর্যায়ে এগিয়ে আছে তাতে কানাডার সকল সুযোগ সুবিধা ওরাই ভোগ করছে। সংখ্যালঘু নৃজাতি কমিউনিটিগুলির বড় সমস্যা হচ্ছে ভাষা ও প্রতিকুল আবাহাওয়া। ফলে স্বেতাঙ্গ জাতির সাথে চাকুরী বাজার ও ব্যাবসা বানিজ্য আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। তিনি আরো বলেন--আমি আসন্ন ক্যালগেরি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জয়ী হলে এই সমস্যাগুলি পরির্বতনের জন্য আমাদের কমিউনিটি নেতৃবৃন্দদের কানাডিয়ান জীবনযাত্রা ও ভাষা শিক্ষাকে উৎসাহিত করবো। এছাড়াও আমার নির্বাচনী এজেন্ডায় মহান ভাষা আন্দোলনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন পূর্বক একটি শহীদ মিনার স্থাপন করার অঙ্গিকার করেছি। যেখানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা কে সম্মান করতে কানাডিয়ানরাও এগিয়ে আসবে। এই শহীদ মিনার আমাদের চেতনাকে সমৃদ্ধ করবে।

আরও পড়ুন


শতবর্ষী মায়ের অপেক্ষা, ৭০ বছর পর কুদ্দুস খোঁজ পেলেন পরিবারের

ফের বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন কপিল শর্মা

শনিবার রাজধানীর যে সব মার্কেট ও দর্শনীয় স্থান বন্ধ

করোনা মোকাবিলায় জাতিসংঘে ৬ প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর


তিনি আরও বলেন, কানাডার প্রধান স্বেতাঙ্গ সমাজ আমাদেরকে অদক্ষ শ্রমিক মনে করে কিন্তু আমরা কেউই অদক্ষ নই। শুধু ভাষাই প্রতিবন্ধক। এই সমস্যাটি অতিক্রম করতে পারলে কানাডার মাটিতে আমরা অনেক সুযোগ সুবিধা লাভ করব এবং কানাডার অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারব। আর এই জন্য আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

উল্লেখ্য কানাডার নির্বাচন এবং রাজনীতিতে প্রবাসীদের অংশগ্রহণ কানাডার সরকার এবং রাজনীতিতে কমিউনিটির গুরুত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে, ফলে অভিবাসন, শিক্ষা, শ্রমশক্তি রপ্তানি, অর্থপাচারসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের স্বার্থের পক্ষে নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করছেন কানাডায় বসবাসরত প্রবাসী রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশি পারভেজ লড়ছেন দক্ষিণ আফ্রিকার নির্বাচনে

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশি পারভেজ লড়ছেন দক্ষিণ আফ্রিকার নির্বাচনে

দক্ষিণ আফ্রিকায় আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নেলসন ম্যান্ডেলার দল এএনসি থেকে কমিশনার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশি নাগরিক পারভেজ আহামদ।দক্ষিণ আফ্রিকায় পারভেজ আহামদ প্রথম বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে দেশটির স্থানীয় নির্বাচনে কমিশনার পদে লড়বেন। 

১ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকায় স্হানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে নেলসন ম্যান্ডেলার  ক্ষমতাসীন দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (এএনসি) থেকে পারভেজ আহামদ কমিশনার পদে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন। 

দেশটির ফ্রি স্টেইট প্রদেশের ব্লুমফন্টেইনের মাংগুয়ান মিউনিসিপালিটির ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার পদে পারভেজ আহামদ এ মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন।


সিলেটে বাসার ছাদ থেকে আপন দুই বোনের মরদেহ উদ্ধার

ক্ষমতায় থাকছেন ট্রুডো, তবে গঠন করতে হবে সংখ্যালঘু সরকার

মিডিয়া ভুয়া খবর ছড়িয়েছে: বাপ্পী লাহিড়ি


১৯৯৮ সালে জীবন-জীবিকার তাগিদে দক্ষিণ আফ্রিকা পাড়ি জমানো পারভেজ আহামদ কাজের পাশাপাশি ২০০৭ সালে নেলসন ম্যান্ডেলার দল এএনসিতে সাধারণ সদস্য হিসেবে যোগ দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরপর ২০০৯ সালে এএনসির পূর্ণাঙ্গ সদস্য পদ লাভ করেন। ২০১১ সালে মাংগুয়ান মিউনিসিপালিটির ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সেক্রেটারি নির্বাচিত হয়েছেন পারভেজ আহামদ।  ২০১২ সালে এএনসির ন্যাশনাল কনফারেন্সের ডেলিগেট এবং ২০১৩ সালে নির্বাচন টাস্ক টিমের সদস্য ছিলেন তিনি।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

কথাসাহিত্যিক আনিসুল হকের সাথে টরন্টোয় লেখক-আড্ডা

লায়লা নুসরাত, কানাডা

কথাসাহিত্যিক আনিসুল হকের সাথে টরন্টোয় লেখক-আড্ডা

বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মকে নিয়ে উদ্বিগ্ন নন, বরং প্রচন্ড আশাবাদী জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের সিংহভাগই নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সুষ্পষ্ট ধারনা এবং পরিকল্পনা নিয়েই বড় হচ্ছে। দেশের মানুষও একটি নির্দিষ্ট সময়ান্তরে ভালো কিছুর স্বপ্ন নিয়েই সামনে এগিয়ে যায়।

কানাডার স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় টরন্টোয় পাঠক, ভক্ত, শুভানুধ্যায়ীদের সাথে এক লেখক আড্ডায় তিনি এই কথা বলেন। কানাডার বাংলা পত্রিকা ‘নতুনদেশ’ এর প্রধান সম্পাদক  শওগাত আলী সাগরের সঞ্চালনায় টরন্টো ফিল্ম ফোরামের মাল্টিকালচারাল সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই লেখক - আড্ডায় কবি আসাদ চৌধুরী সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। টরন্টো ফিল্ম ফোরামের সভাপতি এনায়েত করীম বাবুল এতে সমাপনী বক্তব্য রাখেন। 

আনিসুল হক তাঁর বক্তব্যে নিজের লেখক হয়ে ওঠার কাহিনী বর্ণনার পাশাপাশি নিজের সম্প্রতি সমাপ্ত উপন্যাস,  সমসাময়িক কবি লেখকদের  সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে নিজের  ভাবনা, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা  এবং বিশ্লেষন তুলে ধরেন।
 
খান আদিব আল আশিক এর গিটারের সাথে ফাতমা সুমাইয়া খান বিদুর কণ্ঠে আনিসুল হকের লেখা কবিতা আবৃত্তি দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। টরন্টোর শুভানুধ্যায়ীদের পক্ষে আতিকুর রহমান  কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক এবং কবি আসাদ চৌধুরীকে ফুল দিয়ে  শুভেচ্ছা জানান। 

নতুন প্রজন্ম সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে লেখক আনিসুল হক বলেন, তরুনদের বড় একটি অংশই বই এবং অন্যান্য টেক্সট  পড়েন। বিভিন্ন ফোরামে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্ন করেন যাতে তাদের পড়াশোনা সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায়। 

আনিসুল হক, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তার ৬ খন্ডের উপন্যাস ‘রক্তে আঁকা ভোর’ এর প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ২০০৯ সাল থেকে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক এই উপন্যাসের কাজ শুরু করেন। তিনি বলেন, এই উপন্যাসে তিনি বাংলাদেশের গৌরবোজ্জল একটা সময়কে  যতোটা পেরেছেন তুলে আনার চেষ্টা করেছেন। 

বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে সাংবাদিকতা এবং মিডিয়া  নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে  আনিসুল হক বলেন,মিডিয়ার কাজ হচ্ছে সরকারকে পাহারা দিয়ে রাখা। গনতন্ত্রের স্বার্থেই মিডিয়াকে এটি করতে হয়। কার্যকর গনতন্ত্রে সবসময়ই মিডিয়া এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ ভূমিকা রাখে। এতে সরকারই উপকৃত হয়।  তিনি বলেন, প্রথম আলোসহ বাংলাদেশের অধিকাংশ মিডিয়া পাহারা দেয়ার সেই কাজটি করে যাচ্ছে। কিন্তু রাষ্ট্রকে পাহারা দেয়ার  ক্ষেত্রে  কখনো কখনো নরম অবস্থান নিতে হয়, সেটি বাস্তবতার কারনেই করতে হয়।

কবি আসাদ চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে কথা সাহিত্যিক আনিসুল হকের মেধা এবং প্রতিভার প্রশংসা করে বলেন, লেখক হিসেবে আনিসুল হক জনপ্রিয় কিন্তু তার সবচেয়ে বড় গুণ তার বিনয়। অকপটে অন্য লেখকের প্রশংসা করা এবং অগ্রজদের সম্মান করার  ক্ষেত্রে তিনি অকৃপণ। 

রও পড়ুন:

প্রেমের স্বীকৃতি না পেয়ে প্রেট্রোল ঢেলে আগুন দিলেন নারী!

বেড়াতে গিয়ে অতিরিক্ত মদ পানে দুই ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু

শুক্রবার রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দর্শনীয় স্থান বন্ধ থাকবে

মাদাগাস্কারে গরু চুরি নিয়ে সংঘর্ষে ৪৬ জন নিহত


আনিসুল হকের ‘রক্তে আঁকা ভোর’ উপন্যাসকে  মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে অসাধারন কাজ হিসেবে অভিহিত করে কবি আসাদ চৌধুরী বলেন,  ইতিহাসকে আশ্রয় করে উপন্যাস লেখার ক্ষেত্রে আনিসুল হক ইতিহাসের প্রতি সত্যনিষ্ঠ থেকেছেন।

'নতুনদেশ' এর প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগর বলেন, সাহিত্য এবং সাংবাদিকতায় দাপটের সাথে বিচরনের মাধ্যমে আনিসুল হক নিজেকে স্বতন্ত্র স্বত্ত্বা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত  করতে পেরেছেন। মুক্তিযুদ্ধে ভাবধারায় নাগরিকদের মানস গঠনে  তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্টের সাথে হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাত

অনলাইন ডেস্ক

মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্টের সাথে হাইকমিশনারের  সৌজন্য সাক্ষাত

মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফয়সাল নাসিমের সাথে তার কার্যালয়ে মালদ্বীপস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনার  রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এক সৌজন্য সাক্ষাত করেন।

বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর এই সাক্ষাত অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৪৩ তম বার্ষিকীর দিনে উক্ত আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ স্থান পায়। এবং বাংলাদেশ হতে বিভিন্ন পেশার কর্মী আগমনের বিষয়ে গত ২০১৯ সেপ্টেম্বর মাস হতে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বাতিলের জন্য মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্টের মাধ্যমে মালদ্বীপ সরকারকে অনুরোধ জানান রাষ্ট্রদূত রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ।

এছাড়া ও উভয়পক্ষ বিশেষত স্বাস্থ্য সেবা খাতে উচ্চ শিক্ষা এবং বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কর্তৃক মালদ্বীপকে সহায়তা প্রদানের বিষয়ে আলোচনা করেন।  

আরও পড়ুন:

অবশেষে ব্রিটেনের লাল তালিকা থেকে বাদ পড়ছে বাংলাদেশ

বেড়াতে গিয়ে অতিরিক্ত মদ পানে দুই ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু

আর কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে না, জানালেন কৃষিমন্ত্রী

ইভ্যালির সঙ্গে আর সম্পর্ক নেই তাহসানের


 

আলোচনাকালে ভাইস প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের চীফ এক্সিকিউটিভ এবং অত্র বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব উপস্থিত ছিলেন।  দু, দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে বলে  উভয়পক্ষ আশা প্রকাশ করেন।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

গাজীপুরের শ্রীপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় শ্রমিকদল নেতা নিহত

মোহাম্মদ আল-আমীন, গাজীপুর

গাজীপুরের শ্রীপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় শ্রমিকদল নেতা নিহত

গাজীপুরের শ্রীপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় শেখ ফরিদ নামে শ্রমিকদলের এক নেতা নিহত হয়েছেন।

বিস্তারিত আসছে...

পরবর্তী খবর