সুড়ঙ্গে ঢুকে ১০৬ জন নিয়ে উধাও ট্রেন, খোঁজ মেলেনি ১১০ বছরেও

অনলাইন ডেস্ক

সুড়ঙ্গে ঢুকে ১০৬ জন নিয়ে উধাও ট্রেন, খোঁজ মেলেনি ১১০ বছরেও

ঘটনার প্রথম অংশ শুনেই মনে হতে পারে কোন বানানো বা রহস্যজনক গল্প। আসলেই এটি গল্প কিন্তু বানানো বা মিথ্যা নয় সত্যি ঘটনা। ১৯১১ সালের এই ঘটনার সাক্ষী ইটালি। ঠিক ১১০ বছর আগে ইটালির জেনেটি নামে একটি রেল সংস্থা বেশ ধুমধাম করে নতুন ওই ট্রেনের যাত্রা শুরু করেছিল।

উদ্বোধনের দিন বিনা টিকিটে ১০০ জন যাত্রী ও ৬ জন রেলকর্মীকে নিয়ে রওনা দিয়েছিল ট্রেনটি। কিন্তু দূর্ভাগ্য ট্রেনটি আর গন্তব্যে পৌঁছায়নি। রসহ্যজনকভাবে পথেই গায়েব হয়ে যায় ট্রেনটি। যার খোঁজ আজ পর্যন্ত মেলেনি।

ট্রেনে থাকা সেই ১০৬ জন মানুষেরও খোঁজ মেলেনি। এতোগুলো মানুষ নিয়ে কিভাবে আন্ত একটি ট্রেন গায়েব হয়ে যেতে পারে যার কারণ অনুসন্ধান করতে পারেনি বিজ্ঞানীরা। শোনা যায়, অনেক খুঁজেও ট্রেনের কোনও চিহ্ন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

ওই ট্রেন যেদিক দিয়ে যাচ্ছিল সেই পথেই ছিল একটি সুড়ঙ্গ। ট্রেন সেই সুড়ঙ্গে তো প্রবেশ করেছিল কিন্তু আর বের হয়নি। পরবর্তীকালে ট্রেনের সন্ধানে সুড়ঙ্গের মধ্যে অনেকেই গিয়েছেন। কিন্তু তন্ন তন্ন করে খুঁজেও তার চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

পাহাড়ের বুক চিরে তৈরি হওয়া ওই সুড়ঙ্গের ভিতর আর কোনও রাস্তাও ছিল না। ট্রেন দুর্ঘটনারও কোনও চিহ্ন মেলেনি।

ট্রেনের মধ্যে মোট ১০৬ জন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দু’জনের সন্ধান পরবর্তীকালে পাওয়া গিয়েছিল। সুড়ঙ্গের বাইরে থেকে তাঁদের উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই সময় প্রকাশিত খবর অনুয়ায়ী, অগোছালো কথা বলছিলেন তাঁরা। ওই ঘটনা সম্বন্ধে বিশদে সে ভাবে কিছুই জানাতে পারেননি তাঁরা।

দু’জনের কথার বিষয়বস্তু ছিল একই। সুড়ঙ্গে প্রবেশের মুহূর্তে সাদা ধোঁয়া গ্রাস করেছিল ট্রেনটিকে। সেই সময় নাকি কোনওক্রমে দু’জনে ট্রেন থেকে ঝাঁপ দেন। তার পর আর কিছু মনে ছিল না তাঁদের।

আরও পড়ুন


ভাইরাল সেই মাসুদের খবর জানলেন হাইকোর্ট

আইপিএলের বাকি ম্যাচ খেলতে স্ত্রীকে নিয়ে দুবাই গেলেন মোস্তাফিজ

ইসলামে পরিমিত খাবার গ্রহণের গুরুত্ব

অতিরিক্ত অর্থ দাবি করায় হোটেলেই হাত-পা বেঁধে যৌনকর্মীকে হত্যা


মেক্সিকোর এক চিকিৎসক দাবি করেন, অনেক বছর আগে মেক্সিকোর একটি হাসপাতালে নাকি ওই ১০৬ জন যাত্রীকে ভর্তি করা হয়েছিল। তাঁরা প্রত্যেকেই অসংলগ্ন কথা বলছিলেন। প্রত্যেকেই কোনও একটি ট্রেনের উল্লেখ করেছিলেন। সেই ট্রেনে করেই নাকি তাঁরা মেক্সিকো পৌঁছেছিলেন।

এমনকি ইটালির বিভিন্ন প্রান্তে, জার্মানি, রোমানিয়া এবং রাশিয়াতেও নাকি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মানুষ ঠিক ওই রকমই একটি যাত্রিবোঝাই ট্রেন দেখতে পেয়েছেন বলে দাবি করতে শুরু করেছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা ট্রেনের যে বর্ণনা দিয়েছিলেন তা হুবহু ওই অদৃশ্য হওয়া ট্রেনটির মতো ছিল। সেই সময় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী ট্রেনটি নাকি টাইম ট্রাভেল করে ১৮৪০ সালের মেক্সিকোয় পৌঁছে গিয়েছিল। সূত্র: আনন্দবাজার

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

দেশে মুরগির নতুন জাত 'দেশি ব্রয়লার' উদ্ভাবিত

অনলাইন ডেস্ক

দেশে মুরগির নতুন জাত 'দেশি ব্রয়লার' উদ্ভাবিত

একটি নতুন দেশীয় জাতের মুরগি উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট। এই মুরগির পালক বহুবর্ণ হবার কারণে এর নাম দেওয়া হয়েছে 'মাল্টি কালার টেবিল চিকেন'। গবেষণাগারে উদ্ভাবিত এই মুরগি এখনপরীক্ষামূলকভাবে বাজারজাত করার কাজ শুরু হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউটের পোল্ট্রি উৎপাদন বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শাকিলা ফারুক বলেছেন, নতুন এই জাত মূলত মাংসের জাত। এটি দ্রুত পরিপূর্ণ আকার ধারণ করে অর্থাৎ খাওয়ার উপযোগী হয় আট সপ্তাহ মানে ৫৬ দিনে।

মাল্টি কালার টেবিল চিকেনের বৈশিষ্ট্য

প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউটের শাকিলা ফারুক বলেছেন, এ মুরগি মূলত দেশে মাংসের চাহিদা পূরণের উদ্দেশ্য নিয়ে উদ্ভাবন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মাল্টি কালার টেবিল চিকেন খুব দ্রুত বাড়ে। এটি মাংস খাওয়ার জন্য উৎপাদন করা হবে, ডিমের জন্য ব্যবহার করা হবে না। আট সপ্তাহের মধ্যে এর ওজন সাড়ে নয়শ’ গ্রাম থেকে এক কেজির মত ওজন হয়। কিন্তু এর স্বাদ এবং মাংসের গুণাগুণ দেশি মুরগির মতই।

মুরগির শারীরিক গঠন, ঠোট ও ঝুঁটি দেশি মুরগির মত, এর পালকও অনেক রঙ এর হয়। এই মুরগি দেখতে দেশীয় জাতের মুরগির মত। এই মুরগিকে দেশীয় ব্রয়লার বলে থাকেন কেউ কেউ।

প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট ২০১৪ সালে প্রথম নতুন মুরগির এ জাত নিয়ে গবেষণা শুরু করে। ২০১৮ সালে গবেষণাগারে সাফল্যের পর মাঠ পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদন শুরু করা হয়।

প্রাথমিক অবস্থায় খুলনা, বরিশাল এবং পাবনায় পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদন ও বাজারজাত করা হয়েছে। এখন খুব অল্প পরিসরে মাল্টি কালার টেবিল চিকেন উৎপাদন করা হচ্ছে।

শাকিলা ফারুক জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে চারটি সরকারি এবং দু’টি বেসরকারি খামারে নতুন জাতের মুরগি উৎপাদন করা হচ্ছে।

এর মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করে পরীক্ষামূলকভাবে বাজারজাত করার জন্য আফতাব বহুমুখী ফার্মসের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট। এই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট এখনও যৌথ গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।

নতুন জাত উদ্ভাবনে বিদেশি জাত এবং দেশীয় কয়েক জাতের মুরগির জার্মপ্লাজম মিলিয়ে করা হয়েছে। মাল্টি কালার টেবিল চিকেন বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এ মুরগির মৃত্যু হার অনেক কম।

শাকিলা ফারুক বলেছেন, এখনও পর্যন্ত গবেষণায় দেখা গেছে আট সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত মাল্টি কালার টেবিল চিকেনের মৃত্যুহার ২ শতাংশের নিচে।

ব্রয়লার ও অন্যান্য মুরগির সাথে পার্থক্য

বাংলাদেশে গত এক দশকে মুরগির চাহিদা এবং ব্যবহার অনেকগুন বেড়েছে। এর মধ্যে ব্রয়লার মুরগি যেমন রয়েছে, তেমনি দেশি মুরগি, সোনালী মুরগি, যা পাকিস্তানি মুরগি নামেও পরিচিত এগুলো বেশ জনপ্রিয়।

এই মুরগিগুলোর মাঝে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে।

ব্রয়লার মুরগি ২৮-৩২ দিনে খাওয়ার উপযোগী হয়, অর্থাৎ ওই সময়ের মধ্যে ব্রয়লার মুরগির ওজন এক থেকে দেড় কেজি হয়।

সোনালি মুরগির এক কেজি ওজনে পৌঁছাতে সময় লাগে ৭০-৮০ দিন।

কিন্তু মাল্টি কালার টেবিল চিকেন বাজারজাত করতে অন্তত আট সপ্তাহ সময় প্রয়োজন হবে।

ব্রয়লার মুরগির মাংস ও হাড় নরম হয়, কিন্তু মাল্টি কালার টেবিল চিকেনের মাংস ও হাড় দেশি মুরগির মত শক্ত।

রও পড়ুন:

ইভা রহমান এখন ইভা 'আরমান'

আবারও নাটক শুরু করেছেন জাভেদ ওমর বেলিম

সরলতার সুযোগে রোনালদোর ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ

রণবীরকে দাম্পত্য বিষয়ক সমস্যার সমাধান দিলেন কারিনা!


ব্রয়লার মুরগি পালনে বড় জায়গা, নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রা এবং আলো-বাতাসের দরকার হয়, কিন্তু এ মুরগি পালনের ক্ষেত্রে দেশি জাতের মুরগির মত খোলা জায়গায় পালন করা যায়।

প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট বলছে, এই মুরগি লালনপালন সহজ, ফলে প্রান্তিক খামারীদের জন্য এটি পালন সহজ হবে এবং ফলে আর্থিকভাবে লাভবান হবার সুযোগ বেশি থাকবে।

প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট বাংলাদেশে মুরগির বেশ কয়েকটি জাত উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এর মধ্যে ডিম পাড়া দু’টি নতুন জাতের মুরগি---স্বর্ণা এবং শুভ্রা, উদ্ভাবন করেছে প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট।

এই মুহূর্তে কমন দেশি, গলা ছিলা এবং হিলি বা পাহাড়ি জাতের তিনটি মুরগির জাত উন্নয়নের কাজ চলছে।

সূত্র- বিবিসি বাংলা

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

হুলহুলিয়া: ২০০ বছরেও যে গ্রামে ঢোকেনি পুলিশ

নাসিম উদ্দীন নাসিম, নাটোর

হুলহুলিয়া: ২০০ বছরেও যে গ্রামে ঢোকেনি পুলিশ

নাটোরের সিংড়া উপজেলা চৌগাছা ইউনিয়নের একটি ছোট গ্রাম 'হুলহুলিয়া'। দেশের মোট ৬৮ হাজার গ্রামের মতোই একটি সাধারণ গ্রাম এটি। তবে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রামটিকে করে তুলেছে অনন্য সাধারণ। দেশের মানুষের কাছে হুলহুলিয়া এখন পরিচিত আদর্শ গ্রামের প্রতিচ্ছবি হিসেবে।

নাটোরের হুলহলিয়া এমন একটি গ্রাম যেখানে নেই কোন হানাহানি, কোন অনাচার। গত দুইশ' বছরে অপরাধজনিত কারণে এ গ্রামে যায়নি পুলিশ। গ্রামের শতভাগ মানুষ শিক্ষিত।সাড়ে তিন হাজার মানুষের এই গ্রামে হাজারো গল্প থাকলেও সেই গল্পে নেই কোনো সংঘাত, নেই ধর্ষণ খুন কিংবা রাহাজানির মতো অনাচার। আর তাইতো নাটোরের সিংড়া উপজেলার এই গ্রামটি সারা দেশের কাছেই এখন আদর্শ।

গ্রামটি বাল্যবিবাহ, মাদক ও যৌতুকমুক্ত। 'হুলহুলিয়া' গ্রামটি নাটোর জেলা সদর থেকে ৩৮ কিলোমিটার এবং সিংড়া থানা থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে চলনবিলের মাঝে অবস্থিত। ছোট বড় বিভিন্ন প্রজাতির সবুজ গাছে ঘেরা এ গ্রামের জনসংখ্যা প্রায় তিন হাজার। মোট ১১টি পাড়া নিয়ে গঠিত গ্রামের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে 'নিয়ামত খাল' নামের একটি ছোট নদী, যা এ গ্রামের সৌন্দর্যকে অনেকগুণ বাড়িয়ে তুলেছে। শীতে এ গ্রামে আসে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি। কিন্তু পাখি মারার প্রবণতা নেই গ্রামবাসীর তাছাড়া গ্রামটিতে আরো রয়েছে ছোট-বড় অনেকগুলো পুকুর।

গ্রামবাসী মনে করেন, শিক্ষার প্রতি অনুরাগ ও শতভাগ শিক্ষিত হওয়ার কারণে মানুষের চিন্তা-ভাবনা ও মননে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে। একারণে গ্রামের মানুষজন কলহ ও সংঘাত থেকে দূরে থাকেন। এছাড়া গ্রামটি পরিচালনার জন্য তাদের নিজস্ব সংবিধান রয়েছে। যা সবাই মেনে চলেন। গ্রামে কোনো সমস্যা-সংকট দেখা দিলে গ্রামবাসী মিলে সংবিধানের আলোকে তা সমাধান করেন। 

এজন্য ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত তাদের একটি কমিটিও রয়েছে। এছাড়া স্কুল, মাদ্রাসা, বাজার, মসজিদ ও গোরস্থানভিত্তিক তাদের আলাদা আলাদা পরিচালনা কমিটিও রয়েছে। এ কমিটিও ভোটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হন।

গ্রামবাসী গ্রামের মধ্যে কোনো বিভাজন তৈরি করেন না। দরিদ্রদের সহায়তায় সবাই একসাথে এগিয়ে আসেন। গ্রামের জনসংখ্যা ৬ হাজার হলেও প্রায় ৪ হাজার মানুষ গ্রামের বাইরে চাকরি করেন।  তারাও অর্থনৈতিকভাবে গ্রামবাসীকে বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করেন। 

ছেলেমেয়েদের জন্য এসএসসি পাশ করা বাধ্যতামূলক। এসএসসি পাশ না করালে কেউ তার মেয়েও বিয়ে দিতে পারেন না। দরিদ্রদের শিক্ষার জন্য দরিদ্র তহবিল কমিটিও আছে যে কমিটি থেকে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার সহায়তা করা হয়ে থাকে। আর্থিকভাবে স্বচ্ছল এ গ্রামের বেশিরভাগ বাসিন্দাদের প্রধান পেশা কৃষিকাজ। তবে গ্রামের স্বাক্ষরতার হারও শতভাগ। 

প্রতিটি বাড়িতেই এক বা একাধিক উচ্চ শিক্ষিত মানুষ রয়েছেন। অনেকেই বর্তমানে দেশ-বিদেশে উচ্চ পর্যায়ে চাকরি করছেন। এমনকি মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করাদেরও এ গ্রামে অর্ধশিক্ষিত হিসেবে গণ্য করা হয়। শিক্ষার প্রতি হুলহুলিয়ার বাসিন্দাদের এমন আগ্রহ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

গ্রামের ৬০ বছর বয়সী বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য এসএসসি পাশ করা বাধ্যতামূলক। এসএসসি পাশের আগে কেউ তার মেয়েকে বিয়ে দিতে পারবে না। যদি কেউ কোনো কারণে তার মেয়েকে ১৮ বছরের পূর্বে বিয়ে দিতে চাইলে, কেন বিয়ে দিতে চাচ্ছে তা জেনে সমাধান করা হয়। কিন্তু এসএসসি পাশ না করে বিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। বিয়ের সময় যৌতুক নেওয়া ও দেওয়াও এখানে সম্পূর্ণ নিষেধ। গ্রামটি শতভাগ মাদকমুক্ত ও সবার জন্য স্যানিটেশনের ব্যবস্থা আছে।

বাংলাদেশের অন্যান্য গ্রাম থেকে হুলহুলিয়া গ্রামটিকে যে কারণে পৃথক করেছে তার অন্যতম প্রধান কারণ এই হুলহুলিয়া সামাজিক উন্নয়ন পরিষদ নামের সামাজিক প্রতিষ্ঠানটি। একে উচ্চ আদালতও বলা হয়। এই পরিষদের মাধ্যমেই গ্রামের সব ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠান এবং গ্রামবাসীর মধ্যে কখনো কলহ দেখা দিলে তা মীমাংসা করা হয়।

সামাজিক উন্নয়ন পরিষদ পরিচালনার একটি কমিটিও রয়েছে। কমিটিতে একজন চেয়ারম্যান ও একজন ভাইস চেয়ারম্যানসহ সদস্য রয়েছেন আরও ২১ জন। তারা সবাই গ্রামের পুরুষ ভোটারদের দ্বারা দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হন। দুইবছর পর পর ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হয়। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, যারা জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হন তারাই সামাজিক উন্নয়ন পরিষদের নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। এছাড়া পাঁচ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটিও রয়েছে তাদের। এছাড়া গ্রামের বিচার বিভাগীয় আটটি পাড়াতেও আলাদা আলাদা কমিটি রয়েছে। যাকে বলা হয় নিæ আদালত। এই কমিটি পাড়ার আকার-আকৃতি অনুসারে ৫ থেকে ৮ সদস্যের হয়ে থাকে।

জানা গেছে, ১৯১৪-১৫ সালের দিকে একবার প্রবল বন্যায় ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গ্রামে অভাব দেখা দেয়। গ্রামের অনেক চাষী ধান-বীজের অভাবে জমি ফেলে রাখতে বাধ্য হন। সবার মনে কষ্ট, হতাশা। বিষয়টি গ্রামের মাতবর মছির উদ্দিন মৃধার মনে দাগ কাটে। একদিন গ্রামের প্রতিটি পরিবার থেকে একজন করে লোক ডেকে সভায় বসেন তিনি। সিদ্ধান্ত হয়, যাদের ঘরে অতিরিক্ত ধান-বীজ আছে, তারা বিনাশর্তে অন্যদের ধার দেবেন। সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়, খালি জমি ফসলে ভরে ওঠে। এতে উদ্বুদ্ধ হয়ে গ্রামের উন্নয়নে ১৯৪০ সালে 'হুলহুলিয়া সামাজিক উন্নয়ন পরিষদ' নামে একটি পরিষদ গঠিত হয়।

ব্রিটিশ আমল থেকে স্বশাসন ব্যবস্থা চলে আসছে এখানে। সবাই শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসচেতন। এর প্রতিফলন দেখা যায় এ গ্রাম থেকে বেরিয়ে আসা মেধাবীদের পরিসংখ্যানে। গ্রামের দেড় শতাধিক সন্তান প্রকৌশলী, শতাধিক চিকিৎসক। আছেন কৃষিবিদ, আইনবিদ, প্রতিরক্ষা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও।এই পরিষদ গ্রামের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও বিচার ব্যবস্থা পরিচালনা করে। 

গ্রামে কোন বিরোধ হলে এই প্যানেল আলোচনার মাধ্যমেই তা মীমাংসা করে। বিচারক প্যানেল ও পরিষদের ওপর গ্রামবাসীর আস্থা আছে বলে তারা পরিষদের উপরই নির্ভর করে। পরিষদের উদ্যোগে স্কুল, মাদ্রাসা, কবরস্থান, চলাচলের রাস্তা সবই তৈরী করা হয়েছে। এ সংগঠন ছাড়াও হুলহুলিয়ায় সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসাবে কাজ করে আসছে ‘শেকড়’ ও ‘বটবৃক্ষ’ নামের দু’টি সামাজিক সংগঠন। এই প্রতিষ্ঠানের সদস্য সবাই চাকুরিজীবী। তাদের অনুদানে গ্রামের অভাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, অসহায় মানুষকে সহায়তা ও বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হয়।

শুধু তাই নয়, গেল দুইশ বছরে অপরাধজনিত কারণে এ গ্রামে আসেনি কোনো পুলিশ। থানায় হয়নি একটি মামলাও। আর যদি কোনো বিরোধও হয় তা মীমাংসায় আছে হুলহুলিয়া সামাজিক উন্নয়ন পরিষদ।

রও পড়ুন:

ধীর জীবন মানেই অলস জীবন নয়

একটি হটডগ আয়ু কমাতে পারে ৩৬ মিনিট পর্যন্ত!

ইভ্যালি ধরলেও সমস্যা, ছাড়লেও সমস্যা! কোথায় যাবেন ফারিয়া?

তৃতীয় স্বামীর কাছে শুধু বিচ্ছেদই নয়, খরচও চাইলেন শ্রাবন্তী


নাটোরের সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, নিজেরাই যদি নিজেদের সমস্যাগুলো সমাধান করা যায় তাহলে প্রশাসনের উপর চাপ অনেকাংশেই কমে আসে। দেশের সবগুলো গ্রাম যদি হুলহুলিয়ার আদলেই গড়ে ওঠে তাহলে হয়তো বিশ্ব মানচিত্রে রূপকথার দেশ হিসেবে পরিচিতি পাবে বাংলাদেশ- এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় প্রশাসনের।

চৌগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুহাম্মাদ জাহেদুল ইসলাম ভোলা বলেন, পরিষদ থাকায় হুলহুলিয়া গ্রামে কোন বিবাদ বা সংঘর্ষ হয় না বললেই চলে।

জেলা প্রশাসক শামীম আহম্মেদ বলেন, হুলহলিয়া গ্রামের নিয়ম নীতিগুলো যদি অন্যান্য গ্রামেও ব্যবহার করা হয় এবং সকলে মিলে সম্মিলিত প্রয়াসে সর্বদা ভাল কিছু করার মানসিকতা নিয়ে কাজ করা যায় তবে হুলহলিয়া গ্রামের মতোই গড়ে উঠবে আরও অসংখ্য গ্রাম। হুলহুলিয়া গ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বেশ ভালো। এখানকার শান্তিপূর্ণ মনোভাব ও সমৃদ্ধির চেষ্টাকে দৃষ্টান্ত হিসেব দেশের অন্যান্য গ্রামে ছড়িয়ে দেয়া গেলে গড়ে উঠবে সুন্দর এক বাংলাদেশ। 

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

লাভবান হচ্ছেন চাষীরা

ঝিনাইদহে দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ড্রাগনের আবাদ

শেখ রুহুল আমিন,ঝিনাইদহ :

ঝিনাইদহে দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ড্রাগনের আবাদ

ঝিনাইদহের মাটি ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে শুরু হয়েছে বিদেশি ফল ড্রগনের আবাদ। ইতোমধ্যেই তা বিক্রি করে লাভবান হয়েছেন চাষিরা। আর লাভজনক এ ফসলটির আবাদ বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে জানালেন কৃষি বিভাগ।

জানা যায়, ড্রাগন নামে খ্যাত পরিচিত হয়ে উঠেছে ঝিনাইদহে। তারই একটি উদাহরণ কাগমারী গ্রামের গাছে গাছে ঝুলছে বিদেশি ড্রগন ফল আবার কোন গাছে এসেছে ফুল। চাহিদা ও দাম বেশি হওয়ায় দিনদিন বেড়েই চলেছে ড্রাগনের চাষ। পুষ্টিমান সম্পন্ন এক বিঘা ড্রাগন চাষ করতে খরচ হয় এক লক্ষ টাকা। বছর শেষে ড্রাগন ফল বিক্রি করে ৫ লক্ষ টাকা আয় করা সম্ভব। 

ঝিনাইদহ সদর, কোটচাঁদপুর, মহেশপুর ও কালীগঞ্জসহ ৬টি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মাঠে ব্যাপক ভাবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এই চাষ করে লাভবান হচ্ছেন অনেক তরুণ উদ্যোক্তাসহ চাষিরা।

জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার চাষি হারুন-আর রশিদ মুসা জানান, প্রথমে ৬ বিঘা জমিতে চাষ করে লাভবান হন। এ বছর তিনি বিশ বিঘা জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ করেছেন। মুসাই প্রথম ব্যগিং পদ্ধতিতে বারী-ওয়ান ও বারী-৩ নামে উন্নত এ জাতের চাষ করেন। এছাড়াও কালীগঞ্জ উপজেলার সুরোত আলীসহ জেলার অনেকেই এফলের চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। 

আরও পড়ুন:


সোমবার যে আমলটি করলে মনের আশা পূরণ হবে!

ট্রফি জয়ের ঘোষণা দিয়ে বিশ্বকাপে যাব: তামিম

ইউপি নির্বাচনী সহিংসতায় বৃদ্ধা নিহত, আহত ৩


ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানান, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এ বছর ঝিনাইদহের ৬টি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৫০ হেক্টর জমিতে ড্রাগন ফলের আবাদ হয়েছে। প্রতি কেজি ড্রগন ফল পাইকারি দরে বাগান থেকেই বিক্রি হয় ২ শত থেকে ৩ শত টাকা করে। আর বাজারের ব্যবসায়ীরা খুচরা দরে বিক্রি করেন ২শত ৫০টাকা থেকে ৩শত ৫০ টাকা দরে। ড্রগন চাষ করে অনেক কৃষক স্বাবলম্বী হয়েছে। 

অন্য যে কোন চাষের চেয়ে ড্রগন চাষ একটি লাভজনক চাষ। পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ এই চাষ বৃদ্ধিতে কৃষকদের বিভিন্ন রকম পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান এফল এক সময় বিদেশে চাষ হতো। এখন চাষ হচ্ছে বাংলাদেশে। তার মধ্যে ঝিনাইদহ জেলা অন্যতম। নাম ছাড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেক মানুষ এখন এফলের বাগান দেখতে আসছেন। তারই উদাহরণ ড্রাগন বাগান দেখতে এসে আগ্রহ প্রকাশ করছেন বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি বিভাগে অধ্যায়নরত এক শিক্ষার্থীসহ অনেকেই। সেই সাথে এ বাগানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন স্থানীয় শ্রমিকরাও। 

NEWS24.TV / কামরুল

পরবর্তী খবর

একটি হটডগ আয়ু কমাতে পারে ৩৬ মিনিট পর্যন্ত!

অনলাইন ডেস্ক

একটি হটডগ আয়ু কমাতে পারে ৩৬ মিনিট পর্যন্ত!

হটডগ অনেকেরই পছন্দের একটি খাবার। কিন্তু এই খাবারটি নিয়ে সম্প্রতি শিহরণজাগানিয়া এক রিপোর্ট দিয়েছেন মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল স্বাস্থ্য গবেষক। তারা বলছেন, একটি হটডগ আপনার আয়ু কমিয়ে দিতে পারে ৩৬ মিনিট পর্যন্ত।

নেচার ফুড জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় সাড়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি খাবারের প্রভাব দেখিয়েছেন তারা।

 

সিএনএন-কে এই গবেষণাপত্রের সিনিয়র লেখক ও মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশগত স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের প্রফেসর অলিভিয়ের জুলিয়েট বলেন, ‘আমরা পুরো ডায়েটে খাদ্যের উপকারী এবং ক্ষতিকর প্রস্তাবগুলোর স্বাস্থ্যভিত্তিক মূল্যায়ন করতে চেয়েছিলাম।’

গবেষণায় তারা একটি সূচক নিয়ে আসে যা কয়েক মিনিটে খাদ্য পরিবেশন করার সঙ্গে যুক্ত স্বাস্থ্যকর জীবনের নেট উপকারী বা ক্ষতিকারক স্বাস্থ্যের বিষয়টি গণনা করে। এটি ‘গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ’ নামে একটি গবেষণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়। যা একজন ব্যক্তির পছন্দের খাদ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত ও অসুস্থতা পরিমাপ করে।

জুলিয়েট বলেন, ‘উদাহরণস্বরূপ, মাংস প্রক্রিয়াজাত করতে ০.৪৫ মিনিট চলে যায়। অথবা ০.১ মিনিট হারায় প্রতি গ্রাম ফল প্রক্রিয়ায়।’

রও পড়ুন:

তৃতীয় স্বামীর কাছ থেকে মুক্তি পেতে মামলা করলেন শ্রাবন্তী

কুড়িগ্রামে ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার

অবশেষে ফুঁ দিয়ে আগুন ধরানো সেই সাধুবাবা গ্রেপ্তার

ইভ্যালি ধরলেও সমস্যা, ছাড়লেও সমস্যা! কোথায় যাবেন ফারিয়া?


গরুর মাংস দিয়ে তৈরি হটডগের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, এর ৬১ গ্রাম মাংসের প্রক্রিয়াজাতের ফলে ২৭ মিনিটের সুস্থ জীবন নষ্ট হয়। আর যখন সোডিয়াম এবং ট্রান্স ফ্যাটি অ্যাসিডের মতো উপাদানগুলো আনা হয় তখন চূড়ান্ত মানের ৩৬ মিনিট হারিয়ে যায়।

news24bd.tv/ নকিব

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় সাদা বাঘের বাচ্চার জন্ম (ভিডিও)

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় সাদা বাঘের বাচ্চা হয়েছে। গত ২৬ আগস্ট বাঘটি বাচ্চার জন্ম দিয়েছে। বৃহস্পতিবার চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের এ খবর জানায়। 

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা থেকে বিস্তারিত জানাচ্ছেন সহকর্মী নয়ন বড়ুয়া জয়।

আরও পড়ুন:


বগুড়ায় বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার দুই নারী যাত্রী নিহত

জামালপুর থেকে নিখোঁজ ৩ মাদ্রাসাছাত্রীকে ঢাকা থেকে উদ্ধার

যশোরের ১৮টি রুটে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে


NEWS24.TV / কামরুল

পরবর্তী খবর